অণুগল্প
হারাধন বৈরাগী
সঙ্গম
দেবসঙ্গমে সহসা অজানা এক নারীকে দেখে দেওয়ের মনে উঠল মুগ্ধতার ঝড়। আকাশ পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে নামছে সঙ্গমের দিকে—তোলপাড় উঠছে যেন সব ভেঙে শূন্য করে তছনছ করে ফেলবে। অজানা দুঃখ-সুখ তুলোর মতো আছড়ে পড়ছে ঢেউয়ের উপর। মনে হল, এই সঙ্গম রচিত হবে ঝড়ের গতিতে, ঢেউয়ের দাপটে পাল ঠেলে নৌকা চালিয়ে নিয়ে যাবে শান্তিনিকেতন।
দেওয়ের বাল্যবন্ধু জুরী। বহু ঘাটের জল খেয়েছে, নিজেরই ডহরে। হঠাৎ ঝড়ের অভিমুখ আন্দাজ করে বন্ধুত্বের খোলস ফেলে আসল রূপ ধারণ করল জুরী। মনুকে দিল মন্ত্রণা! মনুও জুরীর প্রতি মুগ্ধতার অনুরণনে অসুস্থতার ভান করল। আর দেওকে নামহীন করে জুরীকেই ধরে নিল আপন। বলল, সে আর আগের মতো নেই।
ঢেউয়ের আলোড়নের অভিমুখ আন্দাজ করে দেওয়ের মনে পড়তে লাগল কেবল লঙ্গাইকে। মনে হল, লঙ্গাই যেন ঠিক সেই—চিনতে পেরেছে আবাল্য বন্ধুর মুখ! দেও ভেবেছিল শান্তিনিকেতনে যাবে। কিন্তু ঝড়ের নৌকা ভেসে গেল জুরীর অভিমুখে। সেও অপেক্ষা করছিল হাসি মুখে। আর মুখোমুখি হতেই বলল, ‘দেও তো ছিল খোসা, আমিই আসল সঙ্গম।’
আর দেও একা দাঁড়িয়ে রইল সঙ্গমতীরে—জলের প্রলয়ে…
0 মন্তব্যসমূহ