হারাধন বৈরাগীর কবিতা
শিবির
প্রতিটি শহরেই
একটি আলোকিত গলি থাকে,
থাকে কুয়াশার কাউন্টার।
প্রায় প্রতিটি ঋতুতেই
দেওয়া হয় নতুন লাইসেন্স,
দোকানের সংখ্যা বাড়তে থাকে—
বিক্রি-বাট্টাও বাড়ে,
স্ফীত হতে থাকে কোষাগার।
প্রতিটি বাজারেই
একটা অন্ধকার গলি থাকে,
থাকে দেশলাই-দোকান,
আর ঠুকাঠুকিতে আগুন জ্বলে—
পুলিশের নাকের ডগায়।
মন্ত্রী থেকে জনতা,
আমলা থেকে কামলা,
সাংবাদিক থেকে সম্পাদক,
কবি থেকে উপন্যাসিক,
জজ থেকে মোক্তার,
শ্রমজীবী থেকে বুদ্ধিজীবী—
সকলেই ভিড় করে
যার যার হর্স-পাওয়ারে—।
বিবাহ থেকে জন্মদিনের পার্টি,
ঘরোয়া-বৈঠক থেকে সম্মেলন,
পূজা থেকে পার্বণ,
জন্ম থেকে শ্রাদ্ধ—
বাতাসে ছড়িয়ে থাকে জয়কার।
এই পর্যন্ত সবই স্বাভাবিক,
কোনো অসুবিধা নেই।
সকলেরই ফুরফুরে মেজাজ।
না মিডিয়া, না সমাজসেবী,
না পুলিশ, না দলবিরোধী—
কারোরই অসুবিধা হয় না।
সমস্যাটা শুরু হয়,
যখন একজন শিক্ষক-আবহাওয়াবিদ
চারপাশের তাপমাত্রা শুঁকে দেখে—
পুলিশ, সাংবাদিক, অভিভাবক
বা ছাত্রছাত্রী আশেপাশে আছে কিনা,
দেখে প্রাক্তন-ছাত্র বিক্রেতা কিনা।
তারপর সন্ধ্যার অন্ধকারে মুখ ঢেকে
নিজের জন্য বা কোনো শিক্ষিকা-বন্ধুর জন্য
কাউন্টারে কিনতে যায় কুয়াশা।
ছাত্রছাত্রীরাও গন্ধ শুঁকে বুঝে নেয়
বাতাস কোন দিক থেকে বয়।
তারাও আকৃষ্ট হয়ে পড়ে—
আর পূজা-উৎসবে বন্ধু-বান্ধবী
মিলে একটু আধটু চুমু খায় সোহাগ ভরে।
তখনই সাংবাদিকদের টনক নড়ে,
আর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা।
পুলিশ নামে অভিযানে।
সমাজসেবীরা সচেতনতা
শিবিরের আয়োজন করে।
আর মশকরা করে
শিক্ষকদের মাইনে নিয়ে।
অসুরের দল জাগ্রত পূজাস্থলে
পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে।
জনতার মুখে উঠে প্রলয়ের অশনি।
অথচ কেউ বলে না—
যদি কুয়াশার কোম্পানিটাকেই
না দেওয়া হতো লাইসেন্স,
গুঁড়িয়ে যেত আবেগের কারখানা।
আসলে, খেলাটাই আসল—
লাইসেন্স দেওয়া চলুক;
সাপ কামড়াক, ওঝাও বাঁচুক।
বিক্রি-বাট্টা চলুক,
কোষাগার স্ফীত হোক,
কুয়াশাচ্ছন্ন থাকুক গরু;
আর জমতেই থাকুক ধুলো।
0 মন্তব্যসমূহ