ত্রিপুরার এক নির্বাসিত রাজকুমারের উপেক্ষিত রাজবধূ

ত্রিপুরার এক নির্বাসিত রাজকুমারের উপেক্ষিত রাজবধূ || বিকচ চৌধুরী 
--------------------------------------------------
অলোক -সামান্য  প্রতিভার কাছাকাছি  থাকলে,অনেক সময় বিরল   প্রতিভার দ্যুতি চোখে পড়ে না,অথবা সেই প্রতিভা আপনা আপনি নিজেকে আড়াল করে নেয়।দৈবক্রমে এঁরা যদি স্বামী-স্ত্রী হোন তবে অর্ধাঙ্গিনী প্রায়শঃই যবনিকার অন্তরালেই থেকে যান।ভুবন বিখ্যাত  ত্রিপুরার চির নির্বাসিত রাজকুমার শচীন দেববর্মণের সুযোগ্য পত্নী মীরাদেবীর বেলায়ও একথা সত্য।

         শচীন কর্তার দৃষ্টিতে মীরাদেবী 
-------------_------_---------------_-------------

শচীন কর্তা তাঁর আত্মজীবনী "সরগমের নিখাদ" এ লিখেছেন - " মীরা নিজে শুধু যে গান লেখে তা নয়,সুর সংযোজনাতেও পারদর্শিনী।ওর সাহায্য ও সাহচর্যে আমি আমার অনেক সফল ও জনপ্রিয় গানের সুর দিয়েছি।আমার সুর রচনায় অনেকগুলো জনপ্রিয় গানের মুখড়ার সুর মীরার। বহু সময় এরকমও হয়েছে,আমি সুর রচনা করেছি,তার উপর ভিত্তি করে মীরা বাংলাতে গান লিখেছে সুরের মিটার ও ছন্দ অনুযায়ী,হিন্দি গান রচয়িতাকে তা বোঝাবার জন্যে।পরে সেই সুরে হিন্দি গান রচনা হয়েছে। মীরার লেখা ছয় খানা বাংলা গান আমি এইচ এম ভি তে রেকর্ডও করেছি,নিজের গলায়।কেবল সহধর্মিণী রূপে নয়,আমার সংগীত জীবনের সাফল্যের পিছনে মীরার সহযোগিতা,সাহায্য,উৎসাহ ও আত্মত্যাগ প্রচ্ছন্ন ভাবে সর্বদাই বর্তমান রয়েছে ও থাকবে।আমি মীরার মত সহধর্মিণী লাভ করে নিজেকে সর্বদা অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করেছি।"
           

 শিল্পীসত্তার বিকাশ
---------------------------------------------------
অভিজাত বংশে জন্ম গ্রহণ করলেও কোনো রকম রক্ষণশীলতার চাপ মীরা দেবীর শিল্পিসত্তাকে প্রতিহত করেনি।
মিরাদেবী ১৯৩৭ সাল থেকে শচীন কর্তার প্রতিষ্ঠিত  সুর মন্দিরের ছাত্রী  ছিলেন। তাছাড়া তিনি উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে।তাঁর প্রতিভা ছিল বিচিত্রমুখী।শান্তিনিকেতনে থাকার সময় তিনি শ্রীমতী অমিতা সেনের কাছে নাচ শেখেন।ঠুমরী ও কীর্ত্তন শিখেছিলেন ধীরেন্দ্রচন্দ্র মিত্রের কাছে।এ ছাড়া অনাদি ঘোষ দস্তিদারের কাছে তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাঠ গ্রহন করেন।পরবর্তী জীবনে মুম্বাইতে কিরানা ঘরানার ওস্তাদ  ফাইয়জ খাঁ  সাহেবের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন।

রেডিওতে গান গাওয়া ছাড়াও ১৯৩৭ সালে এলাহাবাদ সংগীত  সম্মেলনে তিনিও আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন ও শ্রোতাদের ভুয়সী প্রশংসা লাভ করেন।
সেবারে শচীন কর্তা ও মীরাদেবী এলাহবাদের আসরে রীতিমত হৈ চৈ ফেলে দেন।এলাহবাদ সম্মেলনের পর দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গভীরতর হয়। ক্রমশ:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ