একগুচ্ছ কবিতা // বিপ্লব উরাং




সনার দেশ

সনার দেশ এমন হবেক কে জানত?
আশা ছিল পেট ভরে ভাত খাব-
ভাত কাপড়ের অভাব নাই থাকবেক।
নানা বলত ইংরেজরাকে খেদায় করে-
সপন দেখেছিলাম-অভাব নাই থাকবেক।

কাঁহা, যেইকে সেই
নানা হামার ঠিকেই বলত কত ম্যানজার আইল গেল,
হামার খাকি পেন্ট ঠিকেই রইল।
বাগনে কাম করত-দেখল কত
ম্যানজার বদল হইল-
মিন্তুক-একেই হাল-
আধ পেটা ভাত,লবন চা পানি আর
ভাঙা ঝুপড়ি ঘর।
হামদের দেশটার হাল-
একেই  রকম।
ইংরেজ গেল, কত পরধান মনতিরী
আইল গেল মিন্তুক-
কন কিছুর   বদল হইল  কি?
 ভাত কাপড় নাই,রুটি রুজির জোগার নাই।
কোটি কোটি শরমিক ছাটাই হছে
কলকারখানা বনধ হছে রোজ দিন।
সব  মানুষ এক সংগে এইকথাটা বললেই-
ভাগ করে দিবেক-
বলবেক ও হিন্দু,ও  মুছলমান, ও   খ্রীষ্টান।
পেটে ভাত নাই  থাকলেও-
তখন জাত বড় হয়ে যায় হামদের খিনে।
নিজেরাই মারা মারি  কাটা কাটি করি।
টাকা জমে বড় লোকের ঘরে।
আর হামি,তুই সব্বাই  শুকায় মরি।
অরে অ বকারাম-
কত দিন এমন করে দিন কাটাবি।
থরা বহুত শক্ত  হ
কমড় সজা করে খাড়া হঃ।


মালিক নাই লাগবেক


মালিক নাই লাগবেক
কি দরকার মালিকের?
নাই শুনেছিস কবি বলেছে-
(আমরা সবাই রাজা,আমাদের এই রাজার রাজত্বে।)
-আওয়াজ ওঠেছে-হামরাই সবাই মালিক-
দোসরা মালিক নাই লাগবেক।

দেখছিস নাই বেচারাম-দুরগাবাড়ী চাগান
শরমিকরাই চালাছে।
তুই তখন ছানা বয়সের-
সালটা ঊনআশি।
মোটে পন্দর জন শরমিক-
শুকনা কয়টা মরা চা গাছ।
শরমিকরা ভুখা থাকতে থাকতে
হাড় জির জিরা হয়ে গেছল।

সিদ্ধান্ত হইল-
শরমিকরাই বাগান চালাবেক-
হইল কপরাটিভ।
সংগে ছিল সরকার বাহাদুর।
আইজ দেখছিস দুরগাবাড়ী
শুধু হামদের রাইজ্যেই নাই-
দেশ বিদেশের মানুষ বলছে-
মালিক ছাড়া বাগান চলে-
যায়ে দেখ দুরগাবাড়ী।

মালিকত সব চোষে চলে যায়।
ঘাম ঝড়ায় হামরা-
খুন গিরায় হামরা-
অরা সব চোষে খায়।
আর কতদিন মালিক মালিক বলবি।
সব ছাড়ে ছুঁড়ে নিজরাই বাগান চালা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ