বহ্নিশিখা শারদ-উৎসব সংখ্যা-একটি ব্যবচ্ছেদ || হারাধন বৈরাগী

হারাধন বৈরাগী 

||বহ্নিশিখা শারদ-উৎসব সংখ্যা –একটি ব্যবচ্ছেদ||


বহ্নিশিখা, শারদ-উৎসব সংখ্যা, ৩৫ বর্ষ (সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিষয়ক ত্রৈমাসিক)। সম্পাদিকা নিভা চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা মন্টু দাস। (বহ্নিশিখা পাবলিকেশন, উত্তম শর্মা সরণি, নয়াপাড়া, ধর্মনগর, উত্তর ত্রিপুরা ৭৯৯২৫০, ভারত। যোগাযোগ: ৭০০৫৩৯৬৬৩৯)লিটল ম্যাগের শুরুতে একটি কবিতা দিয়ে উৎসর্গপত্র লেখা হয়েছে। সম্পাদিকা নিভা চৌধুরীর নিজের লেখা। এই কবিতাটিই এই সাহিত্যপত্রের মেজাজ, কণ্ঠস্বরের প্রাবল্য। যেন আগমনীতেই মায়ের বুকে নেমে এসেছে সন্তান হারানোর হাহাকার। তিনি বলেন—“আমি তো প্রস্তুত ছিলাম না/এ খবর শুনব বলে/আমাকে শূন্য করে তুমি চলে গেলে/এ বড় কঠিন সময়/যখন তোমার উপস্থিতি/বড় জরুরি ছিল,/অস্বচ্ছ আলোয় আমার ভূমি আবছা/বাতাসে অদ্ভুত গন্ধ/তুমি কান পেতে শোন/
তুমি আজন্ম প্রতিবাদী/তোমার কবিতায়/
তার প্রতিধ্বনি/আর কখনো ‘মা’ ডাক শুনবো কী।” (বিপুল, আমার ছেলে)আমরা চিনে যাই বহ্নিশিখার সুর, চিনে যাই সম্পাদিকাকে।

এটি মূলত শারদ সংখ্যা। তাই দেখি অবিভক্ত বঙ্গে প্রথম দুর্গাপূজার খুঁটিনাটি দিয়ে অল্প কথায় সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে, “দুর্গাপূজা প্রথম চালু হয়েছিল ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা কংস নারায়ণ প্রায় নয় লক্ষ টাকা ব্যয় করেন বলে জানা যায়।” পূজা সংখ্যায় দুর্গতিনাশিনীর কথা তো থাকবেই। তবে এই সালটা ভ্রমবশত একটু গোলমেলে মনে হল। সালটা কি হবে ১৪৮০?দুর্গাপূজা কবে সার্বজনীন হয়েছে, কে করেছেন—এই কথাটিও বললে লেখাটি আরও পূর্ণতা পেতো,মনে হল। সে যাক, পঁয়ত্রিশ বছর ধরে বহ্নিশিখা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। সাধু সাধু।  

লিখেছেন ছোট একটি নিবন্ধ ড. চিত্তরঞ্জন মাইতি।“বাংলাদেশের পটচিত্রে ভোঁদড় রক্ষার গান” শিরোনামে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নড়াইল জেলার কল্লোর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী গ্রামের জেলেরা ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরে। তাই তারা ভোঁদড় বা ধাঁড়ে পালন করে। “কিন্তু বর্তমানে ভোঁদড়ের চামড়া বিক্রি করায় তারা বিপন্ন হয়ে পড়েছে।” আর তাদের রক্ষার জন্য ভোঁদড় বিষয়ক পটচিত্র খুঁজে পান তিনি নড়াইল জেলার ঈদগাহ রোডে পটুয়া শিল্পী নিখিলচন্দ্র দাসের কাছে।তার কাছে পটের গান‌ও পাওয়া যায়।শিল্পগুলোর বর্ণনা ও তার জ্যামিতিক নমুনার উল্লেখ করেন তিনি। গানগুলো যেমন—  ১. “ভোঁদড়কে ধাঁড়ে বলে নড়াইলের লোকে,/ পোষ মানায়ে মাছ ধরে বহুকাল থেকে।”  ২. “নদীর মধ্যে জাল ফেলে, ধাঁড়ে, ছাড়ে কূলে,/ জলের মাছ তোলে তারা, ঢুকাইয়া দেয় জালে।”  ৩. “পটচিত্র দেখাইয়ে সব কথান জানায় দিতে হবে,/ নতুবা ধাঁড়ের রংশ নিপাত হয়ে যাবে।”  চিত্রগুলোর কয়েকটি রেখাচিত্র  দিলে আরো ভালো হতো বলে মনে হল। খুবই জরুরি লেখা।  

মন্টু দাস লিখেছেন “ডরাই বিষহরি পূজা ও গুরমার নাচ” শীর্ষক নিবন্ধ। এটি এই ম্যাগটির প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছে। মন্টু দাস কবি অবশ্যই, কিন্তু তার লোকগবেষণা  ইউনিক। ডরাই! ডরাই! এই প্রজন্ম কেন, বিগত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের প্রজন্মও কতটুকু জানেন সন্দেহ জাগে। মন্টু দাস লিখেছেন—এর জন্য দীর্ঘসময় তাকে অনুসন্ধান করতে হয়েছে, আর ঘেমে-নেয়ে লিখেছেন এই মূল্যবান নিবন্ধটি। আমার যদিও একবার আমার গাঁ উজানমাছমায় সেই ছোট্ট বেলা বিরল ডরাইপূজা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। এই পূজার পরিবেশ মনে হয়েছে যেন একটা মশারির ভেতর গুমোট, একটা নিষিদ্ধ আলোছায়া। অনেকটা গ্রাম্য সাধুমেলার মতো। গুরমা সর্পচলন আর ময়ূরচলন দিতে দিতে যখন দোয়ারীর কাছে আসত, সকলেই বলত—“সুন্দরী গো সুন্দরী।” এই ঐতিহ্যসুন্দরী দেবী ডরাই বৌদ্ধদের জাঙ্গুলী, বিষহরি বা মনসারই রূপভেদ। এই দেবীর বিবর্তন এঁকেছেন লেখক ইতিহাস ও পুরাণের আলোকে। উল্লেখ করেছেন এই পূজার ভৌগোলিক সীমারেখা। সাধু সাধু।  

কবিতা লিখেছেন সন্তোষ রায়—“চূড়ায় বসে জলে মুখ দেখা আর হল না,/ ঘরেতেই গেল জীবন।/ কলসিতে সমুদ্র বাঁধা,/ আর আয়নায় গণন।/ আয়-ব্যয়ের হিসাবে যতটুকু উঠি,/ নামি তার দশগুণ।/ পরচায় আছে সাড়ে তিনগণ্ডা,/ মাটিতে কতটুকু!/ শরীর আমার সাড়ে তিনহাত,/ রহস্য ঘোচে না।/ মাকড়সা দেখায় মাদারির খেলা,/ আমারও কি লালা ঝরে না!/ ভালো নয় এত লোভ।/ কে যে বলে, দেখি না তারে,/ মশারি টাঙানো স্বপ্নের চারধারে।” (এতো লোভ ভালো নয়”) ।রজরোগে জীবন সায়াহ্নে এসেও সমাজের চূড়ামণি কবির আশাভরষা পরাভূত। মানুষ যত উপরে ওঠে, নিজের ভেতরটাকে ততই হারিয়ে ফেলে। কবিতাটি আত্মচেতনা,জীবনের সীমা আর মায়ার অন্ধকার নিয়ে এক গভীর আত্ম ব্যবচ্ছেদ মনে হল!!সাধু সাধু।

লিখেছেন বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি বাস্তবে দাঁড়িয়ে কল্পনা আঁকেন; চান যেন এক বহমান নদীতে রূপান্তরিত হতে, আর মাঠ-ঘাট, শস্যক্ষেত ও আলোকিত পথে জীবন ও আশার সঞ্জীবনী বয়ে নিয়ে যেতে। কিংবা নিজেই নদী হয়ে যেতে, এক সুকুমারী জুম্মো নারীর মতো স্বপ্নপরিবেশ গড়ে তুলতে। আবার দ্বিধান্বিতও হন, যখন বলেন—“ইচ্ছে করে, বহমান একটা নদী হব, বলো দোষ কী,/ বয়ে যাব মাঠে ঘাটে, শস্যের ক্ষেত, আলোপথ সাথী,/ ধানের শিষে, রৌদ্র ছায়ায় মগ্ন কৃষকের অপেক্ষায়,/ বীজস্বপ্নে অকৃপণ আমার জলধারা, আশা মঞ্জরী,/ সুকুমারী বালিকার পুণ্য চরণচিহ্নের আলপনা নিয়ে,/–--কবি একটা নদী হলে, স্বপ্ননৌকা ভাসানে, দোষ কী”।( ইচ্ছে নদী)।
”কবির দ্বিধা কেন? ভয় হয়?  খুব নরম যেন কণ্ঠ!

লিখেছেন শশাঙ্ক শেখর পাল—“কবিতা দিবস পেরিয়ে এলাম,/ আজকাল হুজুক থেকে হুজুকে জড়িয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন,— কারা লুট করছে সুজলা সুফলা কবিতার সূক্ষ্মতম চেতনা,/ কবিতার জন্য কিছু চাই,/ সাগরপারে বসে মুক্ত তপস্যা,/ অন্তত তালপাতার পাহাড়াদার,/ ফোঁসফোঁস শব্দের মুখরিত বাতাস।”(কবিতা দিবসের পর)।স্টিম ইঞ্জিনের ধোঁয়ার মতো পুড়ে যাওয়ার জীবনে‌ও জেগে উঠতে পারছে না কবিতা,যেন হারিয়ে যাচ্ছে, সূক্ষ্মতম চেতনা নিঃশেষ হতে চলেছে। এই অমূল্য চেতনাকে কারা যেন লুট করে নিচ্ছে!তিনি কবিতার জন্য কিছু করার তাগিদ যেন অনুভব করেন।কবির বক্তব্য পরিষ্কার। কোনো দোদুল্যমানতা নেই। সাধু সাধু!

জহর দেবনাথ লিখেছেন -“জীবন দর্শন নিয়ে বাংলা শায়েরি”— কবিতাই। তিনি বলেন,“ভবিষ্যতের ভয়েই আমরা হারাই বর্তমান,/ সময় যখন হাসে মুখে, মন তবু থাকে অজ্ঞান।/ যার কাছে কিছু নেই, সে-ই বোঝে জীবনের মানে,/ জীবন হলো হারানোর মাঝেও জয় খোঁজার টানে।”কবির বক্তব্য পরিষ্কার। আমরা বুঝে নিই জীবনের কেরিকাটা।

মধুমিতা ভট্টাচার্য লিখেছেন কবিতা “কবি”।
এই কবিতায় তিনি এঁকেছেন, কবি-গাছ। কবির দৃষ্টি, মানস অবস্থান, দুঃখ, অভিমান, রাগ, রাগিনী, ভয় ও সাহস। কবির অস্ত্র কলম, কবির স্বপ্নবীজধান, জীবন ও সত্য অঙ্গীকার। তিনি বলেন—“কবিরা দুঃখ পুষে রাখে,/ দুঃখ এলেই কবিতার শালিখ পাখি/ একলা ডানা খুঁটে,/ নীল আকাশ গৈরিক হয়।/ বসন্তে নীড়ের সুখে ঠোঁট না গুঁজে,/ শূন্যতা পেরিয়ে উড়ে যায় সাদা মেঘের জমাট শূন্যে।”/“কবিদের ভীষণ রাগ হয়,/ আনাচে কানাচে যখন মুখোশেরা ফিসফিস করে,/ সময়ের আরোগ্য কামনায়, কালো অক্ষরে বারুদ ঘষে।”/“পাপ-পুণ্যের ধার ধারে না,/ জীবনের আঁশটে গন্ধে গুমরে মরে শ্লীলতা,/ অশ্লীলতায় ভোগে না,”/ “ক্ষমতার ঠোঁটেও এঁকে দিতে পারে নীল চুম্বন।”“কবিদের লেখনী থামে না,/ রক্তবীজের মতো জন্মায়,/ সময়কে সময়ের হাতে তুলে দিতে পৃথিবী কবির দ্বারস্থ হয়।/ কবি সব করে, ধ্বংসের চাষ করে না।” সাধু! সাধু!

সুনির্মল বিশ্বাস লিখেছেন “মনের তৃষ্ণা”।
তার কবিতা রূপ, রস, গন্ধ কিংবা কল্পনা নয়— বাস্তব জীবন; বিবেক ও মানবতার কথা বলে। সাদামাটা আটপৌরে জীবনের সহজ-সরল কথা বলে। সংকোচিত হন, তাঁর লেখায় সকলের মন ভরে না। “আমার কবিতাগুলো/ বিবেক, চেতনা ও মনুষ্যত্বের কথা/ বলতে বলতে আজকাল হাঁফিয়ে ওঠে।/ কলম টেনে ধরে বাস্তব জীবনের অলিগলি।/ খুব বেশি কল্পনা-উপমা আমার হয়ে ওঠে না।/সমুদ্রসৈকতে প্রিয়তমার হাত ধরে হাঁটে না,/ বরং সাদামাটা জীবন আর কায়িক পরিশ্রমে/ সংসারটাকে বুকে আগলে রাখার কথা বলে,/ মেনে চলার, মানিয়ে নেওয়ার,/ ধৈর্য ধরার কথা বলে।/আমার কবিতার রসে মেটে না সকল মনের তৃষ্ণা।”

গোবিন্দ ধর লিখেছেন,—“শরীর হারমোনিয়াম,/ তার স্বরলিপি বেজে উঠলেই গেয়ে ওঠে আনন্দ দোতারা।/ শরীর বাদ্যযন্ত্র, তুমি বাজালেই বেজে ওঠে সা, রে, গা, মা, পা।/ শরীরের যন্ত্রগুলো ঝং ধরলে/ অসুখ এসে জাপটে ধরে বর্ণমালা শরীর।”
—শরীর যেন এক জীবন্ত হারমোনিয়াম, যার সঠিক ব্যবহারেই জীবনে আনন্দ আসে। শরীরের যত্ন নিলে ও সুস্থভাবে তার সুরে বাজলে জীবনের প্রত্যেক অনুভূতিও প্রাণবন্ত হয়, আনন্দে ভরে ওঠে জীবন।কবিতাটিতে একজন বাউলও যেন লুকিয়ে আছেন।

শক্তি পুরকাইতের কবিতা “মা সারদা”—
কবিতাটি মাতৃভক্ত ছেলের মায়ের প্রতি অনুভূতি ব্যক্ত করেছে। যেমন শরতের পরিবেশ মায়ের আগমনী ভক্তের মনে জাগ্রত করে, তেমনি সারদামায়ের জীবনাচরণ দেখলেই কবির সারদামা কিংবা নিজের মাকে অনুভব করেন। তিনি যখন বলেন—“বাঁশের সাঁকোর কাছে দাঁড়ালে মনে হয়, আজও ডাকছে মা সারদা।”

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের কবিতা “শ্রাবণ”—
তিনি বলেন, ফাল্গুন কিংবা চৈতে বসন্তকে তিনি অনুভব করেন না, শ্রাবণই তাঁর কাছে বসন্তের আত্মহারা প্রকাশ। শ্রাবণ ধারায় বসন্তের পদধ্বনি—বৃষ্টিভেজা শ্রাবণে বসন্তের উদ্দীপনা অনুভব করেন কবি। এই উদ্দীপনা পাতায় একফোঁটা বৃষ্টি যেন প্রিয়ার ঠোঁটের চুম্বনের মতো। আসলে শ্রাবণের সন্ধ্যাই কবির প্রিয়া। শ্রাবণ প্রকৃতিই কবির প্রেমপ্রিয়া। দুঃখবিলাস। শ্রাবণীর দংশনে কবি প্রেমিকার দংশন টের পান।তিনি বলেন —“বসন্ত তোমায় খুঁজে পাইনি আমি/ফাল্গুনে অথবা চৈত্রে।/
শ্রাবণ আমার কাছে বসন্ত।/ঝরা পাতার আর্তনাদে,/যে বসন্তের চরম প্রকাশ,/সে তো রোদের ভরা বসন্ত।/বৃষ্টির শব্দে ভেসে আসে মর্মরধ্বনি,/যেন শ্রাবণ ধারায় বসন্তের পদধ্বনি।/
একফোঁটা বৃষ্টি পাতায় স্পর্শ করে,বসন্তের চরম নিবেদনে চুমিতে চায়,প্রকৃতি প্রিয়ার কল্পমান দু‌ই ঠোঁট।বসন্ত কেন বারিধারায় সিঞ্চিত হয়ে—
শ্রাবণ সন্ধ্যায় খুঁজে চরম বসন্তকে।”সাধু, সাধু।

বিভুলাল চক্রবর্তী লিখেছেন  “সম্পর্ক”।
কবিতাটিতে উঠে এসেছে ঘরের মোবাইল নামক তস্করের কথা, দাম্পত্য জীবনে মানসিক দূরত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা। একই বিছানায় থেকেও দম্পতি আলাদা হয়ে গেছে—মোবাইলের পর্দায়।পরকীয়ার ছোবল এসে যান্ত্রিক, প্রাণহীন ও ভেসে থাকার মতো এক অনিশ্চয়তায় দাঁড় করিয়েছে জীবন। সময়ের রূঢ় রঙ।কবি বলেন—“আলো নেভানো ঘরে/রাতের সজ্জিত বিছানায় গা এলিয়ে/দুজনে দুদিকে মুখ ফিরিয়ে অন্তর্মুখীন—/
মোবাইলের সীমাবদ্ধ দৃশ্যপটে।/”“সময়ের দীর্ঘ যাপনে প্রেম-ভালোবাসা /নিশ্চিতভাবেই উধাও অথবা ঠেকে গেছে তলানিতে।”
“অন্তর্জালিকায় আঁটকে রেখে চোখ বুজে
শুধুই এদিকে ওদিকে হাতড়ায়
ভালোবাসার গভীরতা মাপতে—।”
পাঠককে নাড়িয়ে যায়। সাধু, সাধু।

নন্দিতা ভট্টাচার্য লিখেছেন “উষ্ণায়ন”। তিনি বর্তমান অশান্ত, রাক্ষুসে, আগ্রাসী সময়ের ধারাপাত অঙ্কন করেন তার কবিতায়। তিনি বলেন—“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আসন্ন সম্ভাবনায় শঙ্কিত সময়—/উদ্ভ্রান্ত নাগরিক মহড়া নিচ্ছে তারই অসংখ্য খণ্ড যুদ্ধে।/ছিন্নবিচ্ছিন্ন গলিত শবদেহ/
কোনো অনুভূতি জাগায় না আধুনিক চেতনায়।/
আগ্রাসনের লড়াই প্রসারিত হয় দেশদেশান্তরে।”
কবিতাটিতে সময়ের ব্যঞ্জনা ধরা পড়েছে।

সিন্ধু রায় লিখেছেন —
“মেঘলীর মা বৈলে দিছি শুনে লিবি,/সব দিকের ভাইলে টুকুন দেখে লিবি।/তুর ছোঁড়া ইবারে ডাগর হইল,/বইলে দিবি বাপের সঙ্গে থেকে থেকে,/
কাজ গুলান সব শিখে লিবি।/আষাঢ় এইলে চাষার জমি,/চাষের লাইগে কাঁদে।/
না রুয়ালে জমি গুলা,/চেঙ্গা চুটুর ভাতের লাইগে কাঁদে।/মেঘলীর মা বৈলে দিছি শুনে লিবি,/
পড়া-শুনার সঙ্গে সঙ্গে/ চাষ টাও বটে মাটির পূজা,)শুকাই যাওয়া জমিগুলা,/ সাজাঁই দিবেক লাঙ্গল দু’টা।/ধনে-ধানে দেশটা ঘুরাই,/আমাদিকই গঁইড়তে হবেক।/শিক্ষার সঙ্গে কৃষিও টাঁকেও/
আমাদিকেই চইষতে হবেক।/মেঘলীর মা বইলে দিছি শুনে‌ই লিবি,/দেশ-মাটাকে পুইজতে গ্যেলে,/
দু’টা হাতে কমল, লাঙ্গল ,দু’টাই লিবি।”(মেঘলীর মা)!এই উপদেশে শ্রমজীবন তথা বাগানী ও গ্রামীণ বাস্তব শিক্ষা, শ্রমের মর্যাদা দেশাত্মবোধ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

সুবীর সেন ঘোষ লিখেছেন—“এখানেই একদিন হারিয়েছিলাম নিজেকে,/শহরতলীর রাতে খুঁজেছিলাম ঠিকানা।/বসন্তের উত্তাপ, অবোঝ শ্রাবণ আর/পারিসের আলো, আতসবাজির শহরে।/এখন এই ব্যস্ত শহরে ক্লান্তি নামে দু’চোখে,/
সবাই ব্যস্ত, সব মিথ্যা অভিনয়ের আড়ালে।/
এখানে জল জমে, বৃষ্টি হয়, কাদা
ছোড়াছুড়ি।/ভাবি ফিরে যাই, ফিরে যাই আবারও সেখানে,/যেখানে মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে রেখেছিল।/আমার মনের শহরে এখন সন্ধ্যা রাতের নির্জনতা,/নিস্তব্ধতার কণ্ঠে নিঃসঙ্গতার প্রতিধ্বনি।”(হারানো সুর)।কবিতাটি যেন মধুসূদনের কথা মনে করিয়ে দেয়। শহুরে জীবনের কৃত্রিমতা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে আত্ম-হারানোর বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।স্মৃতির শহরে ফিরে যেতে চান,মায়া, স্নেহ ও বিশ্বাসের উষ্ণতায়।

ডা. শিশির কুমার বিশ্বাস লিখেছেন “অন্তর্যামী” ও “মহৎ মানুষ” —এই দুটি কবিতা।প্রথম টিতে সকলের অন্তরে ঈশ্বরের বাস, আর দ্বিতীয়টিতে মহৎ মানুষের মহত্ত্বের কথা।

চিত্রা দত্ত লিখেছেন -”পাখিটি আসে আমার কাছে—/ঠোঁট দু’খানি খুলে বেঁকা হাসি হেসে,/বলছে যেন — কাঁদো কেন বিরহিনীর মতো?/ছিলাম আমি রানির মতো মায়ের সান্নিধ্যে,/আজ তো নিঃস্ব হলাম রানির বেশ ছেড়ে,/রোজ সকালে কলসী কাঁখে পুকুরপারে।/কোথায় যেন হারিয়ে গেল তোমার মেয়েটি,/গাঁয়ের শেষে নদীর বুকে নৌকা ভেসে যায়,/ইচ্ছে হয় ছুটে যেতে বিরহিনীর বেশে।”(বিরহিনী)।এক নারীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও আশাবাদের কথা বলা হয়েছে। একসময় সে ছিল মায়ের আদরে রাজরানি, বর্তমানে সংসারের ভারে সে হয়েছে নিঃস্ব গৃহিণী। অতীতের স্বাধীন সত্তার হারানোর বেদনা আছে। সে প্রতিজ্ঞা করে ভালোবাসা ও সংগ্রামের মন্ত্র শিখে জীবনের ঝড়ঝাপটা সামলে নেবে।

কামনা দেব লিখেছেন “স্বর্গ ও মর্ত্যের দুর্গারা।”  স্বর্গের দুর্গা ও মর্ত্যের দুর্গার মাঝে আকাশপাতাল তফাৎ। স্বর্গের দুর্গা পূজা পায়, মর্ত্যের দুর্গা তখন সংসারের দায়িত্ব সামলায়। তিনি বলেন — “স্বর্গ-মর্ত্যের দুই দুর্গারূপেই হন দুটি মাতা দুর্গা, /শক্তির অলৌকিক মুখ দুটি রূপেই দুর্গা মা।” ।

নিবারণ নাথ লিখেছেন —“কারা যেন অবিরত কথা বলে,/শোনা যায়, বোঝা যায় না।/
আলো নেই, মেঘলা আকাশ,/কাউকে দেখা যায় না।/একজনের গলা থেকে ভেসে আসে,/
উন্মাদের মতো সংলাপ।/একটু পরেই জানা গেল —/কথা বলছে একদল মাতাল।/সুখ ও দুঃখ খালি বোতলে পুরে/গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজায় ব্যস্ত।”
এটি মনে হয় সমাজের বিভ্রান্ত সময় যন্ত্রণার ছবি;
অনুভূতিহীনদের চিত্র। কথার গভীরতা হারিয়ে বর্তমান মেঘাচ্ছন্ন বাস্তবতায় কেউ আর কাউকে সত্যিকারের দেখতে বা বুঝতে পারে না। “মাতাল”রাই যেন এখন সব।সুখ-দুঃখ ভুলে ভণ্ড আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত।জীবনের আসল অনুভবকে খালি বোতলে পুরে  ফেলেছে যেন।শূন্য সময়ের রেঙ ,আধ্যাত্মিক ,রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত বাহী মনে হল।

অহিন্দ্র দাস লিখেছেন “কাংরি ও ফেরান”— কাশ্মীরি ঐতিহ্যের দুটি অপরিহার্য শীতনিবারণ বস্তু নিয়ে। কাংরি হলো শীতে উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য একটি পাতিলে কাঠকয়লা জ্বালিয়ে রাখার পাত্র, আর ফেরান হলো আলখাল্লার মতো একধরণের পোশাক। চিত্তাকর্ষক লেখা।

পরিমল কর্মকার লিখেছেন —
“এই শুভাগমন ক্ষণিকের আনন্দের ফুটো পাত্রে/
জমা হয়ে থাকে শোক-তাপ জড়ানো পরিতাপে।/
তোমার দিব্যদৃষ্টি কেন দেখতে পায় না।” (আনন্দের ফুটো পাত্র)।বেশ নাড়া দেয়।

সুচিত্রা দাস লিখেছেন —
“আজও যে বিচার পেল না মেয়েটা,/
যে ছিল আমাদের তিলোত্তমা।” (আর না ফিরিবে গৌরী)কবিতাটিতে এক গভীর সময়ের ষড়যান্ত্রিক যন্ত্রণা আমাদের রুদিরাক্ত করে।

চন্দন পাল লিখেছেন —
“প্রকৃতি যখন রাগে/ তছনছ করে যায় সব কিছু,/—/আমরা নিরুপায় থাকি কাছে কিংবা দূরে।-”/“দুর্যোগ থাকে না যখন,/
সুযোগসন্ধানীর বিলাসিতা অভাবে পড়ে।/
—-উৎপাদন করে কৃত্রিম ঝড়,/লুটে নেয় মতাদর্শ,/ আকাশ আর জমি।/আমরা নিরুপায় থাকি।”/“যে বেকারটি সততা বন্ধক রেখে পান দোকান/ খুলেছিল পরিবার পালবে বলে —/
নিমিষে উড়ে যায় কৃত্রিম ঝড়ে।” (দুই ঝড়)
এখানে সময়ের বাস্তব রেখাচিত্র এঁকেছেন কবি।

কিরণ কুমার সিংহ লিখেছেন —“রজনীর খেলা শেষের বেলা, আসছে ধীরে ধীরে।/
তারা, চন্দ্র, ঝিঁঝিঁপোকা, চলছে ঘরে ঘরে।” (রজনীর সুখ)

গোপাল চন্দ্র দাস লিখেছেন —“জীবিত থাকতে/বিধবার কাপড়ের রঙের সাদা ফেনা।/উপায় না দেখে তারা উপরে তাকায়।/
পাহাড়ের চূড়ায় যাদের বাংলো,/
নিচে আরেকটা বাংলো দেখে।/
সমভূমির যারা— দেখার বেলায় নির্লোভ বড়।/
ঘোড়ার লেজ— বড় পাছা দেখলেই/
কাছা সামলে পেছনে ছোটে।/
মৃত্যুর পর /শবদেহের কাপড়ের রঙ নিয়ে
বচসা বাঁধায়।/এরা কুড়ালের পেছনে লেগে থাকে,
ফাঁসিকাষ্ঠে শবাধার বানাবে।তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরোটাই জিহ্বা।/অথবা তাদের ফল-মূল—/বুকের ধন নিয়ে যায় অন্যরা/ মূল কেটে।” (জীবাস্মৃত)।এখানে শ্রেণি–ভেদ, লোভ, ভণ্ডামি ও মানবতা হারানোর প্রতি কবির তীব্র কটাক্ষ প্রকাশ পেয়েছে।

অসীম সরকার লিখেছেন —
“আজ যে দেখছো এত মানুষ, কাল তো থাকবে না।/হাতেগোনা মানুষরা সব অকেজো হয়ে থাকবে,/যন্ত্র চালাবে পৃথিবীটা।” (যন্ত্রের মানুষ)
যন্ত্রমানবদ্বারা সৃষ্ট আসন্ন সময়চিত্র এঁকেছেন কবি।

চিরশ্রী দেবনাথ লিখেছেন —
“মনে হয় কিছু জানি না, ধরতে পারিনি কবিতার ভাষা/সিন্ধু এক, অশরীরী/অকাল বোধনে প্রণাম করি/বেজে যায় দোতারা হলকা দুপুরে/
তার কাছে বসি, সেও আসে অমোঘ টানে/
ডাকুক হাঁটে, মজা জল, তৃপ্ত স্নানে মৃত্যুকে/ ডাকে।/তারপর কিছু নেই, আসেনি শিউলির সময়।/কিশোরী মেয়ে খালি হাতে চলে গেছে,/
তার পায়ে ভোর, মুখে ভোর মেখে সে ধীরে ধীরে/ যায়।”(হয়নি এখনো)।

কবিতাটিতে এক গভীর দর্শন ও অনুভব আছে। “অকাল বোধনে প্রণাম করি”— পরম সত্তার আগাম উপলব্ধি হতে পারে। “বেজে যায় দোতারা”— অনামা ধ্বনি!“তার কাছে বসি, সেও আসে অমোঘ টানে”— আত্মা ও পরমাত্মার মিলনের ভাবনা? “তৃপ্ত স্নানে মৃত্যুকে ডাকে”— জীবনের পরিপূর্ণতার পর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা? ।শেষে “কিশোরী মেয়ে খালি হাতে চলে গেছে, তার পায়ে ভোর”— এই কিশোরী যেন আশা, নবীনতা, নির্মলতা ও পবিত্রতা। উত্তরাধিকার?
কবিতাটি যেন কুহকময়-, মৃত্যু-পুনর্জন্ম,জ্ঞান ও অজ্ঞানে আধারিত।সাধু সাধু।

হৃষিকেশ নাথ লিখেছেন—“বিছানায় শুয়ে রয়েছে নিদ্রা,/গায়ে একটি ব্ল্যাঙ্কেট।/আমার বেশ ঘুম ঘুম করছে।/একটি চেয়ার টেনে বসি,/চেয়ারটি ক্লান্ত স্বরে বলে—/আমাকে টেবিলটির পাশে নিয়ে যাও প্লিজ,/আমারও কেমন ঘুম ঘুম পাচ্ছে।/নিঃশব্দ রাত শ্রান্ত পায়ে এগিয়ে যাই,/এবং বিছানার এক কোণে শুয়ে পড়ি।/ভোরবেলা উঠে দেখি বেলকনিতে সূর্যমুখী হাসছে।” (সূর্যমুখী)বিছানায় সঙ্গী কেউ হয়তো শুয়ে আছে। কবি দায়িত্বের কারণে ক্লান্ত হয়ে শুতে যেতে পারছেন না। এই অবস্থায় চেয়ারটির সাথে কথোপকথনে আসবাবপত্রগুলিতে‌ও যেন প্রাণ সঞ্চারিত হয়। দিনদিন চেয়ারের সাথে সখ্য বাড়ছে।চেয়ারও ক্লান্তি অনুভব করে। চেয়ারটা টেবিলের কাছে রেখে তিনি শুয়ে পড়েন। কোনো অসমাপ্ত দায়িত্বের টেনশন নিয়ে হয়তো। কিন্তু ভোরে উঠে দেখেন সূর্যমুখী হাসছে। আশা জেগে উঠেছে।সাধু সাধু।

অসীমা দেবী লিখেছেন—“আমি অস্তমিত রবির আলোয়,/দেখেছি তো তোমারই ছবি/—---/হাতের ওপর হাত রাখা,/এখনো সে উষ্ণতার অনুভূতি।”“তখন জমে থাকা স্মৃতির/বরফ-পাহাড় গলতে থাকে,/জলে ভেসে বেড়ায়,/আমার পালছেঁড়া তরী।” (বরফ গলা জলে)সূর্যাস্তের আবছা আলোয় যেন প্রিয়জনের মুখ ভেসে ওঠে। অস্তরাগে  হারানো ভালোবাসার মুহূর্তগুলো ফিরে আসে। প্রিয়জনের স্মরণে গলতে থাকে জমে থাকা স্মৃতির বরফ। স্মৃতি-জলেই ‘পালছেঁড়া তরী’ ভাসতে থাকে। এ বিরহ, স্মৃতির উষ্ণ-শীতলতা, এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের অনুরণনই কবিতার নিউক্লিয়াস ।

অরূপ কুমার ভূঞ্যা লিখেছেন—“ভেঙে গেছে পাখিটার বাসা,/এলোপাতাড়ি ঘূর্ণির ঝড়ে,/নীড়হীন পাখি কেঁদে মরে।/পাখি উড়ছে যোজন দূর,/নানান ঝাপটে ভর করে,/বুকে জ্বলে যে ব্যথার সুর,/গহীন পাখির যন্ত্রণা।” (নীড়হীন পাখি)।

রমেন্দ্র নাথ লিখেছেন—
“চারিদিকে শুধু ঢেউ ঢেউ জল,/সবগ্রাসী বন্যায়;/ভাসছে দেও, গোমতী, হাওড়া,/প্লাবিত শহর, গ্রাম, জনপদ;/বয়ে চলেছে বিপ্লবী স্রোত,/ভেঙেছে বাঁধ,/ভাসছে মানুষ, গরু, ছাগল।/পাবে একটু বাঁচার আশ্রয়,/বা একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই?/সাধের বসতভিটা,/শেষ সম্বল ফসলি জমিটাও তলিয়ে গেল।/অসহায় নীরব চোখে কাঁদছে ওরা,/সর্বনাশা বন্যা যেন কেড়ে নিয়েছে/ওদের সব, সব!/ভাষা শুধু আর্তনাদ আর হাহাকার!” (কাঁদছে ওরা)!সময়ের কান্নাজল!

শ্বাশ্বতী দেব লিখেছেন—
“তোমার দেহে আমার বাস,/আর আমার দেহে তোমার।/আমার দেহে তাই তোমার দেহের সুবাস।/তুমি হলে আমার প্রেমের আস্তানা।” (অনুভবে তুমি)।রাধা রাধা। কৃষ্ণ। কৃষ্ণ।

সত্যজিৎ নাথ লিখেছেন—“তোমাকে আমার চোখ দুটি দিতে পারি,/বিনিময়ে শুধু হৃদয়টাই নিতে চাই।” (শুধু তোমার জন্য)।

অসিত চক্রবর্তী লিখেছেন—“কথা যা শুনছো তা মানুষের নয়,/গুটির ভেতরে মানুষের ভাষা আঁকে ছবি,/প্রজাপতির ডানায় কথা বলে কবি।” (কবি)।

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম লিখেছেন—“প্রকৃতির শরীর জুড়ে শারদ পঞ্চমীর আবহ,/মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী আবাহনের কুচকাওয়াজ,/আমার আঙিনায় বাজে বিদায়ী সুর,/আগাম তোমার বিসর্জনের সাজ।তিল তিল করে গড়েছি তোমায় প্রতিদিন,/নারী নই আমি, প্রসব-জ্বালা জানিনে,/তবু সৃষ্টি করেছি অস্তিত্বের সবটুকু দিয়ে।আমার অনুভূতির প্রলেপ তোমার সর্বাঙ্গে,/কল্পনায় মূর্তি করেছি তোমার দেহ,/তোমার আয়ত দৃষ্টিতে অজানা জন্মদাতা,/শয়নে-স্বপনে সৃষ্টির নেশায় মত্ত অহরহ।/পাঁজির তিথির অনেক আগেই,/আমার সৃষ্টির বিসর্জন।” (বিসর্জন)।

অসিত চক্রবর্তী লিখেছেন “কবি”— “কথা যা শুনছো তা মানুষের নয়,/গুটির ভেতরে মানুষের ভাষা আঁকে ছবি/প্রজাপতির ডানায় কথা বলে কবি।”

হারাধন বৈরাগী লিখেছেন —  “তুমি যতই বোলো,/অরণ্য সেসব বোঝে না।/  নুয়ে পড়ে পাতার দিকে,/শিকড় খোঁজে নিঃশব্দে।/  পাতা-মাটির গন্ধে/উঁচু ডালে জেগে থাকে—/  আলো-জাগা কুয়াশা,/আর এক ঝলক ভোর,/নরম হিমে তরতাজা”(অরণ্য)।

সুবল চক্রবর্তী লিখেছেন—  “পৃথিবী এখন ভাত-ঘুমে আচ্ছন্ন,/ক্ষিপ্ত কালো মেঘ/আকাছে শাখা-প্রশাখা মেলে/ঘোরলাগা—বর্ষণ—/“আমি দেখি—/  সরে যাচ্ছে পায়ের তলার মাটি,/  
ঢেউয়ে ঢেউয়ে/ভেসে যাচ্ছে শ্মশান- পোড়া গাছ—/  “বৌ এত কিছু বোঝে না,/  শুধু ছেঁড়া কাঁথায় সাদা থান বিছিয়ে/গেরস্থালির সুখ বুনে যায়—” (আমি দেখি)।মনে হলো এতটুকুই কবিতা। বাইরে প্রলয়, ভিতরে স্থির। একটা দ্বান্দ্বিক আবহ। এমনও হতে পারে বাইরের ঝড় টের পায় জঙ্গলের লম্বা গাছটি, কিন্তু বেটে গাছটা কিছুই বুঝে না। কবি সবকিছু বুঝেন, সামলান। কিন্তু গৃহিণী এর কিছুই টের পান না।

সজল চক্রবর্তী লিখেছেন জীবনবোধ নিয়ে”মালতী মুর্মু”। যেকোনো মালতীই হতে পারেন এই নারী। 

নির্মল দেবনাথ লিখেছেন—  “এতো এতো ভীড়ে/প্রত্যেকের নিজস্ব পৃথিবী,/আলাদা মনখারাপের গল্প, আলাদা প্রিয় মানুষ।”  বা, “এই অগণিত গল্পের শহর,/সেখানে সবাই একি, অথচ একসাথে/একটা দীর্ঘশ্বাসের ভিতর!”(নিজস্ব উপাখ্যানে সবাই)।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী লিখেছেন—  “যে পথ ধরে একদিন হেঁটেছিল মেয়েটি,/সে পথে কেউ রাখেনি বিছিয়ে কুসুম—/  সব পথ কুসুমে কুসুমে সজ্জিত থাকে না।/  যে সয়েছে সে জানে বিভ্রাট থাকে প্রেমে।/  পাথরের কাঁটা পায়ে বিঁধে,/শানিত ছন্দে শোণিত-রঞ্জিত যে পথ,/সেই পথে লেখা থাকে গোলাপের ইতিকথা।/  আজ এত প্রেম জেগেছে গোলাপ সুবাসে, তা কি জানে গোলাপের দল?/  
নিরাসক্ত চাহনিতে লুকিয়ে থাকে যে প্রেম,/তাকে জহুরির মতো হৃদয়ে ধরে,/বেঁচে থাকার অধিকারে—  যে নিয়েছে, সেই তো প্রেমিক পথিক।/  যতোই বিঁধুক কাঁটা, গোলাপের পথে পথে,/সেই তো বিজয়ী প্রেমিক।” (গোলাপের পথে পথে)।আসলে প্রেম কি শুভ্র, শান্তি আর সরলতা? না, প্রেমে কষ্ট, ত্যাগ, সংগ্রাম থাকবেই। এইসব মেনে প্রেমপথে এগিয়ে গেলেই পূর্ণতা কিংবা জয়।

সুজিত দেব লিখেছেন —  “ওরা হাঁটছে দার্জিলিঙের পথ ধরে,/জবুথবু বেশভূষা, গায়ে গরম পোশাক।/  এখন শাওন মাস,/গায়ে নুন মাখা জল ঝরে ত্রিপুরায়,/আকাশে মেঘের সাজবাহার।/  
মেঘ কই? মেঘ.... নিরুত্তর।/  হাওয়াই দ্বীপে মাটি ফুঁড়ে,/উৎক্ষিপ্ত লাভাস্রোত,/আগুন পাখি ঝরে মাইলস্টোনের উপর।/  এতো ঝলসানো শরীর, এতো মৃত্যু,/এদিকে লাশ লুকানোর খেলা।”(ওরা হাঁটছে দার্জিলিঙের পথ ধরে)।এ কি কোনো এক গভীর সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থার ইঙ্গিত? এ অবশ্যই প্রকৃতির দৃশ্যচিত্র নয়—এখানে দেশ, মানুষ ও সময়ের অস্থির প্রতিফলন!

জয়ত্রী চক্রবর্তী লিখেছেন,—  
“কোথাও,/কেউ সিদুরের লালগুলো মেখে দিয়েছে শরতের আকাশে,/  সেখানে কাশফুলের ঢেউয়ে ভাসে সোনালী বাতাস,/  আমি হেঁটে যাই এক গ্রামপথে,/মেঘধানে ধানের ক্ষেতের ভেতর ঘুমিয়ে আছে পুরানো শঙ্খ,/  যা পূজোর পরে ফেলে রাখা হয়েছে নদীর পাড়ে,/দূরে ঢাকের শব্দ;  
আলতার মতো রোদ ছুঁয়ে যায় বটের পাতার ধুলো-মাখা চাঁদর,/  সেখানে দেবীর চোখের আলো মাখে কালচে সবুজ;/  জলভূমির ধারে ডুবতে থাকা চাঁদের মতো,/আমারও কিছু আনন্দ নেমে যায় মাটির তলায়;/  শহরে ফেরার রাস্তায়ও বাতাসে ভাসে রঙিন কাগজ, ধুলো ও ছাই।(শঙ্খলাগা সুর)।কবিতাটির যেন ত্রিবেণী—প্রেম, সংগ্রাম, স্মৃতির প্রতিফলন। ব্যক্তিগত শৈশব-স্মৃতি, মায়ের স্নেহ ও অন্তর্লীন আনন্দ-ক্ষয়ের ছবি যেন মিশে গেছে এক নস্টালজিক-রঙিন  বিষণ্ণতায়। সাধু। সাধু।

দীপ্তি চক্রবর্তী লিখেছেন—  “এক টুকরো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকে /এক চিলতে রোদ,/  
যার দেখা পাওয়ার আশায় সবুজ পৃথিবী /অসীম আগ্রহে তাকিয়ে থাকে/ সীমান্তের দিকে।” (মেঘের আড়ালে)

মোঃ ছাবির আহমেদ লিখেছেন—  “আমি নজরুল নই!/আমি রবীন্দ্রনাথ নই!/আমি জীবনানন্দের অনুসারী!/  আমি গ্রামে-গ্রামে শ্যামলী ধানে খুঁজি সৌন্দর্যের ভ্রমর।” (আমি কার)।

টিংকু রঞ্জন দাস লিখেছেন—  “বৃষ্টি নামছে, নামুক,/তোমাকে নিয়ে শহর ঘুরবো,/বৃষ্টিতে যদি ভিজেও যাই,/  ক্ষতি নেই; তুমি তো রয়েছই সাথে।/  হয়তো কিছু চোখ তাকিয়ে থাকবে,/তাতে আমাদের কি আসে যায়,/  চারিদিকে যে মুখগুলো দেখছো,/আসলে সেগুলো মুখের আদলে মুখোশ।” (বৃষ্টির শহরে)।সাধু সাধু।

রাখাল মজুমদার লিখেছেন—  
“মানুষ এখন শান্তি চায়,/মনে পড়ে পাবলো পিকাসো।/  তলপেট জলরঙ তেলরঙ,/হাড়ের ভাঁজে রোমাঞ্চকর খাটুনি অনন্তকাল।” (শান্তি)

পাপিয়া রায় চৌধুরী লিখেছেন—“সারা শহর ঝাপসা হয়ে আসে,/জানালার ওপারে সূর্য হারায় ধূসর মেঘের গর্ভে।/  তবুও কল্পনার পোর্ট্রেট আজও রঙিন, ঝলমলে, অমলিন।” (স্মৃতি)

বুল্টি চক্রবর্তী লিখেছেন— “স্বপ্ন আছে বলেই জীবন এত মধুর,/নানা রঙে বিভূষিত,/  
তানপুরার তারে গাঁথা ছন্দোবদ্ধ সুর,/জীবনকে করে তুলে সুশোভিত।” (জীবনের পথে)

অমলকান্তি চন্দ লিখেছেন—  “মুহূর্তে আঁড়মোড়া ভাঙি,/একটা পুরোনো একতারা টানটান তার ছুঁয়ে,/  মিজরাব জড়িয়ে ধরে আঙুল,/আমি আঙুলে আঙুল রাখি... বোষ্টমী তুমিও,/  
বাবুই পাখির ঘর আর সাদা থলেতে ছেঁড়া জপমালা,/জুড়তে থাকে সোনালী চুলের রাঁধা...  
কিছু স্বপ্ন সিঁড়ি,/কেবল উপরে ওঠা... আরও উপরে,/  চিলের ডানায় ভাসতে থাকা এরোপ্লেন-আকাশ,/চিমটি রোদ্দুর তিলক কাটে কপালে,/  এবেলা বেরিয়ে পড়ি নগর-পরিক্রমায়।”

এটি কি অন্তর্জাগরণ, সাধনা, কিংবা প্রেম! আত্মমগ্ন অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে, পুরোনো সুর-স্মৃতি-চেতনাকে ছুঁয়ে  এক নতুন উন্মীলন কিংবা মুক্তি-যাত্রা!সাধু। সাধু।

সুস্মিতা দেবনাথ লিখেছেন—  “একদিন আমি ছিলাম আগুন,/  তুমি—শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়া শীতল অরণ্য।/  আমরা পুড়িনি,/জ্বলতে জ্বলতে একে অন্যের  দিকে
এগিয়েছিলাম,/ছুঁয়েছিলাম,/তারপর হঠাৎ দমকা বাতাস।”/“আমি পড়তে পারিনি,/ তুমি শেখাওনি।/
তারপর একদিন—/ সম্পর্ক থেমে যায়,/
ভাষা খসে পড়ে ঠোঁট থেকে,/ শব্দ হয়ে ওঠে ধুলি।”“আজ,/ তোমার অনুপস্থিতি কুড়িয়ে রাখি/
ছোট কাচের শিশিতে;/ ভোরবেলা তার ঢাকনা খুলি,/ স্মৃতির ছাই গন্ধ নেই।”
“যার গায়ে লেগে আছে;/ তোমার শেষ নিঃশ্বাস।” (তোমার শেষ নিঃশ্বাসের ছাই)। এক সম্পর্কের আগুন থেকে ছাই হয়ে যাওয়ার যাত্রা যেন!

শ্রীমান দাস লিখেছেন— “এই যে বুকের ভেতর প্রিয় পতাকার বিরহ,/ তুমি কি তা টের পাও সাথী?”/“বুকের ভেতর তোলপাড় করে যায় প্রতিক্ষণ/ যে উদ্যম দুর্বিনীত শ্লোগান,/ তুমি কি তার আওয়াজ শুনতে পাও?”/“তুমি না হয় এক টুকরো আঁচল দিও আমায়,/ বা মেলে ধরো লাল ওড়নাটি,/ আমি পতাকার মতোই টেনে নেবো বুকে।” (এক টুকরো আঁচল দিও আমায়)।বামপথ তার ভালোবাসা প্রিয়তমা যেন।আর তাকে হারিয়ে হতাস কবি,রাঙা আঁচলের কোনো প্রেয়সীর কাছেই বুক পেতে আয়াম পেতে চান।বক্তব্য পরিষ্কার।

কল্যাণী ভট্টাচার্য লিখেছেন অনুগল্প “মনের একাগ্রতা।” উত্তম পুরুষে নিজের আত্মজীবনীই মনে হল লিখেছেন তিনি। ছোটবেলায় দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ইংরেজিতে ভালো পড়তেন। শিক্ষক মশাইয়ের কারণে পড়াশোনা আবার শুরু হয়। টিউশন করে পড়াশোনা করেন। এখন তিনি ইংরেজি টিচার। গল্পটি আরও আঁটোসাঁটো করলে ভালো হতো।

কবিতা লিখেছেন তাপস পাল— “কবিতা এখন জবুথবু শরীরে শীত-গ্রীষ্মে,/ ভরা বর্ষায়, শরতে হাফ ছেড়ে বাঁচতে চায়।/ কবিতা এখন নীরব শ্রোতা হয়ে দর্শকাসনে।”

অমিত চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন— “আমার প্রাণের মাঝে সুধা আছে।” জানি না কার কবিতা। এটি ব্যাখ্যা করেছেন নিজের মতো করে— একটি  আলেখ্যের মতো,তার প্রিয়া বা সখার উদ্দেশ্যে।

দিব্যেন্দু নাথ লিখেছেন— “প্রতিধ্বনির পাখি” অনুগল্প। জম্পুই পাহাড়ের ঢালে গুল্লির কঞ্চি কাটতে গিয়ে এক মিজো যুবতীর উত্তুঙ্গ যৌবনে উত্তেজিত ‘সম্পর্ক’ নামের এক যুবক মনে মনে ভালোবাসে সেই ললনাকে। সাহস করে বলতে পারেনি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে। পরে জানতে পারে, মেয়েটির স্বামী-সন্তান আছে। কিন্তু তবুও নীরবে সে তাকে ভালোবেসে যায়। ভালোবাসা রঙ পায় না, কিন্তু সেই উত্তুঙ্গ দেহবিভঙ্গও ভুলতে পারে না সে। শেষে মনের জ্বালায় দুটি পাখি পোষে। নাম দেয় দোলন ও চাঁপা। আর তাদের নাম ধরে ডেকেই অন্তরে ধরে রাখে সেই প্রেমের আগুন-স্মৃতি। শেষাংশে অতিব্যাখ্যায় পাঠককে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে অনুগল্পের ঘোরে ধাক্কা খেয়েছে।এ আমার অভিমত।

মিলনকান্তি দত্তের  পাণ্ডিত্য ও মুন্সিয়ানার মিশেলে অসম্ভব ফুটে উঠেছে তাঁর সুলিখিত নিবন্ধ “ব্যাকরণ শিখাচ্ছেন নিমাই পণ্ডিত।” সাধু। সাধু।

প্রতিমা সরকার লিখেছেন— “আজও একটা মানুষ খুঁজছি,/ যে শুধু আমার প্রশংসা নয়,/ বরং প্রতি পদে পদে ভুল ধরিয়ে দেবে।/ যে আমার কান্না দেখে দুঃখী নয়,/ বরং বলবে, ‘আরো কাঁদো।’” (অন্বেষণ)।

রাণা চক্রবর্তী লিখেছেন— “সব জানি মনে মনে,/ কাটমানি ঘর ভরে,/ প্রকাশ্য লোকালয়ে/ থাকি যুধিষ্ঠির সেজে।” (এসব কিছুই জানি না)।

মধুমঙ্গল বিশ্বাস লিখেছেন—
“জগৎসংসার বলছে, কর্তব্যপরায়ণ হও—/
অরণ্যের দিকে তাকিও না,/ সে তোমাকে গ্রাস করে নেবে—/তবে তুমি জলের কাছে যেও না,/ তবে তুমি অনলের কাছে যেও না—/
আকাশ দেখো না,/ সূর্যাস্ত?— না,— এসব তোমার জন্য নয়,/তোমার জন্য অন্য ধ্যান—/ তোমার জন্য কর্তব্যের দুর্নিবার আহ্বান—/
পরিযায়ী শ্রমিক তুমি,/ তোমার দিনলিপিতে সংসারের মহাভারত,/চাল-ডাল-লবণের থেকে মহীয়ান কোনো ব্রত—/তুমি অপেক্ষাকে দাম দিতে শেখো,/ একটি তো জীবন; তুমি সপে দাও, কলুর বলদ।” (পাঠ গ্রহণ)।শ্রমজীবী মানুষের কর্তব্যনির্ভর, যান্ত্রিক জীবনের এক গভীর চিত্র। সমাজ তাকে যেন বলে  প্রকৃতি, স্বপ্ন, সৌন্দর্য, বা মুক্তি তার জন নয়।তার জন্য হলো দায়িত্ব, শ্রম ও কর্তব্যে। “পরিযায়ী শ্রমিক”— চাল, ডাল, লবণ তার প্রতিদিনের মহাভারত।“কলুর বলদ” সে—নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে হলেও কর্তব্য পালন করে যাবে।

ইসলাম উদ্দিন লিখেছেন—“আকাশের কোণে চাঁদ উঠেছে,/ মেঘেরা চাঁদের কিরণকে ঢেকে দিতে চাইছে,/শান্তির বালুচরে আচমকা হিংস্রতার উন্মত্ততা—/চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত হলো/ হিংস্রদের রক্তলোলুপ চেহারা।”

ছোটদের পাতায় রয়েছে— ‘মহালয়া–’ তনুশ্রী দেব।‘শারদীয়া’--ইতিকথা ভট্টাচার্য।‘দুর্গাপূজা’--ঐশানী দাস। ‘আগমনী’ –মৈথিলী মিত্র, ।‘বাংলা আমার মা’ -অতনিমা দাস।‘মা আসছে’- শ্রীরাধা দেব। শিশুমনে মায়ের আগমনে যে প্রভাব পড়ে— আনন্দ, খুশি, খানাপিনা, প্রকৃতির রূপ— তা উঠে এসেছে কবিতা ও ছড়ায়। শিশুরা মা-বাবার আশ্রয়ে‌ই  নিরাপদ জীবন, তা বোঝা যায় কবিতায়। শিশুমনের এই ছায়া-নিরাপত্তা জেগে থাক, আমরা চাই। ওরা বড় হোক, বেশি বেশি লিখুক।পরিশেষে বলব,ছাপা ভালো হয়েছে।সু-সম্পাদনার ছাপ স্পষ্ট। লড়াই জারি থাকুক আরো। সুন্দর প্রচ্ছদ।বহ্নিশিখার দীর্ঘায়ু কামনা করি। চরৈবেতি।

—-++++++++++++++++++

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ