সুবোধ :দ্বিতীয় সংখ্যা :দ্বিতীয় বর্ষ:অক্টোবর ২০২২
সম্পাদক
শাশ্বতী দাস
সম্পাদকীয়
প্রিয় বই প্রেমী বন্ধুরা,
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে রোদের অবাধ বিচরণ দেখতে দেখতে মন হারিয়ে যায় নতুন কবিতার ছন্দে। কাশফুলের শুভ্রতা নিয়ে লিটল ম্যাগাজিন "সুবোধ "আবার নতুন আঙ্গিকে সেজে হাজির পাঠক মহলে।ছোট হলেও মন আর মননশীলতার জগতকে তুলে ধরার ক্লান্তিহীন প্রয়াস নিরন্তর। শঙ্খের মধ্যে যেমন ঘুমিয়ে থাকে সমুদ্র, তেমনি কালো অক্ষরের সমুদ্রে জ্ঞান পিপাসু মানুষের সন্তরন।আমার কাছে লিটল ম্যাগাজিন তাই ক্ষুদ্র পরিসরে বৃহৎ ভাবনার একটা জ্ঞান তীর্থ।
লেখক কবিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।
প্র|ব|ন্ধ
ত্রিপুরা কথা বিম্ব
সুবোধ চন্দ্র দাস
স্মরণাতীত কাল থেকে ত্রিপুরার উপজাতি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। ভারত ভাগের পূর্বে উপজাতিরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। দেশ ভাগের ফলে পূর্বপাকিস্থান থেকে দলে দলে উদবাস্ত বাঙালি হিন্দুরা এদেশে এসে আশ্রয় নেয়। নেহেরু লিয়াক আলী চুক্তির মাধ্যমে অনেক বাঙালি হিন্দু মাইগ্রেসন করে এ দেশে এসেছেন আবার অনেকে মুসলিম বাহিনীর অত্যাচারে ত্রিপুরুষের ভিটামাটি ছেড়ে পালিয়ে এসে এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাঙালিরাই এরাজ্যে গরিষ্ট নাগরিক।
রাজ আমলে স্বাধীন ত্রিপুরার যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল খুবই দুষ্কর। বন-জঙ্গল ও পাহাড়ে ঘেরা পায়ে হাঁটার পথ ছিল অত্যন্ত দুর্গম। তাছাড়া পাহাড়ি পথে বাঘ, ভালুক, হাতিও সাপের উপদ্রপ ছিল। পাহাড়ী বাঙালি দলবদ্ধ ভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করত। রাজ পরিবারের লোকেরা হাতির পিঠে করে যাতায়াত করতেন। কিছুমানুষ নৌকায় চড়ে যাতায়াত করত। মহারাজা বীর বিক্রম মানিব্যাগ ছিলেন অন্তত দুরদর্শি। তাঁর দূরদর্শিতার ফলে ত্রিপুরার পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সূচনা হয়।
ধন্যমানিক্য, নক্ষত্র মানিক্য, গোবিন্দ মানিক্য, রাধাকিশোর মানিক্য, বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য, বীরবিক্রম মানিক্য বাহাদুর প্রভৃতি শতাধিক মানিক্য উপারিধারী মহারাজ গন এরাজ্য শাসন করেছেন। কথিত আছে মানিক্য রাজগণ যযাতির বংশধর।যুধিষ্ঠির মহারাজের রাজসূয় যজ্ঞে এ রাজ্যের রাজা যোগদান করেছিলেন।
ত্রিপুরা বহুমনীষীর ত্যাগ ও সাহিত্য সাধনার সংস্কৃতি ও সভ্যতার সঙ্গে জড়িত। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে ত্রিপুরার নিবিড় সম্পর্ক। বাংলা সাহিত্যের পীঠস্থান কলকাতার বঙ্গ সাহিত্য এসে মিশেছে ত্রিপুরার সংস্কৃতির সঙ্গে।যার ফলে সমৃদ্ধ হয়েছে ত্রিপুরার ভাষাসাহিত্য,সভ্যতা,কৃষ্টি ও সংস্কৃতি।বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের ধ্রুবতারা।ত্রিপুরার মহারাজাদের সাহিত্য প্রীতিতে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সঙ্গে রাজপরিবারের গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।এর ফলশ্রুতিতে রাজামহারাজার পৃষ্টপোষকতায় বাংলাসাহিত্যের অনেক অমূল্য গ্রন্থ রচিত ও প্রকাশিত হয়েছে। মহারাজাদের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথ সাতবার ত্রিপুরায় এসেছিলেন। ত্রিপুরার সাহিত্যানুরাগী ও বিদ্যানুরাগী মহারাজা বীর বিক্রম মাণিক্য বাহাদুর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ভারত রত্ন উপাধিতে সম্মানিত করেন।রাজাদের কাহিনী নিয়ে তিনি রাজর্যি, মুকুট ও বিসর্জন নাটক রচনা করেন।
বামফ্রন্ট সরকারের শাসন কালে ১৯৮১ সালে রাজধানী আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে প্রথম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় ।এর পরিধি আস্তে আস্তে উত্তর থেকে দক্ষিণ সব মহকুমা, শহরে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুস্তক প্রকাশক-বিক্রেতা -পাঠকপাঠিকার ভাবের আদান প্রদানের মিলন ক্ষেত্র বইমেলা।সভ্যতা ও সংস্কৃতির গাঁটবন্ধন এই বই মেলা।তাই জ্ঞান পিপাসুর ভিড় জমে এবং এটাই বইমেলার তাৎপর্য।
সুন্দরের মিলন ক্ষেত্র স্নেহময়ী ত্রিপুরা।এখানে রয়েছে তীর্থমুখ, ঊনকোটির মতো পার্বত্যশৈবতীর্থ, উদয়পুরে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির, আগরতলায় লক্ষ্মীনারায়ন মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, উজ্জ্বয়ন্ত রাজপ্রাসাদ।
বিশেষ করে জুমচাষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে লোকউৎসব,লোকসংস্কৃতি।সোনালী ফসলে মাঠ যখন ভরে উঠে ,তখন থেকেই উৎসবের সুর বেজে উঠে।রাজন্য পরিবারের সন্তান শচীন দেববর্মন ও তার পুত্র রাহুল দেববর্মন লোকসঙ্গীতে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করে ত্রিপুরাকে গৌরবান্বিত করেছেন। ত্রিপুরার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সবধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। তাঁর মাইহার ব্যান্ড সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল। ত্রিপুরার শিল্পী অমর পালও লোকসঙ্গীতে আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছেন।
সাংস্কৃতিক সংগঠনই মানুষের গঠনমূলক বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ
শাশ্বতী দাস
বৃষ্টির জল যেমন পদ্মপাতায় পরলে মুক্তোর মতো জ্বলে, তেমনি নর্দমায় পরলে ব্যবহারের অযোগ্য হয়।__
মানুষ সমাজ ও সংস্কৃতিবদ্ধ ভাবে অস্তিত্ব ও মূল্যবোধ নিয়ে বেঁচে থাকতে বেশি ভালবাসে।সংস্কৃতি হলো কৃষ্টি।মানুষ একা থাকতে ভালবাসেনা। একসাথে একাধিক লোকের মেল বন্ধনে মানুষের জীবনের সক্রিয় ভূমিকা জাগ্রত হয়। মানুষ রুচিশীল, ব্যক্তিবিশেষ। মার্জিত রুচি বা অভ্যাস জনিত উৎকর্ষতাই ব্যক্তি মনে সাংস্কৃতিক চেতনা আনে। ইরেজিতে যাকে বলে কালচার। কর্মের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সাধন করাই সংস্কৃতি। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সংকৃতির পরিবর্তনও ঘটে। সংস্কৃতি বা কৃষ্টি বা জাতির মূল্যবোধ হলো-মানব জাতি তাদের প্রকৃত বর্বরতাকে কাটিয়ে পূর্ণ রূপে মানুষে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া। এই সংস্কৃতি যখন বিশেষণে গুণবৃদ্ধি হয়,তখন সাংস্কৃতিক রূপ নেয়। মজার ব্যাপার হলো সংস্কৃতি ও সংগঠন দুইয়ে মিলে পূর্ণ মানুষ বা গোষ্ঠীবদ্ধ সঠিক মানুষ তৈরি করে।
সামাজিক জীবনের সংগঠিত গোষ্ঠীই হলো সংগঠন, যারা পরস্পর সম্পর্কিত কর্ম কান্ডে নিজেরা আগ্রহের সাথে অংশ নেয় এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগঠিত হয়।মানুষের সূক্ষ্ম চেতনার চালক- আত্মা।ব্যাক্তির ভিতরের সুন্দর মানুষটাকে যত্ন করে সুন্দর করাই সংস্কার। প্রতিভার বিকাশ সমাজকে বিলিয়ে দেওয়া, ভালবাসার তাগিদে কল্পনার বিকাশ, ভাগকরে ভোগ করা, মনুষ্যত্বের বিকাশের স্থলন পতন পেড়িয়ে ওঠে সমাজ সংগঠন গড়ে তোলার হলো প্রকৃত মানুষে কাজ।
সংগঠনের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে -যেমন জনসমষ্টি,পরস্পর সুসংবদ্ধ হওয়া, আচরণ সুনিয়ন্ত্রিত করা, সংগঠন বিধিবদ্ধ আইন অর্থাৎ নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হওয়া,অভিন্নলক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকা,প্রত্যেকসদস্য স্বেচ্ছায় বিধিমালা মেনে চলতে অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়া,সমস্যা দলগত ভাবে সমাধানকরা,পরবর্তী কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে আলোচনারমাধ্যমেই গড়ে তোলা ইত্যাদি ইত্যাদি।
একটা সংগঠন তৈরি করাই শেষ কথা নয়।সংগঠনকে সাংস্কৃতিক চেতনায় ধরে রাখাই মূর্দাকথা।আর সাংস্কৃতিক রুচিতে সংগঠন তৈরি করতে প্রথমেই দরকার একজন ভাল লিডার এবং তাকে সদস্যরা সবসময়ই কাজ করার জন্য সর্বতোভারে সাহায্য করা উচিত।
প্রতিটি সদস্যের চিন্তা ভাবনা যেন অন্যদের উৎসাহ দেয়। একক ভাবে শুধু সংগঠনের সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এদের উপর সব চাপিয়ে দেওয়াও সংগঠনের ভালো দিক নয়। একজন ভাল লিডার যেমন সবসময় বন্ধুসুলভ সম্পর্ক তৈরি করবে তেমনি প্রতিটি সদস্যেরও তার প্রতি বন্ধুত্ব ভাব ও অগ্রগতিতে সুসম্পর্ক রেখে চলা খুবই প্রয়োজন। মনেরাখা উচিত সংগঠন তৈরি করা কষ্টকর কিন্তু তার থেকে বেশি কষ্ট হল অবহেলায় সেটা ভেঙ্গে যাওয়া।সুন্দর সংগঠনের গঠনমূলক বিকাশের কিছু নিয়ম রয়েছে- সদস্য গঠন, নির্বাচন বিধি মেনে নির্বাচিত সদস্যদের নাম ঠিকানা, পদের কার্যাবলী নথিভুক্তকরা,প্রকারভেদে দায়িত্ব দেওয়া,অর্থবছরের লক্ষ্য উদ্দেশ্য আলোচনা করা,আয়ব্যায় হিসাবনিকাশ ,সংশোধনী, কার্যসূচী অনুযায়ী আয়ব্যায়ের সীমাবদ্ধতা। সদস্য ফি বা চাঁদা সময়মতো প্রদান করা। প্রয়োজনে উপ কমিটি গঠন, নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপের জন্য কোন সদস্যের পদ বাতিল বিধান,পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো একজন ভালো শ্রোতা হওয়া।
প্রায়শই দেখা যায় আমরা অধিকার সচেতন, দায়িত্ব সচেতন নই।তাতে সংগঠনের ক্ষতি বৈ লাভ হয় না।দলীয় পরিচয়কে সুন্দর ও শ্রদ্ধার সাথে গোষ্ঠীবদ্ধ ভাবে গড়ে তোলাই প্রকৃত সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্ম -ধর্ম।
ক|বি|তা
নারী
পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়
ধর্ষণ কি ঘর্ষণে সুখ, ক্ষণিক সুখের ভণ্ড ত্রাস,
মায়ের জাতের ইজ্জত তুই ধুলোয় পিষে ফেলতে চাস?
বিধাতার যা অপূর্ব দান সর্ব কালের সৃষ্টিসুখ
গায়ের জোরে শরীর পেলে পুরুষ জাতের পোড়াস মুখ?
বদ্ধ ছাগল পুরুষ রে তুই নৃশংস আর কাম লোভী
নারী মানেই লকলকে জিভ
ভোগ লালসার দুন্দুভি।
কি সুখ পাস অমন জিভে,
পাস কি ভোগের লভ্য স্বাদ?
ভোগ্য যখন ভূলুণ্ঠিত,
কাতর নারীর আর্তনাদ।
নারীকে তুই পণ্য ভাবিস,
দেখিস নি তার ত্রিলোক রূপ?
ঐ নাড়িতেই জন্ম যে তোর, মায়ের আজান সন্ধ্যা ধূপ।
এই মাকে বিষ পাপেই জড়াস বেজম্মা নাম পাস আখ্যা
লজ্জার ছিঃ ছিঃ গর্ভে ধারণ
দশ মাস দশ দিন ব্যাখা।
এই নারীতেই কুলবধূর
প্রণয় আদর সোহাগ রাত
এই নারীতেই অসুর নিধন দশভুজার অভয় হাত।
কন্যা রূপে যখন আলোয় ঝলমলে হয় পিতার মুখ
ধর্ষিতা রূপ দেখলে কি তোর ফাটবে না রে পাষাণ বুক?
শোন রে কামুক ধর্ষক শোন মায়ের আদেশ কান খুলে
সসম্মান আর শ্রদ্ধাবোধে
নারীর আসন রাখ তুলে।
অন্তরে শূন্যতা মেখে
গোবিন্দ ধর
চারদিকে নেই। আমার অনেক কিছু নেই।
মাথার উপর ছাদ নেই। ছাতি নেই।
ছাতিম বৃক্ষ নেই।
মা নেই। বাবা নেই। বড় বোন নেই।
কাকা নেই। কাকি নেই।
নেই অনেক কিছু নেই।
আব্দুল মতিন
এই যেমন বাল্যবন্ধু আব্দুল মতিন নেই। সে অনেক দূরে।তাকে পাঠ দিতাম একটু ডান দিক থেকে চলে আয়।চলে আসার কথা বলতে বলতে একদিন সে বাঁ দিকে এসেও গেলো।তারপর সে আর বামপথের নির্দেশিকা না মেনে পথে নেমে গেলো।সে হাঁটছিলো।সে হাঁপাচ্ছিলো।তার চোখেমুখে লেপ্টে ছিলো আদিমতম ক্ষুধা। বামপথ যখন পিচ্ছিল হয় সৈনিকদের অভিযানে ক্লান্তি নেমে আসে।ক্ষুধা বেড়ে যায়।আমার বন্ধু পথ বদলায়নি ঠিকই ।আমার বন্ধু পথেই আছে।আমার বন্ধু হাঁটছে।হাঁপাচ্ছে। নিজের ক্ষুধা তৃষ্ণায় সে কাতর।তার সামনে পথ।এই পথ অতিক্রমের ভাষা সে পড়েনি।সে ঝাঁপিয়েছিলো।তার নিষ্ঠ শ্রমের সাথে ছিলো না ট্রাফিক সিগন্যাল।
০৫:০৯:২০২২
মালদা,যুব আবাসন।
সকাল:০৬:১০মি
পরশ পাথর
দীপঙ্কর দাস
বেজেছে শঙ্খ জেগেছে ঢাক
দিকে দিকে উৎসবের সাজ
কত হাসি - আনন্দ ফুটেছে নতুন জামায়
ছুটেছে সবাই দলে দলে উৎসবে।
তবু কেন বাতাসে বারুদের গন্ধ?
আগ্ৰাসনে মত্ত পৃথিবী,
হিংসার কোলাহল আর বুকে ভরা মানব-বোমা!
'রক্ত চাই, হত্যা চাই ' -বলে একদল পিশাচ
ছুটে চলেছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে
তাদের নেই হাসি , নেই আনন্দ
নেই সুখ , নেই দুঃখ।
জীবনের অর্থ তাদের কাছে অন্য রকম
বাঁচা মরার মধ্যে নেই কোন ব্যবধান
নেই কোন ভালবাসা , মায়া , প্রেম
বুক জুড়ে শুধু হিংসার আগুন ।
তবে আশ্চর্য লাগে, তাদের দেখতে মানুষেরই মত
ড্রাগন অথবা হিংস্র পশুর মত নয়,
তোমার আমার মতই দেখতে তাদের
একই চেহারা একই রং - গন্ধ ।
তফাৎটা শুধু অন্তরের - বিবেকের ,
যা থাকে বুকের অন্ধকার গুহায় লুকিয়ে
যেখানে আলো প্রবেশ করে না,বাতাস স্পর্শ করে না
আগুন দহন করতে পারে না।
তবে তারাও কি মানুষ?
মানুষ , বা অমানুষ !
তারাও কি সবারই মত?
আমাদেরই ভাই - বন্ধু- প্রতিবেশী ?
তারাও যদি মানুষ হয়, তবে তাদের এ অবস্থা কেন ?
কি করে হিংস্র হলো এরা?
কে বদলে দিল তাদের?
কোন মেশিন ? নাকি বড়সড় কোন ঘূর্ণিঝড় !
মানুষেরই গর্ভে জন্ম যাদের , কি করে পিশাচ হলো ?
এ অপরাধ কার ? এ অপকর্ম কাদের ?
আলো বাতাস যাকে ছুঁতে পারে না
সেই বিবেকটাকে পাল্টে দিল কে ?
আছে কি এমন পরশ পাথর ? ছুঁয়াব তাদের মনে
যাতে মুছে ফেলা যায় মনের হিংসা
ভরে দেব প্রাণ ভালোবাসায় - বুক ভরা ভালোবাসা ।
মাতবো সবাই মিলন উৎসবে ।
ক্যানভাস
শাশ্বতী দাস
পথ বলে দেয় পথের ঠিকানা
নিকট থেকে দূরে, দূরের পথিক কাছে।
সময়ের কোলাজে আঁকা হয় পথের ছবি
পথের ক্যানভাসে ফোটে উঠে সুখ-দুঃখ প্রেম
আবেগ মাখা বন্ধুত্বের জলজ্যান্ত চিত্র
কিছু বেদনা তাজা রক্তে ভিজে লাল রাজপথ।
ঘাতপ্রতিঘাতে প্রেমহীন ভালোবাসার
একাকি যোজন দূরত্বে বাস।
এ পথে শব্দেরা চলে মিছিল করে
শব্দের পিঠে শব্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে
মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে তীব্র প্রতিবাদে
বাক্য সাজায় ,পথ কারো একার নয়
সতন্ত্র ভাষার প্রতিষ্ঠা পাক,
শব্দ নিঃশব্দতাকে ছাপিয়ে
সূর্য স্নানে হোক অনুচ্চারিত অকৃত্রিম
ভালোবাসার স্নিগ্ধ অবগাহন।
১৯.০৮.২০২২
সকাল ৭:৩১
মাকে চিঠি
শাশ্বতীদাস
আমি ভাল আছি মাগো
কুল হারা তোমার ভালবাসা নিয়ে।
এ জীবন শুধু স্রোতে ভাসা নাও
ফাগুন মায়া শুধুই ছিলনা জীবনে।
ভাঙনের খেলা খেলি নিরন্তর
জানা আকাশে আজানা ঘর।
মেঘের দাপটে সূর্য্যের স্বর্ণখনি
আঁধারে সাতার কাটে বিশল্যকরণী।
জ্যোৎস্না পাবার আশায়
কতবার হাত পড়েছি আগুনে,
বন্ধনেই বুঝি মুক্তির স্বাদ
প্রেম আটকে আছে পলাশে ফাগুনে।
বৃষ্টির তো ফাগুন থাকতে নেই,
ঝরে ঝরে শুধু বর্ষা হয় নদীই।
আমি তো বেশ আছি
মনের কার্ণিশে নিয়ে আশার বাতি।
জানি জীবন বাতির উজ্জ্বলতা,
অন্ধকার নামবে ফুরালে সলতা।
আদর সোহাগ মাখা তোমার আঁচল খানি
আজও মুছে দেয় আমার সব গ্লানি।
তুমি আমার সর্ব দুঃখ হারিনী
চিঠির ইতিতে তোমারই রানী।
স্মৃতির পাতা
শাশ্বতী দেব
স্মৃতির পাতায় যাই যখন ফিরে
দেখার আর সুযোগ হয় না আগামীর দিকে
ধোঁয়াশা হয়ে যায় তখন সব কিছু
মরিচীকা ভেবে ছুটতে থাকি পিছু।
দিগন্ত জুড়ে সীমাহীন মেঘের পালক দেয় হাতছানি
অচেনা চেহারা হয়ে উঠে মাঝে মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বী
0 মন্তব্যসমূহ