শ্যামল বৈদ্যের এই সময়ের গল্প
আলোচক: মিলনকান্তি দত্ত
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একদা অমলেন্দু চক্রবর্তীকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা যে সাহিত্যে প্রতিধ্বনিত হতে পারে না, সে সাহিত্য হয়তো কোনো অপকার করবে না, কিন্তু কোনো উপকারও সাধন করতে সক্ষম হবে না।
বিগত তিন দশক ধরে লেখালেখির সঙ্গে সংযুক্ত, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক শ্যামল বৈদ্য, যদিও তাঁর বিস্তর লেখালেখি পাঠ করার তেমন অবকাশ আমি পাইনি। শ্যামল বৈদ্য স্বপ্ন দেখেন হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত সুন্দর একটি মানুষিক বিশ্ব। ভালোবাসাই হবে জীবনের চাবিকাঠি। সম্প্রতি 'স্রোত' প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত, তাঁর ১৯টি গল্পের ডাগর সংকলন 'এই সময়ের গল্প পাঠ করেছি এবং মুগ্ধ হয়েছি। আমি ঘোষিত গাল্পিক নই, গল্পের পেশাদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচকও নই, কাজেই যা কিছু আমার পাঠপ্রতিক্রিয়া, তাকে প্রতিক্রিয়া না বলে, বরং, পাঠকথা বললেই ভালো 2141
সমকাল' হচ্ছে কর্ম। 'চিরকাল' হচ্ছে কনটেন্ট। সমকালকে নিয়ে আমাদের চিরকালের উদ্দেশ্যে যে মানবিক অভিযাত্রা চলছে, সেই যাত্রাপথের খানিকটা অভিজ্ঞতাই হচ্ছে সাহিত্য। আমরা শ্রধানত সময়ের নাগরিক। সময়ের দুটো ধারনা আছে, স্ট্যাটিক টাইম, যে অতীত বর্তমান ভবিতব্য, স্মৃতিসভা ভবিষ্যতে একত্র। আরেকটি হচ্ছে ডাইনামিক টাইম, যা রাষ্ট্র সমাজ-সংসারমানুষকে নিয়ে নানান অভিঘাত- সমন্বয় বিনির্মাণসহ অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে চলছে। লোকশিল্পীদের কাজকারবার এই ডাইনামিক টাইমকে নিয়ে, প্রধানত। এই সময়ের দ্বারা মানুষ এভাবিত এবং মানুষের মধ্যে যাঁরা নিত। পরিবর্তনশীল সংবেদনশীল অংশ অর্থাৎ সৃজনশীল কবিশিল্পীলেখক সাহিত্যিক, তাঁরা সময়কেও প্রভাবিত করতে পারেন। সোস্যাল ক্রাইমিয়কে তাঁরা সদর্থক পথনির্দেশ করতে পারেন।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যখন লিখেন সেই সময়ের উপন্যাস। শ্যামল বৈদ্য তখন লিখেন এই সময়ের গলা। আসান সুনীলের সেই সময় এবং শ্যামলের এই সময়ের গল্প, প্রধানত সেই সময়েরই কথা, যে সময়মানষ স্বপ্ন ও বাস্তবকে নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু প্রেমে ও প্রতিবাদে অর্জন করতে চায়।
২.
বেঁচে থাকাটা নিষ্ঠার। অথচ বেঁচে থাকাটা শুধু যাপন নয়, এটাই জীবনের সাবার্থ। যেমন অবাশঙ্করের তারিনী মাঝি স্ত্রীকে জলের তলায় তলিয়ে দিয়ে তীব্র জীবনাঙ্ক্ষায় জীবনাঙ্ক্ষায় নিজে জলের ওপর ভেসে উঠে বেঁচে থাকার স্বাসটক নিয়েছিল। অথচ জীবনবোধ তো জটিল, আমি ভেবে পাইনা, জীবনানন্দের একটি গল্পচরিত্র তার স্ত্রীর সঙ্গে তার বন্ধন প্রনয়টি কেন অসফল হয়ে যাচ্ছে ভেবে কষ্ট পাচ্ছে। আমি ভেবে পাই না, ঋত্বিক ঘটকের একটি গল্পের চরিত্র তার প্রেমকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এক বিকেলে, প্রেমিকাকে গলায় চুল প্যাঁচিয়ে ধরে মেরেই ফেলল! এমন হয়? জীবন এরকম? শ্যামল বৈদ্যের 'অচেনা দিগন্ত' গল্পের ছেলেটার প্রেমিকা হাতের সিরা কেটে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে যুঝছে। ছেলেটা হাসপাতালে এন. কিন্তু প্রেমিকাকে না দেখেই চলে গেল। মাম্পি নামক চরিত্রটি বলল, তেম তো ক্রাইম নয়। তোমার ভুলের জন্য একটা জীবন চলে যেতে পারতো। এখনও সময় আছে ভুল যদি কিছু হয়ে থাকে শুধরে নাও। কিনং গলাকার ছেলেটাকে শুধরে নিলেন না এটাই আধুনিক সমফমানুষের চরিত্রের জটিলতা। এই অভ্যস্ত জটিলতার নাগরিক আখ্যান লিখেছেন শ্যামন বৈদ্য। প্রায় প্রতিটি গালা বিশেষ করে অচেনা দিনান্ত, চেনা অচেনা, সুতো ও সনতে, পাড়ার দোকান ও বৌদি, ছায়ার কথা গলানগুলোতে যে সময়ের কথা তিনি বলতে চেয়েছেন, সে সময়টা নিজকেন্দ্রিক, নিজেকে নিয়ে বেঁচে থাকার অদম্য লিবিডো, নিজেকেই বাঁচিয়ে রাখার একটা মরিয়া অনুভবের কথা। গলাকার শ্যামল বৈদ্য, সময়টা অনেকক্ষেত্রেই চিহ্নায়িত করেছেন ২০২০. এর কারোনাকাল। এই সময়ে মৃত্যুভয় জনিত, সংক্রমন ৫০০ জীবনের অমানবিক মুখগুলো তিনি গল্পায়িত করেছেন। 'কারোনাকাল' গভীরভাবে ভাবতে গেলে একটা সময় প্রতীক। বাংলা সাহিত্যে 'কোয়ারেন্টাইন' শব্দটা আমরা প্রথম গেছেছি, বাওৎচন্দ্রের ত্মীকান্ত উপন্যাসে। মৃত্যু সংক্রমিত মানুষকে সামাজিকভাবে অসামানিক করে রাখা। এটি তো মানুষের একটা অবচেত ধর্ষকাম চেতনারই দিক। প্রায় প্রতিটি গল্পে, সংলাপে-রহস্যে-গান্ডার চুম্বক আকর্ষনে গলাকার চমৎকার ভাবে পাঠককে টেনে নিয়ে নোদেন পরিনতির দিকে। গল্পের একমুখিনতাই সন্দের প্রান। গল্পকারের মানবচরিত্ব বিকলনের অবলোকন গুলো খুব সূক্ষ্ম ও বাস্তবোচিত। পাশাপাশি,মানবিক সম্পর্ক যেখানে অগ্নকীর্ণ, সেখানে দুখে দুটো গলো নাগরিক মানুষের পদ্মপ্রীতিও চমৎকার, যেমন কদমের গাভী ও পেডেল গঙ্গে। "RY ARTHING PISINED Hire in a plaolice preless entire সংবেদনশীন পাঠক গল্পকার স্যামন বৈদ্যকে গভীর ভাবে পড়ে যেতেই হবে। তাঁর গলানাদ্য ঝরঝরে, কাব্যিপনামুক্ত। গলো কৌতূহল জিইয়ে রাখার কৃৎকৌশন কৃত্রিম নয়, গল্পের সাবলীল বয়ানের সরে সামঞ্জস্য বজায় রেখে গলাকার গল্পকে সেই জীবনরহস্য দিতে পেরেছেন, ফলে, পাঠক প্রতিটি গল্পের প্রথম পঙক্তি পড়ে সেত অব্দি পৌঁছে যান এক অব্যর্থ টানে।
এ রাজ্যের গল্পসাহিত্যে বিমন চৌধুরী, ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য, শ্যামল ভট্টাচার্য, হরিভূবন পাল, দেবব্রত দেব, পারিজাত দাও, মাধুরী লোক যে ধারার সঙো নিজেদের তৎপর রেখে গল্পের পাঠক সৃষ্টি করেছেন, শ্যামল বৈদ্য সেই ধারারই একজন সুলেখক। মাঝা মাঝখানে জনাপাচেক গল্পকার লোহীন জনা, অন্যধারার গল্প, নিরীক্ষা গল্প, সময়ের পরিভাষার গনাগদ্য লিখেছেন, আঙুলগন্য কিছু বোদ্ধা এদের গল্প পড়েছেন, কিন্তু মূলস্রোতের পাঠকের চোখে এরা দূরগামী নক্ষত্র হয়ে গেছেন! শ্যামল বৈদ্য এ ধারায় হাঁটেননি। তাঁর গল্পে গল্প আছে, নাইক আছে, জীবন আছে, যাপন আছে, কোনো মতবাদিক কোলাহল নেই, সর্বোপরি যা আছে, তা হন সহৃদয় জীবনদৃষ্টি- জীবনের সহানভর। বারীনের বন্ধু গুরুদাস অন্তিম শয়ানে। কিছুদিন ধরেই সাধুদার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সাধুদা অর্থাৎ গুরুদাসের সন্ধান পাওয়া বোন। গল্পকার বর্ণনা দিয়েছেন- চেহারায় মৃত্যুযন্ত্রনা নেই' যেন পরমশান্তিতে শুষে আছেন। বারীন ভালো করে কাছে গিয়ে তাকালেন। আচমকাই তাঁর ভিতর ভয়ানক কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগল। তীব্র একটা চিৎকার দলা পাকিয়ে ক্রমশ ওপরের দিকে ঠেলে উঠতে গিয়েও গলায় এসে হামকে দাঁড়ায়।" যেমন সত্যজিতের phears amerter parels are 1964 termite Pription Mana Mulus nimis Bhataro Piriplines I Sports Poliopiaો કામળ দিলেন না, বরং বেদনাকে গলায় এসে আটকে যাওয়া একটা আত্মস্ততায় স্থাপন করলেন। গলা ছোট ছাই নয়,
গল্পকার শ্যামন বৈদ্যের 'এই সময়ের গল্প' পাঠকনন্দিত হোক। প্রযত্বশীল মুদ্রণ ও মলাইলটে বইটির একমাক 'স্রোর'কে ধন্যবাদ জানাই।
0 মন্তব্যসমূহ