সমস্বর:প্রথম সংখ্যা :প্রথম বর্ষ:জুন:২০২২

সমস্বর
লিটল ম্যাগাজিন

ত্রৈমাসিক,১ম বর্ষ ১ম সংখ্যা 
জুন ২০২২



সমস্বর
লিটল ম্যাগাজিন
আসুন কথা বলি,সবার কথা।

ত্রৈমাসিক,১ম বর্ষ ১ম সংখ্যা 
জুন ২০২২

সম্পাদক: ডা.শ্যামোৎপল বিশ্বাস, ধলেশ্বর,আগরতলা,ত্রিপুরা, ভারত, পিন-799007
ফোন: +91 841402192


সূচীপত্র
~~~~~
কবিতা 
নদীটা - মৌসুমী কর, কবি ও বাচিক শিল্পী।
আলেখ্য
নিমহান্স - গোবিন্দ ধর।
কবি ও লেখক।
কবিতা
উনিশে একাদশ নক্ষত্র - শাশ্বতী দাস।
কবি।
কবিতা
খেলা - হারাধন বৈরাগী।
কবি ও লেখক।
কবিতা
ভ্রম - কাজলকান্তি মুখার্জি।
কবি ও সাংবাদিক।
কবিতা
বসন্ত দর্শন - ডাঃ শ্যামোৎপল বিশ্বাস।
কবি,লেখক ও আলোচক।
ছবি
ভুপেন হাজরিকার পোট্রেট - বিশাল ডেকা।
নলবারী,আসাম।


সম্পাদকীয়


নদীটা
মৌসুমী  কর

বাবার বিন্দু বিন্দু ঘাম দিয়ে 
তৈরী হয়েছে 
সচ্ছলতার নদীটা......
মা দুহাতে পলি সরায়
যাতে নদীটার নাব্যতা বজায় থাকে।
আমি নদীটায় 
কখনো ডুব সাঁতার দেই
কখনো বা চিৎ সাঁতার .....
নীরবে দুফোঁটা অশ্রু পরে নদীটায়
দেখি আরোও টলমল করে ওঠে......
আমি বার বার নতজানু হই
নদীটার কাছে....।


পথশিশুর পঙক্তিমাল
ড.আশিষ কুমার বৈদ্য

~~~~~~
কল তলে বসে মাঝে বাবুর বাসন 
মুকুল নামেতে এক বালিকার মন,
সাত রঙে রাঙা যেন পাখির মতন 
সুনীল আকাশে ধায় মুকুলের মন।

চেয়ে দেখে বালিকারা স্তবকের ফুল 
বেগুন বেণীতে বাঁধা ঘন কালো চুল,
পাঠশালার মেঠোপথে নাচিয়া বেড়ায়
মুকুলের চোখে জল ভাসিয়া গড়ায়।

হাত গলে কোন ভুলে কাঁচের বাসন
ভাঙ্গে যদি জোটে তার
নির্দয় শাসন,
দুঃসহ জীবনের শুনি আর্তনাদ
দিনগুলো কেটে যায় নাহি প্রতিবাদ।

 ভাঙ্গে বসে পোড়া ইট গুটিকয় ছেলে
উদয়াস্ত ভেঙে যায় গুটিকয় মিলে,
সারাদিনমান ভাঙ্গে  ভেজা ঘামে হাত,
তবুও খুশি নয় মালিক - জল্লাদ।

ইমারতে বাবুদের কীর্তি - গাঁথা -গান
কিশোর শ্রমিক চাপা কঠিন পাষাণ,
ক্লান্ত শীর্ণ দেহ সহে কত ক্লেশ
তবুও ইট ভাঙ্গা হয় নাকো শেষ।

অনাগত ভবিষ্যত কুয়াশায় ঢাকা
ব্যথা ভরা জীবনের দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস মাখা,
এ জন্মের ইতিহাস বঞ্চনাময়,
শুধুই কি প্রাপ্য ছিল জীবনের ক্ষয়!

কাকভোরে পথ ঘুরে কিশোরী, বালক
খুঁজে ফেরে পলিব্যাগ রাবার গোলক,
ময়লা কাগজ,কাঁচ,ফেলে দেওয়া টিন
জঞ্জালের স্তূপে ঘেঁটে খোঁজে সারাদিন।

ব্যাগভরা বইখাতা ওয়াটার বটল
কাঁধে আর হাতে বয়ে
বুবাই অটল,
ঝকঝকে বাস চেপে স্কুলে যায়
পথশিশু অপলকে ফিরে ফিরে চায়।

নেই যেন মাতা পিতা রাষ্ট্র সমাজ
কেউ নেই দায়ভাগী হায়  একি লাজ,
অনাথ শিশুর দল দিনে দিনে বাড়ে
একদিন প্রশ্ন তো করতেই পারে।


নিমহান্স 
গোবিন্দ ধর

সারাদিন দৌড় ঝাপ চলছিলো
বিগত কদিন থেকেই। 
ওটিপিতে লাইন লাগালাম বিগত তিন তিনবার।
আজও।লাইন ওটিপিতেই ধরতে হয়।
তারপর সেখান থেকে আজ ইউনিট পাঁচে 
ভর্তির জন্য পাঠালো।
নিমহান্সের আউট পেশেন্ট রোগীদেরকে
নিজস্ব গাড়ী চড়িয়ে ইউনিটে নিয়ে এলো।
তারপর সিট পেতে পেতে বেলা ১টা।
দুপুরে টকদৈ।মিস্ট কি এক ঝোল।
বাপের জন্মে আগে খেয়েছি মনে হয়নি।
এখানে দৈ এর সাথে পেঁয়াজ। ধনে পাতা থাকে।
গ্লাস ভর্তি মিস্টি সম্বর।
ভাতের সাথে নয়। আলাদা খাওয়ার জন্য দিলো।
এর মধ্যে একবার গৌরবকে কাউন্সিলিং করলো।
দুপুরে আবার।সন্ধাায় পুনরায়।রাতে 
কারিপাতার কোয়াস সুক্ত।আর টমেটো সম্ভর। অনেকটা ডালের মতো।
এখানে রোগীর সাথে একজনের থাকা খাওয়ার সরকারী ব্যবস্থা আছে।
বিপিএল হলে ভর্তি হলে দুহাজার টাকা। 
এপিএল হলে পাঁচ হাজার টাকা। 
রাতে এখনো জানি না কোথায় থাকতে হবে।
বাইরে বৃষ্টি  পড়ে।টিপটিপ নয়।
বোশাখের তপ্ত রোদ ছিলো সারাদিন। 
এখন বাতাস আর ঘুড়ঘুড় ডাক।
মেঘে মেঘে ঘর্ষণ আর ঘর্ষণ।
ঝিলিক দিয়ে অঝোর বৃষ্টি বাইরে।
আমি আছি।আছি অনিশ্চিত অপেক্ষায়।
কখন ঠিক কখন সরকারী নিয়ম অনুসারে আমাকে বের করে দেয় 
জেনারলে ওয়াডের তিন নম্বর রুম থেকে।
এখনো জানি না।আজ রাত 
হয় পথে পথে বৃষ্টি ভিজে কাটাতে হয় কি না।
এই অনিশ্চয়তার পরেও গৌরব টেটালি সুস্থ হোক চাই।
চাই হোক সুস্থ। 


৩০:০৪:২০২২
রাত:১০টা২০ মি
নিমহান্স, ব্যাঙ্গালের।


ঊনিশে  একাদশ নক্ষত্র
শাশ্বতী দাস

ঊনিশে মে ১৯৬১ ,
মধ্য গগনে তখন সূর্যের প্রখরতা,
মূহুর্তেই বরাকের আকাশ বিদীর্ণ করে,
গর্জে উঠে অসাম রাইফেলের
 সতেরো রাউন্ড গুলির ঝড়।
বিধাতার অভিসম্পাদে অসময়ে
নেমে এলো রাতের তিমিরতা।
বাংলা মায়ের আত্মমর্যাদা রক্ষায়
জেগেছিল বরাক মায়ের সহস্র ফুলেরা,
বৃন্ত থেকে অকালেই ঝরল তারা।
ধন্য তুমি বরাক মা, ধন্য তোমার বাংলা ভাষা,
তোমারই ভাষার রাখতে মান,
শহীদ হল তোমার বীর সন্তান।
রত্নগর্ভা বরাক মায়ের দামাল ছেলেরা,
শিখেছে ত্যাগের মন্ত্র উদ্বেগে পাগলপারা।
যে শিকড়ে বাংলার বীজ পোঁতা,
সে টানেই পথে নেমেছিল করে উন্নত মাথা।
শচীন্দ্র,তরণী,হিতেশ বিশ্বাস,
বাংলা ধ্বনিতেই ফেলেছে শেষ নিঃশ্বাস।
বরাক মায়ের বাংলা ভাষার অপমানের বিরুদ্ধে
রুখে দাঁড়ায় আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের সংকল্পে
রত্নগর্ভা বরাক মায়ের একাদশ নক্ষত্র
আজও বাঙালির মননে স্মরনে শ্রদ্ধায় পূজিত।


হারাধন বৈরাগী
খেলা 

চারপাশে এত খেলা আর কলা
খেলোয়াড় আর কলার মালিক-মালকিন।
কেরায়া!কেরায়ায় মাঠ ঘাট ছয়লাপ।
ক্লিক ক্লিক ক্লিক,ভাইরাল ভাইরাল
ধাঁধিয়ে উঠছে গ্যালারির চোখ।

উন্মত্ত হয়ে উঠছে দর্শক
কোচেরা মঞ্চ থেকে হাতে তুলে দেখাচ্ছে
কাঁচকলা,চাম্পাকলা,রামকলা,চিনিকলা
কেউবা এক দাপ এগিয়ে দেখাচ্ছে
বাংলাদেশের হরিৎবরণ মেহেরসাগর কলা।
এই থেকে খেলোয়াড়েরাও ভীষণ উদ্দিপ্ত
অর্গাজম!অর্গাজম!
মুখোমুখি অর্গাজমের শিকার ও শিকারি!

এ কোন দোষের নয়
দর্শকেরা তো সর্বদা‌ই কলালোভাতুরা
খেলোয়াড়েরা তাদের থেকে দম নিতেই পারে।

কলার বিনিময়ে সব কিছু দিতে‌ই পারে গেলারি
পূন্যার্থীরাও তো 
সর্বদা‌ই ফিরতি রথের কলা খেতে চায়।

কলাপ্রবণ পতাকার হয়ে ইটপাটকেল নিয়ে 
প্রিয় খেলোয়াড়ের আলখাল্লা জড়িয়ে 
উন্মাদনায় ঝাঁপিয়ে পড়তে‌ই পারে।

কেউ বা রামের পাছায় তালি দিতে গিয়ে 
রহিমের পাছায় তালি দিতেই পারে
কেউ বা রহিমের পাছায় খামচা দিতে গিয়ে
শ্যামের পাছায় খামচা দিতেই পারে 
এ কোন দোষের কিছু নয়
দর্শক গ্যালারিতে এমন অনেক কিছু হয়
এ দোষের কিছু নয়!দোষের কিছু নয়।

গ্যালারিতে কোন নিয়ম থাকে না।
যা খুশি চলতেই পারে
বাদাম থেকে বুট ছুড়াছুড়ি চলতেই পারে
ইচ্ছা হলে কেউ কারোর পোঁদে 
আঙ্গুল দিতে‌‌ই পারে।

যে যেভাবে খুশি মাস্কও পড়তে পারে।
কেউ ইচ্ছা করলে নাগা হয়ে নাচতেও পারে
এ কোন দোষের নয়,গেলারিতে
এ কোন দোষের নয়।

আসল কথা হল কলা খাওয়া।
যে যেভাবে পারে খাক না
খেলোয়াড়কে উদ্দিপিত করে‌ই হোক
জগন্নাথকে খুশি করে‌ কিংবা পাণ্ডাদের পোঁদে মালিশ করে‌ই হোক
যে যেভাবে পারে খাক না ।

এই থেকে খেলোয়াড়েরা আরও 
একধাপ এগিয়ে যেতেই পারে
যার যেভাবে খুশি গোল হাসিলের 
পায়তারা ভাঁজতেই পারে।
কেউ কেউ বাজিমাত করতে
ল্যাং মারামারি থেকে কনুই মারামারি 
করতেই পারে।
রেফারিরাও মাঝেমধ্যে হয়ে উঠুক পক্ষদুষ্ট
হোক না।

এই থেকে কদলী 
উল্লাসে ফেটে পড়তেই পারে
চেঁচিয়ে ওঠে বলতেই পারে
এবার তবে খেলা হবে
এ কোন দোষের নয়
গ্যালারিটা কারো বাপদাদার নয়।

এই থেকে চিরঞ্জীবি কবিদের‌
মনে হতেই পারে দার্শনিক
মনে হতেই পারে পাবলো নেরুদা।
বুদ্ধিজীবীদের‌ও মনে হতেই পারে বুদ্ধ
মনে হতেই পারে চে গোয়েবারা।

এমন মরশুম এলে যে কেউ
চিনিচাম্পাকলা রোপণ করতে‌ই পারে
লাফিয়ে ওঠে চেঁচিয়ে বলতেই পারে
এবার তবে খেলা হোক।

এও কোন দোষের নয়
গ্যালারিতে কবি বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক
বলে সাধারণত কিছু থাকে না।
গ্যালারির কোন জাতপাত হয় না
গ্যালারিতে সকলেই দর্শক।

আর এই থেকে কেবল একদল গবেট মুর্খ 
গ্যালারিকে জাত ভেবে আঁকড়ে ধরতে‌ই পারে বাপঠাকুরদাদার আমলের কলার ছড়ায়।

এও কি কোন দোষের,মোটেই নয়
মুর্খরাই তো সর্বাপেক্ষা আবেগপ্রবণ স্মৃতিকাতর-ভিটিকাতর হয়।

অ্যাপের ছড়া
কাজলকান্তি মুখার্জি

আজ দুপুরে গিন্নী যখন
                কাজে ভীষণ ব্যাস্ত,
নিউটাউনে সাইকেল দেখে
                     হলাম খুশি মস্ত।
যা হয় হবে এই না ভেবে
                   যেই বসেছি চড়ে,
সাইকেলওয়ালা এল তেড়ে
                 হা রে রে রে করে।
ভীষণ রেগে বলল আমায়
      আপনি কেমন লোক হে?
অ্যাপ ছাড়া এতে যায়না চড়া
             এটাও জানোনা যে।
বললাম আমি ঘাট হয়েছে
              কি যুগ এলো ভাই,
হয়তো এবার টয়লেটেতেও
       অ্যাপ ছাড়া উপায় নাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ