সমুদ্রে ঠায় দাঁড়িয়ে
শ্যামল রায়
সমুদ্রের উথাল পাতাল ঢেউ
ঠাই দাঁড়িয়ে আছি
ঝিনুক থেকে মুক্তা আনতে।
দাউ দাউ জ্বলছে
হাথরাস থেকে কামদুনি
রাজনীতি শুধুই রাজনীতি।
আমরাতো নুন আনতে
পান্তা ফুরিয়ে ফেলছি
তবুও উষ্ণতার মাঝে
ঠান্ডা বাতাস খুঁজছি
বাঁচার জন্য স্বপ্ন দেখতে দেয়ে।
প্রতিবাদ ক্ষোভ বিক্ষোভ
চারিদিক আওয়াজ তদন্ত চাই
দোষীদের শাস্তি হোক
আমরা বাঁচতে চাই।
ঠায় দাঁড়িয়ে আছি
সূর্য দেখে বাঁচতে।
দেখব ই নতুন সূর্য
শ্যামল রায়
এবড়ো খেবড়ো রাস্তা
মেঘলা আকাশ
অনিয়মে ভরে গেছে
তবুও পৌঁছাতে হবে
গন্তব্যস্থল।
যেখানে একটা ভোর আছে
যেখানে লাঙ্গল কাঁধে চাষী চলে
দিনশেষে ভাত জোটে
সেই জায়গায়।
ওখানে পাহাড় আছে
ওখানে ঝরনা আছে
মেঘ আছে
বৃষ্টি হবে
রোদ্দুরে উষ্ণতা নেব।
ওখানে সকালবেলা হবে
কখনো শিউলি ফুলে
কখনো শিমুল পলাশ ফুলে
কৃষ্ণচূড়ায় মেতে উঠবো
ওখানে যাব
সাদা কাগজের পৃষ্ঠা জুড়ে
স্বপ্ন ঘেরা দিন দেখব
ওখানে দেখব ই রাঙ্গা সূর্য।
জ্যামিতিক
শ্যামল রায়
কাটা কম্পাস স্কেল আর ত্রিভুজ নিয়ে, আমরা চলছি সমকোণ তৈরিতে। সুন্দর ভারত বর্ষ বানাবো
কাটা কম্পাস থেকে চতুর্ভুজ বিভিন্ন ধরনের কোন চারদিকে।
কাটা কম্পাস ঠিক আছে দিক নির্ণয় করতে-----।
শুধুই গর্ব ভারত বর্ষ নিয়ে
কিন্তু আড়ালে জ্বলছে আগুন
নির্যাতন অত্যাচার খুন
আর মিথ্যার নাটক
নুন আনতে পান্তা ফুরনের অবস্থা
তবুও গাঢ় অন্ধকারে চাঁদ দেখি
সকালবেলা লাল টুকটুকে সূর্য
আর সদ্য কেনা নতুন শাড়িতে
তোমার দেখা করা
ভালবাসার চুম্বন আকি স্বপ্ন চোখে
জ্যামিতিক আকারে।
জল মাপতে গিয়ে বার বার ঢেউ গুনছি
কাটাকম্পাস স্কেলে ধরাপড়ছে না।
[
এই সময়কালের পরিচিতি সকলের প্রিয় কবি শ্যামল রায়ের একগুচ্ছ রোমান্টিক কবিতা ।
তবুও খুঁজে যাই
#
একটু উষ্ণতার জন্য
আমার ভালোবাসার নারী
শিখিয়েছিল গভীরতা ও অগভীরতার কথা
ভালোবাসার অনেকটা পথ কাঁটাতার কিন্তু!
হাঁটতে হাঁটতে-----
জীবন ছন্দে খুঁজে নিতে হয় নতুন সকাল।
শুধুই উষ্ণতার জন্য----।
ভালো-মন্দে সুখে দুঃখে গড়া দুই হাত
এক-একটা খণ্ডচিত্র
বড্ড এলোমেলো চুম্বনের দুই ঠোঁট
এসব বেশ বুঝতে পারি তবুও
নীল আকাশ দেখতে হয়
মেঘে ভাসমান থাকে নানান কল্পচিত্র
কখনো বৃষ্টি কখনো রোদ্দুর।।
ভালোবাসার নারী
হাত নেড়ে শুধুই বলতে পারবে
আমি ভালো আছি ভালো আছি
আমি কিন্তু ভালোবাসায় দাহ্য -কষ্ট বুঝি!
তবু খুঁজি
বৈঠা হাতে ভালোবাসার একটা ঠিকানা।
এক নীল আকাশকে
#
আকাশে পাখিরা ওড়ে
আকাশ আকাশ আকাশ
ভালোবাসাবাসি তে।
আমিও যাবো, আকাশের কাছাকাছি
জীবনের মানে খুঁজে নিতে।
হে ভালোবাসা
আমি চঞ্চল। হৃদয়ের কাছে যাব।
জীবনের সমস্ত বিশ্বাসে ভালোবাসা নেব
তোমাকে ভালোবাসা দিয়েছি উনুনের আঁচে বসে।
তুমি থেকো অন্তরের ভাজে ভাজে
কখনো প্রচ্ছদে একে দেওয়া রং তুলিতে।
তুমি থেকো কবিতার পঙক্তিতে পঙক্তিতে
এক নীল আকাশে তুমি
অজান্তে হারিয়ে যাও
আমি ভিজবো বলে
মেঘ খুঁজে নিতে ভাসি
রঙে রঙে চোখে চোখ রেখে।
এক নীল আকাশ
শুধুই তোমার জন্য এই আকাশটা
আমার কাছে নীল শাড়ির আঁচল।।
আমার ইচ্ছে গুলো
#
পাখির ডানায় আমার ইচ্ছে গুলো
উড়িয়ে দিলাম
তুমি ছাদে থেকো
নতুন শাড়ি কিংবা অন্তর্বাস জুড়ে
আমার ইচ্ছে গুলো
সেটে থাকুক অনুভূতির বর্ণে বর্ণে।
তুলি কলমে একে যাব মুখ শুধুই মুখ
কখনো আস্ত একটা শরীর হবে
বলবো, ভালোবাসা এখানে আছে।
আমার ইচ্ছে গুলো
প্রেমিকা পাখির ডানা জুড়ে থাকুক।
ঝুল বারান্দায়, কখনো কখনো দাঁড়িয়ো
মনে না পড়া শব্দ পাঠাবো
পুষ্টি ভেবে, শ্বাস নিতে জীবন রক্ষা কোরো।
আমার ইচ্ছে গুলো পাঠিয়ে দিলাম
নতুন শাড়ি ,ও অন্তর্বাস জুড়ে রেখো।
ভালবাসার নাম নদীর এপাড় ওপাড়
#
ভালবাসার নাম একটি নদীর এপাড় ওপাড়
জল স্রোতে আমার হাত তোমার হাত
কখনো মরুভূমি কখনো বরফের দেশ।
ভালোবাসা জীবন যাপনে
আধার ঘুচে যাক রোদ্দুর উঠুক।
ভালবাসার নাম নদীর এপাড় ওপাড়
কখনো কাশবন ,কখনো শিমুল পলাশ
কখনো পদ্মপাতা
দলবেঁধে পুকুরে জল খেলায় পাতিহাঁস।
এ সবটাই ভালোবাসার এক একটা রূপ
তুলি কলম এর রং ও প্রজাপতির ডানা
বকের সারি।
এসব ভাবতে ভাবতে থর থর করে বুক
নদী ঘাটে অবেলা হয়
চলো --নিশ্চিত ঘুমিয়ে পড়ি এক চাদরে
রোদ বৃষ্টি ঝড়ে
ভালোবাসায় গড়া বুকে হাত রেখে।
খুঁজে নিতে ইচ্ছে করে
#
কখনো কখনো ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলে
রোদ্দুর ও ওঠে
খুঁজে নিতে ইচ্ছে করে
তোমাকে শুধুই তোমাকে।
কখনো জানালার পাশে
কখনো বাড়ির পাশের বাগানে
সোজা রাস্তা দিয়ে হাটি---
শুধুই খুঁজে নিতে ইচ্ছে করে
ভালোবাসার দুচোখ- দুহাত।
আর কেউ ভিজবে কেন?
#
আর কেউ ভিজবে কেন?
দমকা হাওয়ায় বৃষ্টিতে
আর কেউ আসবে কেন
পাশাপাশি কাছাকাছি বসতে?
সম্পূর্ণ উন্মুক্ত আকাশের নিচেয়
এঁকে দেবো ,এক একটা রাঙা সূর্য
ছুঁয়ে দেখবো আঙুল কখনো গাল
আর কেউ ভিজবে কেন?
সারা আকাশ জুড়ে স্বরলিপি
আমাকে গান শুনিও
স্বপ্ন দেখিও
নতুন পথ কখনো গল্প কবিতায়
উৎসাহ বাড়বে
আর কেউ ভিজবে কেন?
চলো দমকা হাওয়ায়
লালপাহাড়ি দেশে চলো
রাঙামাটিতে গল্প বলি
প্রথম তোমাকে ছোঁয়া
শ্যামল রায়
আমি প্রথম তোমাকে ছুঁয়েছিলাম যেদিন
শব্দ ছিল। ছিল পলাশ বকুল জুঁই
নতুন রঙে রঞ্জিত হয়েছিলে
ইচ্ছে ছিল ডিঙ্গি নৌকোয় চেপে
বেড়াবে ঘুরে ঘুরে।
আমি সঁপে দিয়েছিলাম
জীবনের সবটুকু
ঘন কালো অন্ধকার মুছে দিয়ে
আলো বিন্দু খুজে নিয়েছিলাম
ছিল স্বপ্নে ঘেরা সিঁড়ি
সত্যের জয় গান।
আমি যতটুকু ছুঁয়েছিলাম তোমাকে
নির্ভেজাল ভালোবাসাটুকু দিয়ে
খুজে নিয়েছিলাম আত্মতৃপ্তি দুজন
দিন যেয়ে মাস ,বছরের পর বছর
তবুও মনে হয় স্বপ্ন হাঁটতে শেখেনি আজও
বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের মধ্যে
স্বপ্নের ভালোবাসা
স্বপ্নের মেঘগুলো
ঘুরপাক খায়
পাল্টে যায় কখনো কখনো।
অথচ ইচ্ছের যাতায়াত
এক একটা ভালবাসার ঠিকানা জানতাম
আজ যেন বকুল গাছের নিচেয়
প্রশ্ন একাধিক? সম্পর্কের বুনন এর কাছে
সযত্নে আদর কাঠফাটা রোদ্দুরের এর মতো
রাত যতটা গভীর হয়
এসব ভাবনারা সেতু গড়ে
আমিও কখনো কখনো
জীবন বোধ খুঁজে নিতে
সচেষ্ট হই। কবিতার ঠোঁটে।
আমারও চুম্বন এঁকে দিতে
তুলি রংএ মন খারাপে ঢেউ হয়।
এখন বেশ বুঝতে পারি
প্রথম চুম্বনের পর
প্রথম ছুঁয়ে দেখার পর
কাটাকুটি খেলা
বড্ড সুখ ও কষ্টে
আমাকে লন্ডভন্ড করে আজ।
ভালোবাসার উঠোন চেয়েছি
শ্যামল রায়
এমন একটা ভালোবাসার উঠোন চেয়েছি
দাঁড়িয়ে বলতে পারি ,,তুমি কি করছো?
আমি জোর গলায় বলতে পারব
তুমি কেমন আছো ?আমার জন্য।
আমি ভালবাসার একটা উঠোন চেয়েছি
যেখানে শিউলি ফুল ছড়িয়ে থাকবে
দেখতে পাবো কখনো রোদ্দুর
বৃষ্টি ভেজা
শুধুই তোমাকে শুধু তোমাকে।
আকাশটা আরো নীল দেখতে চেয়েছি
ব্যস্ততার মাঝে তোমার ঢেউ চেয়েছি
আমি নদীর বা সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়াই
অপেক্ষা করি-----
তোমার চোখ দেখতে ।।
একটু উষ্ণতার জন্য
একটু বাতাসের জন্য
শ্বাস নিতে
একটা উঠোন চেয়েছি
শুধুই ভালোবাসার উঠোন
শিউলি ফুলগুলো ছড়িয়ে পড়ুক।।
শুধুই তোমার জন্য / অব্যক্ত প্রেম
শ্যামল রায়
তুমি রোমান্টিক, কাশবনে দৌড়াতে ভালোবাসো। শিউলি ফুল তুলতে ভোরবেলা উঠে যাও।
বয়স যখন উনিশ, এক যুবক দাঁড়িয়ে বলেছিলো, তুমি কেমন আছো? তুমি উত্তর দাওনি।
অন্যদিন যুবক দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। বলেছিলো রোদ্দুরে হাঁটাচলা করোনা।
তুমি বলেছিলে তাতে আপনার কি?
যুবকটি বলেছিল অনেক কিছু।
যুবকটি এখন সকলের কাছে কাছে খুব পরিচিতি।
মেয়েটি এখন আড়ালে আবডালে চোখের জল ফেলে।
মেয়েটি মনে মনে বলে
আমি বলেছিলাম আপনার কি?
সারাটা রাত এক চাদরে
শ্যামল রায়
আমাকে তুমি চিনতে পারলে না
রোদ্দুরে মোড়া একটি চিঠি পাঠালাম
তুমি একটা আকাশ দিয়ো বৃষ্টি দিয়ো
আমি শিশির বিন্দু তে বৃষ্টি ফোটা দেখব।
তুমি নতুন শাড়িতে, প্রদীপ হাতে
তুলসী তলায় দাঁড়িয়ো--
আমাকে চিনতে পারবে তো?
আমি নীল খামে চিঠি ছিলাম
তোমার পড়ার টেবিলে
ডাইরির ভিতরে সাদা কাগজে
নানান অক্ষরে সেজে উঠেছিলাম।
তুমি আমাকে চিনতে পারোনি
আমি একদিন বিকেল বেলায় গোধূলি লগ্নে
আলপথ ভেঙে দাঁড়িয়েছিলাম নদীর পাড়ে
তুমি চিনতে পারোনি ।
আমি পিছন দিক দিয়ে
তোমার চোখ দুটি আঙ্গুলে জড়িয়ে ছিলাম
বলেছিলাম সবুজ ঘাস আছে
আঁচলটা পেতে দাও
কবিতা হয়ে উঠি পূর্ণিমার জোছনায়
সারাটা রাত চাদরে----।
0 মন্তব্যসমূহ