হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় একগুচ্ছ কবিতা
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিতি
বাংলা কবিতার আশির দশকের অন্যতম প্রধান কবি হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন নিঃসঙ্গ মানুষের অনন্ত জিজ্ঞাসাই হল কবিতা ।পরিচয় দেশ থেকে শুরু করে নন্দন অনুষ্টুপ চতুরঙ্গ এবং মুশায়েরা ইত্যাদি ছোট বড়ো সকল শ্রেণির পত্রিকা তার লেখনভূমি ।সাদা রঙের ট্রাপিজ , নীল আলোর গল্প
,বসন্ত অপেরা,নিরালম্ব ঘুঙুর,অসহনীয়, ছায়া ফেলি ছবি হয়, গাগরি ভরে না,বিধিবদ্ধ উপত্যকা ইত্যাদি
তার সৃষ্ট কয়েকটি ধ্রুপদী কাব্য ।তিনি প্রতিশ্রুতি, ঢেউ, অরণি, চিলার ইত্যাদি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।তার নিরলস সাহিত্য সাধনার ফসল হিসেবে ইতিমধ্যেই পঞ্চাশটিরও বেশি পুরস্কারে পুরস্কৃত ও সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন ।
ভুলভুলাইয়া
একটা ভুলভুলাইয়ার অজস্র গোপন কুঠুরি ,অভিঘাত অভিসন্ধি একটায় ঢুকলে অন্যটায় ওয়ারড্রোব
আলমারি ঝুরঝুরে সিঁড়ির দরজা
লম্বা লাইন ক্রমশ ক্রোধের মুখ স্রোতের মতো
অসীম শক্তিধর অনুপ্রেরনার ঢেউ .......
ক্রমশ ভূগোল পাল্টে যাচ্ছে, বেড়ে উঠছে ভেতরে ভেতরে ভৈরবী লালসা ,নির্বাপণশীল পিপাসার মতো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পালতোলা মন্ত্রোচ্চারণের মতো
চিরজ্বলমান ঘূর্ণীর মতো স্রোত. ......
না রঙ না রাঙানো নির্জন ধুতরো ফুলের মালা সম্পূর্ণ মর্মর যেন টার্মিনোলোজি মেঘের সঙ্গে বৃষ্টির সঙ্গে একটি অপ্রাকৃত ভুলভুলাইয়ার নাম যেন মহাকাল
স্বামী স্ত্রী নারী পুরুষ যুবক যুবতী প্রেমিক প্রেমিকা বৈধ অবৈধ রাত্রি দিন ঋতা ও ছাতিম
পর্বান্তরে ঢুকে গেলে আর বেরোবার রাস্তা নেই
কাকচক্ষু জল টানছে পথের বিপরীতে প্রশ্নের বিপরীতে মসৃণ,গহন অনন্তকালের আকস্মিক
তোলপাড় সূচনালগ্নে
উজ্জ্বল বিকেলের রেলপথ
সিটির শব্দে সারিবদ্ধভাবে
সুন্দরী কিশোরীদের বেপরোয়া সাইকেল চালানো
ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে
শষ্পমূলে আশ্চর্য অসীমে ...
....
অন্তর্বতীকালীন
দেবদারু গাছের কুয়াশা সরিয়ে ঋতুপর্বের আজান
প্রতিটি মানুষের আহুতি কার্যত এক অন্তর্বতীকালীন মিলন উৎসব ...
সব রঙে আলো ফোটে না আকাশ ও জানে
জলের ভিতরে জল স্বচ্ছ স্ফটিক হয়
কীভাবে মেঘের প্রথম পাঠ এই অনুবাদ জীবন
কবেই বাষ্পায়ন স্ফুটনের দিন চলে গেছে
সমুদ্রের বিস্তারকারীর মতো
এখন ক্যাসিনোর আলোয় মধ্যরাতের কুহু হু হু করে কাঁপে, ফুল যে অন্ধ বিশ্বাসে কুঁড়ি থেকে ফুটে ওঠে সেইভাবে ক্রোধের মুখ রোদের মতো হোক
সমুদ্র বালিতে জড়িয়ে থাকা কাঁকড়ার পা জীবিতের জ্বালামুখ সহ্য করে না
যদিও তিলমাত্র কথা
একসময় প্রকৃতির একমাত্রা দু মাত্রা ছেড়ে
পয়ারে ফিরতে হয় রোজ রোজ রাত্রির দরজা যেন
সুখ ও সেগুন মঞ্জরী ....
ছায়ার শরীর
ছায়ার শরীরে ধুলোবালি লেগে ম্লান হয়েছিল এতদিন পুজোর মরশুমে ধুয়ে মুছে সাফ করে আয়নার বহুকৌনিকতায় তাকে রেখেছি
এখন আলোর মতো সুখে আছি
সোনালি শিবির ছুঁয়ে হিমকুসুমদের জাগাতে
কাচের ভিতর দিয়ে যেটুকু নৈঃশব্দ্য দেখেছি মেরুদন্ডহীন মানবতা অংশত বাঁকা নদীর বদলে প্রসারিত ঘুমের পালক ছুঁয়ে চেনা গন্ধ অভিজ্ঞতার
কৌটায় ভরে রাখা ভালো ...
সব কিছু দিয়ে যেতে হবে মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি ঢাকের আওয়াজ দ্বিপ্রহরের নগ্ন ছায়া মাটির ইশারা
আলো যখন নিজস্ব উপনিবেশ ছেড়ে অন্ধকারের কাছে ধরা দেয় তখন বিবর্ণ আকাশে আলো বড়ো না অন্ধকার এই নিয়ে সংসারে ধুন্ধুমার লেগে যায়. ..
প্রতিপদে বাধা নিয়ে ধানক্ষেত নদীবিল উড়াল জীবন একদিন অপর বসন্তের খোঁজে গিয়েছিল মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে বুকে নিয়ে জিরো ওয়াটের বাল্ব ....
এখন প্রযুক্তির লজ্জাহীন বিশেষ্য ও সর্বনামে
মাত্রা বদলেছে ক্রমশ ভূগোল পাল্টে গেছে
খুন ধর্ষণ হত্যা দৃশ্য জলভাত এখন
নির্বাক তারাদের মতো সভ্যতার ধ্বংস ও প্রতিবাদের ধূন বেজে ওঠে পয়ারে আর কেঁপে কেঁপে ওঠে ছায়ার শরীর .......
অপরূপ রূপের ঘূর্ণি
সাঁচিস্তূপের বুদ্ধমূর্তির থেকে মহাবলীপুরমের চরৈবেতি, শুকনো পাথরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার জন্য
কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীরের উলার হ্রদ
প্রাণপাখি উড়ে যায়
হাতে কবিতা নেই , আমার প্রিয় শব্দেরা সারিবদ্ধভাবে ছেড়ে চলে গেছে আমার ই আঙিনা দিয়া, গাইবো কীভাবে তবে বলো
বিরসদিন বিরল কাজ প্রবল বিদ্রোহে ...
লম্ব স্কোয়ার প্লাস ভূমি স্কোয়ার ইজ ই কুয়েলটু...
এ কোন অন্তরঙ্গতার জ্যামিতি, চোখ বন্ধ করলেই
নিঁখুত ক্যামোফ্লেজ ...
স্বপ্নে সাব টাইটেলের নির্বাণে যে কত সমস্যার সৃষ্টি হয় মায়ার স্পর্শ মাত্র শিউরে উঠার মুহূর্তে
ভালো করেই জানো তুমি অপরূপ রূপের ছোঁয়া
এদিকে নীল জল স্নিগ্ধ অর্কূট দলছুট বালিকা বিদ্যালয় আরো গভীরে গেলে সখ্য প্রেম নীপবনে রাধা এযুগেও অথচ তুমি,বলা হয় নি কী বলবো
সব প্রেমের ভালবাসার মূল কথা মীরা.....
এবার পেঁয়াজ আদা টক দই টাটকা রসুন শসা মুখে মেখে পৃথিবীতে প্রেমের স্বর্গ রাজ্য হবে
শ্রেণীহীন রাষ্ট্রহীন কখন কোথায় কীভাবে মেঘের আড়ালে যাবতীয় গোপন অভিসন্ধি ছারখার হবে সেটাই দেখার. .
ভিকট্রি স্ট্যান্ডে বিস্ফোরণ
আলো আর অন্ধকারে নিমজ্জিত প্লাজমা দিয়ে রচিত এ জগৎ, সীমান্ত রেলের সমান্তরাল রেখা পেরিয়ে শেষ ট্রেন হুইসেল দিতে দিতে চলে গেছে তাই নির্জন স্টেশন প্রান্তরে অচেনা কুহক......
উপমার কাছে ঋণী যারা এতদিন, যাবো মানভঞ্জনের জন্য তাদের সকলের কাছে যাবো,যেতে হবে কিন্তু এখন ই না ,প্রকৃতির পাঠ সাঙ্গ করে যাবো
একথা মাতাল ও কবি ছাড়া কে ই বা বলতে পারে
যদিও মুখোমুখি বিজ্ঞাপনে ঘুমোই পরস্পরায়
একান্ত ভৌগলিক পরিখায় .....
যেমন মেসিন ও কর্ষণ
মাটি ও কোদাল
পুরুষ ও নারী
জানে একে অপরের পরিপূরক ততক্ষণ অপরিহার্যতার নিরিখে তাই ঘরে ঘরে নিরুত্তর শব্দমালা পাঠাই কোনো পৌঁছতে পারা নেই জেনে
কজ্জ্বল পূরিত এই দেহকাল
একদিন পিঁপড়ের সারি নিয়ে যাবে
তবু দৌড় দৌড় দৌড়. ..
কে কাকে পিছনে ফেলে দিয়ে যেতে পারে
ভিকট্রি স্ট্যান্ডে লাস্ট ল্যাপ .......
স্বর্ণগোধিকার চেরা জিভ
পৃথিবী আসলেই এক মায়াবন্দর ,দৃশ্যত সৌম্য একাধারে গোপনীয় চঞ্চল ঘনঘন রঙ বদলায়
বহুরূপীর মতো
তুমি ভুল বোঝো না
খন্ডিত শ্লোকের দিনে
ভেসে বেড়াও আর সুযোগের অপেক্ষায় থাকো
সৃষ্টি মুহূর্তের নিস্তব্ধ তৎপরতায়
শূন্যতার নিষ্করুণ মিল অমিল যে দেখেনি সে বুঝবে না ,তোমার এই দম ধরে থাকা
মৃত শিকারের কাছে শান্ত ওড়াওড়ি
তোমার বেলি ও সন্ধ্যামালতী দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা করো,জীবনকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে একরোখা করতে যারা পারে শ্রম ও সৃষ্টির জন্য তাদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম. ..জেনে রাখো সুন্দর রহস্যময় সাবধানতা বর্ণময়. ..লক্ষণরেখা বলতে এই ...
সেগুন রঙের আঁচল পেরিয়ে চৌরাস্তার মোড়ে যেওনা কখনো ,যদিও মধুযামিনী সবুজ উথালপাথাল আসঙ্গ লিপ্সায় সেভেন বেলোর হারমোনিয়াম. ..
পৃথিবী আসলেই এক মায়াবন্দর
দৃশ্যত সৌম্য একাধারে গোপনীয় চঞ্চল ঘনঘন রঙ বদলায় স্বর্ণগোধিকার চেরা জিভের মতো .......
গোলের খেলা
উষ্ণতার তারতম্যে মেঘ সরে যায় নদীর কাছে
নদী সরে যায় মোহনায় সাগর সঙ্গমকালে
তখন চিরহরিতের সুখ ,স্বপ্নে গাওয়া গান লক্ষ্য এক
অপলক দূরবর্তী জানালার ভাষা ,খোলা চোখ রাত পার করছে শ্রীমতী ক্যাফেতে গিয়ে. ..
তখন শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শত নাম ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় মনোজগতের, মধ্যযাম ...মুছে যায় নির্মাণ বিনির্মাণের খেলা।
এক লহমায় উজানের টানে শূন্য থেকে শুরু করি
মাঝখানে রজনীগন্ধা দুপাশে আমরা দুজন
যুগে যুগে বয়ে যায় নারী ও পুরুষ
পেখমের সর্বোচ্চ সুখ যেমন পালকে ,কামিনীর সর্বোচ্চ আনন্দ তেমনি রূপে,সৌন্দর্য্যের বিভ্রমে. ...
বাহ্যত এসব সত্যি, কবিতার ক্ষেত্রে অভিপ্রায়হীন
এবং কঠোরভাবে অসংবিধানিক. ..
দিনশেষে দূরভিসন্ধি অত্যাগসহন. ..আগুনে ঘিয়ের ছিটে কে কাকে দেখেছে আগে ?
প্রাণ,জন্ম নাকি বিস্ময়ের কাজলরেখা. .
প্রথম দিনের মতো শুধু এক ধূসর স্মৃতি, সমীচীন নয় তবু বলে যাই ,সোহাগের তারতম্যে মেঘ চিরকাল শূন্য ফলাফল হাতে নিয়ে এ খেলা গোলের খেলায় থেকে যায় .......
এ কোন ক্রা ন্তিকাল
গীতবিতানের খোলা পাতায় সূর্যাস্তের দিনগুলোয়
চোখ রেখে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
এমন তুরীয় অবস্থা আর আসেনি তাই পথের দুপাশে
নিষ্কাম নির্মোহ প্রক্ষিপ্ত নাভিশ্বাসে লোকজন কেবল ই
হাত নাড়ছে ইশারায় ইঙ্গিতে ভালবাসা জানাচ্ছে শুভেচ্ছা অন্তহীন জানাচ্ছে
এ কোন দেশ যেখানে মানুষেরা উপযুক্ত তন্ত্রমন্ত্র শিখে নিয়ে ছায়াদের ছেড়ে দিয়ে আসছে জঙ্গলে
আর আমাদের রেটিনায় ফুটে উঠছে
লুপ্তপ্রায় নগরীর মায়াবী ব্যর্থতা ,স্বপ্ন ময়তা
এ কোন সকাল ?যেখানে হরিণেরা দল বেঁধে
বাঘ ও সিংহের কাছে ঘুরে ঘুরে চার পায়ে
রিংয়ের খেলা দেখাচ্ছে
এ কোন ক্রান্তিকালের সূচনা ? যেখানে অন্ধঘরে
দড়িকে সাপ ভেবে কী মজা কী মজা বলে চিৎকার করছে হায়নার দল ...
শিশুরা কাচের ভিতর দিয়ে প্রণাম নেবেন বলে আয়নায় নিজের ছায়াকে ভূত ভেবে
ফিরে যাচ্ছে মাতৃসদন .....
একের পর এক ঘর ছাড়ছে নারীরা প্রজাপতি হয়ে যাওয়ার জন্য .......
অবিদিত আলোর প্রকরণ
চাঁদ তারাঅবিদিত আলো জীবন মানে উপচে পড়া
মধু ও গরল তুমি কি জানো না, তা ,নিয়ম ভাঙার
প্রকরণ অবিদিত আলোর আভা তুমি কি এখনো লুকিয়ে থ্যকবে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখে ,এখনো এক অনন্ত অনিবার্য চেতনসত্তা যেখানে নারীরা প্রজাপতি, যেখানে সাধন সত্য কামনা নয় থরথর পরাশর স্তম্ভিত বাক দিব্য যৌনতায় ভরপুর ..
ঠিক তক্ষুনি গঢ় হয়ে ওঠে ফুসিয়া রঙের বিকেল
যেন রেট্রোস্পেক্টিভ যেন নিসর্গ স্থির শরীরের নাম ই
জীবন আর তাই জীবনকে ভোগ করে একাই জীবন
কম্পমান জল দিকচিহ্ন বিহীন...
ছায়ামূর্তি হেঁটে যায় মনোজগতের বিকলন মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে খবরের কাগজ সাত সকালের রোদ
বর্ষাফলকের মতো...প্রতিদিন. ..প্রতিক্ষণ. ..
অথচ তুমিই এখনো উপচে পড়া মধু ও গরল
অগোছালো স্মৃতি দীপ্ত যাদুমন্ত্র. ..
তুমি কি জানো না তা নিয়ম ভাঙার প্রকরণ কাকে বলে, নির্জন অস্মিতা নিয়ে নিরাকার ভাস্কর
গোপন কথাটি রবে না গোপনে তবে কেন, তবে কেন
ভুল ট্রাপিজের খেলা খেলে যেতে হবে এখনো অবিরাম হে অবিদিত আলোর আভা. ......
বঞ্চনার শোধ
পিছন ফিরে তাকাতে নেই
চলে তো যেতেই হয় একদিন সকলকেই
সেটা জানে বলেই জীবন এত উষ্ণ প্রস্রবণ
এত রোমাঞ্চকর
এত আয়োজন চারিদিকে
তুমি কি জানো না রাস্তায় কত ডাক কত হেয়ারপিন
বাঁক, খানাখন্দ জল কাদা ত্রিফলা আলো
বহুদিন কথা নেই ,দূজন দুদিকে চলে যাওয়া
সামান্য বিব্রত হাসি
সত্যি কোনো মানে হয় না
অথচ একথা কে না জানে,কোনো যে মানে নেই সেটাই মানে সত্যিই এই দু হাজার চব্বিশের ডিসেম্বরেও নারী ও পুরুষের সম্বন্ধে আমরা কত কম জানি ,সম্বল সামান্য মুদ্রা ক্ষমা,জ্ঞান কৌতূহলী দাঁড়ানো মূর্তি, প্রাত্যাহিক খুচরো গুনে গুনে দেখার পর আপন মনে হেসে ওঠে ছায়ার শরীর. ..
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ ভয়ে ভয়ে আমরা এইসব দেখি
জীবনলিপি ভরে যায়
সিসমোগ্রাফে, ধরা থাকে বেঁচে থাকা
লোভ লালসা মুছে যাক,পাপপুণ্যের বোধ ঘুচে যাক
অচঞ্চল, হে ধর্মাবতার. ..
সাক্ষী থাকল কালপুরুষ সাক্ষী থাকল সব বঞ্চনার শোধ. ........
ঈশ্বরের আশীর্বাদ
প্রকাশ্যে ভালবাসার যেমন একটা লজিক আছে
গভীর গোপনীয়তায় ভালবাসারও তেমনি একটা যুক্তি আছে ,ওড়না এবং স্লিভলেস তখন তুচ্ছ
কে কাকে জমি ছাড়ে ?
দুজনেরই বুকের ভেতরটা তখন গরগর গরগর করে ওঠে একসাথে, ছাড়ান কাটান নাই
সেক্স মানে সমর্পন পুজো মানে আ ভূমি চন্দনের গন্ধ
বড়সড় অঘটন যে একটা ঘটবে
বুঝলেও তখন আর কিছু করার নাই
কানের দুল, ডোকরার ঘোড়া সেসব অনেক পরে
একটি ভালবাসার গল্প পথে বিপথে ঘুরে ঘুরে বিমর্ষ চোখে তাকিয়ে থাকে নব্যযুগলের দিকে
লভ শুড নট বি এক্সপোজড টু....ভেরি আরলি ইন রিলেশনশিপ. ...
তাই মহান শিল্পীদের জীবনীতে প্রায়শই ভালবাসার গল্প পড়তে পড়তে ভীষণ বিভ্রান্ত বোধ করি
,পুরনো ভালবাসা ভুলে যাওয়া যে কত ভয়ংকর
কত বিমূর্ত বেদনা বহন করে ,সে অপরাধ সে আঘাত
কোনো মরপৃথিবীর মানুষ সহ্য করতে পারেনা কখনো, তবু ছোট বড়ো উচ্চ নীচ সমস্ত ভালবাসার
পক্ষে শুধু এটুকুই ঈশ্বরের আশীর্বাদ. .......
ঐতিহ্য
জীবনানন্দ দাশকে আমরা কখনো দেখিনি
তার মেয়েকে নিয়ে আমাদের এক বন্ধু
একটা উপন্যাস লিখেছে ,জীবনানন্দের মেয়ে...
লেখার ভিতর দিয়ে আমি তার মেয়েকে দেখলাম
মেয়ে শুধু নয়,জীবনানন্দ এবং লাবণ্যপ্রভাকেও
দেখতে পেলাম ,আশ্চর্য না ...
বাংলার মাঠ ঘাট ভাট ফুল নদী ঢেউ শুরু করে অদ্ভুত আঁধার নিয়ে লিখতেন বলে আমরা নাম দিয়েছিলাম
বাংলার কবি,কী অসম্ভব ভুল ছিল আমাদের ধারণায
যে সূর্যের প্রখর তেজ জলকে এক নিমেষে বাষ্প করে দিতে পারে তা শুধু বাংলায় কেন,অস্ট্রেলিয়া কিংবা ক্যালিফোর্নিয়াতেও প্রযোজ্য....
নদীর ভিতর থেকে, নৌকোর আড়াল থেকে
যে জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পড়তে আমাদের শরীর শিরশির করে উঠত একদিন
তা আসলে এক স্বার্থগন্ধহীন আদিম এক ঐতিহ্য ছাড়া কিছু নয়. ...
রাত বাড়লে আমাদের শরীরজুড়ে এখনো তাই
এক বোধ কাজ করে, মৃত্যুর আগে কবি কি ভেবেছিলেন পৃথিবীতে এত দুঃখ রয়ে যাবে ......
বেহালা বাজায়
পথে আলপথে বডি পড়ে আছে
পুরুষ না নারী সেটা বিবেচ্য নয়
আজ কবিতা সিংহ বেঁচে থাকলে বলতেন ৃনারী নয়
মানুষ বলতে শিখুন,নবনীতা দেব থাকলে বলতেন
চাঁদ এসে থমকে গেছে বহতলে আর কী আশ্চর্য অসীমে মাথা কুটছে, আজো এই দুহাজার চব্বিশের ডিসেম্বরেও লালসাকে ফালাফালা করতে পারেনি কোনও ছু্রি ....
তাহলে আমি চাঁদের দিকে তাকাবো কী করে?
মুখ পুড়ে যায়
জ্যোৎস্না বাঁচিয়ে চলি
আমি কে,আমি কেন,আমার কি কোনও সংঘাতজটিল অস্তিত্ব আছে সমাজের কাছে
এরকম অসংখ্য ভুল প্রশ্নের বিপরীতে গলা সাধি
অথচ রোজ রাতে প্রতিবাদ প্রতিরোধ মশাল মিছিল
যে সব শব্দ বিস্ময়, মুখে আনতে লজ্জা হয়
অশ্লীলতা লঙ্ঘন করে ঘটে যায় আর জি কর ছাড়িয়ে কাটোয়ায়, কৃষ্ণনগর থেকে ফালাকাটায়
পা হাড় থেকে জঙ্গলে
তবু পূর্ণিমার সন্ধ্যায় নাকি কেউ কেউ বেহালা বাজায়. .......
বিদ্রূপ
কতকাল পর ফের বসেছি আড্ডায়, চা এর সঙ্গে টা
তবু আলপনা য় গন্ডিটানা
বন্ধুরা বিদ্রূপ করে বলে আমি নাকি পলিটিক্যালি
কারেক্ট, নষ্ট শস্যের গন্ধে যখন পৃথিবী উন্মনা হয়
তখন শুধু প্রয়োজন, শুধু প্রয়োজনে জীবনকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা, এসব বোঝেনা ওরা
বৃষ্টি এসে ধুয়ে দিতে পারে কি কালিমা মলিন
ব্যতিক্রম ব্যতিক্রম ই....
এক্সেপশন কখনো এক্জামপল হতে পারে না
তাহলে না নেতাজী সুভাষ আর নেহেরু
একাকার হয়ে যেত একদিন. ..
সুন্দরী নারীদের চুলে জোনাকি কাঁটার খোপা
একদিন দেখেছে ওরা ....
এ শতাব্দী যেন আড়াল অন্ধকারে নিমজ্জিত
রূপোর জাঁতি দিয়ে সাত পাকে বাঁধা
আর আজ আসমুদ্রহিমাচল ম্যানিকিউর পেডিকিউরে অবাধ আলোর দেহ ...
বন্ধুরা বিদ্রূপ করে বলে
লক্ষ্য মাত্র এই, আমি
আমি নাকি ছন্দবিহীন, দু চারটে কবিতা লিখি বলে ...
সমস্ত হিংসা চলে যায়
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতার প্রথম স্তবকে থাকে হিংসা, ক্রোধ নালিশের অজস্র পাহাড়, কেন এত খুন কেন এত নির্যাতন কেন এত জাতপাত ঘৃণা ভয়
প্রতিবাদ কেন নয় ,প্রতিরোধ ...
মানুষ কি মানুষ নেই, তবে ?
কবিতা এগোতে থাকে কবির কলমে ,ক্রমে কালি নরম হয়ে আসে, আলো ...আসে স্নেহ সহানুভূতি
আসে প্রেম,আদরের মর্মরিত উত্থানপতন. ..
কবি স্তম্ভিত, স্তব্ধবাক ,শব্দ অক্ষর উপমা উৎপ্রেক্ষা চিত্রকল্পের মনোরম বিভা হুড়োহুড়ি করে মাথায়
অথচ লেখার খাতায় তা আঁচড় ও কাটে না
দ্বিতীয় স্তবকে এসে কবি ভাবে ,কেন যে অমোঘ অক্ষয়কাল এত দেরী করে আসে ,ঠিক নয়
সমূহ ক্ষতির কথা মনে হয়
তারপর ডট ডট ডট ...
এভাবেই অসম্পূর্ন পান্ডুলিপি জমা হয় প্রতিদিন
কখনোবা শেষ স্তবকে এসে কবির ইচ্ছে হয়
পামর ঘাতককেও বুঝি ক্ষমা করা যায় ....
অঙ্গবিহীন আলিঙ্গনে
প্রেম একবার বিনষ্ট হলে ত আর দানা বাঁধে না
লড়াই আন্দোলনের মতো এমনকি আত্মহত্যা করতে গিয়ে অসফলতা, তাপমাত্রা পরিবর্তন হলেও ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোয় না ....
...মনরে কৃষি কাজ জানো না ...গানটা যখন লেখা হচ্ছে তখন কি মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল নাকি ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কবির নিরুদ্দেশ
এখন আর তা জানার উপায় নেই, নক্ষত্রের জন্ম
...সবুজে সবুজ আর নীলিমায় নীল. .
বিনা কাজে বিনা অভিপ্রায়ে যখন আমরা আশ্রয় চাই
ভরসা করতে শিখি ঠিক তেমনি প্রেম একবার ফসকে গেলে আর ফেরানো যায় না
লড়াই আন্দোলনের মতো মানুষ যা চায় তা হয় না
কখনো প্রশ্নে প্রতিপ্রশ্নে বুক খাক হয়ে গেলেও না
সে কতদিন আগের কথা অঙ্গবিহীন আলিঙ্গনে. ..
কাকে নিয়ে তিনি লিখেছিলেন এখন আর তা জানার উপায় নেই, হাজার হাজার বছর ধরে মনে মনে শুধু এই প্রশ্ন ই এগিয়ে আসে, অঙ্গবিহীন আলিঙ্গন ই বা
কেমন আর তার আহ্বান ই বা কীরকম .......
সুদূর
প্রখর প্রতিবাদ আর ভালবাসায় মেশানো একটাও কবিতা লিখতে পেরেছো কি কোনোদিন. ..
ট্রেনে ধূপ বিক্রি করে যে মেয়েটা তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছো কখনো সাতটি তারার তিমির ...
বরানগর বাস গুমটির জানলা দিয়ে টিকিট কাটছে যে ছেলেটি ,কাচের আড়াল থেকে তার চোখ দেখা যায় না ঠিক ই কিন্তু স্পষ্ট অনুভব করা যায়
বাবার মৃত্যুর পরদিন সকালে সমস্ত আবেগ বিসর্জন দিয়ে এসেছে সে. ..
ট্রাক ড্রাইভার থেকে কারখানার ঠিকা শ্রমিক সব স্বপ্ন ভালবাসা জলাঞ্জলী দিয়ে ঘোর অন্ধকারে একা কেন ছুটে যায় ..
জানতে চেয়েছো কি কোনোদিন ...নক্ষত্র মৃগশিরায়
তোমার গালে কেন টোল পড়ে না আজ ?
ভ্রূকুটিহীন তোমার মুখের রেখায় স্নেহ সম্পর্ক গুলি বিলীন, কত কাছে ছিলে আজ কত না সুদূর. ..
আশঙ্কা
জীবনকে জুম করতে করতে সম্পূর্ণ ছবিটা কেমন বদলে যাচ্ছে হাঁসজারুর, ফটোগ্রাফারদের সুখ ভালবাসা স্বপ্ন রঙিন ঝুরি দেখার আগে
দুধ কেটে ছানা বড়া
আজো প্রকৃত লেন্স ব্যবহার করার ক্ষমতা কজনের আছে, সর্বান্তকরণে নিদ্রায় জাগরণে
অষ্টপ্রহর শুধু ক্যানভাস কথা বলছে
যেমন গাইয়েরা ,যাদের গলায় আছে সুর
তাদের ও চোখের পাতায় সূর্যাস্তের ছাই এসে পড়ছে দিনকেদিন, তাতে কি ? টপ্পা ঠুংরি মালকোষ পুরনো হয়ে যাবে ?
বরং ঘুরে ঘুরে কেবল মনে পড়ে হাসি ঠাট্টাচ্ছলে গল্প গুজবে মেতে থাকার পর ও প্রকৃত পাপী এখনো জেলের বাইরে. ..
সাদা কালো বেঁটে লম্বা লাইন দিয়ে দেশি বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি বিপদে পড়ে রুমাল দিয়ে মুখ ঢাকছে. ..
ও প্রতিবাদের আলো !অন্তঃসার হারানোর আশঙ্কা
থেকে কবে আমাদের মুক্তি দেবে, সম্ভাবনাময়
ভস্মভূমির মুক্তি ........
শব্দের চেয়ে বাঙ্ময়
বাঁক থেকে বাঁকে ঘুর পথে নেমে আসছে নীল চাদরের হলাহল
নদী যায় মেঘের কাছে
মেঘ যায় মোহনায়, উৎসে কেউ যেতে চায়না. .
বদলে যাওয়া ভালবাসা প্রেম ইচ্ছেরা বুজকুড়ি কাটে
বাতাসে ভাসমান জলকেলি করে উষ্ণতার তারতম্যে
তা বেশ বোঝা যায়
বিচিত্র রূপের বিবরণ থেকে উঠে আসে
দূরবর্তী জানালার ভাষা স্বপ্ন ভালবাসা, তখন চাঁদ রঙের আঁচল পেরিয়ে বাসনা জমায় ......
মুন্ডুহীন স্মৃতির অতলে এইসব চিরকাল মনুষ্যসৃষ্ট
প্রস্তাবনা শেষ হয়
এখন প্রত্যন্ত আদিম
লতাগুল্ম বিষয়ক কথা বলা বারণ
দু মিনিট নীরবতা পালন তারপর শোকপ্রস্তাব
স্তাবকতা আসলেই সেডেটিভ
এইসব ভাবি,ভাবতেই থাকি আর রাস্তা দু ভাগ হয়ে যায়, যত যাই ইতিউতি পাখিদের আনাগোনা ছটফটানি ডানা ঝাপটানোর শব্দ উসখুস অবান্তর
আগ্নেয়গিরির ধুমল উৎসার
তখনো শেকড় বাড়ি আর ফুল পাতা শাখাপ্রশাখা
শব্দের চেয়ে বাঙ্ময় ...
বাঁক থেকে বাঁকে ঘুর পথে আলপথে হাজার শিখায় জ্বলে ঘুলঘুলির রোমাঞ্চ, নীল চাদরের হলাহল
মূলাধার, ক্রমবিকাশের ছবি উঠবার নামবার সমস্ত সিঁড়ির দরজা খোলা বন্ধ হতে থাকে
কী আছে কী নেই সে প্রশ্নের সমাধান এখন থাক
কেবল জল না আঁধার এটুকুই বিশেষ্য. .......
পরিণাম
আমার এখন সব ভুলে যেতে ইচ্ছে করে
মনে হ য় কিছুই ছিল না এই দুর্গম পথে
যে পাহাড়ি আলো একদিন আদিম অস্তিত্বের আর্তনাদে ফুটে উঠেছিল তাই সবখানে জেগে উঠেছিল প্রাণ প্রতিষ্ঠার কালে সেসব পুরনো বেদনা
পুরনো খিলান ,গম্বুজ শিলা গঞ্জের হাট সব পূর্ণিমার পূর্বজন্মের, এ জন্মের রক্ত আর আত্মহত্যা দেখতে দেখতে আমিও জল্লাদ হয়ে উঠেছি কবেই ...
জানিনা এখন কোনো নারীর দিকে তাকালে গোলাপের কথা মনে পড়েনা কেন
শিশুকে কোলে তুলে নেওয়ার আগে
মনে হয় না জ্যোৎস্নার আহ্লাদ
সারি সারি পাইন গাছ পাগলাঝোরা উঁচু নীচু গিরিখাত ফুটে ওঠা রডোডেনড্রন টানে না আমাকে কেন আর ...
আমার এখন সব ভুলে যেতে ইচ্ছে করে
মনে হয় কিছুই ছিল না একদিন...
প্রখর প্রেম ভালোবসার ডালি সাজিয়ে স্নিগ্ধ সরলতা
মায়াবী চোখের আহ্বান
সবই কি পূর্বজন্মের স্মৃতি, এখন দুহাতে তরোয়াল নিয়ে ছুটে যায় সকাল সন্ধে হত্যাকরে আসি
ভোর হ ওয়ার আগে টিমটিমে আলোয় মহাজন
বুঝে নেয় অন্তিম পরিণাম. ......
কোনো কিছুর জন্য
কোনো কিছুর জন্যে কেউ বসে থাকে না
না সময় না নদী না নারী না জন্ম জন্মান্তর লুপ্ত হাহাকার অবিভাজ্য, শুধু মাঝে মাঝে স্খলিত উল্কার মতো আলো গায়ে এসে লাগে আর মানুষ উত্তেজিত হয়, বিচ্ছিন্ন সাঁকোর মাঝে দাঁড়িয়ে পালকহীন ডানার হাড় সম্বল করে একসময় জলস্তর শান্ত হয়ে আসে
কোনও কিছুর জন্যে কেউ কখনো বসে থাকে না
জীবন যৌবন ধনমান. ..ডাক্তার তাবিজ আন্দোলনের মতো অনিবার্যতা. ..শুধু মাঝে মাঝে
গভীর শিকড়ে ফেরে পূর্বাভাস বোধগম্য চিহ্ন ছাড়াই
লক্ষণরেখার মাঝে দাঁড়িয়ে হাসিতে উপচে পড়তে পড়তে কান্নার অবিরল ধ্বংসযজ্ঞের ধারায় মৃত্যু নেমে আসে মাস্তুলে ...আচরণে প্রকরণে সর্বোপরি. ..
কোনো কিছুর জন্যে কেউ বসে থাকে না
আলো হোক অন্ধকার হোক সমুদ্র, স্বর্গ মর্ত্য সসাগরা. ..প্রেম রজনীগন্ধা. ...মার্কস লেনিন গান্ধী সুভাষ ...শুধু মাঝে মাঝে দু দশক চার দশক বাদে বাদে বলে যায় কেউ কেউ .......এই যা ........
রোদকুমারী
দেখতে দেখতে শিরশির করে উঠলো শরীর
রোদের কুমারী তুমি
রোদ নিয়ে পঞ্চব্যঞ্জন
জগৎ মায়ার খেলা আমরণ স্মরণযোগ্য হয়ে আছে
তাই প্রতিদিন ভোর হলে সুন্দরের কাছে যাই
পৃথিবীর তিন ভাগ জল ভুলে যাই
সুন্দরের মনখারাপ হলে অসুন্দরেরা পিপাসার্ত অদ্ভুত নেশায় ,জারুল উন্মাদনায় কোনো দৃশ্য নেই
শুধু দিবস রজনী
শব্দ গন্ধ নেই বাকশূন্য বেলঘরিয়া ফ্লাইওভার
শিমুলে পলাশে তাই রোদের কুমারী তুমি মগ্ন বনস্পতি অলৌকিক হাওয়া
মানবিক ওয়ারড্রোব থেকে আলমারি সিঁড়ির দরজা
শুরু থেকে শেষ সৌন্দর্য্যের বিশৃঙ্খলা
ফ্রয়েডের হাজারদুয়ারি ...
আবারো দেখতে দেখতে শিরশির করে উঠলো শরীর
জল আনতে পূর্ণ কলসি তুমি সুশীতল হাওয়া
বিশল্যকরণী. ......
মেধার বিষন্ন আলো
আমি কিছু বলার আগেই সে বাড়িয়ে দেয় হাত
আমি কি এই অনুভূতিশীল হাত স্পর্শ করব
টেনে নেব বুকে...?
জানি না সমস্ত তান সমস্ত সুর আজ কথার কথা হয়ে ধরা দিচ্ছে, দুঃখ এই মথুরার হাটে তোমার ছায়া আর
দেখা যায় না ...
শহরজুড়ে মেঘ জমে বৃষ্টি ঝরে সুয়োরানি দুয়োরানি
আমায় দেখায় ...
কী সংসারজটিল মায়া তার শরীরে
ফেলে যায় গতিপথ পরিবর্তনের সবুজ ঘাস ও সোনালি ধানক্ষেত নদীবিল উড়াল. ..
একদিন যেমন গোপন খাতার ফাঁকে মিলন মর্মর স্বপ্নের কাজল ...আরো এক পার্বতী ও পরমেশ্বরের পথের পাঁচালি. ..
কিন্তু কী আশ্চর্য কোনো ছবিই আজ আর স্পষ্ট হচ্ছে না, প্রেম ভালবাসা আঁকতে আঁকতে ঘৃণা ঈর্ষা ক্রোধ
ঢেউ গুনে গুনে রাত্রি কাবার হচ্ছে শুধুই. ..
ভাবছি অবগাহনের ভাষা তাকে ঠিক শিখিয়েই ছাড়ব, তখন শেষপর্যন্ত সে হাত সরিয়ে নেবে কীনা জানিনা. ..
নিষিদ্ধ যোগবিয়োগের রাশিফল
বহু দিন হলো তোমার আমার নিষ্ফলা যোগাযোগগুলি ছিন্ন, সঙ্গত কারণেই নিরস্ত্র
শূন্য তূণীর ...
তোমার কোনো দোষ ছিল না একথা সঠিক
একদিন ভেবেছিলাম বটে
আমাদের মিলন মুহূর্ত হবে নিষ্কলুষ
এই দেহ হবে সঙ্গীত, ব্যবহারে কোনও জটিল পরিপার্শ্বময় কামনার বিষ থাকবে না ...
অথচ আজ মোচার খোলের মতো লাট খা য় সম্পর্কের খোলস ....আজ ব্যাকুল ভালবাসা
অনিকেত শুভেচ্ছা অন্তহীন উদ্ধারের আঙুল এরা সব কোথায় হারালো ...
ধানের ক্ষেত পথের নেশা বরফের মতো সাদা
বহু দিন হলো আগুনে ঘি এর ছিটে দেখি না
পড়ন্ত রোদের দিকে চোখ গেলে লাল নীল রিবন
কোমলতার পক্ষে সওয়াল করার মতো আজো কোনও সত্য নেই. ..নিষিদ্ধ পিপাসা নিয়ে চার্বাকের শিষ্য হ ই ...প্রেম ও বেদনার চাদর জড়িয়ে শুয়ে থাকি নাথবতী অনাথবৎ. ......
ছোঁয়াচে
যতবার আড্ডায় বসি মনে হয় একে অন্যের প্রথম আলাপ পরিচয়, আলোচনা এগোতে থাকে বন্ধুত্ব এমনি হয় ,ছোঁয়াচে রোগের মতোই সারাক্ষণ লেপ্টে থাকে ,সন্ধে সাতটা বাজলেই আর রক্ষে নেই
বিশ্বাস এক অতুলনীয় ভারসাম্য রক্ষা করে
আভ্যন্তরীন শক্তির জন্ম দেয়
যেমন নাবিকেরা ফিরে যায়
প্রি য় বন্দরের কাছে ,মনে হয়ে বন্ধুত্বের অমোঘ টান
প্রেমিকা পর্যন্ত বিসর্জন দিতে পারে
যৌবনবাউল সেজে কেউ কেউ সমাজসেবায় নামে
কেউ কেউ লম্বা রেসের ঘোড়া
বয়সের শেষপ্রান্তে এসে তাদের মনে পড়ে চিরকাল সকাল হয় না সকলের. ..
পুরনো বেদনার মতো পুরনো বন্ধুর খোঁজে মধ্যরাতের আকাশের নীচে এসে দাঁড়ায়
বোবা ডাকবাক্স হাতছানি দেয়
তখন বিবর্ণ নীলাভ খাম রামেশ্বরম থেকে পহেলগাঁও পর্যন্ত পিছু পিছু ধাওয়া করে
কিন্তু যে যায় সে আর ফিরে আসেনা কখনো এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাস হারায় .....
0 মন্তব্যসমূহ