আমাদের স্বাধীনতা ও আমাদের পরিবার ||স্বপন নন্দী


আমাদের স্বাধীনতা ও আমাদের পরিবার || স্বপন নন্দী

আজ ও আগামীকাল বৃটিশ পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত  হয়ে  দুইটি স্বাধীন দেশের জন্ম  হয়েছিল ।  যারা  সরাসরি স্বদেশী আন্দোলনের যুক্ত  হয়ে  দেশ মাতৃকার  স্বাধীনতার জন্য  আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন তারা  ভারত উপমহাদেশের  সূর্য সন্তান।  আমার  দুই  কাকা  এই  স্বদেশী আন্দোলনে  সরাসরি অংশ গ্রহন করেছিলেন।  এক জন বিপ্লবী (চির কুমার)ভবেশ চন্দ্র নন্দী ।জীবনের  সতেরটি  বছর বৃটিশ সরকার তাকে জেল বন্দি করে রাখেন।  এন্ট্রান্স  থেকে  এম ,এ  এল, এল, বি   সব ডিগ্রিই জেল থেকেই  অর্জন করতে  হয়েছিল।  নেতাজী সুবাস চন্দ্র বোসের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। তৎকালীন ভারত সরকার স্বদেশীদের যে তালিকা করেছিল সেখান  তালিকাভুক্তির  নম্বর ছিল 494 । স্বাধীনতার পর  পাকিস্তান গনপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।  এর পুর্বে  তিনি  ঢাকা পৌর সভার চেয়ারম্যানের  দায়িত্বও পালন করেন।  ভাষা আন্দোলনেও  অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।  পাকিস্তান গনপরিষদে উর্দুর ভাষার বিলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন।  বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর  বাংলাদেশ জাতীয় কংগ্রেসের  সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সাধারণ সম্পাদক হন মনোরঞ্জন ধর।  ভারত সরকার 1982 সনে কলিকাতার বিবাদী বাগে  বিনয় বাদল দীনেশ  এর যে ম্যুরাল স্থাপন করেন তার উদ্ভোদন করেন এই বিপ্লবী ভবেশ চন্দ্র নন্দী । এখনও ম্যুরালটি বিদ্যমান।  আরেক কাকা  স্বদেশী  কমরেড প্রমথ নাথ নন্দী (চির কুমার)  বি এস সি ,বি এ, এম, এ  (ডবল) এম, বি ( বর্তমান এম বি বি এস ) তৃতীয় বর্ষ  (গ্রেপ্তারের  কারনে  শেষ  করতে পারেন নি) বৃটিশ সরকার তাকে বিপজ্জনক বিপ্লবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় তাকে ডাকতো " রেড নন্দী " নামে।  বৃটিশ  সরকার তাকে  দশ বছর   আটক করে রাখেন  ভারতের  তেহার জেলে,  পরে  তাকে আন্দামানে  দ্বীপান্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেন  কিন্তু কোন  কারনে পরে  নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়।  পাকিস্তান হওয়ার পর  আমাদের পৈতৃক বাড়ি মানিকগন্জের ঘিওর থানার বড় কুষ্টিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন এবং তেরশ্রী কালি নারায়ণ ইনস্টিটিউশনে সহঃ প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন ,  ভাষা  আন্দোলনে  স্কুলের  ছাত্রদের  নিয়ে এলাকার  মানুষদের সম্পৃক্ত  করে  এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন    । ছাত্র জীবন থেকেই কমিউনিস্ট  রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারনে  এলাকাকে কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেন ।   ইস্কান্দার মির্জা ক্ষমতা দখলের পর  কমিউনিস্ট রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পর  প্রতিবাদে নিজের  লেখা  নাটক মঞ্চস্থ করে তার  পরের দিনই  গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে  ইস্কান্দার   কিছুদিন গাঢাকা দিতে  কলিকাতায় চলে যান  , পরবর্তিতে সামরিক শাসনের   কারনে পাকিস্তানে   আর ফিরতে পারে নি।  1972    বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর  দেশে  ফিরে  কমিউনিস্ট  পার্টির সাথেই যুক্ত  থাকেন,   কমরেড মনি সিং,জ্ঞান চক্রবর্তী, সমর সেন, জিতেন ঘোষ, কমরেড ফরহাদ কে  প্রথম দেখি  আমাদের এই বড় কুষ্টিয়ার বাড়িতেই কাকার  সহযোদ্ধা হিসাবে । শেষ জীবনে তেরশ্রী কলেজের অবৈতনিক প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, আজকের  এই  দিনে   আমাদের পরিবারের  এই দুই সূর্য সন্তানকে  সশ্রদ্ধ  প্রনাম শ্রদ্ধাঞ্জলী।  আমি গর্বিত এই নন্দী পরিবারের সদস্য হিসাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ