নয়ের দশকের কবিতা ও কবিদের সম্পর্কে দীর্ঘ লেখা লিখেছি প্রায় ১৫ বছর আগে। পরে সেই লেখা কিছুটা বর্ধিত হয়। কবিতা ক্যাম্পাস পত্রিকার নয়ের দশক সংখ্যায় এর বড়ো একটি অংশ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ সালে। এই লেখার কিছু অংশ বাংলাদেশে অরণি পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। সেই দীর্ঘ লেখা বিভিন্ন পর্বে এবার থেকে ফেসবুকে পোস্ট করবো। আমার পাঠকদের অনুরোধ করবো, এই লেখা সম্পর্কে মন্তব্য করতে, যাতে লেখাটিকে আরও সমৃদ্ধ আকারে গ্রন্থভুক্ত করে প্রকাশ করা যায়। কোনো ভালো প্রকাশক দীর্ঘ এই লেখা গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করতে চাইলে জানাবেন।
নয়ের দশকের কবিদের কবিতা সম্পর্কে /
অলোক বিশ্বাস
আমার কবিতার পথ চলা শুরু সাতের দশকের শেষে। আটের গোড়ায়। সে প্রায় বিস্ময়ের পর বিস্ময়, নতুন নতুন প্রকৃতি দেখার বিস্ময়। আরও বিস্ময় যখন ব্যক্তিগত চর্চায় অনুশীলন করতে করতে দু'একটা ক'রে কবিতা প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকায়। সেই সময় থেকে কবিতা লেখা, আড্ডা আর কবিতা সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ পৌনঃপৌনিক উত্তেজনা সৃষ্টি করলো শরীর ও মনের উপর। ওই দিনগুলোতে জীবন বলতে আমরা বুঝতাম কবিতায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকা। রাস্তায় রাস্তায়, বিভিন্ন লোকালয়ে ঘুরে মানুষের বিচিত্র যাপনকে পর্যবেক্ষণ করা। কেউ কবিতা লেখে শুনলে অদ্ভুত এক শিহরণ হতো কবিতা জীবনের শুরুতে। সপ্তাহের কোনো বিশেষ দিনে চায়ের দোকানে বা কারো বাড়িতে জড়ো হয়ে কবিতার আড্ডা ছিল অমূল্য পাওনা। বন্ধুসম কয়েকজন আট দশকের কবির কাছে কলেজ স্ট্রিট কফিহাউস ছিল তীর্থস্থান। একেবারে প্রথম থেকেই রবীন্দ্র, নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ, সুকান্ত, বুদ্ধদেব, সুভাষ, জীবনানন্দ প্রমুখ মিথ হয়ে থাকা লেজেন্ডারি কবিদের উত্তরাধিকার অর্পণ করতে চাইনি আমাদের কবিতায়। বিভিন্ন আলোচনায় তাঁদের অনিবার্য অবদান নিয়ে তুমুল কথা হলেও, তাঁদের ডিকশনের প্রয়োগ বা প্রভাব ছিল না আমাদের কবিতায়। বরং উত্তরাধিকার ছিল ছকভাঙ্গা প্রাতিষ্ঠানিক স্রোতের বাইরের আভোঁগার্দ লেখালেখির। উত্তরাধিকার ছিল প্রতিকবিতার, anti-poetry-র। পঞ্চাশের কবিদের ডেকাডেন্স তাড়িত রোম্যান্টিক আধুনিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রত্যয়ের দ্বারাও আক্রান্ত হয়নি আটের দশকের কবিরা। বরং ছয়ের দশকের সমস্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক কবিতা আন্দোলন মোটিভেশন জোগাচ্ছিলো বেশি এবং ষাটের এবং সত্তরের কয়েকজন কবির সঙ্গে মানসিক সাযুজ্য খুঁজে পাচ্ছিলাম। ছয়ের দশক থেকে বাংলা কবিতা আবার নতুন বাঁক নিয়েছে, লক্ষ্য করেছি। কবি ও গবেষক উত্তম দাশ পাঁচ ও ছয়ের দশকের পার্থক্যের মূলে চিহ্নিত করেছেন পরিবর্তিত সময়কে। ছয়ের দশকের কবিদের আলোচনা সম্পর্কে উল্লেখ করছেন তিনি, 'খুব সংশয়ের দৃষ্টি নিয়ে জীবনকে দেখা ছিল অনিবার্য। কাউকেই যেন আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না, কিছুই আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। অসহিষ্ণু এই দশক দাপিয়ে বেড়িয়েছে আত্ম-আবিষ্কারে। কিন্তু পঞ্চাশের সংঘবদ্ধতা ছিল না এই দশকের। সকলেই বিচ্ছিন্ন, আলাদা অথচ স্বতন্ত্র এবং স্বকীয়।' বাংলা কবিতার স্বতন্ত্র নিজস্ব আইডেন্টিটি তৈরি হচ্ছে ওই দশক থেকে। যদিও ফরাসি প্রভাবিত শব্দ-কবিতা, কংক্রিট বা দৃশ্য কবিতা, শব্দসজ্জার কবিতা তেমন আকর্ষণের বস্তু ছিল না আটের দশকে লিখতে আসা কবিদের কাছে। আবার সাতের দশকের উচ্চকিত শ্লোগানধর্মী কবিতা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। কিন্তু সত্তরের যাঁরা শ্লোগানধর্মিতার সীমানা পেরিয়ে লিখতেন তাঁরা ছিলেন আটের কবিদের খুব কাছের মানুষ। চল্লিশের সুভাষ মুখোপাধ্যায়, রাম বসু এবং অরুণ মিত্র আমাদের ভাবাতো অনেক বেশি। ছয় বা সাতের দশকের যে সব কবিরা কবিতা শিল্পকে বাহ্যিক উপাদান, বিষয় সর্বস্বতা ও গিমিক, সোসিও-পলিটিকাল অন্ধ দায়বদ্ধতার সংকীর্ণ পথ থেকে মুক্ত রেখে কবিতা শিল্পের সার্বিক ভিন্নতা ও নিজস্বতা ধরে লিখে চলেছিলেন, আটের দশকের কবি হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা আহরণ করছিলাম বেশি।
#
আশি থেকে নব্বইয়ের দিকে চলতে চলতে গ্লোবাল পরিবর্তনটা দ্রুতই হচ্ছিল। বাংলা কবিতা ও গল্পের প্রচলিত মিথ আবারো ভেঙে পড়ছিল সেইসময়। অজস্র নতুন সংযোজন ঘটছিল সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও মানবিক দুনিয়ায়। দ্রুত ভারতবর্ষে বিস্তার করেছিল সোশ্যাল মিডিয়া। মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতো একবার কমিউনিস্টদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে, সেটা আর কোনোদিন ভাঙা যাবে না। কারণ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত পরিবর্তনশীল সেই এক ব্যবস্থা। মানুষের অমোঘ বিশ্বাস ভেঙে পড়লো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে। আমেরিকার হিগেমনিও চুরমার হতে থাকলো। ঠান্ডা যুদ্ধ, বিশ্ব শিবির বিভাজন, বাইপোলারিজম, এইসব চলে গেল ইতিহাসের পাতায়। চীনের তিয়েন-আন-মেন স্কয়ার উত্তাল হয়ে উঠলো নতুন প্রজন্মের দাবিতে। পূর্ব ইউরোপের সমস্ত প্রচলিত অবক্ষয়ি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভাঙছে তখন। প্রযুক্তিগত উন্নতির সম্প্রসারণ হতে লাগলো সমগ্র ভারতে দ্রুত গতিতে। বিশেষ ক'রে মহাকাশ গবেষণা, ইনফরমেশন টেকনোলজির অগ্রগতি। একের পর এক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ মহাকাশে। মেডিক্যাল সায়েন্সের ব্যাপক সম্প্রসারণ। গ্রাম শহরের সাংস্কৃতিক মানসিক মেলবন্ধনে সমন্বয়ের উত্তর আধুনিক সন্দর্ভের কথা বুঝতে চাইলো নতুন প্রজন্ম। সর্বত্র ডাবল রেল-লাইন বসছে, যেখানে যেখানে ছিল না। গ্রিন মুভমেন্ট বা পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন তীব্র হচ্ছে সর্বত্র। আবার বাজারে বাজারে প্লাস্টিক পাউচ-এ খাদ্যদ্রব্য চলে আসছে ব্যাপকভাবে। মানুষের আচরণ নতুন কালখণ্ডের রীতিগুলো অর্জন করছে তখন। আট এবং নয়ের দশকের অধিকাংশ কবি স্বাগত জানালেন পরিবর্তনের এই ভাষাকে। সেই সময় মিডিয়া-দুনিয়া গন্ধ পাচ্ছে, একটা প্যারাডাইম শিফট হতে চলেছে তাঁদের সামগ্রিক উপস্থাপনায়। প্রতিদিন খাসখবরে মেতে উঠলো সমগ্র বাংলা। মিডিয়ার সামন্ততান্ত্রিক অবশিষ্টাংশ তখন সাফ হয়ে যাচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়ায় বিপ্লব ঘটছে। উঠে যাচ্ছে পুরোনো ছাপাই পদ্ধতি। টিভির চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। মানুষের জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে শুরু ক'রে দিলো মিডিয়া। টিভি চ্যানেলের সংখ্যা হুহু ক'রে বাড়তে থাকার পাশাপাশি ডিজিটাল হয়ে উঠলো তার স্বভাব। ট্রেডল প্রিন্টিং প্রেস উঠে গিয়ে সমস্ত পত্রিকা জগৎকে কাছে টেনে নিলো অফসেট, ডিজিটাল প্রিন্টিং। ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ছে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ডিস্ক এন্টেনা। ক্যাসেটের পরিবর্তে সি ডি। তারপর পেন ড্রাইভ। আমরা জানি সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের চরম একাধিপত্য। মার্কসবাদীরা পাশ্চাত্য দুনিয়া থেকে আসা প্রযুক্তির বিস্তার সর্বদা মানতে না পারলেও, এমনকি এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলেও, বিশ্বজোড়া কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের ঝড় ভারতবর্ষে তথা পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়া রোধ করতে কোনোভাবেই সক্ষম ছিল না। বিজ্ঞাপন দুনিয়ার ভাষা, রঙ, মিডিয়ায় যৌনতা প্রকাশের ভঙ্গিমা, ফিল্মে যৌনতার চরম স্বাধীনতা, সংগীতের দুনিয়ায় একরাশ ব্যান্ড, বাচিক শিল্পের বিকাশ, নিও-মার্কসিজমের বিকাশ, মাওবাদী উগ্রপন্থার সম্প্রসারণ অরণ্য-প্রধান গ্রামাঞ্চলে, খোলা বাজার অর্থনীতি, উপসাগরীয় যুদ্ধ, গোটা বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত এবং তাদের মধ্যে চলা ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধবিরোধী মিছিল, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন নতুন ব্যাখ্যা, সারকারিয়া কমিশন গঠন, কেন্দ্রে গান্ধী পরিবারের ক্ষমতার মিথের অবসান, বঙ্গে পোস্ট মডার্ন ভাবনার বিকাশ, লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের বিকাশ, সরকারিভাবে লিটল ম্যাগাজিন মেলার আয়োজন--- এসবই নয়ের দশকের সাংস্কৃতিক জীবনধারাকে ওপেন এন্ডেড করেছে। রাইজোম্যাটিক করেছে। কবিতার দুনিয়ায় নিঃশব্দে ঘটে গেছে নতুন কবিতার আন্দোলন। যার মূলে ছিল কবিতা ক্যাম্পাস, কবিতা পাক্ষিক এবং নয়ের দশকের কবিদের দ্বারা প্রকাশিত আরো কিছু পত্রিকা, বিজল্প, গান্ডীব, এরকা, নাটমন্দির ইত্যাদি। বাংলা কবিতার দীর্ঘ পথ পরিক্রমার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ কৌরব পত্রিকার সমর্থন নতুন কবিতা আন্দোলনের প্রতি। এই সময় বেশ কিছু পত্রিকা অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট কর্মপ্রচেষ্টায় মেতে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে, ত্রিপুরায়। কিছু নাম মনে পড়ছে এমন সব পত্রিকার--- বিজ্ঞাপন পর্ব, প্রথমত সময়, বোবাযুদ্ধ, কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, এখন এইরকম, গ্রাফিত্তি, দ্বান্দ্বিক, দ্বন্দ্বশুক, কারুবাসনা, ফু:, প্রকল্পনা সাহিত্য ইত্যাদি। আরো অনেক। কবিতা শৈলির ভাঙাচোরা নিয়ে কাজ করেছে কিছু পত্রিকা। অল্প কিছু সংখ্যা প্রকাশ ক'রে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেকে। হওয়া ৪৯ পত্রিকার দ্বারা পোস্টমডার্ন বা অধুনান্তিক ভাবসন্দর্ভের ব্যাপক প্রসার ঘটে নয়ের দশকে। কবিতার যাবতীয় নতুন কাজের প্রতি সমর্থন ছিল পোস্ট মডার্ন লেখক মলয় রায়চৌধুরী ও সমীর রায়চৌধুরীর। কবি প্রভাত চৌধুরী পোস্টমডার্ন কবিতা সংকলন প্রকাশ করলেন। উত্তরবঙ্গে 'সংহত' কবিতার কাজে নিবেদিত ছিল একঝাঁক তরুণ। নয়ের দশকের কবিরা বহুমাত্রিক সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক পরিসরকে প্রত্যক্ষভাবে পেয়েছিলেন তাঁদের লেখালেখি শুরুর দিনগুলোতে। এর সঙ্গে তাঁরা পেয়েছিলেন বাংলা গান ও নতুন থিয়েটারের গুণগত নতুন কাজের সংহত মহড়া।
#
আমি যখন বিভিন্ন আলোচনায় নয়ের দশকের কবিদের কবিতার কথা উল্লেখ করতাম, তখন বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, অগ্রজ কবিরা কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করছেন নয়ের দশকের কবি কারা। কবি মৃদুল দাশগুপ্ত 'কবি সম্মেলন' পত্রিকায় এমনও লিখেছেন---' পশ্চিমবঙ্গে ৯০-এর দশক প্রায় নিষ্ফলা। অধিকাংশ কবিতাপ্রয়াসী জয় গোস্বামীর ছন্দিত কবিতাগুলির অক্ষম অনুকরণ করেছেন।' মৃদুল দাশগুপ্তর এই পর্যবেক্ষণ আংশিক। সব দশকেই কিছু কবি থাকেন যাঁরা মৌলিকতা গড়ে উঠতে না উঠতেই শেষ হয়ে যান। কিছু কবিকে সর্বদা অনুকরণে পেয়ে বসে। অনুকরণ ক'রে তাঁরা তৃপ্ত হন। বশ্যতাবোধ থেকে এসব হয়। কিছু কবি প্রতিষ্ঠানের ধরতাই অক্ষরে অক্ষরে পালন ক'রে শান্তি পান। অনেক সময় প্রতিষ্ঠান তেমন কোনো নির্দেশ দেয় না। বশ্যতামুখী লেখকরা নিজেদের ওপর নিজেরাই কল্পিত কিছু নির্দেশ চাপিয়ে দেন, যা আদৌ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কেউ বলে দেয় নি। এর বাইরে যাঁরা রইলেন, বাংলা কবিতার ইতিহাস তাঁদের হাতেই রচিত হয়। এটাও কেউ কেউ জানেন, প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ হয়েও প্রতিষ্ঠানের আদলে অনেকেই লিখতে চাননি নয়ের দশকে। কখনো প্রতিষ্ঠানকেই নেমে আসতে হয়েছে নয়ের দশকের কবিদের নতুন ভাষার কাছে। প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অবশ্য নয়ের দশক থেকে অনেক বদলেছে। লিবারেল হয়েছে। কবিতার পরিবর্তিত ভাষাকে স্বীকার করেছে। প্রতি দশকেই কিছু আগবাড়ানো তল্পিবাহক থাকে। প্রতিষ্ঠানের ট্রাডিশনালিটি তাঁরা বাঁচিয়ে রাখেন। তাঁরা ধর্তব্যের মধ্যে পড়েন না। নয়ের দশকের কবিতার মূল সুর ছিল অন্যধারার ভাবনায়। নয়ের দশকের প্রধান ট্রেন্ড ছিল অপর কবিতার পক্ষে। প্রতিকবিতার পক্ষে, নতুন কবিতার পক্ষে। এবার নয়ের দশকের অধিকাংশ কবির নাম উল্লেখ করবো যাঁদেরকে আমার পাঠ আওতার মধ্যে পেয়েছি। যাঁদের সম্পর্কে আমি কমবেশি ওয়াকিবহাল। কয়েকটি নাম অসচেতনভাবে উল্লেখের বাইরে থেকে যেতে পারে। এমনও হতে পারে তাঁদের কবিতা পড়েছি, কিন্তু স্পষ্টভাবে জানা নেই তিনি নয়ের দশকের কবি কিনা। কিছু কবি, কোনো বিশেষ দশকের মধ্যে তাঁদেরকে চিহ্নিত করতে একেবারেই অনিচ্ছুক। যাঁদেরকে আমি নয়ের দশকের কবি বলে জানি, তাঁদের নামগুলো এবার উল্লেখ করে নেবো মূল আলোচনায় আসার আগে।
#
অগ্নিবর্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অগ্নি রায়, অচ্যুৎ মণ্ডল, অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিন্দ্য রায়, অনিকেত পাত্র, অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়, অমিতাভ দাস, অনুপ মণ্ডল, অনুপ সেনগুপ্ত, অর্ণব চ্যাটার্জী, অর্ণব সাহা, অমিত নাথ, অভিজিৎ মিত্র, অমৃতেন্দু মণ্ডল, অরুণ দাস, অরুণাভ সরকার, অয়ন চক্রবর্তী, অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অংশুমান কর, আবির সিংহ, আর্যনীল মুখোপাধ্যায়, আশিস গোস্বামী, আশিস মিশ্র, আফজল আলি, ইন্দ্রনীল বিশ্বাস, ইন্দ্রজিৎ রায়, ইন্দ্রানী দত্ত পান্না, উত্তর বিশ্বাস, উৎপল বসাক, উৎপল মান, উত্তমকুমার চক্রবর্তী, ঋত্বিক ত্রিপাঠি, কল্যাণী লাহিড়ী, কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক চক্রবর্তী, কৃষ্ণেন্দু ঘোষ, কানাইলাল জানা, গৌতম মণ্ডল, গৌরাঙ্গ মিত্র, চন্দন ভট্টাচার্য, চিরঞ্জীব হালদার, জপমালা ঘোষ রায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, তপন দাস, তাপস দততো, তাপসকুমার লায়েক, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৈমুর খান, ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায়, দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়, দেবাশিস কুন্ডু, দেবাশিস চাকী, দীপঙ্কর বাগচী, দেবজ্যোতি রায়, দেবাশিস দত্ত, দেবাশিস মল্লিক। নয়ন রায়, নাগ সেন, নাসিম-এ-আলম, নিখিলেশ রায়, নীলাদ্রি বাগচী, নীলাদ্রি ভৌমিক, পার্থসারথি উপাধ্যায়, পিনাকী ঠাকুর, পৌলমী সেনগুপ্ত, প্রকাশ ঘোষাল, প্রসূন ভৌমিক, প্রসূনকুমার পড়িয়া, প্রদীপ কর, প্রদীপ চক্রবর্তী, প্রদীপ দাস, প্রবুদ্ধসুন্দর কর, বনানী দাস, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপন চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ মাইতি, বিশ্ব বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, বিশ্বজিৎ রায়, বিপ্রতীপ দে, বিপ্লব চৌধুরী, বিরূপাক্ষ পন্ডা, বিভা বসু, বিভাস রায়চৌধুরী, বুবুন চট্টোপাধ্যায়, ভবানীপ্রসাদ গুইন, মধুমঙ্গল বিশ্বাস, মন্দাক্রান্তা সেন, মানসকুমার চিনি, মারুফ হোসেন, মলয়শঙ্কর মণ্ডল, মিতুল দত্ত, মীরা চক্রবর্তী, মৌলিনাথ বিশ্বাস, যশোধরা রায়চৌধুরী, রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, রঞ্জন আচার্য, রাজন গঙ্গোপাধ্যায়, রোশনারা মিশ্র, রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায়, রাজর্ষি পি দাস, রাজীব সিংহ, রাজীব কর, রাণা রায়চৌধুরী, রাণা গুপ্ত, রাহুল দাশগুপ্ত, রিমি দে, রিংকু শর্মা, রুদ্র কিংশুক, রুদ্রপতি, রূপক চক্রবর্তী, লক্ষীকান্ত মন্ডল, শমিত রায়, শর্মী পাণ্ডে, শান্তনু রায়, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, শাশ্বত গঙ্গোপাধ্যায়, শিবাশিস মুখোপাধ্যায়, শোভন ভট্টাচার্য, শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, শুভাশিস ভাদুড়ী, শুভঙ্কর দাস, শুভজিৎ গুপ্ত, শৌভিক দে সরকার, শুভ্রাংশু বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্বেতা চক্রবর্তী, শ্রীজাত, সঞ্জীব নিয়োগী, সমরেশ মুখোপাধ্যায়, সমীর মজুমদার, সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী সরকার, সার্থক রায়চৌধুরী, সাম্যব্রত জোয়ারদার, সুদীপ বসু, সুদীপ্ত মাজি, সোনালি বেগম, সৌরভ পাণ্ডে, সুনীল মাজি, সুবীর মণ্ডল, সুবীর সরকার, সুমিতেশ সরকার। সুরঙ্গমা ভট্টাচার্য, সুমন গুণ, সৈয়দ নৌসাদ আলী, স্বপন শর্মা, স্বপন কুমার মল্লিক, স্বরূপ চন্দ, স্নেহাশিস সৈয়দ, স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়, হিন্দোল ভট্টাচার্য, হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। এখানে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করলাম। এঁদের বেশিরভাগই এখনো সক্রিয়। লিখে চলেছেন। কয়েকজন প্রয়াত। কয়েকজনের লেখা চোখে পড়ে না। কেউ খুবই কম লেখেন। অনুপস্থিতির সংখ্যাটি নগণ্য। অর্থাৎ নয়ের দশককে আমার মতো অনেকেই কোনোভাবে নিষ্ফলা দশক বলতে রাজি নন। কোয়ানটিটি এবং কোয়ালিটি, পরিমাণগত ও গুণগত উভয় দিক বিচার ক'রে নির্দ্বিধায় বলা যায়, নয়ের দশকের কবিরা সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গার অধিকারী হয়ে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন। তাঁদের কাছে নির্মম ক্রাইসিস বলতে কিছু ছিল না। পুরো দশকটাই সব দিক থেকে আপরাইজিং দশক। পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী ব্যবস্থাও এসময় কোনো ক্রাইসিসের মধ্যে পড়েনি। সেইসময় অন্তত পশ্চিমবঙ্গে তেমন কোনো রাজনৈতিক সংকট ছিল না বলেই এনিয়ে কোনো মাথাব্যথা দেখিনি নয়ের দশকের কবিদের। (ধারাবাহিক চলবে)
0 মন্তব্যসমূহ