মিতা দাসপুরকায়স্থের কবিতা

মিতা দাস পুরকায়স্থের কবিতা 

প্রকৃতি 

কলিজাখানি খুলে খুলে আসতে চায় 
আমার কলমের ডগা দিয়ে, 
পাগলা শীতকালীন বাতাসের প্রবল প্রবাহ
 আক্রান্ত মনের রস নিংড়ে নিয়ে
পেশী মাংসল স্বাদ খোঁজ করে 
তাজা তাজা কচি পাতার অন্বেষণে
 স্বাদুপানির প্রবল তৃষ্ণা নিবারণে। 
পুরোনো পাতাগুলোর বর্ণ হলুদ হতেই থাকে
ক্রমশ ভিটামিনের অভাব পরিস্ফুটিত 
প্রকৃতির অমনোযোগিতায় জর্জরিত, 
কলম্বিয়া কিংবা কিংবদন্তি মানুষ
রাশিয়া চীন অথবা বাংলাদেশ
শীতের প্রবাহের আক্রমণ সর্বত্র বহুগামী
জ্বরাগ্রস্তর রং কেবলমাত্র হলুদ ও বাদামী। 

অতএব পরাভূত হলুদের আত্মসমর্পণ
শুকনো মৌসুমে উপড়ে যায় আলগা বন্ধন।

সময়

সময়ের তালে দিই উকিঝুঁকি
কখনও সময় পালায়, দেয় ফাঁকি, 
আবার ছুটি তার পিছে ধরব বলে 
অতীত-সুখপাখি এসেই ডানা মেলে
সময়ের আগে আমিও চলতে  পারি
তবু সাদা ছাপ তো সে আনবেই
এক রাবারের খোঁজ চলছে চলবেই।


পাখির মত

বেশ আছি পাখির মত জীবন আমার
দু'দিনের অতিথি এত বড় আকাশের, 
এই ছুটছি শহরে গ্রামে গ্রামে পথে প্রান্তরে
খুঁজছি নাকি কিছু,না কিছুই খুঁজছি না 
মাটি  সবুজের আর জলের অতিথি বনবাদাড়ে, 
সকাল সকাল কিচিরমিচির তারপর
উড়ে চলা খাদ্যের সন্ধানে সারাদিন ব্যস্ততা অতঃপর--
কখনো একঘেয়েমিতে ভ্রমণ ভ্রমণ ভ্রমণ 
কাজে বেড়ানো অকাজে বেড়ানো যাপন
সন্ধ্যায় আবার কলকাকলি নীড়ে ফেরত
গতানুগতিক জীবন এ যাবত। 
স্বাদটাই বদলে দেয় অকস্মাৎ ফুড়ুৎ উড়াল
দেখে নেই বিশ্বচরাচর রংবেরঙের নিত্যনতুন
প্রেরণা দেয় পাখির সুখীলা সুমিষ্ট রকমারি গান 
মিলিয়ে নেই পাখির ঝাঁক বেঁধে চলা ও পাখি দর্শন । 
পাখি আছে গাছে গাছে আকাশে সাগরে প্রান্তরে
হিমালয়ের পাদদেশে ও চূড়ায় নগরে বিলে পুকুরে , 
বিলুপ্ত করতে চাইলে অগুনতি ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে
খাণ্ডবদাহন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকায় একত্রিত ভাসে। সংগ্রাম চালিয়ে যায় ঠোঁটে পায়ে ডানায় ডানায় ...


পরিবর্তন


একটা পাহাড় চিরহরিৎ বৃক্ষের ঘনরাশি
 দূরান্তের ছোটবড় পাখির আনাগোনা 
সুরেলা সুর ও স্বর চেনা-অচেনা
স্থানীয় পাখির সংগীতের প্রতিধ্বনি, 
আহা মাঝে তার দুটি ভাগ করে ঝরনা
নেমে আসে ঢাল বেয়ে পাহাড়ি অনন্যা
লাফিয়ে নামে জলরাশি নীচে উপত্যকা
বিরামহীন জল সৃষ্ট ঠান্ডা সুদৃশ্য জলাধার
কখনো নীল জল  মুখচ্ছবি স্বচ্ছতার আধার, 
বেঁচে আছে কত পরনির্ভর মনোহারী অর্কিড
ঠান্ডা জল তাপ নেই প্রদাহ নেই তীব্র আকর্ষণ
শ্রমজীবী কাঠকুড়ুনোদের শ্রান্তি-ক্লান্তির অবলম্বন। 
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি থেকে উধাও বৃক্ষরাজি /
গাছ কাটার মেশিনের হুল্লোড় সারাদিন শব্দবাজি
পরিবর্তনের চাপে ধীরে সবুজের শান্ত সমারোহ
হারানোর কথা ঘোষণা করে বিদায়বেলার পাখিরা 
অতঃপর নগ্ন পাহাড়ের দেহ খুবলে খায় দু পেয়েরা । 
ট্রিপারে করে মাংস-পেশী-নাড়ি-ভুড়ি পাচার হয়
সভ্যতার নির্মিতিতে , পরিবর্তনশীল জগতে
নীচের ঝরনাসৃষ্ট জলাভূমি ভরাট ক্লান্তির পথে
পাহাড়ি এলাকা হয় সমতল 
ঝরনার ধারা যায় রসাতল। 
এভাবেই বদলানোর হাওয়ায় যখন
বাঙালির একান্ত ধুতি-শাড়ি হয় ফ্যাশন-স্বপন , 
কৃষকের পান্তাভাতে ফাইভ স্টার মার্কা বিলাসী 
পরিবর্তন ঘুরে চক্রাকারে,আজকের নতুন
বেশিদিন চমকায় না,কালের প্রবাহে পুরাতন। 
 ফিরে আসে না কেবল জলাশয়, ঝিঁঝিঁ-র গান
পাহাড়, রং-বেরঙের পাখি ঝরনা ও হারানো স্বজন।


মরীচিকা


মাঝে মাঝেই পাখি হয়ে যাই 
আকাশ খুঁজি সমুদ্র পাহাড় নদী, 
হঠাৎই ডানা আটকে যায় 
নাগাল পাওয়া বদ্ধ চালায় । 
পাখি সীমানা ছাড়িয়ে যেতে চায় সখা
ধরাছোঁয়ার বাইরে যেখানে দিগন্তরেখা
মরীচিকা হয়ে হাতছানি দেয় কেবলি । 
জীবনবৃত্তান্ত এতটুকুই
থাকতে চায় বন্ধনীর ভেতরই 
আবার ফিরে ফিরে বন্ধন ছিঁড়ে নেয়ার আকুতি
কাঁদায় আগুন ঝরায় যেন আঁধার রাত্রি
শ্বাস ওঠে যাওয়া শেষ পথের যাত্রী।



Mita Das Purakayastha

Sometimes I become a bird
Look for the sky, sea, mountains, rivers,
Suddenly the wings stuck
The reach is closed.
Birds want to go beyond the boundaries
Out of reach is where the horizon is
As a mirage, Calls shaking hands.
Resume is all
Wants to stay inside the bracket
Again the desire to break the bond
Crying fire is like a dark night
Like the gasping last leg passenger.


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ