রাধাপর্ব
১.
তোমাকে দেখিনি আমি, কত রাত ঝড়-জলে গেল;
এখন বৃষ্টির দিনে বাঁশি বাজে দিগন্তরেখায়
কে ডাকে আমায়? ভাবি কতদিন কেন যে ডাকে না...
আমার অসুখ তুমি, তুমি সুখ, যে জীবন যায়
লুকিয়ে রয়েছ তার পাশে চেনা-অচেনার ফাঁকে-
তোমাকে দেখিনি আমি, হয়তো দেখেছি আজ যাকে
এখন বৃষ্টির দিনে, তার পাশে শুয়ে থাকি আমি।
যে তুমি আমার গান, যে তুমি আমার অন্তর্যামী!
২.
আমি যে কীর্তন বলি, আমি যে ইমন বলি রাত-
যে আমার পাশে শোয় অর্ধদগ্ধ বৃন্দাবনী সুর
যে আমার লুপ্তসুর, যে আমার ভোরের শিশির
যে আমার স্নানজল, যে আমার ঠোঁটে মাধুকরী
যে আলাপ গেয়ে ওঠে সঞ্চারীতে রুদ্রবীণা ওগো
আমি যে লালনগান, আমি যে সুমনকাব্য হই
আমি যে রবীন্দ্রতীর্থে ছিন্নপত্রে একাকী বিষাদ
আমি যে ভাসানজল, আমি যে কৃষ্ণচূড়াগান
আমি যে আমার অঙ্গ, প্রতি অঙ্গে সন্ধিপূজা হয়
আমি যে ভীষণ কান্না, ধুলোমাখা পাগল ভজন
... তোমাকে দিলাম সবই, অভিসার, বৈষ্ণব হোন...
৩।
আসে, নিয়তির মতো। সে আসবেই, জানতাম আমিও।
মুখে অন্ধকার লেগে, চোখে প্রেম, প্রেমে নাশকতা।
তোমাকে কি চিনি আমি? আমরা তো সকলে অচেনা।
প্রতিটি প্রেমের গল্প কখনও কি এক হতে পারে?
আসে, সে , বিধির বিধি। আমি তার বিরহবেদনা।
রাধা এক চৈতন্য, অন্ধকারে একাকী চেতনা।
0 মন্তব্যসমূহ