গোবিন্দ ধর একা অথবা শূন্য // গোবিন্দ ধর

"নদীই সাক্ষী থাকে প্রকৃত প্রেমের"

মিলনকান্তি দত্ত 

আঠারোটি শিরোনামহীন কবিতার সংগ্রহ। কবিতাকৃৎ গোবিন্দ ধরের "আনোয়ারা নামের মেয়েটি"। কবিতাগুলি সংখ্যাচিহ্নিত,
শিরোনাম না থাকলেও বোঝা যায়,প্রতিটি
কবিতার কণ্ঠস্বর আনোয়ারা। "আনোয়ারা"
আরবি শব্দ,অর্থ আলোর মালা। শুভদীপ
সেনশর্মাকৃত নামলিপি চমৎকার ! আরবি
হরফের ডৌল অথচ জলের উপর নাচকুশল
আলোছায়ার বিভঙ্গ। একটি ছড়ার নাম
"আনুয়াছড়া"। আনোয়ারা নামের একটি
মেয়ের আত্মহত্যার গল্প হয়ে স্রোতস্বিনী
বিষাদকবিতা। সমাজচৈতন্যের কবি তাই
তাকে নিয়ে রচনা করেছেন কিছু কবিতা।
খুবই বক্তব্যধর্মী। হয়তো কবিতার গহনধর্মে
ততোটা শ্লোক হয়ে ওঠেনি,কিন্তু কবির প্রেম
ও প্রতিবাদের একটা মূল্য আছে। "আনোয়ারা একটি নদী ও মেয়ে। /তার
শিৎকার শুনি মাঝরাতে। /তির তির তার
কল্লোল বজ্রনির্ঘোষ।"আলোর মালা পরতে
চেয়েছিল যে মেয়ে আনোয়ারা, "একটি
মেয়ে শুধু নয়/একটি সময় একটি সকাল"_
অথচ সে বিষাদবালিকা,তার ওষ্ঠে তিল ছিল,
তারই বিস্ফোরিত তিমিরে সে ঝাঁপ দিয়ে
চির তলিয়ে গেল ! "নদীও নারীর মতো"
নদীমাতৃক কবির বোধে তাই জেগে থাকে
আনোয়ারামিথ। কবিতাগুলো পড়তে ভালোই
লাগে। ব্লার্বে সেলিনা হোসেনের কথা এবং
নির্মলেন্দু গুণের পোট্রেট থেকে গৃহীত
প্রচ্ছদছবি এ বইয়ের অনন্য বৈভব।

স্রোত প্রকাশনার বই ।। মূল্য ৪০টাকা


গোবিন্দ ধর একা অথব শূন্য 

গোবিন্দ ধর

এক.


ধানের দুধে লেখা থাকে হাওয়াকল গান
ইরিবাতাস।
চাষীর মনের মাটিভেজা মোহনধান
লকলকে গেয়ে উঠে ভাবীকাল।
রকমারী মুখোশের পদাবলী কীর্তন থেকে
ভাবতরঙ্গ সমূহ সংকীর্তন শেষে
রচিত বাঁশধানচাল।

দুই. 

সারা সময়ের পদাবলী রচিত আদেশ
ধর্ষিত সময় শেষে জলতল থেকে
উত্থিত আছড়ার ইতিহাস রচিত হবে
সমমনস্ক কিছু ধানের কান্নার কৌশল।

তিন.

বীজতলা থেকে সমূহসংগীত বাজে
হাওয়া মোরগফুলের সুভাষ ছড়ায় মনুউপত্যকায়।

চার.

উপদ্রুত বসন্তদিন নেচে ওঠে 
জঙ্গলের ফাঁক গলে উঁকি দেয়  
পূর্ণিমাচাঁদ।
ধানের পাতায় লেগে থাকা শীতশিশির টুপটাপ পতনের শব্দে লেখে প্রজন্মের উঠোন।

পাঁচ. 

বিরহরচিত ঘাস ধানের আগাচা হলেও
ধানেরই আগাছা। 
সহসা বাছাই জরুরী।
জরুরী পতাকা বহনে সুসময়ে বন্যাস্রোত ঢুকে পড়ে জল।
জল সব জল জল নয় জীবাণুর সংক্রমণ থেকে ক্রমশ টপকে সঠিক আলপথে এগুতেই হয় সরুআল।

ছয়.

মোহনসংগীত ছিলো বাপুরামের সাপের মেজিক।
মেজিকঝাঁপির ভেতর ঠিকানা ছিলে না
মিছেমিছি কেটেছে সময়।
কালখণ্ড পেরিয়ে আসা চার হাজারধানপাতা গেয়ে ওঠে 
বিব্রতরুচী।

সাত.

পথের মাঝে কিছু দূর হেঁটে গেলে 
মাঠের তেপান্তরে অবোধ্য পাটশাক 
সবুজ বিলানো ভুলে
যদি কখনো নড়ে ওঠে শীর্ষবিন্দু 
ধর্ষনের অজানা ইতিহাস সেখানে অপেক্ষা করছে। 
খনার জিব্হা মাটি ভেদ করে
রচিত লণ্ঠনের আলোয়
আর কখন দিক ভুল করে
পুনরায় পাটখেতে যায় না।

আট.

ঘরে ঘরে জেগে যাক মেয়েরা খনা
জিব্হার নৃত্য থেমে গেলে
রচিত ইতিহাস রচনা শেষে 
তুমিই বাঁশমতি বোন
যার ঘ্রাণ বাতাসে ছড়ায়
জেগে থাকে যে জীবনের মোহনবাঁশীহাতে।

নয়.

সামনেই আনোয়াছড়া তারজলে পা ডুবিয়ে
একটি মেয়ে গেয়েছিলো
জীবনের ধারাপাত
কলকল বাহিত জলের সাথে বাঁশমতি ধানের ঘ্রাণ সে 
নিত নিশ্বাস ভরে।
তাতেই আনন্দিত আনোয়ারা।
মিছেমিছি কেটেছে তার যমুনাবেলা।

সমপরিমাণ আতরের কাছে গিয়ে বসে বসে 
মেয়েটি বাঘের ঘ্রাণ পেয়ে
দিলো দৌড় 
পিছে পিছে মোড়ল।

দশ.

সামান্য সংগঠিত সংগীত তাও কত জিগির!
কত আস্ফালন! 
পতাকার ফৎফৎ,ঝঙ্কার,হুঙ্কার! 

এগারো.

সকল ষড়যন্ত্রে বিভক্তিকে ভুলে যায় ধান
আগাছা মাড়িয়ে লাফায় যুবতীবয়স।
সম্মিলিত শুভকামনা ভেবে হাঁটতে হাঁটতে ভুলপথে পাড়ি দেওয়া পা
হঠাৎ থমকে দিলো
ষড়যন্ত্র সময়।

বারো.

বয়স্ক ধান গবেষণা করে মিতালি পাতে নলখাগড়ার সাথে
তখনই বেজে ওঠে পতনের শব্দ। 
সমস্ত পতন শেষে হয় রচিত হয় নতুন পতাকা 
নয়তো ঝড়েই নষ্ট হয় ধানেরফুল।

তেরো.

ধানখেত সবুজ হেলেদোলে হালিচারা।
হয়তো সকাল জেনো পাখিদের কাকলী। 

চৌদ্দ. 

মাঠ যদি পুনরায় ভরে ওঠে কৃষকের শূন্য টুকরিতে ক্রমশ জমে যাবে ধান।
গোলা ভরা থেকে কৃষকের নবান্ন। 
সন্ধ্যা মেয়েটি সংগীত গেয়ে উঠবে।
চারিদিকে আলোকিত উত্থান 
পতাকার হাওয়াদোলন।

ষোলো. 

জীবনের ধারাপাত থেকে ধানজন্ম সার্থক হলে
প্রতিজন মুখমণ্ডল মানচিত্রে 
লেখে রাখে ইতিহাস।
পতন থেকে আছড়াধান ক্রমাগত যুদ্ধ লেখে উত্থানের পাথরে।

সতেরো

কত আর কেটে নেবে জিহ্বা বরাহমিহিরের সামান্য সংগঠন!
খনাধান কলমের বুক চাপড়ে লিখে দেবে
আগমনী সময়ের সাথে গন্ধভাত।

আঠারো.

রচিত ভূতক্রীয়া শেষে রচিত খণ্ডিত বিচার!
যতবার কৃষকের লাঙ্গল কেড়ে নিতে চায়
পুনরায় মাথা তুলে আগাছা মাড়িয়ে 
জলের তোড়ের ভেতর থেকে 
জেগে উঠে কৃষিকন্যাখনা।

ঊনিশ.

বিন্নির বুক থেকে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে 
অচিরেই অর্জন সম্ভব 
কেড়ে নেওয়া ভালোবাসা।

সমূহপতন থেকে সৃজিত হয় উত্থানের চৌকাঠ। 
সিঁড়িগুলো টপকে উঠো বেদনারচিত পিছল পথ টপকে গেলে
পুনরায় ভালোবাসামেয়েটির মতো
আদর করবে বিলিকাটা সকাল।


০৯:১০:২০২০
রাত:০১টা৪০ মি
কুমারঘাট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ