অনিমেষ মণ্ডলের জন্ম 14 ই ফেব্রুয়ারি 1975।মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ শহরে।পিতা অন্তিম কুমার মণ্ডল ও মাতা বন্দনা মণ্ডল।পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এই কবি পেশায় শিক্ষক।কবিতা চর্চা আর ভ্রমণ তার প্রিয় নেশা।একসময় ডানা নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন ও পদাতিক নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।বহু সম্মানে সম্মানিত এই কবির অদ্যাবধি 12টি কাব্যগ্রন্থ ও একটি গদ্যগ্রন্থ আছে।স্থায়ী বসবাস বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরে।
মৃত্যুগুলো জড়ো করা আছে
সমস্ত মৃত্যুগুলো একসাথে জড়ো করা আছে
রাত্রির মর্মে মর্মে বেজে উঠছে ভীরু পাখি
কে যেন চাঁদের গায়ে
কালো কাপড় জড়িয়ে দিয়েছে
এত দগ্ধতা আমি আগে কখনো দেখিনি
শুধু নাভিমণ্ডল পোড়ে না কখনো
চক্রাকারে ধোঁয়া উঠে আকাশে মিলায়
মৃতের গন্ধে কিছুটা ঝুঁকে আসে
অতিবৃদ্ধ নক্ষত্রের ভাঙাচোরা মুখ ...
সংকেত
কতবার নিভে যায় জোনাকি
আর জ্বলে ওঠে নির্জনে
যেন কোনও ইশারায়
বলে যেতে চায়
এ অসীম শুধুমাত্র সৌরবন্দনার নয়
এ পৃথিবী নয় শুধু কুটীরসমগ্র
সমস্ত দখিনা দুয়ার খুলে রাখো
আমাদের আরো কত সম্ভবনা
লিখে রাখা বাকি
ততবার জ্বলে ওঠে জোনাকি ...
(3) মাতৃরূপা
দূরে শূন্যের গহ্বর থেকে
নেমে আসছে মেঘের আশ্চর্য পালক
ঐ পালকই একদিন আমার
আদিম মাতার পোশাক ছিল
তবুও পালক এত মানবিক ছিল
যে তাঁরা অনায়াসে সরোবর থেকে
স্নান সেরে ফিরে আসত ঘরে
আমাদের পথঘাট আজ আর নিরাপদ নয় বলে
প্রতিটি রাতের হাওয়ায় কান্না লেগে থাকে
অথচ এ চরাচর যেন এক উন্মুক্ত যোনি
ব্রহ্মান্ড প্রসব করে শুয়ে আছে শান্ত
যেমন জননীর শরীর উন্মুক্ত থাকে প্রসবকালে
(4) সোয়েটার
যেমন আকাশ দেখেছ রাতে
যেমন দেখেছ তার নীলাভ জ্যোতি
বিকেলের পাখি ফিরে এলে ঘরে
আঁধার গিলে খায় চারিদিক
রাক্ষসের মতো
এসময় পুরনো চিঠির কথা মনে পড়ে খুব
তার সেই হাতে বোনা সোয়েটার
যার ভাঁজে ভাঁজে একদিন
বিকেলের স্পর্শ এসে বসেছিল ফড়িংয়ের মতো
সেই কবে থেকে মৃত সোয়েটার
ন্যাপথলিনের গন্ধে মাখামাখি করে
রাখা আছে একটি মরচেধরা
অব্যবহৃত টিনের বাক্সের কফিনে
0 মন্তব্যসমূহ