🌿নৃপেন্দ্র-মানস : গদ্যের নিজত্ব ও শৈলী🌿
আবিদ ফায়সাল
যে-সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনন চর্চা বহুমাত্রিকতার চূড়ায় পৌঁছে যায়, সে-সমাজে গদ্যশৈলী উচ্চ নান্দনিকতায় বিভেসিত হয়। বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে এ সত্যটি প্রসন্ন প্রত্যয়ে আমাদের কাছে ধরা দেয়। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এই ধ্রুবপদ বিতর্ক বঙ্কিম পথে না-গিয়ে সরল রেখার মতোই প্রলম্বিত হতে দেখা যায়। বাংলা কবিতার পাশাপাশি বাংলা গদ্যের ঐশ্বর্য সে-কারণে অনেক বিলম্বে বিকশিত হয়েছে।
বাংলা গদ্য দলিলদস্তাবেজের শিশুশয্যা ছেড়ে, বৈষ্ণবীয় খড়চার কৈশোরাত্মাকে পেছনে ফেলে বিদ্যাসাগর বঙ্কিমের হাত ধরে এসে পৌঁছেছে যৌবরাজ্যে। রবীন্দ্রনাথের সার্বভৌম, প্রমথীয় তীর্যকথা, বুদ্ধদেবীয় অভূত নতুন ভাষার লাবণ্যময়তা, শিবনারায়ণ রায়, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখের পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও বর্ণনার ভেতর দিয়ে বর্তমানের পাদপীঠে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে সুধীন্দ্রত্তীয় ধ্রুপদী ঘরানার উত্তর সাধক আবদুল মান্নান সৈয়দের নিকটতম প্রতিবেশীরূপে নৃপেন্দ্রলাল দাশের গদ্যকে বিশ্লেষণ করার প্রচার সাপেক্ষতা আছে। গদ্যরীতি কিংবা আঙ্গিক আংশিক চিন্তার মুক্তবাতায়ন অধ্যয়নের বিপুলতা পূর্ব-পশ্চিমের নন্দনতত্ত্বের ভেতর দিয়ে অভিযাত্রা, সাহিত্য নান্দনিকতার অন্যতর সরণি-সন্ধান করা যেতে পারে। কবিতায় যেমন, গদ্যেও তিনি ক্লাসিক্যাল মনোভঙ্গিকে ধারণ করেছেন। ফলে তাঁর কবিতা ও গদ্য অদ্ভুতভাবে সমান্তরাল অভিরেখায় যাত্রা করেছে—এটিও একটি সৃষ্টিক্ষমপ্রজ্ঞা বা স্বাতন্ত্র্যবাচ্য নিরীক্ষার বিষয় হতে পারে।
প্রখ্যাত কবি সুবোধ সরকার লিখেছিলেন, 'আধুনিককালের গদ্যলেখকরা হচ্ছেন ঠিকেঝির মতো'। ঠিকেঝিরা দশ বাড়িতে কাজ রেখে এক বাড়ির ঘর মোছার কাজ শেষ করে অন্য বাড়িতে দৌড় লাগায়। ঠিক সে রকম কাঞ্চনমূল্যের আদিখ্যের দূষিত প্ররোচনায় বর্তমানের গদ্যকারেরা নানা পত্রপত্রিকায় এক দিনে দশ রকমের গদ্য লেখেন। যা দ্বিতীয়বার পড়ে দেখার সময় হয় না। প্রয়োজন বোধও করেন না। অথচ তাঁরা মিডিয়ার বরপুত্র আমলাদের উচ্ছিষ্টভোজী এবং সরকারের স্তাবক। তাঁদের নীতি আদর্শের কোনও বালাই নেই। রচনার উৎকর্ষের জন্য কোনও প্রযত্ন প্রয়াস নেই।
নৃপেন দাশের গদ্যের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ শুনতে পাই, অভিধানের অচল গর্ভগৃহ থেকে তিনি তুলে আনেন অচেনা শব্দগুচ্ছ। বাক্যের গঠনে জ্যামিতিক জটিলতাকে প্রশ্রয় দেন। তৎসম শব্দের প্রতি তাঁর পক্ষপাত বা বেমক্কা ব্যবহার মুদ্রাদোষের মতোই প্রকট। ধর্ম ও দর্শনের এলাকা ছুঁয়ে যাওয়া রেডিক্যাল হিউমিনিস্ট হিশেবে তিনি এক ধরনের জটিলতাকে নিয়ে আসেন তাঁর গদ্যে। ফলে দুর্বোধ্যতা প্রায় অবধারিত হয়ে ওঠে। কেউ কেউ তাঁর শাস্ত্রিক ভাবনাকেও কটাক্ষ করেন। এসব নানান কৌণিক বিন্দু থেকে বিচার করে আমরা দেখতে পারি তাঁর গদ্য কতটা সারবান। কতটা নিজত্বে গুণমান। ব্যক্তিগত সম্বন্ধসূত্রকে প্রাধান্য না-দিয়ে নৃপেন্দ্রলাল দাশের লেখনভূমিকে আমরা স্পর্শ করতে পারি। বিচরণ করতে পারি তাঁর সৃষ্টির ভূ-বিশ্ব।
২.
রবীন্দ্রনাথ বিষয়েই শুরু করা যাক। কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন, 'রবীন্দ্রনাথ হচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের সিদ্ধিদাতা গণেশ '। ( প্রসঙ্গত স্মরণীয় : রবীন্দ্রনাথ বলেছেন : ...গদ্যে সুধীন্দ্রনাথ মননের আর্টিস্ট। ) সে-কথা মনে রেখেই নৃপেন্দ্রলালের রবীন্দ্রচর্চার দিকে দৃষ্টিপাত করতে চাই। তাঁর 'শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ' গ্রন্থটি (১৯৯২) প্রথম প্রকাশ করেছিল ঢাকার সাহিত্য প্রকাশনী। এখন পর্যন্ত এর পাঁচটি সংস্করণ বের হয়েছে। এই গ্রন্থে একদিকে যেমন রবীন্দ্রনাথের সিলেট ভ্রমণের বিশদ বর্ণনা আছে, তেমনই সিলেট অঞ্চলের রবীন্দ্রচর্চার একটি আনুপূর্বিক বর্ণনা রয়েছে। গভীর অভিনিবেশে পাঠ করলে দেখা যায় যে, রবীন্দ্রসাহিত্য, রবীন্দ্রনাটক ও কথাসাহিত্যে সিলেটের সন্তানদের রচনার মূল্যায়ন এই গ্রন্থের এক অলোকসামান্য বিষয়। 'রবীন্দ্রনাথ, শ্রীভূমির পরিকর'(২০১৬) ও 'রবীন্দ্রনাথ ও সিলেট' (২০১৯) নামক তাঁর অন্যদুটি গ্রন্থে সিলেটের মানুষের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা আলোচিত হয়েছে। রবীন্দ্রসমালোচক ও প্রখ্যাত শিল্পী শোভন সোম এক চিঠিতে লিখেছেন,' উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের স্থানিক পরিসীমায় উল্লিখিত বই দুটিতে যে বর্ণনা আছে, সেটা অভূতপূর্ব। আমি বইগুলো পড়ে ঋণীবোধ করেছি।' সিলেট অঞ্চলের নানাজনের কাছে রবীন্দ্রনাথ যেসব চিঠিপত্র দিয়েছিলেন, গত ত্রিশ বছরের অনুসন্ধানে গবেষক নৃপেন্দ্রলাল সংগ্রহ করে বিস্তারিত ভূমিকা ও পত্রপ্রাপকদের পরিচিতিসহ 'রবীন্দ্রপত্র, প্রাপক সিলেটিরা' (২০১৯) নামে আরও একটি গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্রসাহিত্য পঠনপাঠনের জন্য এ চিঠিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গীতাঞ্জলির মর্মোপলব্ধি করার জন্য সিলেটের উপেন্দ্রকর মহোদয়কে রবীন্দ্রনাথ যে চিঠি লিখেছিলেন, সেটা এক অতি মূল্যবান চিঠি।
তৎকালীন মৌলভীবাজারের সাব জজ উপেন্দ্রকর গীতাঞ্জলি বিষয়ে একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন। 'গীতাঞ্জলির সমালোচনার প্রতিবাদ' নামে সেই গ্রন্থ পেয়ে চারদিনের মাথায় রবীন্দ্রনাথ সুবিখ্যাত চিঠি লিখেছিলেন। সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবন একটি চিঠির জন্যই পালটে যায়। যখন তাঁর বয়স সতেরো বছর, তখন মুরারিচাঁদ কলেজের ছাত্রদের কাছে রবীন্দ্রনাথ 'আকাঙ্ক্ষা' নামে যে বক্তৃতা দেন, সেই বক্তৃতা শুনেই মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকতনে পড়াশোনার করার আহ্বান করেছিলেন। সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শান্তিনিকেতনের প্রথম বহিরাগত ছাত্র। সৈয়দ মুজতবা আলীর এগারো খণ্ডের রচনাবলির পর্যালোচনা করে নৃপেন্দ্রলাল দাশ লিখেছেন 'মুজতবা সাহিত্যে চিত্রিত রবীন্দ্রনাথ' শীর্ষক সন্দর্ভ। কলকাতা থেকে প্রকাশিত বরুণ চক্রবর্তী সম্পাদিত বিপুলায়তন 'রবীন্দ্রবীক্ষা' নামক সার্বজাতিক সংকলনে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। গীতাঞ্জলি বিষয়ে নিজস্ব অনুভবের বিশ্লষণ করে নৃপেন্দ্রলাল দাশ লিখেছেন 'গীতাঞ্জলি : প্রজ্ঞা ও পোষণ' নামে একটি কৃশকায় পুস্তিকা। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জেনেছি, এরকম সিরিজ পুস্তিকা লেখার পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। অন্তত দশটি সিরিজে বই সমাপ্ত হবে।
রবীন্দ্রবিষয়ে নৃপেন্দ্রলাল একটি উপন্যাসও লিখেছেন। বইটির নাম 'হেমন্তবালার রবীন্দ্রনাথ'। রবীন্দ্রনাথ দুইশত চৌষট্টিটি চিঠি হেমন্তবালাকে লিখেছিলেন। সেইসব চিঠিকে ভিত্তি করে এ উপন্যাস লিখিত হয়েছে।
তাঁর 'রবীন্দ্রনাথ, রসপ্রস্থান' (২০২২) নামেও একটি গ্রন্থ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের সিলেট আগমনের শতবর্ষে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, সেমিনারে যেসব ভাষণ দান করেছিলেন, এই গ্রন্থ তার সংকলিত রূপ। রবীন্দ্রসখা সতীশচন্দ্র রায়ের জীবনীও তিনি রচনা করেছেন। গীতাঞ্জলি রচনার শতবর্ষে তিনি 'রবীন্দ্রনাথ' নামের একটি বৃহৎ আয়তনবান গ্রন্থ এবং কুলাউড়া থেকে প্রকাশিত 'রবিরাগ' নামক অভিজাত সংকলন সম্পাদনায়, প্রকাশনায় এবং নানা আত্মোদ্যোগী সাহিত্যানুষ্ঠানে দায়িত্বশীল অবদান রেখেছেন। এ দুটি সম্পাদনা গ্রন্থে রবিরশ্মিস্নাত নৈপেন্দ্রিক ভাষাশৈলীর বিভাবকে উদ্ভাসিত হতে দেখি।
'শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ' গ্রন্থের আদলে তিনি লেখেন 'সিলেটে নজরুল' (১৯৯৮)। এ গ্রন্থে নজরুলের সিলেটে দুবার ভ্রমণের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এরও তিনটি সংস্করণ বেরিয়েছে। মুক্তধারা থেকে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের পর উৎস প্রকাশন থেকে তৃতীয় সংস্করণ বের হয়। সেখানে 'নজরুল, বাংলায় বিহার' নামে সারা বাংলাদেশে নজরুলের পরিক্রমা সম্পর্কে তথ্যবহুল আলোচনা আছে। প্রখ্যাত গবেষক গোলাম মুরশেদ 'বিদ্রোহী রণক্লান্ত' (২০১৮, প্রথমা) নামে যে বিপুল শ্রমসাধ্য গ্রন্থ লিখেছেন সেখানে সিলেট ভ্রমণসংক্রান্ত নানা তথ্য বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করেছেন। প্রধানত দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের নানা ঘটনার তারিখ নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে নৃপেন্দ্রলাল 'নিজের নজরুল' (২০২৩) নামে একটি বই লিখেছেন। বইটি প্রকাশ করেছে বাসিয়া প্রকাশনী। এছাড়াও নজরুলসংগীতের বাণীর অসামান্য শিল্প সুষমা নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। এর প্রধান একটি গুণ হচ্ছে, নজরুলের গানের সুর বা গায়কী নিয়ে নয়, তাঁর বাণীশিল্পকে দক্ষতার সঙ্গে বিবেচনায় আনা হয়েছে। নজরুল নিয়ে যেসব গ্রন্থাদি প্রকাশিত হয়েছে, তার কোথাও নজরুলসংগীতের বাগবিভূতি নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি।
হাসন রাজার গানের কবি-আত্মা ও কাব্যশিল্প নিয়ে নৃপেন্দ্রলাল দাশের একটি প্রকাশিত গ্রন্থ 'হাসন রাজা : শব্দ, নৈঃশব্দ্য'। গ্রন্থটি প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় ছিল। তিনি 'মাটির নায়কেরা' নামক প্রবন্ধে এর ঋণ স্বীকার করেছেন। এই গ্রন্থের ভেতর সৃজক হাসন রাজার মহত্ত্বকে খুঁজে বের করা হয়েছে। এতে 'হাসন রাজার দর্শন ও দীব্যতার প্রশ্নাবলি' নামে একটি প্রবন্ধ রয়েছে। এ সম্পর্কে জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ভিন্নমত পোষণ করলেও বক্ষ্যমাণ লেখক তাঁর প্রতীতির কাছে, তাঁর বিশ্বাসের কাছে সত্যসন্ধ ভূমিকাকে স্থির ভূমির ওপর দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। এ বিষয়ে তাঁর চোদ্দোটি পত্রবিনিময় হয়েছে মনীষী আজরফের সঙ্গে। 'হাসনিক মতবাদ' নাম দিয়ে লেখক নতুন একটি দর্শন প্রস্থান তৈরি করেছেন। হাসন রাজার জীবনকাহিনিকে ভিত্তি করে নৃপেন্দ্রলাল একটি উপন্যাস লিখেছেন। এর নাম হচ্ছে 'হাসন রাজা, রঙের বাড়ই' (২০১৫)। উপন্যাসটির আঙ্গিকের মধ্যেও নিরীক্ষা রয়েছে। প্রতিটি চরিত্র নিজেদের কথা বলছে, কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে হাসন রাজার জীবনের বহুমাত্রিকতা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর গাজি আবদুল্লাহ হেল বাকী বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন। Hanson Raja Creator of My stic Fauns (Nahar publications, January, 2023)। এটিও সমাকর্ষী। এটি সম্পর্কেও নানা পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রখ্যাত মরমি কবি রাধারমণ দত্ত মূলত বৈষ্ণব ভাবের কবিরূপে সর্বত্র পরিচিত। তাঁর বেশির ভাগ সংগীতই হচ্ছে রাধাকৃষ্ণের লীলাভিত্তিক। এ কথাটি সাধারণ্যে বহুলভাবে প্রচলিত। নৃপেন্দ্রলাল দাশ অন্য একটি পরিচয়ের কথা প্রকাশ করেছেন 'রাধারমণ, তাঁর শাক্তপদাবলি' গ্রন্থে (২০০৮)। এখানে বৈষ্ণব কবি রাধারমণকে দেখানো হয়েছে সার্থক শাক্তপদকর্তারূপে। তাঁর মৃত্যুর একশত বছরপূর্তিতে বাংলা একাডেমির আহ্বানে নৃপেন্দ্রলাল দাশ রাধারমণ বিষয়ে একটি স্মারকবক্তৃতা করেছিলেন। এর শিরোনাম হচ্ছে 'রাধারমণ, রসপ্রস্থানিক'। এই বক্তৃতায় রাধারমণ-মানসকে সাংগীতিক প্রকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। যা মনীষী আনিসুজ্জামানকে খুবই প্রীত করেছিল।
৩.
গদ্যশিল্পী নৃপেন্দ্রলাল দাশ একজন সত্যসন্ধ গবেষকও। তিনি কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা নামক স্থানে প্রাপ্ত তাম্রশাসনের মধ্যে আদি বাংলার নিদর্শন রয়েছে বলে দাবি করেছেন। প্রথম তাম্রশাসনের উনত্রিশ ছত্রের শেষাংশ থেকে তেপ্পান্ন নম্বর ছত্রের প্রথমাংশ পর্যন্ত আদি বাংলায় লেখা হয়েছে বলে মনে করেন। তাঁর আগে Coper Plates of Sylhet গ্রন্থের লেখক কমলাকান্ত গুপ্ত সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ লক্ষ করেছেন প্রাপ্ত তাম্রলিপিতে। এই তাম্রশাসনটি সংস্কৃতভাষায় রচিত। এ বিষয়ে নৃপেন দাশ 'ভাটেরা তাম্রশাসনে আদি বাংলার নিদর্শন' নামে একটি গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেছেন। তাঁর 'বোবা বেহাগ' (২০১৭) গ্রন্থে এটি ধরা আছে। এ নিয়ে বৃহৎ পটভূমিতে সারস্বতসমাজকে আলোচনা অনুষ্ঠানের জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর লেখায় ব্যাকরণ, স্থানীয় ভূগোল, ব্যক্তিনাম, নদীনাম ইত্যাদির সহায়ে তিনি এর ভাষা যে বাংলা, সেটা প্রমাণ করেছেন। এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞজনেরও অভিমতকে মান্যতা দিয়েছেন।
বিদ্যাসাগরের ছাব্বিশ বছর আগে সিলেটের আখালিয়ার জয় গোপাল দাশ / রায় 'বিদ্যোদয়' নামে একটি গদ্যগ্রন্থ লিখেছেন। এই গদ্যের শিল্পমান অতিশয় সুমিত এবং প্রাঞ্জল। তৎকালীন আসামের স্কুলসমূহে ওই গ্রন্থ পাঠ্যবইরূপে পঠিত হতো। দুঃখের বিষয় এই যে, বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হলেও তাঁর পাশে কোনও সাহিত্যের ইতিবৃত্তকার জয় গোপালের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেননি। আরও আশ্চর্য বিষয় এই যে, সিলেটের মহাকবি 'দেবীযুদ্ধ' প্রণেতা শরচ্চন্দ্র চৌধুরীকে ড. সুকুমার সেন তাঁর 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে রাজশাহীর লোক বলে উল্লেখ করেছেন। 'জয় গোপাল রায়, বিদ্যাসাগর পূর্ববর্তী বাংলা গদ্যের আদিতম শিল্প' নামে নৃপেন্দ্রলাল দাশ এক দীর্ঘ আলোচনা লিখেছেন তাঁর 'বোবা বেহাগ'-এ। সেখানে 'বিদ্যোদয়'-এর সাহিত্যকৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 'বোবা বেহাগ'-এ রাধারমণের গানের বাণীশিল্পকে নান্দনিক বিবেচনায় আনা হয়েছে। সুর কিংবা গায়কী ঘরানা নয়, রাধারমণের কবিহৃদয় ও কাব্যশিল্পকে/ কবিতার গয়নাগাটিকে নিয়ে তিনি নিরীক্ষাশীল দৃষ্টি প্রসারিত করেছেন।
তাঁর একটি উল্লেখ করার মতো প্রবন্ধ গ্রন্থ 'সেই অনন্ত আঁখর' (২০০৫)। এই গ্রন্থের দীর্ঘ প্রবন্ধ : গুরুসদয় দত্ত ও ব্রতচারী আন্দোলন। এখানে দত্তের সমূহ ব্রতচারী সাহিত্যের এক গভীরতাস্পর্শী অবলোকন রয়েছে।
আবদুল মান্নান সৈয়দের 'মাতাল কবিতা পাগল গদ্য' (২০০৮) গ্রন্থের আদলে নৃপেন্দ্রলাল দাশের প্রবন্ধ, কবিতা, অনুবাদ, সংগীত, ছড়া, পুরাতত্ত্ব, ছোটোগল্প, জার্নাল, ব্যক্তির কোলাজ, ভ্রমণ, নাটিকা, আত্মকথা, কলাম প্রভৃতির এক মিশ্র সংকলন 'ভেঙে যাই তাবৎ ঘরানা' (২০১০)। তাঁকে নিয়ে অন্য লেখকদের মূল্যায়নও ধরা আছে এ গ্রন্থে। যা অভিনব এবং বাংলা সাহিত্যে একটি মাধুকরী সংগ্রহ হিশেবে বিবেচনা করা যায়।
উল্লেখ্য, এ গ্রন্থের একটি ক্ষুরধার প্রবন্ধ 'কবিতা, নানারঙের ফুটেজ' পরবর্তী সংস্করণ 'শব্দপটুয়ার অস্মিতা' (২০২১) নামের মিনিবুক বের হয়। এখানে নৃপেন্দ্রলাল দাশ পাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যের একাধিক কাব্য আলংকারিকের সমূহ বিবরণকে উপস্থিত করে দেখিয়েছেন কবিতার মিত্র কারা, কবিতার শত্রু কারা। এর লিখনশৈলীতে রয়েছে নান্দনিক সৌকর্য, কাব্যের মূর্ছনা। এখানেও প্রচ্ছন্ন রয়েছে তাঁর কবিসত্তা। রচনার ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই মনে রয়েছে রসশাস্ত্রীদের কথা : 'গদ্যং নিকষং কাব্যম্ '।
সিলেটের নাগরী প্রকাশ থেকে তাঁর 'শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ' বেরিয়েছে (২০১৫)। এই গ্রন্থে মহাভারত বিষয়ে লেখকের দুটি বিবুধান প্রবন্ধ রয়েছে। তিনি মহাভারতের মধুবিদ্যা অর্থাৎ মহাভারতের 'মূল থিম' কী সেটা অন্বেষণ করার প্রয়াস চালিয়েছেন। প্রাচীন কালে বিশ্বাস করা হতো মহাভারত হচ্ছে পঞ্চম বেদ। প্রাবন্ধিক নৃপেন্দ্রলাল দাশ এখানে দেখিয়েছেন মানব ভাগ্যের অচঞ্চল এক মহিমা মহাভারতে আতত বা বিস্তৃত রয়েছে। তিনি যুধিষ্ঠিরকে মহামাত্য মহাভারতের নায়ক বলে চিহ্নিত করেছেন অন্য একটি প্রবন্ধে। 'শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ' গ্রন্থে তাঁর অতি প্রজ্ঞাপূর্ণ রচনা হচ্ছে, বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ বিষয়ে : 'বাংলা সন, কিছু বিবেচনা'। লেখক দেখিয়েছেন আকবরের জন্মের তিনশত বছর আগে বাকুরার মন্দিরগাত্রে বাংলা সনের প্রয়োগ আছে। সাধারণ্যে এই মত প্রচলিত আছে যে, বঙ্গাব্দটি ফসলি সন হিসেবে আকবর প্রচলন করেছিলেন।
৪.
সারস্বতসমাজে কবিদের গদ্য নিয়ে একটা অভিযোগ শোনা যায়। বলা হয়ে থাকে, তাঁদের গদ্য গীতল হলেও যুক্তির অতিজীবিতায় অনেক ক্ষেত্রে শিথিল ও সংযোগ-সেতু ভগ্ননীড় হয়ে যায়। নৃপেন্দ্রলাল দাশের গদ্যসাহিত্য অধ্যয়ন আমাদের কাছে এরকম কোনও প্রতীতির জন্ম দেয় না। তাঁর গদ্যের অবয়বের মধ্যে যেমন এক ধরনের অনিন্দ্য প্রমূর্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনই ভাবগঙ্গার এক মৃদু কল্লোলকেও সোচ্চার হতে দেখি। বক্তব্যে যেমন তিনি যুক্তির তিরন্দাজ, বয়নে তেমনই টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের মতোই দেহশ্রমী। আরেকটা বিষয়, যেকোনও সংবেদী পাঠককে মুগ্ধ করবে, সেটা হলো তাঁর পঠনের বহুস্তরব্যাপী প্রজ্ঞার বর্ণময়তা ও বার্ণিকভঙ্গি। তাঁর 'শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ' গ্রন্থের 'আত্মপক্ষে' তিনি লিখেছেন : 'গদ্যে আমি জ্ঞানমার্গী হলেও, রসের দিকেই আমার অভিযাত্রা।' এখানে নিজস্ব গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি, এমন একটি রচনার সামান্য উদ্ধৃত করতে চাই ; যা থেকে তাঁর লিখনভঙ্গিমা আঁচ করা যাবে। ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহ সম্পাদিত 'প্রজ্ঞাদীপ মুহিতমানস' (২০১৫) গ্রন্থে 'গীষ্পতি আবুল মাল আবদুল মুহিত' শিরোনামে নৃপেন্দ্রলাল দাশ লিখেছেন :
'বহুমেধা, বহুজানিত, বহুমাত্রিক মানসের মূল্যমান চিহ্নায়ন করা সহজসাধ্য নয়। মূল্যের মৌল স্বভাব উন্মোচন, চারিত্র্যের স্বরূপ নির্ধারণ, আয়তনের নিরূপণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অশিথিল থাকে না। ফলে ভ্রান্তিবিলাস অনিবার্য হয়ে ওঠে।
আবুল মাল আবদুল মুহিতের ক্ষেত্রেও এই মৌমাছিতন্ত্র অনিবার্য হতে পারে। তাঁর প্রতিভা-আভার পরম্পরা বহুস্তর পতাকার মতোই দীপ্র। তাঁর হীরকদ্যুতি ছাত্রজীবন, অধ্যয়ন অধীত বিদ্যার সমারোহ বিস্ময়ের বিষয়। তাঁর আমলা-শৈলীর বার্ণিকতা, ব্যাপকতা আমাদের প্রশাসন-শাস্ত্রের নিরীক্ষা অধ্যায়কে করেছে বিত্তবান। তাঁর বিশ্বভূমিকতা দুই গোলার্ধের সর্বত্র সতত বিচরণমান। এই গৃহ, এই বিশ্ব তাঁর কাছে সমার্থ সক্ষম। চাণক্যশাস্ত্র তাঁকে করেছে উত্তমর্ণ। অর্থশাস্ত্র বাধ্য নকরের মতো তাঁর কাছে বিনত। ব্যষ্টি ও সমষ্টি অর্থনীতি তাঁর বিচক্ষণতার কাছে সদা প্রসারিত। আর অর্থমন্ত্রিত্ব যেন আলো-হাওয়া রৌদ্রের মতোই তাঁর জন্য অতিনিরূপিত, অবধারিত, অমোঘ—এক আনন্দ, বিনোদ। কোনও বিকল্প চিন্তাই করা যায় না। অর্থমন্ত্রিত্বের প্রতিষ্ঠার সৌরভ সমকালকে ঋণী করে রেখেছে। তর্করহিত এই অভিধাও আমার গন্তব্যস্থল নয়। আমার অভিমুখিনতা হচ্ছে অন্যখানে— অন্য এক হিরণ্যগর্ভিণী অধ্যায়ে। বরকত-প্রসবিনী এই বাংলার মহান মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি বিনির্মাণে। যা তাঁর ভাষাসৈনিক পরিচ্ছেদের ওপর অন্য এক রাজকীয় অভিগমন। একজন স্বাধীনতাকামী প্রাজ্ঞজনের আন্তর্জাতিকতার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রাধিকারী হওয়ার অবিনাশী গাথা।'
এখানে একটা কথা বলতেই হয়। নৃপেন দাশের কবিতা, কাব্যনাট্য, ছড়া, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ, ভ্রমণআখ্যান, জার্নাল, ধর্ম-দর্শন, নন্দনতত্ত্ব এবং অনুবাদসহ বিভিন্নধর্মী রচনা নিয়ে প্রায় একশত গ্রন্থ ও পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে স্মরণ ও অর্ঘ্যজাতীয় প্রায় ত্রিশটি প্রবন্ধ। যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। এত বিচিত্র ও বহুমুখ এবং মনীষীমণ্ডলীকে লেখালেখি থেকে তাঁর চিন্তার ক্রমিক বৃত্তান্ত যেমন জানা যায়, একইসঙ্গে তিনি যাঁদের নিয়ে লিখেছেন, তা থেকেও তাঁর জগৎপরিধি এবং মননময় জগৎটি বুঝে নেওয়া যায়। বক্ষ্যমাণ এ-দীন নিবন্ধে কোনও অধ্যাপক-সুলভ বিচার-ব্যাখ্যায় না-গিয়ে বা শাস্ত্রীয় পদ্ধতি না-মেনে তাঁর ভিন্নধর্মী চিন্তাগুলোর চিহ্নায়নকেই শুধু স্পর্শ করেছি এখানে।
বলছিলাম, নৃপেন্দ্রলাল দাশের গদ্যসম্পর্কে অভিযোগের কথা। অনেকে মনে করেন, তাঁর কবিতার মতোই গদ্যশৈলীও ক্লাসিক্যাল মনোভঙ্গিকে প্রকাশ করে। শুধু তা-ই নয়, তিনি বাংলা অভিধানের পরিসীমাকে পেছনে ফেলে অনেক নতুন শব্দগুচ্ছ তাঁর রচনাবলিতে প্রযুক্ত করেন। ফলে সেইসব অপরিচিত শব্দদ্রুম পাঠকের কাছে অচেনা মনে হয়। কিন্তু আমরা মনে করি, গদ্যের নতুন নির্মিতির জন্য সৃজক হিশেবে তাঁর এই বীক্ষা গদ্যশিল্পের আয়তনকে প্রসারিত করবে। কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, আবদুল মান্নান সৈয়দ প্রমুখের গদ্যবিভূতির পাশে নৃপেন্দ্রগদ্যকে স্থান দেওয়া যেতে পারে। তাঁর গদ্যে মনস্বীতার পাশে এসে স্থান করে নিয়েছে জ্ঞানধর্মী সাহিত্যমীমাংসা, আলংকারিক রসবোধ। এ সম্পর্কে তাঁর ভিন্নতর গদ্যস্থাপত্যে নির্মিত উপন্যাস গার্গী (২০০৫), হাসন রাজা, রঙের বাড়ই (২০১৫) স্মরণ করতে পারি। বিষয়ের প্রতি স্পর্ধী হয়ে এসেছে তাঁর আগ্রহ-জাগর গদ্যভাষা। যে-ভাষা যখন প্রয়োজন, তখন তিনি সে-ভাষাকে নির্মাণ করেছেন। তবে উপন্যাসে গদ্যের বিশিষ্টতা মৌখিন ধরন, তিনি মানেননি। সংলাপে উপভাষার প্রয়োগ করেননি।
গার্গী' নিয়ে সুদর্শন পাল লেখেন : 'সম্পূর্ণ গ্রন্থে যাজ্ঞবল্ক্য ভাষ্যে দার্শনিক তত্ত্বের প্রাধান্য থাকলেও তা লেখকের সুনিপুণ রচনাশৈলীতে রসসমৃদ্ধ সাহিত্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কৃত সাহিত্যের রত্নভান্ডার থেকে রত্ন আহরণ করে তাঁর গার্গী উপন্যাসকে অলংকৃত করেছেন এবং পাঠকের কাছে সেই ভান্ডারের সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন।' (ভেঙে যাই তাবৎ ঘরানা, পৃ.৭৩)
নৃপেন্দ্রলাল দাশের ছোটোগল্পের ভাষাও কাব্যময়। স্নিগ্ধীকৃত। গদ্যকবিতা বললে অত্যুক্তি হয় না। অত্যল্প একটি উদাহরণ : ' আমি বুঝতে পারি অসুখ ছাড়া আর কিছু নয় এটা! মুক্তা বলে, তুমি হতাশার অসুখে ভুগছো।
বাদামি নদীর মতো (স্মৃতিতে একটা নদীর নাম বারে বারে ভেসে যায় সে গোপলা বা গোপেশ্বরী ; আমার লেবু পাতার মদির শৈশবকে যে জোঁকের মতো শুষে খেয়েছে) শীতে জমে যাচ্ছিলাম। শরণার্থী শিবিরের আকাশে সেই ঝলসানো রুটি চাঁদ, রাতের বয়স দুটা।' ( রক্তের লিনোকোটে বাংলার মুখ )
এখানে শেষ বাক্যে গদ্যকে স্কেচধর্মী করেছে। এর রকম উদাহরণ অপ্রচুর নয়।
তাঁর গদ্যসম্পর্কে আরও একটি অভিযোগ আছে। বিষয় নির্বাচনে তিনি সব সময়েই অতীতমুখী। পুরাঘটিত বর্তমান কিংবা ভবিষ্যের দিকে নজর দেন না। এর উত্তরে বলা যায়, 'তেলিয়াপাড়া, একটি মহাকাব্যের জন্ম' নামক আখ্যানে তিনি নিকট অতীতকেই অবলম্বন করেছেন। ইতিহাসপতির এক অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার করেছেন তাঁর সৃজন ধর্মকে।
একজন বিদেশি সমালোচক বলেছিলেন, এসথেটিক বিষয়টি আমার কাছে বড়োই শিরপীড়াদায়ক। কারণ, এর ভেতর দিয়ে কখনও রসলোকে যাত্রা করা যায় না। সত্যের সমীপবর্তী হওয়া যায় না। আমরাও নৃপেন্দ্রলাল দাশের দীর্ঘ গদ্যচর্চার ওপর একটি ছোট্ট কম্পোজিশন আঁকবার চেষ্টা করেছি। এমনকি সবগ্রন্থ নিয়ে বিশ্লেষণও করতে পারিনি। আমাদের অনেক অভিমতের সঙ্গে পাঠক হয়তো একমত নাও হতে পারেন। তবে একথা কবুল করছি যে, কোনও অসূয়াবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হইনি। সামগ্রিকতাকে যদিও-বা স্পর্শ করতে পারিনি, তবে প্রেক্ষিতের অন্য একটি দিকও তুলে ধরতে চেয়েছি। সেটা হলো, তাঁর গদ্যের আংশিক পরিসীমা ও পরিচয়কে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় এনেছি মাত্র।
সিলেট
২৫ জুন ২০২৩
0 মন্তব্যসমূহ