মো. শরিফুজ্জামান পলের একগুচ্ছ কবিতা



মো. শরিফুজ্জামান পলের একগুচ্ছ কবিতা

মো. শরিফুজ্জামান পল। মাতা : ছাবিহা আকতার। পিতা : শাহানশাহ তালুকদার। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে তার জন্ম। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ব্যাংকের চাকরিতে ঢোকেন। পল  প্রথমে সান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। সেখান থেকে তিনি চলে যান আমেরিকার নিউইয়র্কে। পুরো পরিবার নিয়ে বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। পল একজন কবিতাকর্মী ও ভাবুক। কবিতা তার মনন ও মজ্জায় ঢুকে গেছে। পল শুধু একজন কবিতাপ্রেমিকই নন; তিনি একজন ভ্রমণপিয়াসীও...। বিবাহিত জীবনে পল এক কন্যা সন্তানের পিতা।



পরিণয়

বিন্দু বিন্দু করে, বিন্দু থেকে সৃষ্টি হওয়া
এই সোনার দেহ, আমি মানুষ।
নদীর মতো বয়ে যাই---
শেষমেশ নিঃশে^স হয়ে যাওয়া
এই আমি মানুষ।

আবার বিন্দুতে পরিণত হওয়া
নিয়তির পরিণতিতে
অবশেষে
একটাই অনিবার্য ঠিকানা...

বিন্যাস্ত হওয়া অণু-পরমাণুতে
ইলেক্ট্রন-প্রোটন আর নিউট্রনে
হয়তো একদিন হবো মানব সভ্যতার
হারিয়ে যাওয়া আবিষ্কৃত এক ফসিল মাত্র
অন্য গ্রহ, অন্য প্রকৃতির মাঝে---

মিথ্যের পরাজয় 

স্বপ্নপুরীর স্বপ্নজাল
সব মিথ্যের স্বপ্ন-বুনন।

স্বপ্নের রাক্ষস আর খোক্ষসরা
জমিনে নেমেছে পঙ্গপালের মতো---
দলবেঁধে কুটি কুটি করছে
মানব সভ্যতার আবাসস্থল---
আমার হৃদয়।

চাঁদ মামাকে ঘিরে রেখেছে
ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার
সূর্য আর ভালোবাসে না প্রকৃতিকে
প্রচণ্ড দাপদাহে 
খরা বানিয়ে দিয়েছে তামাম দুনিয়াকে---
ডাইনি হয়ে গ্যাছে তার চোখ;
যেখান থেকে এখন শুধু স্ফুলিঙ্গ বের হয়।

পৃথিবীজুড়ে ধ্বংসের লীলাখেলা
লাশের গন্ধ ভাসে চারপাশে---
মানুষও হয়ে গ্যাছে পিশাচের মতো
শুধু ধড়ফড় করে হৃৎপিণ্ড।

দুর্বলের ওপর শাষণ করে
যৌবনের নগ্ন মাতাল হাওয়া---
বাতাসে 
চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে অনিবার্য ধ্বংস...

ধন্য আমি

নিঃস্ব হয়ে, মন হারিয়ে
বিক্ষিপ্ত চঞ্চল মন খোঁজে আজীবন
তোমার উল্কা চোখ---

চাহনিতে অগ্নিরশ্মি বিচ্ছুরিত হয়
গলে যায় হৃৎপিণ্ড।
ঝরে আবার রক্তের বন্যা অবিরত।

কেনো এলে আবার শুনতে ঝড়ের গান
সহ¯্র বছর পর আমার হয়ে?

তবুও সত্যি, মাইরি বলছি---
ধন্য আমি, মুক্ত করেছি মনকে
সে জানে, ভালোবাসতাম তাকে।


তোমার জন্য
অতৃপ্তির প্রাপ্য আর আশা-নিরাশা
সবই একসাথে গাঁথা।
জীবনে যেনো পাল্লা দিয়ে করে আসা-যাওয়া
তবুও তৃপ্তির ক্ষত গুনি
যা চাই, তা কি পাই একা এই জীবনে?

হারাই বারবার, আবার সংগ্রামে করে যাই
আমরা সবাই একই শিকারি
সম্পদ চাই। প্রেম চাই। ক্ষমতা চাই।


সর্বত্রই প্রেমের হয় না জয়Ñ 
যাযাবর আমি। জীবন রঙিন-কুসুম
তোমার কাছেই আমি আসি, প্রেমে পড়ি
তোমার জন্যই মরি আমি, বাঁচি তোমার জন্য--- 
কল্পনার গড়ে তুলি স্বর্গের প্রেম রাজ্য।


শূন্য
স্বার্থের দুনিয়ায় আমি নিঃস্বার্থ
নিজেকে চিনলাম না কোনোদিন
স্থান হলো না যাদের হৃদয়ে
ঈশ^রই তাদের সহায়?

তোমরাই সব ভাঙো, তোমরাই সব গড়ো। 
জ্ঞানপাপীদের ভিড়ে আমি মূর্খ
তোমাদের সমাজে আমি এক অচল পয়সা
তোমরাই বহুরূপী মানুষ--- চালাক-চতুর...
ঈশ^রই তোমাদের সহায়?
আমি একাই চলি বুনোপথে...

শূন্য মানুষের কেনো এতো চাওয়া
তোমাদের সীমানা নেই আমার জানা।
আসলে তোমরাই ভিখারি---
ঈশ^রই তোমাদের সহায়?

আমি শূন্য থেকে এসেছি
শূন্যের দিকেই হাঁটতেছি
স্বার্থের দুনিয়ায় চাই না আমার স্থান।

হারোনা আষাঢ়
আমার এখন বৃষ্টি আছে, বর্ষা নেই
হারিয়ে ফেলেছি সেই আমাদের আষাঢ়ের আকাশ।
বৃষ্টি হলেও এখন রাখালের তাড়া নেই।
বটতলার হাটের মানুষের ছুটোছুটি নেই
বৃষ্টির বাণে ভেজবার ভয় নেই কারো।

আমার যৌবন ভরা মেঠো পানির নদী নেই
ছোটো ছোটো ঢেউ খেলার জলকেলি নেই
নদীতে গোসল করার দাবি নেই।
মাঠে বৃষ্টিতে বেলাচুক্তি ফুটবল খেলা নেই
সব হারিয়েছি আমি সময়ের ব্যবধানে।

আমার কালো মেঘের ভয়ার্ত গর্জন নেই
ঝুম বৃষ্টিতে মায়ের হাতের গুড়-মুড় নেই
বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরের বারান্দায় বসে
পাল্লা করে কাঁঠাল খাওয়া নেই।
আমি সব হারিয়েছি সময়ের ব্যবধানে।

আষাঢ়ের অসহ্য একটানা বৃষ্টিতে
গোয়াল ঘরে অলস সময় কাটে না
পল্লীর সব জোয়ানিদের আর
নয় গুটি, ষোলো গুটি খেলা নেইÑÑÑ
আমি সব হারিয়েছি সময়ের ব্যবধানে।


চলমান
বৃষ্টির নতুন পানিতে প্রকৃতির যৌবন
আর বাড়তে দেখি না।
উজান বেয়ে ওঠা মাঝির কৈ মাছ
সোনালি পুঁটি আর দেখি না।
রাখাল, জেলেদের মাছ ধরার
ঘুনি, টেপা, পলো আর দেখি না।
সব হারিয়েছি আমার সময়ের ব্যবধানে।

প্রকৃতির কান্না আর উল্লাস
কিছুই আর দেখি না।
সময়, তুমি কী সময়?
ব্যবধান করো প্রকৃতিকে
ভালোবাসার পরিবর্তন করো?
সব হারিয়েছি আজ আমি
তোমার জন্য--- সময়ের ব্যবধানে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ