রামেশ্বর ভট্টাচার্য-এর একগুচ্ছ কবিতা
পূর্বমেঘ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক কবি প্রাবন্ধিক রামেশ্বর ভট্টাচার্যের অসাধারণ কথা বলার দক্ষতা আমাকে বারবার আপ্লুত করে।তিনি তাঁর কথার যাদুতে উপস্থিত শ্রোতাদের মনের গহনে ফাঁড়ি দিতে পারেন অনায়াসে।
তাঁর ৬৭ তম জন্মদিন আজ।তাঁরই কবিতা আমরা পাঠ করি।
জলডুবি
রামেশ্বর ভট্টাচার্য
১.
মজে যাওয়া নদীটি অসাধারণ
দাপট দেখে চমকে উঠেছিলাম,জল আর
কাদায় মাখামাখি করে আমাদের নিরাপদ উঠোনটি ডুবিয়ে দিয়েছিল,জলোচ্ছ্বাসে
মানুষের ক্রোধ আর হতাশা মিশ
থাকলে বিনিমার্ণ তত্ত্বের কথা
ভুলে যাবে প্রবুদ্ধ। চিত্রকল্পগুলি
এখন তালগাছের শীর্ষে দোল
খাবে অবিরাম,জলে ডুবে যাবার
আগে বালিকার কাছে
সরল মোবাইল সন্দেশ পাঠাব,
নুন,কাপড় বা চুন যা খুশি
পাঠাও তাড়াতাড়ি
২.
হেজেমজে গেলেও আমাদের শহরের
প্রিয় কাটাখাল, দেখো জেগে ওঠে,
জেগে উঠছে বারবার, হলংসিকিতে
বৃষ্টি হলে জলজ যৌবনে টলটল
মজে যাওয়া এই ছোটো কাটাখাল
এবার মোবাইলে জেপিজি ফাইলে
ছবি ভেসে যাবে,জলমগ্ন হঠাৎ কলোনি।
নদী
না-ঘুম-না জাগরণ এভাবে বেঁচে থাকলে
বিড়ম্বনা হতে পারে জেনেও আজকাল শুধু
মেঘবতীদের কথা ভাবছি,নদীর কথা মনে
হচ্ছে। নদী মানে সেই ফরিদা জামানের মিষ্টি মেয়েটি।
বাংলাদেশে এখন নদীরা শুকিয়ে যাচ্ছে,
নদীর জন্য শোকলিপি লিখছে কেউ
তবু মিষ্টি মেয়েটি হঠাৎ চলে গেলে
মনে দুঃখ হয়,বুঝতে পারি,
না-ঘুম না-জাগরণে বেঁচে থাকলে
একদিন সবাইকে মিশরের মমি হয়ে
যেতে হবে।যদিও ভালোবাসা ছড়াতে
গেলেই নদী বা নারীর কথা মনে হবে
অহরহ এইসব ভাবনা এস এম এস
করে পাঠাচ্ছে প্রিয়জনেরা, সে নন্দিনী,নদী
বা দেবপ্রিয়া হতে পারে।
নদীজলে কবিনদীকে আমার শ্রদ্ধা
কবি ও সুবক্তা রামেশ্বর ভট্টাচার্য মহোদয়ের জন্মদিনে যেন নদী এসে কথা বললো আমার বুকের গহনে । হৃদয়ের আকুলিবিকুলি কবিকে ঘিরেই ছিলো।তাঁর একটি নদী বিষয়ক কবিতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।
চরাচর
রামেশ্বর ভট্টাচার্য
একদিন নদীও সরে যাবে বহুদূর
জেগে উঠবে চরাচর।একদল
মানুষ আরেক দল মানুষের দিকে তাকিয়ে
তাক করে আছে রাইফেল,মাঝখানে
উড়বে বিবর্ণ পতাকা,এই বৃষ্টিহীন
রাতে জেগে দুই কবি,তারা জানে
বর্ণমালার মেঘ নেমে আসবে
মুহুরী নদীর তটে
মানুষের জটলা থেকে নদীর
দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে
বিছানায় ফেলে গেছে চুলের কাঁটা
আয়নায় লেগে আছে লাল টিপ
এখানে নদী ও নারী কাছাকাছি ছিল সারারাত।
0 মন্তব্যসমূহ