স্মৃতিতে সিলেট গণভোট : পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির লড়াই (০১)
▪️সংগ্রহ সংকলন এবং সম্পাদনাঃ কায় কাউস
[ আজ ঐতিহাসিক সিলেট গণভোট দিবস। বাংলাদেশের আর কোথাও না হোক, অন্তত সিলেটে হলেও আজকের দিনটি সাড়ম্বরে পালিত হতে পারতো। কেন হচ্ছেনা সেই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে আমাদের আত্মপরিচয়ের গভীরতম সংকটটি। সেই বিস্মৃত আত্মপরিচয়কে ক্ষণিকের তরে হলেও জাগানোর প্রচেষ্টায় এই খিচুড়ি। বিস্তারিত পাবেন "ইতিহাসের ছিন্নপত্র" প্রথম খন্ডে - কায় কাউস]
০১.
“... সিলেটের গণভোট ছিল আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিদ্ধান্ত হয়েছিল বৃহত্তর ফরিদপুর থেকে একটি মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ড দল সিলেটে যাবে। ঐ ন্যাশনাল গার্ড দলে আমিও অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমার সাথে আর কে কে ঐ দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাদের সবার নাম আজ সম্পূর্ণ মনে নেই। তবে আমার চাচাতো ভাই ইসহাক আলী মণ্ডল যে অন্যতম ছিলেন তা বেশ মনে আছে। আমি তার চাইতে বছর দুয়েকের ছোট। এই ইসহাক আলীর সাথে ছােটকালে একই মক্তবে পড়াশোনা করেছি। এমন এক আপনি লোক বিদেশ বিভূইয়ে সেই সুদূর সিলেটে বিপদে-আপদে আমার পাশে থাকবেন এ ছিল আমার আশা। কিন্তু দুঃখের বিষয় সে আশা শেষ পর্যন্ত পুরা হতে পারেনি। তবে সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে।
সিলেট বাংলাভাষী এবং মুসলিম-প্রধান এলাকা হলেও জেলাটি তখন ছিল আসাম প্রদেশের অন্তর্গত। আসামের বাংলাদেশ সংলগ্ন গোয়ালপাড়াও ছিল বাংলাভাষী এবং মুসলিম প্রধান। কাছাড়, শিলচর প্রভৃতি এলাকারও ছিল একই বৈশিষ্ট্য। কিন্তু অন্যান্য সব এলাকা বাদ দিয়ে বৃটিশ-কংগ্রেস চক্রান্তের মাধ্যমে শুধু সিলেট জেলায় গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়। সিলেটের জনগণ পাকিস্তানে যোগ দেয়ার পক্ষপাতী কিনা তা যাচাই করতে। আসাম যেমন মুসলিম প্রধান প্রদেশ ছিল না, তেমনি হিন্দু প্রধানও ছিল না। আসামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী ছিল উপজাতি - না হিন্দু, না মুসলমান। তবে প্রশাসনিক, বহু বিষয়ে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার ব্যাপারে আসাম ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত। স্বাভাবিক কারণে গোটা আসাম ও বাংলাকেই লাহাের প্রস্তাবের পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র বলে ধরে নেয়া হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের বৃহত্তর সার্বভৌম বাংলার পরিকল্পনাতেও এ কারণেই আসামকে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছিল। আসামের উন্নয়নের ব্যাপারে কলিকাতা বা দিল্লী কেন্দ্রিক প্রশাসনের পরিবর্তে ঢাকা কেন্দ্ৰিক প্রশাসনই যে অধিক অনুকূল ছিল তা বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ আমলেও প্রমাণিত হয়েছিল। সেই আসামকে বাংলা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় নেহরু-মাউন্ট ব্যাটেন আঁতাতসৃষ্ট ৩ জুন পরিকল্পনার মাধ্যমে। তবুও আসামের যেটুকু পারা যায় বাংলার সাথে সংযুক্ত রাখার আকাঙ্খাই এ গণভোটকে তাৎপর্যমণ্ডিত করেছিল। সিলেটের গণভোটে বাংলাদেশের অধিকাংশ লীগ নেতাই অংশগ্রহণ করেন। সিলেটে অনেক আগে থেকেই কংগ্রেস সমর্থক জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের বিরাট প্রভাব ছিল বলে এই প্রভাব কাটিয়ে তোলার লক্ষ্যে পাকিস্তান সমর্থক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মাধ্যমে অনেক আলেম পীর মাশায়েখ সিলেট গণভোটে অংশগ্রহণ করেন। শর্ষিনার তদানীন্তন পীরজাদা মওলানা আবু জাফর সালেহের নেতৃত্বে ৪০ জনের একটি কাফেলা এ উপলক্ষে সিলেট গমন করে। এই কাফেলার সিপাহসালার ছিলেন 'কায়েদ সাহেব হুজুর’ নামে খ্যাত বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত মওলানা আজিজুর রহমান নেছারাবাদী।
সিলেট গণভোট উপলক্ষে ছাত্র ও তরুণ সমাজের মধ্যেও বিরাট সাড়া পড়ে যায়। মুসলিম ছাত্র নেতৃবৃন্দ, যেমন নূরুদ্দীন আহমদ, শাহ আজিজুর রহমান, কাজী গোলাম মাহবুব, শেখ মুজিবুর রহমান, সুলতান হােসেন খান, মোয়াজ্জম হােসেন চৌধুরী, খোন্দকার মোশতাক আহমদ, আবদুল মতিন খান চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এএইচএম কামরুজ্জামান, আবু সালেক প্রমুখ সিলেট গণভোট উপলক্ষে রাত-দিন কাজ করেন।
সিলেটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই। আমরা বেশ কয়েকদিন আগেই সিলেটে পৌঁছে যাই। ফরিদপুর থেকে তখন সিলেট যেতে হত গোয়ালন্দ পর্যন্ত ট্রেনে যেয়ে সেখান থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত স্টীমারে, অতঃপর চাঁদপুর থেকে ট্রেনে লাকসাম ও আখাউড়া হয়ে সিলেট । সেকালে (অবিভক্ত) বাংলাদেশে যেসব রেলপথ চালু ছিল সেগুলোর নাম ছিল ইআইআর (ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে), বিএনআর (বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে), ইবিআর (ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে) এবং এবিআর (আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে)। প্রথম দু’টিতে ট্রেন চলাচল করতো হাওড়া রেল স্টেশন থেকে বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, যুক্তপ্রদেশ প্রভৃতি অঞ্চলে। চট্টগ্রাম বিভাগ ও আসামের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী রেলপথের নাম ছিল এবিআর। বাংলাদেশের অন্যান্য বিরাট অংশ জুড়ে যে রেলপথ ছিল সেটা ছিল ইবিআর। এগুলোর বাইরে শিলিগুড়ি থেকে দাৰ্জিলিং পর্যন্ত পাহাড়ে চলাচলের উপযোগী বিশেষ ধরনের ছােট্ট রেলপথ ছিল, যার নাম ‘দাৰ্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে”— সংক্ষেপে ডিএইচআর।
চাঁদপুর থেকে এবিআর-এর ট্রেনযোগে আমরা সিলেট গিয়েছিলাম। পথে লাকসাম ও আখাউড়ায় গাড়ী বদল করেছিলাম কি-না তা এতদিন পর মনে নেই। তবে আমরা বিরাট দল ছিলাম বলে একটা রেল বগির প্রায় সবটাই আমাদের দখলে ছিল৷ হৈ-হুল্লোড়ে সময় কাটছিল বেশ ভালই। মাঝে মাঝে সমবেত কণ্ঠে পাকিস্তান আন্দোলনের গান গাইছিলাম।আর থেকে থেকে 'নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবর', 'চলো চলো সিলেট চলো, পাকিস্তান কায়েম করো' প্রভৃতি নানা রকম শ্লোগান দিয়ে জানান দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমরা কারা, কোথায় যাচ্ছি।
ট্রেন আসামের অভ্যন্তরে সিলেট জেলার সীমানার মধ্যে প্রবেশ করতেই দলপতি জানিয়ে দিলেন সেকথা। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। আসাম প্রদেশে তখন কংগ্রেসী শাসন চলছে। গোপীনাথ বরদলুইয়ের কংগ্রেস সরকার মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালিয়ে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট দুর্নাম অর্জন করেছিল। বাংলাদেশের বাইরে অপর একটি প্রদেশে এ প্রথম সফর আমার মনে একটি রোমাঞ্চকর অনুভূতির পাশাপাশি এক অজানা আশংকার ভাবও সৃষ্টি করেছিল। তবুও সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ট্রেনের জানােলা দিয়ে দেখে চলছিলাম দু’পাশের বিভিন্ন দৃশ্য। মাঝে মাঝে ছােট-খাট পাহাড় বা জঙ্গল, আবার থেকে থেকে কৃষি ক্ষেত ও গ্রাম্য জনপদ। বেশ ভালই লাগছিল এসব দেখতে। এরই মধ্যে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবার বেশ পর ট্রেন প্রবেশ করল দু’পাশের অনুচ্চ পাহাড় কেটে তৈরী করা পথে। দু’পাশে জঙ্গলের জন্য বিশেষ কিছু দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ দলপতি হুকুম দিলেন সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ করে দিতে এবং কোন শ্লোগান না দিতে। কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেনের বদ্ধ বগির গায়ে শক্ত কিছু নিক্ষিপ্ত হবার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বেশ ক'বারই এ রকম হলো। কিছুটা ভয়ই লাগছিল।
ভয় পাবার মত ব্যাপারই ছিল বটে। মনে হল, কে বা কারা আক্রমণ চালাচ্ছে। দলপতির কাছেই পরে জেনেছিলাম আসল রহস্য। সিলেট বাংলাদেশে যোগ দেবে কি-না এ প্রশ্নেই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সিলেটের বাংলাদেশে যোগ দেয়ার বিরুদ্ধে যেসব দল কাজ করছিল তার মধ্যে প্রধান ছিল কংগ্রেস। এরা কিছু কিছু উপজাতির মধ্যে এ ধরনের প্রচারণা চালিয়েছিল যে, যারা 'নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর’ বা পাকিস্তানের শ্লোগান দেয়, তারা তোমাদের মারতে চায়। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত কিছু উপজাতি এর আগেও নাকি চলন্ত ট্রেনের মুসলিম লীগ কর্মীদের কামরায় তীর ধনুক দিয়ে আক্রমণ চালায়।
সিলেটে যেয়ে দেখলাম, হৈ হৈ কাণ্ড, রৈ রৈ ব্যাপার। গণভোট উপলক্ষে সমগ্র সিলেটে মুসলমানদের মধ্যে যেন এক বিরাট সাড়া পড়ে গেছে। সিলেটের মুসলমানরা যেন মুক্তির আশায় এক পায়ে খাড়া হয়ে আছে। গণভোটের মাধ্যমে তারা জুলুম-নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তির জন্য প্রহর গুনছে। গণভোটে যাতে তারা বাংলাদেশে যোগদানের পক্ষে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে - এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চায় তারা। সিলেট তথা আসাম তখনও গোপীনাথ বরদলুইয়ের কংগ্রেসী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীনে। বৈরী প্রশাসনের মোকাবিলায় সিলেটের মুসলমানদের এ মুক্তি প্ৰয়াসে সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম লীগ, মুসলিম ছাত্র লীগ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ডের লোকেরা আমরা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি দেখে তারা আমাদের প্রতি দারুন খুশী ও কৃতজ্ঞ।
সিলেটে গণভোটের ব্যাপারে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সমন্বয়কারীর ভূমিকায় ছিলেন সুসাহিত্যিক জনাব হাবীবুল্লাহ বাহার, যিনি পরবর্তীকালে পূর্ব বঙ্গ প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ঢাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে ছিলেন ১৫০ মােগলটুলীস্থ মুসলিম লীগ কর্মী শিবিরের নেতা, পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জনাব শামসুল হক।
গণভোটের ব্যাপারে মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ডের উপর দায়িত্ব পড়েছিল মুসলিম লীগ, মুসলিম ছাত্রলীগ প্রভৃতি সংস্থার কর্মী এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা বিধান করা। এ জন্য যে তাদের কোথাও যুদ্ধ বা সংঘাতে লিপ্ত হতে হয়েছে তা নয়। ন্যাশনাল গার্ডের ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যরা কোথাও মার্চ করে হাজির হলেই হামলাকারীরা হাওয়া হয়ে যেত। আমরা সিলেটে পৌঁছার এক বা দু'দিন পরই বোধ হয় হবে, আমরা দুপুর বেলা হােটেলে কেবল খেতে বসেছি, এমন সময় খবর এল, মুসলিম লীগ কর্মীদের উপর কংগ্রেসীরা কোথায় হামলা চালিয়েছে। আহার অসমাপ্ত রেখেই তৎক্ষণাৎ আমাদের রওনা হতে হল।
সেদিনটির কথা এখনও আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমরা রাস্তার এক পাশ দিয়ে দু’লাইনে মার্চ করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের সাথে যাওয়া ন্যাশনাল গার্ডদের এভারেজের তুলনায় আমরা যারা একটু বেশী লম্বা ছিলাম, এমন দু’জন ছিলাম লাইনের সামনে। পতাকা বহনের দায়িত্বও ছিল আমাদের দু'জনের উপর। মুসলিম লীগের সবুজের উপর সাদা চাঁদ--তারা খচিত পতাকা। পতাকা হাতে যখন হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের রাস্তা দিয়ে মার্চ করে চলছিলাম, মনে হচ্ছিল, আমি যেন মুসলিম লীগের নয়, ইসলামের পতাকাই বহন করে চলেছি। মনে মনে কিছু ভয়ও যে লাগেনি তা নয়। কারণ, প্রতিপক্ষ আক্রমণ চালালে তার প্রথম শিকার হতে হবে আমাদের দু’জনকেই। যদি আক্রান্তই হই, তখন কি করবাে? একদিকে পৈত্রিক প্রাণ, অন্যদিকে ‘ইসলামের পতাকা’র মর্যাদা ! ভেতর থেকে এক অদম্য আবেগাপ্লুত সংকল্প বলে দিল, ইসলামের মর্যাদা রক্ষার্থে প্রয়োজনে শহীদ হব !
না, শেষ পর্যন্ত আমাকে শহীদ হতে হয়নি। আমরা দ্রুত মার্চ করে অকুস্থলে পৌঁছবার আগেই হামলাকারীরা উধাও। সুতরাং পুনরায় আমরা বিজয়ীর বেশে মার্চ করতে করতে হােটেলে ফিরে এসে অসমাপ্ত আহার সমাপ্ত করলাম।
বাইরে থেকে আগত কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও ন্যাশনাল গার্ডের কোন দল কোথায় যাবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দানের অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্যিক-রাজনীতিক নেতা হাবীবুল্লাহ বাহার। মাথায় টাক, সদা হাস্যময় বাহার সাহেব জানালেন, করিমগঞ্জ মহকুমার উপজাতি-অধ্যুষিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি চৌকষ ন্যাশনাল গার্ড দল পাঠাতে হবে। সেখানে মুসলমানদের উপর নানাভাবে উৎপাত চালানাে হচ্ছে। মুসলমানরা হুমকির মুখে আছে। বাহার সাহেব আরও জানালেন, সেখানে যাবে পাঞ্জাব থেকে আগত ন্যাশনাল গার্ড। তবে যেহেতু পাঞ্জাব ন্যাশনাল গার্ডের সংখ্যা অত্যন্ত কম, বাংলাদেশ থেকে আগত ন্যাশনাল গার্ডদের মধ্যে যারা বেশ লম্বা, তাদেরও ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিপজ্জনক এলাকার কথা শুনে আমাদের অনেকের মনেই তখন ভয় ঢুকে গেছে। আমার চাচাতো ভাই ইসহাক আলী মণ্ডল বেঁটে ছিলেন বলে বেঁচে গেলেও আমি ফেসে গেলাম। হাই মাদ্রাসার ক্লাস টেন পর্যন্ত আমি নিজেও খুব বেঁটে ছিলাম। এজন্য মনে মনে আফশোষের অন্ত ছিল না। কলেজে দু’বছর অধ্যয়নকালে আমি এভারেজ বাঙ্গালীর তুলনায়ও দীর্ঘদেহী হয়ে উঠাতে আনন্দই পেতাম। কিন্তু এখন মনে হল, বেঁটে থেকে গেলে এই বিদেশ বিভূইয়ে চাচাত ভাইয়ের সাথে আমার এভাবে আজ ছাড়াছাড়ি হত না।
আসাম প্রদেশে মুসলমানরা নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ছিল। সংখ্যার বিচারে মুসলমানদের পর উপজাতি, তারপর ছিল হিন্দুদের অবস্থান। আসামে মুসলমানদের মেজরিটিই ছিল বাঙালী। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও মুসলিম অধূষিত বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরের সুযোগ-সুবিধা এই স্থল বেষ্টিত (Land-locked) জনপদটির জন্য ছিল অপরিহার্য। তাছাড়া আর্য বংশোদ্ভূত হিন্দু-নিয়ন্ত্রিত ভারতের সাথে নৃতাত্ত্বিক কারণেও মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত আদি অহমীয় ও উপজাতি জনগোষ্ঠী কখনও একাত্মতা অনুভব করতে পারেনি। ফলে আহমীয় ও উপজাতিদের অনেকেই হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানদের সাথে অধিকতর নৈকট্য অনুভব করত। এসব কারণেই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল তথা বাংলাদেশের সাথে আসামের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছিল লাহাের প্রস্তাব ও ১৯৪৭ সালের সার্বভৌম বাংলা আন্দােলনে।
আমরা যখন গণভোট উপলক্ষে সিলেট যাই, তখন অবশ্য এসব বিবেচনা আপাত-অতীতের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের একটানা মুসলিমবিরোধী নির্যাতন ও প্রচারের ফলে তখন সিলেটের মুসলমানরা ত্যক্ত-বিরক্ত। তারা যে কোন মূল্যে পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে যোগ দিতে শুধু ব্যগ্রই নয়, সংকল্পবদ্ধও। কংগ্রেসের মুসলিমবিরোধী রাজনীতির কারণে আসামে মুসলমানরা কম নির্যাতন ভোগ করেনি। লাইন প্রথা প্রবর্তনের মাধ্যমে আসামে যে লাখ লাখ বাঙালী কৃষক তাদের বসতবাটি ও জমিজিরাত থেকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ হয় তাদের প্রায় সবাই ছিল মুসলমান। আসামে বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দােলনের এক পর্যায়ে সিলেটের থানা থেকে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রতীক ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা নামিয়ে সেখানে চাঁদ-তারা খচিত মুসলিম লীগ পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে কংগ্রেস সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশের গুলিতে প্ৰাণ দেন শহীদ আলকাস।
বরদলুই সরকারের মুসলিমবিরোধী জুলুমবাজির সব সীমা-সরহদ্দ ছাড়িয়ে যায় যখন মুসলমানদের নিধনযজ্ঞে মেতে উঠে সরকার নামাজরত মুসলমানদের উপর গুলি চালিয়ে শত শত মুসল্লী হত্যার প্রয়াসে লিপ্ত হয়। এই অমানুষিক শোকাবহ ঘটনার স্মরণেই সিলেট রেফারেন্ডামের অন্যতম শ্লোগান ছিল : ‘আসামে আর থাকব না, গুলি খেয়ে মরব না’, ‘আসাম সরকার জুলুম করে, নামাজের উপর গুলি করে’। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশে যোগদানের বিরুদ্ধে শ্লোগান তৈরি করা হয়েছিল ? 'বাংলাদেশে যাব না, না খেয়ে মরব না'। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে ১৯৪৩ সালে বৃটিশ সরকার-সৃষ্ট দুর্ভিক্ষেরই ইঙ্গিত ছিল এতে।
সিলেটের গণভোটে আরও অনেক মজার মজার শ্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। গণভোটের প্রাক্কালে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক ঐক্যজনিত যে দৃঢ় আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রতিফলন ঘটেছিল যে শ্লোগানটিতে, সেটি ছিল : 'সিলেটের গণভোটে কংগ্রেসের পরাজয়, নিশ্চয় নিশ্চয়'। সিলেটের জনগণের ‘ক’-এর উচ্চারণ প্রায় ‘খ’-এর কাছাকাছি। ফলে শ্লোগানের সময় 'কংগ্রেসের' শব্দটা আমাদের অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল 'খংগ্রেসের'। গণভোট শুরু হবার আগের দিন অর্থাৎ ৫ জুলাই মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস উভয় দলের পক্ষ থেকেই নিজ নিজ ভোটারদের ভোটের তারিখ মনে করিয়ে দিতে একটা সাধারণ শ্লোগান দেয়া হয়েছিল : 'ভোটের তারিখ কাল-পরশু'। সিলেটের আঞ্চলিক উচ্চারণের প্রভাবে আমাদের কানে এ শ্লোগানটাও মনে হয়েছিল : 'ভুটের তারিখ খাল-পরখু'।
যে ট্রেনে আমরা সিলেট থেকে করিমগঞ্জ গিয়েছিলাম, সেটি কুলাউড়া জংশনে অনেকক্ষণ থামে। যতক্ষণ ট্রেনটি স্টেশনে দাড়ানো ছিল, আমরা শ্লোগানে শ্লোগানে প্লাটফর্ম মুখরিত রেখেছিলাম। অবশেষে ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে এলে আমরা যখন আমাদের নির্দিষ্ট বগিতে উঠেছি, তখন কোত্থেকে একটি ছোট্ট মিছিল এসে আমাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে শুরু করে। সাথে সাথে আমরাও ঝটপট ট্রেন থেকে নেমে পড়ে পাল্টা শ্লোগান দিতে শুরু করলাম। আমরা এভাবে নেমে পড়ব, তা তারা ভাবতেও পারেনি। আমরা প্লাটফর্মে নামার সাথে সাথেই তারা ভেগে গেল। এরপর করিমগঞ্জ পর্যন্ত আমরা কখনও আর শ্লোগান বিরতি দেইনি।
আগেই বলা হয়েছে, গণভোট কালে সিলেটের করিমগঞ্জ মহকুমার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় যে পাঞ্জাব ন্যাশনাল গার্ডের দলটিকে পাঠানো হয়েছিল তার সকলেই পাঞ্জাবী ছিল না, তার মধ্যে আমার মত দীর্ঘদেহী অনেক বাঙালীও ছিল। অর্থাৎ দলটি পাঞ্জাবী বলে পরিচিত হলেও এতে আমার মত বহু নকল পাঞ্জাবীও ছিল।
দৈর্ঘ্য দিয়ে এভাবে না হয় দৈহিক পার্থক্যটা কিছুটা গােপন করা গেল, কিন্তু ভাষা? ওরা উর্দুতে কথা বলে, আমরা তো উর্দুতে কথা বলতে পারি না। কথা বলতে গেলেই তো আমরা যে বাঙালী তা প্রকাশ হয়ে পড়বে। আমাদের প্রতি এজন্য উপদেশ ছিল, আমরা যেন বাইরের লোকদের সামনে কম কথা বলি এবং যখন কথা বলি তখন বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে খাওঙ্গা, করোঙ্গা, যাওঙ্গা ধরনের কিছু উর্দু ধারা মিশেল দিয়ে কথা বলে আমাদের বাঙালীত্ব গোপন রাখতে চেষ্টা করি। এ কৌশলের কারণ ছিল, প্রতিপক্ষ বাঙালীদের তুলনায় পাঞ্জাবীদের অনেক বেশী, প্রায় যমের মত, ভয় করত।
সিলেট জেলার শেষ সীমায় যে রেল স্টেশনটিতে আমরা ট্রেন থেকে নেমেছিলাম, তার নাম আজ আর মনে নেই। স্টেশন থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে আমাদের ক্যাম্প । বেশ কয়েকটা গাড়ী ও জীপে করে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাম্পে। যে রাস্তা দিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম তার সর্বঙ্গে অযত্নের ছাপ ছিল স্পষ্ট। ফলে ভ্রমণটা তেমন আরামদায়ক হবার কথা ছিল না। তবুও অজানা নতুন একটা পাহাড়ী জনপদে আসতে পেরে আমার বেশ ভালই লািগছিল। দূরে ছােট ছােট পাহাড় দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা যাচ্ছিলাম সমতল ভূমি দিয়েই। নানারকম লোকই দেখছিলাম রাস্তা দিয়ে চলতে। কোন কোন পথযাত্রী আমাদের গাইডের বেশ পরিচিত মনে হল। জীপ থামিয়ে তাদের সাথে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় করলেন তিনি।
এরই মধ্যে দেখলাম চার-পাঁচজন উপজাতি পথ চলছে এবং তাদের প্রত্যেকের হাতে বড় বড় দা। আমাদের গাড়ীর দিকে তারা কেমনভাবে তাকাচ্ছে এবং নিজেদের মধ্যে কি সব বলাবলি করছে। আমরা একটু ভয়ই পেয়ে গেলাম। গাইড একটু দূরে গাড়ী থামিয়ে নিজে তাদের সাথে কথা বলতে গেলেন। একটু পরে ফিরে এসে হাসি মুখে জানালেন, এরা খুবই নিরীহ ও অরাজনৈতিক উপজাতি। এরা যাচ্ছে পাহাড়ে কাঠ কাটতে। আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।
গণভোট দু'দিন ধরে চললেও আমাদের ঐ ক্যাম্পে থাকতে হয়েছিল মাত্র একদিন একরাত। স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতারা জানালেন, 'গােপন সূত্রে আমরা জেনেছি গণভোটের দ্বিতীয় দিনে ওরা আপনাদের ক্যাম্পে আক্রমণ চালাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আমরা এ এলাকার আমাদের সব ভোটারদের প্রথম দিনেই ভোটদান শেষ করবার কথা বলে দিয়েছি। আপনাদের নিরাপত্তার জন্য সরকার কোন সাহায্য করবে না। ভিতরে ভিতরে বরং প্রতিপক্ষকেই সহায়তা দিবে। এমতাবস্থায় আমাদের জন্য আপনারা কোন বড় মুসিবতে পড়েন, তা আমরা চাই না।
আমাদের ক্যাম্পের স্থানটি ছিল, মনে হয়, লোকাল বা ইউনিয়ন বোর্ডের কোন ডাকবাংলো। জেলা বোর্ডের রাস্তার পাশে একটি ঝোপ-জঙ্গল ঘেরা প্রায় ভুতুড়ে এ বাড়ীতেই কাটল আমাদের ৬ জুলাই সারা দিন ও দিবাগত রাত। আমরা যারা ন্যাশনাল গার্ড হিসেবে গিয়েছিলাম তারা মুসলিম লীগ, ছাত্র লীগ কর্মী বা অন্যদের মত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, ভোট দেয়ানাে প্রভৃতি কাজে অংশ নেইনি। আমাদের প্রধান কাজ ছিল নিরাপত্তার পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখা। সারাদিন আমাদের কাজ ছিল কিছুক্ষণ পরপর রাস্তা দিয়ে মার্চ করে চলা, যাতে করে আমাদের কর্মী ও ভোটারদের উপর প্রতিপক্ষ কোন হামলা চালানোর সাহস না পায় এবং আমাদের লোকদের মনোেবল অক্ষুন্ন থাকে।
অন্যদের সামনে ঐ একদিন আমরা কথা খুব কমই বলেছি। যখন বলেছি, তখনও বলেছি সংক্ষেপে, ইংরেজী বা ভাঙ্গা উর্দুতে। রাতে আমরা ঘুমিয়েছিলাম পালা করে। রাতের প্রথমার্ধে যাদের ঘুমাতে দেয়া হল, তারা শেষার্ধে রাত জেগে ক্যাম্প পাহারা দিল। অনুরূপভাবে যারা প্রথমার্ধে ঘুম কামাই করে ক্যাম্প পাহারা দিল, তাদেরকে রাতের শেষার্ধে ঘুমাতে দেয়া হল। আমার অবশ্য জেগে থেকে ক্যাম্প পাহারা দেয়ার সময়ে তো নয়ই, এমনকি ঘুমের পালায়ও ঘুমানো হয়ে ওঠেনি। নতুন জায়গায় এমনিতেই আমার ঘুম আসে না, তার উপর টেনশন থাকলে তো কথাই নেই।
৭ জুলাই ভোরেই আমরা ঐ উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকা ছেড়ে চলে এসেছিলাম। আমরা যে রেলপথে ঐ এলাকায় যাওয়া-আসা করেছিলাম, তার অধিকাংশ স্টেশনের নাম আজ আর মনে নেই। তবে দু'টি স্টেশনের নাম বেশ মনে আছেঃ একটি বদরপুর, অন্যটি ভাঙ্গা। বিশেষ করে শেষোক্তটি মনে থাকার পেছনে ছিল ছোট্ট একটি ঘটনা । ভাঙ্গায় একজন কংগ্রেস কর্মী জাল ভোট দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। বিদ্যুৎগতিতে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে করিমগঞ্জসহ সমগ্র সিলেট জেলায়। সাথে সাথে মুসলিম লীগ কর্মীদের শ্লোগান - "সিলেটের গণভোটে কংগ্রেসের পরাজয়, নিশ্চয় নিশ্চয়, -এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে একটি নতুন শ্লোগান — 'ধরা পড়েছে কংগ্রেসী চোর, কোথায়? ভাঙ্গায়'।
সিলেটের গণভোটে মুসলিম লীগের যেমনটি আশা ছিল, ঠিক তেমনটিই ঘটল। কংগ্রেসের সাংগঠনিক কলাকৌশল ও নীল নকশার ষড়যন্ত্র, জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের দীর্ঘদিনের প্রভাবকে উপেক্ষা করে সিলেটের মুসলমানরা একচেটিয়া ভোট দিল মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবী তথা বাংলাদেশে যোগ দেয়ার পক্ষে। হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর ঐতিহাসিক সিলেট বিজয়ের পর তাঁর স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমি সিলেটের জনগণের মুসলিম উম্মাহর সাথে সংহতি ঘোষণার এ যেন ছিল আরেক যুগান্তকারী ঘটনা। কিন্তু ১৯৪৫-৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বৃটিশ ভারতের মুসলমানদের পাকিস্তানের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক ভোটদানের পরও যে অশুভ খড়গাঘাতে পাকিস্তান আন্দােলনের সে বিজয়কে অনেকটাই ছিনিয়ে নেয়া হয়, সেই একই খড়গাঘাতে সিলেট গণভোটে মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক বিজয়কেও ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয়।
উপমহাদেশের ইতিহাসের এ অশুভ খড়গটির নাম র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ । ১৭৫৭ সালের পলাশী ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে ক্রুসেডের ঐতিহ্যবাহী বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ যে ক্রুর চক্রান্ত-জাল বিস্তার করেছিল তারই সর্বশেষ মসিলিপ্ত পর্ব ছিল এই র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ॥”
— আবদুল গফুর / আমার কালের কথা ॥ [ বিসিবিএস - ফেব্রুয়ারী, ২০০০ । পৃ: ২৭৩-২৮১ ]
0 মন্তব্যসমূহ