আবহমান বাংলা কবিতাভূখণ্ডের ১০০০ কবির কবিতা
অ.
কথা
অরুণকুমার চক্রবর্তী
যে কথা বলোনি গত বছর,
আজ সোনাঝুরির হাটে,
তা শুনতে চাইছি, বলবে কি, পায়ে পায়ে ভেঙে পড়ছে হাজার আদিরমণীর ছন্দের ঢেউ, গানে গানে কাঁপছে গাছেদের পাতা, ধুলোর ডানায় ডানায় উড়ছে ব্যক্ত বৃন্দাবন, ইচ্ছে হোলো বোলো
যা বলনি গত বছর....
আরও কথা
অরুণকুমার চক্রবর্তী
মূক বাধিরদের কোনো শত্রু
হয় না
না বললে কি আর করতে পারি
তুমি তো তোমার মতো
আমি তো আমার
তবুও জগৎ তুমিআমি
আমিতুমিময়
অপূর্ব বিস্ময়, সে তুমি মানো
বা মানো
ভিখিরি সবাই সর্বক্ষণ হাত
পেতে আছে
জন্মদিন থেকে মৃত্যুদিন
আগুন পাবে বলে.....
ঝুলে থাকা বিষাদ
যে নৌকার গুণটানে তাঁর হৃদকম্পন
পরিমাপ করে দ্যাখো
সেখানে খরস্রোতা নদী বয়
রক্তের কণিকায় দাঁড়িয়ে থাকে
অবিন্যস্ত শূন্য আকাশ
তারপর
হেমন্ত সন্ধ্যায় ঝরে পড়ে একমুঠো সারস পালক
০২.
তেমাথায় কিংবা বিরাণ মাঠে
যে কথাশিল্পী শব্দ বিক্রি করে ও
মোহনীয় খোয়াব দ্যাখায়
তার হাসিতে লুকিয়ে ফাঁসে স্বপ্নবিজ
বিক্ষুব্ধ হয় পোড়া রুটির জমি
জেগে থাকে ঝিনুক ফসিল
০৩.
যে শ্রমিকের ঘামঘ্রাণে রক্ত ছড়ায়
যাদের বাঞ্ছামুখ শুকিয়ে উড়ে
যাদের চরণতালুতে ভাগ্যলক্ষ্মী বিমুখ হয়
সেই পথ ও প্রাসাদের শ্রমদাসের আয়ুরেখা
আজো বিরামহীন অদৃশ্য ছায়ায় হেঁটে যায়
এইসব মুখ্যগল্পরা দীর্ঘজীবি সভ্যতায়
প্রশস্ত-অপ্রশস্ত পথের ডালপালায়
এখনো ঝুলে আছে
এই ভাষা মৃত্যুঞ্জয়ী
অর্ধেন্দু শর্মা
কখনোই ভুলতে দিব না শাদা কালো নীল চোখ
যতই উড়ে যাক আকাশ আলো
যতই কষ্টিপাথর বসে থাক বুকের ভেতর
একদিন এই পথেই পড়েছিল বিনম্র ছায়া
মৃদুল ধ্বনিতে মুখরিত ছিল গুল্মলতা
দিবসে পাখিরাও পালক ঝরিয়েছিল পলকে
দিব না একটিবারও
যে মৌনতা আবেশ করেছিল তোমার তপোবন
যে ছায়া ছড়িয়েছিল তোমার আদুল আঁচল
যে চাহনিতে সত্তার ঋতুরঙ রাঙিয়ে ছিল
কক্কোনো ভুলতে দিব না
এক জীবনে যতই দুর্বিপাক দোলে যাক
ভেঙে যাক জ্যোতিরময় মন গেথে থাক হলুদ কষ্ট
নিভে যাক হর্ষিত আলো
তবু তুমি ফিরে আসবেই চিন্ময়ে শরীর শূন্যতায়
মনের অতল রেখা ছুঁয়ে ছিলে বলেই
আজ এই শপথ অনড় বিভূতিময়
অপর্ণা সিনহা
অগ্নিযুগের উৎখাত
এই যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছো,
ডিজিট্যাল মেট্রোপলিটন শহর জুড়ে।
রেহাই দিচ্ছো না কোন এঁড়িগেঁড়ি পোনাও
তাতে একটা গাছ,তার শেকড় গেড়েছে!
যাতে একটু একটু সায়ানাইডে বিগলিত,
সভ্যতার স্মৃতি সৌধ, কলুষিত সময়,
নগরপ্রান্তে অগণিত অদৃশ্য মারণ ভাইরাস ।
এদের হাত ধরেই উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে
নির্লজ্জ নেক্রোপলিস এদেশে,
সমস্ত পৃথিবী জুড়েই তার কুপ্রভাব ।
মাথা ঝাঁকিয়ে উঠেছে উত্ত্যক্ত চারাগাছ
পতনের পরেই বিপ্লব!হয়তোবা একেই বলে
সভ্যতা পর সভ্যতায় নতুন সবুজায়ন।
নেক্রোপলিস থেকেই হয়তো জন্ম-
এই গোরস্থান,ঐ সব নেক্রোফাইলরা!
সেই সঙ্গে পেডোফিলিয়ার বাড়াবাড়ি,
ধর্ম অধর্ম মিলে মিশে একাকার।
সদ্যজাত এক জনমানব বর্জিত তৃণভূমি,
জাগার সন্ধিক্ষণের হাহাকার চারিদিকে,
এই বুঝি, কোনো নতুন যুগের সূচনা!
মুক্তি
শিকল তো শিকলই,
সে হোক জং ধরা কোনো লালচে ধাতুর,
যা আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে ঔদ্ধত্যের স্বধীনতা।
কিংবা সোনার, ঝকঝকে,প্রেম,ভালোবাসায়
মুড়ানো,তীক্ষ্ণ ও গভীর যন্ত্রণাদায়ক
সব ক্ষেত্রেই,বন্দীর মুক্তিই কাম্য !
মেঘের আড়ালে থাকা সূর্যের মতই গোপনে
ফুঁসতে থাকে অসন্তোষ, অতিরিক্ত প্রেমে।
বিশ্বাসের ধরন তখন পাল্টে যায়,
নিমেষেই উধাও অতীত সভ্যতার সম্প্রীতিও।
তেতো হতে থাকে মন,
থেঁতো হতে থাকে এর পেষণে দেহ,
তখনই মুক্তি চায়,ক্লিষ্ট হৃদয়, নীতি,ধর্ম ভুলে,
সর্বগ্রাসী প্রতিহিংসায় আছড়ে পড়ে।
যান্ত্রিক মনে হয়,আপন অস্তিত্বের সত্তা
অসহ্য লাগে এই বাঁধন! তখনই-
উল্টোদিকে ছুটতে ছুটতে সূচনার সৈকতে
ক্লান্ত পা, খুঁজে নতুন করে লক্ষ্য! কিন্তু,
জীবন যে,এই গ্রহের সবচাইতে পুরোনো বন্দী;
চুম্বন আর চুম্বক দুটোই এর সমার্থক
অসহায় চৌম্বকদের এর বাইরে কিই আছে!
নিস্তার নেই! এই বন্ধন থেকে
সে হোক না কোন দৃশ্য বা অদৃশ্য শিকল
আসলে শিকল তো শিকলই
তবু আমরা অহর্নিশ সেই মুক্তির জন্য মরিয়া
আ
ভালোবাসা
আশিস ভট্টাচার্য
কোনদিনই জানার চেষ্টাও করিনি
মৃত্যুর সংজ্ঞাটা কি,
প্রয়োজন নেই আর;
কেবল ভালোবেসে মানুষকে
ভালোবাসা বিলিয়ে যায়
আমার এ হৃদয়
একটা সার্থক বিপ্লবের জন্য।
[
তবু্ও গেয়ে যাই
আশিস ভট্টাচার্য
বুকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে
পুঁজিবাদী ইঁদুরের দাঁত,
রোদ আসে না আমার
ভাঙা ভিজে কুটিরে,
পাশ ফিরলেই মড়্ মড়্,
মৃত্যু শিয়রে জেনেও
প্রহরের পর প্রহর
শিখরমুখী এই আমি
অসীম আত্মবিশ্বাসে
গেয়ে যাই অনাগত
সোনালী ভোরের গান।
[
তবু্ও গেয়ে যাই
আশিস ভট্টাচার্য
বুকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে
পুঁজিবাদী ইঁদুরের দাঁত,
রোদ আসে না আমার
ভাঙা ভিজে কুটিরে,
পাশ ফিরলেই মড়্ মড়্,
মৃত্যু শিয়রে জেনেও
প্রহরের পর প্রহর
শিখরমুখী এই আমি
অসীম আত্মবিশ্বাসে
গেয়ে যাই অনাগত
সোনালী ভোরের গান।
ক.
কাজী নিনারা বেগম
নাম না জানা ভালোবাসা
নিস্তব্ধ নীল চোখের প্রতিটি জলের ফোটায় ফোটায় কতটা আবেগ ও অব্যক্ত যন্ত্রনা,
জীবন কাব্যের মূল সারাংশে প্রানহীন লাইন গুলো মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের শিরায় পেচাতে পেচাতে অবাধ্যতার সীমান্ত অতিক্রম করে।
অবাধ্য মনে বৈরী মাতাল স্মৃতি গুলো,,
শুন্যতার ডুবে থাকা অ্যকারিয়ামে জীবন্মৃত খুজি তোমায়,,
হয়তোবা কিংবদন্তি সেই তোমাকে হারানো নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির লিফলেটে স্মৃতি ভষ্মীভূত,,
সেই নাম না জানা ভালো বাসাকে!
উষ্ণতার আশ্রয
কাজি নিনারা বেগম
মায়াবী ভোরের শীতের সকালে চায়ের কাপে থাকবে তুমি,
ক্লান্তি গুলো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কনকনে হিমেল হাওয়ায় বেমালুম হেরে যাই আমি।
হিমেল কনকনে রাত্রি ছিনিয়ে নিল আগুনের জলন্ত লেলিহানে,,
হৃদয়ে স্পন্দন গতি বেড়ে যায় সমর্পন করি এক সমুদ্র ভালবাসার আঙিনায়।
শীতের কম্বলের আশ্রয়ে খুঁজে নেই তোমার লোমশ বুকের সৌরভ,,
অলিন্দে ও রক্তের শিরা ও উপশিরায় রক্ত তঞ্চন জমাট বেঁধে থাকা রক্ত কনিকায় তোমার নাম!
খ.
অক্ষরের অভিশাপ
খোকন সাহা/বিলোনীয়া
ও বর্ণমালা!
তোর গর্ভে বেজে ওঠে
মুমুর্ষু ভাষার অব্যক্ত জলধারা!
প্লাবন কথা নাই-বা দিলি,
নাই-বা জীবনের জলসত্র
আমাদের কন্ঠরুদ্ধ পোশাকের পাঠশালায়।
তবু তোর দীঘল ঢেউয়ের পায়ে পায়ে
যত স্বর ব্যঞ্জনের বলয় মাথা কুটে মরে,
সৃজন রক্তের আদ্যঘ্রাণ,
ওলানচাঁদের উথলানো ধারা --
দিবি-না তোর শব্দ সন্তান
দৈত্যের কারাগারে?
ও বর্ণ!
তোর অন্ধ আতুর ঘরে
কে রাখিল----
নিদ্রিত নৈবেদ্যের পরমান্ন!
----------------
কামচক্র
খোকন সাহা/বিলোনীয়া
আমরা, প্রতিদিন------
একটু একটু ভাঙ্গি ;
অথচ কেউই, নিজেকে ভাঙ্গি না একবার।
তবু ভাঙ্গনের বৈঠা দিয়ে
জীবনের জল কেটে যাই।
কিন্তু অনন্ত রাএির মুখ,
ঝুলে আছে মেঝের ফাটলে, জানালায় ঠুকে যাওয়া পাখীদের ঠোঁট।
তার অতল আহ্বানে , দৈত্যশিশুর ক্রন্দন রোলে
দাবানল আৎকে উঠে, নির্ঝরের নীলাঞ্জনে।
তবু মানুষের বর্ষাযুগল, নিদাঘের কুন্ডলয়ে
দ্বারে দ্বারে ফিরে চলে, সংলাপের বাকল চিরে।
হায়! মানব প্রাণের অনুতর্ক-----
জীবনবেদের শূণ্য আশা, মুক্ত ভাষা, দিয়ে দিয়ে
কোন্ উদীচীর অমৃত গান শুনাও
শরবিদ্ধ ঋতুর কামচক্রে।
সীমান্ত
খুকু ভূঞ্যা
সহ্য করাটাও আর্ট
আমার মৃতদেহ আগলে তুমি যতবার কাঁদবে
ততবার শহীদ হব
মৃত্যুর শিকড়ে কী কথা লেখা হয়
কী এমন আহামরি বিষাদ
শবরেখায় দাঁড়াবে কি এই নির্মম লড়াই--
সহ্য করাটাই শিল্প
তুমি দেখেছো কখনো
বাঁধ ভাঙাতে গিয়ে কান্না আটকে যায় চোখের পাড়ে
দৈন্যতার জাল না বুনে পাশের পাড়ার বউ চিতা সহ্য করি
সমাজের ভেঙে পড়া কাঠামো আমার রক্তে বারুদ ঢালে
ধিক্কার দেয় ক্ষুধিত শিশু ঝাঁঝরা কিশোরী
কী নিরাবেগ- কঠিন নীরবতা
সহ্য করাটাও ধর্ম
আগুনের ঘুম ভেঙে গেলে ভাবো---
তাই লক্ষ্মী হয়ে আছি
ভাসানের জলে
খুকু ভূঞ্যা
পেঁপে পাতার ওপর হলুদ বড়ি রোদ
গাছেদের কোনো আবেগ নেই, চুপচাপ মুখোমুখি
মাইকে বাজছে ভাসানের গান
আরো একটা শরৎ খসে পড়লো, ঝরা কাশ
ডোবা আলের কিনারে দাঁড়িয়ে ভাবছি, খুশি কি কেবল বাইরের
সাজানো দোকানপাট মূর্তি মন্ডপ হৈ চৈ ডিঙিয়ে
যেখানে আনন্দের বীজ বুনছে জীর্ণ শিশু
গাল থেকে মুছে গেছে কান্নাদাগ
পিতামহের হাত ধরে পেরিয়ে যাচ্ছে ললাট লিখন, খিদে দুপুর
এখান থেকে সরিয়ে নিলাম অস্থিরতা
সরিয়ে নিলাম চাপ চাপ ভাবনার ঘন দীর্ঘশ্বাস
এই প্রদাহ, বিষন্ন মনের সাধ পারবে কি দিতে অন্ন জল হাওয়া প্রেম
শুধু নিছক ভাবনা,একটি পাতার বুক কালির আঁচড়ে লাল-
যে কাঁদছে সে কাঁদবে
যে একা ধূ ধূ, আমার সে সাধ্য নেই
পৃথিবীর চোখ শুকিয়ে দেওয়া
শুধু প্রার্থনা--
হে বিসর্জন, একটুকরো চাঁদ রেখে যাও ভাসানের জলে---
খুকু ভূঞ্যা
প্রযত্নে বলাই ভূঞ্যা
গ্ৰাম ও ডাক -- ভেমুয়া
থানা -- সবং
জেলা -- পঃ মেদিনীপুর
সূচক -- ৭২১১৫৫
কথা -- ৭৭৯৭৩১৮২৬৮
গ.
গোপাল বিশ্বাস
ঈশ্বর ও পাথর
ঈশ্বর কোথায় থাকে ?
মন্দিরে ?
মাটির প্রতিমায় ?
পাথরে ?
নাকি সর্ব জীবে ?
এ সব প্রশ্নের উত্তর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ
বিবেকানন্দকে দিয়েছিলেন একবার l
তবু কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়
মহামায়ার মায়াজাল সৃষ্টি
রোদ মেঘ বৃষ্টি ,
জড় পদার্থে শক্তির আধার
কিন্তু বেখেপ্পা ডেডবডি !
কোথায় থেকে এলো ওরা ?
ঈশ্বর কনা কি কিছু আছে ?
এখন ঈশ্বরেরা জঙ্গলেই বেশি থাকেন
লোকালয়ে খুব একটা আসেন না l
বছরে একবার কিছু দিনের জন্য মা উমা
কৈলাশ থেকে নেমে আসেন l
চারদিক জবরদখল, রাহাজানি
ভক্তের ভয়ে ভগবান নদী পেরিয়ে
পাথর l
এখন নতুন নতুন ভগবান প্রতিটি মন্দিরে
ঢুকে যাচ্ছে
ওকে পুজো দাও
দক্ষিনা লাগাও
সবতেই ওরা ভাগ বসায় l
মন্দির প্রাঙ্গনেই ধর্ষিত লাশ
ঈশ্বর ওসব জানতেই পারে না
সূর্যাস্তের হাজার পাখির কণ্ঠে ঈশ্বর বলে ওঠেন
'এ সবে আমার হাত নেই
যা ঘটে গেছে বা ঘটবে তার উপর
হাত থাকে না কারও ,
বন্দুক থেকে ছুড়া বুলেট আর মুখ থেকে নিঃসৃত শব্দ
ফেরত আসে না
যেমন ফিরে আসেনি শ্রীচৈতন্য l
একদা এক বনবাসীর পদাঘাতে
জেগে ওঠে পাথর --ঋষিপত্নী
সেই দোল পূর্ণিমার দিন থেকেই
পাথর ভগবান হলো l
পাথরকেই মানুষ দেবতা বানায়
মানুষের চেয়ে বড় শিল্পী আর কে ?
ভোলানাথ পাথরের ভেতর থেকে এতো
হাসছেন কেন ?
পাগলামো করছেন নাকি ?
ঈশ্বর তো পাথরেরই নির্বাক অবতার l
★
অন্যের কেমন সহজেই সব হয়ে যায়
আমার হয় না
সন্ধ্যেবেলা ঘরে ঢুকে সাপ
কি করে মুছে দেই পাপ ?
অনিশ্চিতের পথে পা বাড়াই প্রতিদিন
কখনো ক্রাইম করতে ইচ্ছে করে
নিজেকে খুন করতে ইচ্ছে করে
মদ খেতে ইচ্ছে করে
গাড়ি সহ আইন মন্ত্রীকে চিবিয়ে খেতে ইচ্ছে করে l
ক্রমশ: রাজনীতির চিতা বাঘ
রহস্য হাতের খেলা
বনে বনে ঘুরে কিরাত শালা ,
মিথ্যে গুরু দক্ষিনা কেটে লয়
একলব্যের আঙুল
দেওয়ালে পিঠ টেকে গেলেও
বার বার একই ভুল l
এ ভাবেই পুড়ে ছাঁই এক একটা জীবন
এক একটা ফাগুন l
আসন্ন নির্বাচনে আমি প্রার্থী হবোই
পঞ্চায়েতে ? বিধানসভায় ?
নাকি পাগলা গারদে ?
পাগল তো পথে পথেই ঘুরে l
গোপাল বিশ্বাস
প.
পার্থসারথি ঝা
রৌদ্রমালা
তুমি পা ফেলে ফেলে এগিয়ে গেলে আমার উঠোন থেকে
সে এক দৃশ্য নিঃসঙ্গ বুকে
অদৃশ্য দেয়ালগুলো ভেঙে পড়লো
না বলা কথাগুলো সাজিয়ে দিয়ে গেলো মন খারাপের
ছবি ...
একা এক সৈনিকের মতো শুধু দেশের মাটি দেখলাম ...
আমি সুখের বর্ম পড়ে ফুলবনে যাই
একটি নাছোড় ভ্রমরের গুনগুন গানে মন ভরে যায়
কেউ কি ডেকেছে গভীর বনের রৌদ্রমালা নিয়ে
বনদেবী যাকে ডেকেছিলাম কোন এক ভোরে
সেকি ডাকে কোন অছিলায় ....
ঘরণী
পার্থসারথি ঝা
এই হাত আমার চেনা , আঙ্গুলগুলো - ও
কতবার এই হাত জড়িয়ে ধরেছে আমায়
শূন্যতা মিটিয়ে ভুবনের আলো জ্বেলেছে
আমার পৃথিবীর শুন্যঘরে জোৎস্নার মাটিতে জলপ্রপাতে ভেসে যেতাম মন কষাকষি হলে
হটাৎ করে নেচে উঠতো তোমার ছোঁয়া পেলে ..
এই হাত আমায় চিনিয়েছিল বৃষ্টিভেজা আনন্দ
এই হাত দেখিয়েছিল রবীন্দ্র - মোহিত - শরৎচন্দ্র
গানের স্বরলিপি , ক্ষুধা , লবনাক্ত চোখের জল
এই হাত দিয়েছিল ফুলের হাসি আর কোমল হৃদয়....
এই হাত দিয়ে তুমি নারীর জীবন দেখিয়েছো
এই হাতে নিভিয়েছে আমার সমস্ত ভয়
এই হাত নির্ভয় দিয়েছে লিখতে কাব্য জীবন
তুমি ছাড়া কে দিতে পারে বিশ্বাসের ভুবন ...
এই হাত দিয়েছে মন্ত্র , মায়াময় পৃথিবীর
তুমিই যে আমার রাতের তারাময় ঘরনী ....
সোনালি সূর্য দাও
পার্থসারথি ঝা
রক্তমাখা হাত আর কিছু রক্তমাখা শব্দ দিয়ে
নদী তৈরি করা যায় না
নদীর নামও নয়
লেখা যায় না কবিতা বিশেষ
তবে তার সাথে যদি পাহাড়ী গান , রমণী নৃত্য
ঝি ঝি পোকার ডাক দিতে পারো
সুন্দর একটা কবিতা দাঁড়িয়ে যাবে ....
আমি একবার রক্তমাখা হাত কবিতার উপরে বুলিয়ে
ঝড় তৈরি করে ফেলেছিলাম
সবকিছু লন্ডভন্ড
পাহাড় নদী আর গাছগুলো মাথার ওপর দিয়ে
চলে গেলো অজানা দেশে
এখন ঠিক যেখানে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ হচ্ছে
আমেরিকা দাঁত বের করে হাসছে
অস্ত্র বিক্রি করার খরিদ্দার খুঁজে নিচ্ছে
অন্যান্য দেশগুলো লাফাচ্ছে বাঁদরের মতো
ঠিক সেখানে শরীর বিচ্ছিন্ন কিছু কচি হাত
আমার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে বলছে .
আমাদের একটি স্বচ্ছ নদী তৈরি করে দাও
পাহাড় দাও
খেলার মাঠ দাও
আমাদের ঘরের দরজা খুলে দাও
পুবদিক থেকে বারুদ নয়
সোনালি সূর্য আসুক ঘরে ...
রক্তমাখা হাত আর শব্দ
আমার মৃত জননীর সাথে কবরে শুইয়ে দাও ...
যন্ত্রণার কফিনে ভারতবর্ষের মাটি ছড়িয়ে দাও ...
মৃতের সমান
পার্থসারথি ঝা
তুনের সমস্ত অস্ত্র তোমার দরজায় রেখে দিলাম
এবার দরজা খোলো
অভিমানে যদি থেকে যাও আগুনমুখো পাখি হয়ে
একদিন নিজেই ছাই হয়ে যাবে নিজের অহঙ্কারে ...
আমি আর কত দিতে পারি মুঠি মুঠি রোদ
আমি আর কত দিতে পারি বৃক্ষের ছায়ার আঁচল নিজের বলিদান আমার ঠোঁটের বিশুদ্ধ চুম্বন ...
কত শুনবে আমার নিদ্রাহীন রাতের কান্না চোখের মোহনা জল
এখন আমি পিছু মোড়া হাত
মৃতের সমান .....
ব
কবিতা************
এবং অধিত্যকায়
বিধানচন্দ্র দে
ধন্যবাদ দাবদাহ ,শুধুমাত্র
তোমায় ভালবেসে মৌসুমীকে ডাকা।
টল টল দীঘি রাতে বাতাসের বুকে আহ্লাদ।
বঙ্গোপসাগরে সূর্যতাপ হোয়ে উঠে হলুদ সন্ত্রাস
তৃপ্তির শেষবিন্দু নিংড়ে আমি শোনাবো তোকে
ঝড়ের গান!আয় মৌসুমী
বঙ্গোপসাগর থেকে ধর্মণগর ছুঁয়ে যা তোর
গোপন অভিসারে__
""""""""""""""""""""""""""""""""""
কবিতার কথা! দুর্গাদাস মিদ্যা।
দুচোখে যা কিছু দেখি সব লিখে রাখি মনের খাতায়।
তারপর কোনো একদিন বীজ বুনে চাষ করি
যখন আভাস পাই স্ফুরণের সময় হয়েছে তার।
মন খারাপের দিন এলে খাতার কথারা উড়ে আসে বাইরে,
কাজের ফাঁকে ফাঁকে জ্বালাতন করে তখন
সেই সব কথা নিয়ে বসতেই হয়
হিসেব মেলানোর কিছু অঙ্ক কষতেই হয়
কষতে কষতে কখন যে কবিতা হয়ে যায়
সে কথা বলতে পারে না হৃদয়
চোখ দিয়ে নয় মন দিয়ে বুঝে নিতে হয়
সেই কবিতার কথা।
জটিলতা যত সহজ হয়ে যায় কবিতার কথায়।
-------------------------------------------------------------
কবিতা--২
অকাল বোধন
অসময়ের ঘেরাটোপে আটকে আছি আমরা
যে গুণে মানুষ বলে বিবেচিত হই সেই গুণে
আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়েছে।
চোখে চোখ রেখে কথা বলতে ভয় হয়
ভয় হয় হাতে হাত রেখে পথ চলতে।
কার হাত কতটা কলঙ্কিত সে কথা বলবে কে
কেইবা বলবে অমানুষের সজ্ঞা, তাই ভীত
সন্ত্রস্ত আমি মাথা তুলে বলতে পারি না
আমি প্রকৃত মানুষ কি না!
---------------------------------------------------------++-
পাঠালাম দুটি কবিতা।
নাম-- দুর্গাদাস মিদ্যা।
ঠিকানা- ২৪/৬৬ নাবালিয়া পাড়া রোড
কলকাতা -৭০০০০৮
চাঁদ কথা
চাঁদ যেমন তোমার, তেমনি আমার ও। কিন্তু,তুমি হাত বাড়ালেই সে দেয় নিবিড় জোছনা। আমার প্রসারিত হাতে উঠে আসে কলঙ্কের দাগ।
আমার জাগে অভিমান, তোমার অনুরাগ।
মনে হয় ,আমি তুমি হতে পারিনি,তুমি হয়েছ তুমিই।
হৃদয়ে আমার তাই জাগে মরুভূমিই।
তাই, তোমার হাতে মায়াবী আলো, আমার হাতে রাত রঙ,
সত্বার সমুদ্র মন্থনে
জনারন্যে আমাকেই সাজতে হয় সঙ।
আত্ম হননের প্রত্ন কথা
প্রণব চৌধুরী
চিরলীনাকে চিরন্তন কিছু দেব বলে,ওর প্রনয় জোছনায় ভাসিয়ে ছিলাম মন্থনোথ্থিত আত্মানুসত্ত্বা।
দ্বারে করাঘাত।
শীতে উষ্ঞতায় তবু রাত ভোর।আসলে,ওই মায়াবী প্রনয়োষ্ঞ জালের উষ্ঞতায় চিরন্তন এক ভুল।শুধু ভুল বললে আরো ভুল।
সে এক আত্ম হননের প্রত্ন কথা।
ম.
আগাছা
মণ্টু দাস
মাঝে মাঝে মনে হয় দু'ধারে ছড়ানো কথাগুলো
সংগ্রহ করি
কত প্রণতি, কত বিষোদগার আর তোষামোদি
তালিকাটা হয়তো অনেক দীর্ঘ হবে
মণিকা বলল, ছাড়তো পাগলামি
দেয়ালে টাঙানো দু'জনের পুরোনো ছবির
দিকে তাকিয়ে
হেসে বলল স্যার, চা না কফি
ক্লান্ত আমি,অবসরতো নিতেই পারি
তবু চুপ থাকি
আমার সন্ততির নীরব চোখ
কিছু হাহাকার, দোমড়ানো অতীত
সামনে এক বিরাট পাহাড়
মণিকা এসে বলল, ও মশাই
জমিটা এবারও পড়ে থাকল
কবিতার খাতাটা আপাতত তুলে রেখ
আগর বাগান ডিঙিয়ে দাদু - ঠাম্মা আর
মায়ের শ্মশাণের মাঝখানে
দাঁড়িয়ে দেখি
আগাছায় ভরে গেছে আমার স্বপ্নের জমি।
শব্দের সমাধি
মণ্টু দাস
শ্যামল কৃষ্ণ ভূমিতে সোনালি ধানের ডগায়
সূর্য নেমে আসে
রোদরং টপকে ব্রহ্মের অতলে
দু'জন মুখোমুখি হলে
তোমার সিঁথির সিঁদুর জ্বলে ওঠে,
বিশ্বাসের গণ্ডি পেরিয়ে
ক্লান্ত চোখে যখন দাঁড়াই
মহাজাগতিক ইশারা আমাকে কাঙাল করে
হাড়মাস চিবিয়ে চিবিয়ে আধোঘুমে
শব্দের সমাধি ভরে যায় যশে
মহাকাব্যিক সংলাপে নিরুদ্বেগ কবিতা
তোমার চোখে-মুখে শুধু সংসার বৃত্তের জ্বালা
মাসুদা তোফার একগুচ্ছ অনু কবিতা
১। পথ হারাবো বলেই বুঝি
রোজ পথে পা বাড়াই।
তোমায় পাবো না জেনেও
প্রতিদিন খুঁজে বেড়াই।
২। নক্ষত্ররা ঝরে পড়ে
ফেলে যায় ছায়া ।
আলোক বাতিটা জ্বেলে
রেখে যায় মায়া।
৩। বৃষ্টিতে ভেজাবো তোকে
উড়াব বাতাসে
রোদ্দুরে শুকাবো তোকে
ভাসাব সাগরে
প্রেমের আগুনে তোকে
পোড়াব নির্জনে।
৪। মমতারই ডোরে বেঁধে রেখেছি তোরে, হারিয়ে যাবি কী করে।
তুই জানিস না রে মানুষ থাকে দূরে, বিধাতাই সব করে।
#মাসুদা তোফা
সম্পর্ক
সম্পর্ক কি এতটা সহজ
যেথায় সেথায় মিলে!
সম্পর্ক কি ভোরের শিশির
খুব করে টলমলে!
সম্পর্ক কি লজ্জাবতী লতা
ছুঁয়ে দিলে নুয়ে পড়ে
সম্পর্ক কি কাঁচের চুড়ি
লাগলেই ভেঙে পড়ে!
সম্পর্ক কঠিন বটে তাকে
লালন করতে হয়।
সম্পর্ক নিবিড় যত্নে বুকে
আগলে রাখতে হয়।
#মাসুদা তোফা
মনচলি চক্রবর্তী
হৃদয়ে বাংলা
তোমাদের পদ্মা, আমাদের গঙ্গা
একই জল,একই ঢেউ।
এক ধরনী,একই সূর্য তারা।
একই মাটি, একই প্রান্তরে
উদাসী হাওয়া, উদ্যান ছায়াঘেরা।
তোমাদের শাল,আমাদের বট
তোমাদের পাট,আমাদের ধান
একই নীল আকাশের চাঁদ, একই তার কিরন।
তোমার মাটির সুবাস,
আমাতে মুগ্ধতার রেশ রেখে যায়।
তোমার নীল গগনের রোদ,
আমার আলয়ে খেলে বেড়ায়।
তোমার আল্লাহ, আমার ঈশ্বর।
তোমার জারিসারি, আমার বাউল,
একই ছন্দ তালে মিলে মিশে একাকার।
একই আমাদের ভাষা, একই আমাদের সুখ দুঃখের কথা।
তোমার প্রেম, আমার ভালবা সা,
আমার মন তোমায় ডাকে
তোমার হৃদয় আমায় ছুঁয়ে থাকে।
কবিতা-নবান্ন
মনচলি চক্রবর্তী
হেমন্তের পরশে প্রকৃতি নতুন রুপে সাজে
সোনার ধানের আভরনে ধরণী হাসে।
সোনালী ধান আসে কৃষকের ঘরে ঘরে
মা লক্ষ্মী আসেন তারসাথে হাসিমাখা মুখে।
ধানের প্রাচুর্যে পূর্ন হবে কৃষকের শুন্য ঘড়া
আনন্দে উচ্ছাসে ভরে উঠে
দিনরাত খেটে খাওয়া চাষীদের মুখখানা।
গোলা ভরা সোনার ধান
আর বাটা ভরা সবুজ পান।
অন্নপূর্না এসো সবার জীবনে
থাকো সবার ঘর আলো করে।
সবুজ ক্ষেত ভরে উঠে ধনধান্যে
হেমন্তের শুভারম্ভে মেতে উঠে সবাই নবান্নে।
বিষাক্ত
মীনা কুমারী দেবী
রোদ-স্থির হাওয়ায়
কেবল বিষাক্ত,
নির্জন মানচিত্র ঘরের আবডালে,
এক ক্লান্তির পাশে;
এক বুক লালসা ফাঁদ পাতা---
জীবন চলছে চলার পথে,
চারদিকের দৃশ্যে কেবল
মৃত্যুর আনাগোনা,
তারি ছিদ্র পাশে ভোগীরা ;
ছিঃ লজ্জা করে না ?
আকাশ বিদ্যুৎ ও এসে যাক
নিরলস ধারায় !
কবরে বসে জীবনের গান
থেমে যাক---
লাবণী
মীনা কুমারী দেবী
কখনও ভোলার আমবাগানে,
আর কখনও অভিমানে
সতীর ঘাটে,হাত দিয়ে
থুতনি গুজে লাবণী----
কখনও কনকচূড়ের মাঠে
আর কখনও রাধাবিনোদিনী ,
সেই তো লাবণী ----
কখনও বা প্রীতিলতা,
মাতঙ্গিনীর দলে
আর কখনও নবান্নে
হয়ে অন্নদায়িনী।
কখনও দানসামগ্রীর
স্তূপের একটি সামগ্রী
আর কখনও রাজকীয় সম্মাননা,
সেই তো সকলের লাবণী -----
কখনও সাতভাই চম্পার
জননী আর কখনও
সীমন্তিনী সোহাগিনী।
অপূর্ব লাবণী ------
কখনও সম্পাদ্যে
আর কখনও উপপাদ্যে,
গুণে মুগ্ধা লাবণী----
কখনও দশভূজে-ভূমিনী,
আর কখনও কাদম্বিনী,
কতো আদরের লাবণী----
আর কখনও না চাইতে ,
কেওড়াতলার রাণী!
হায় অভাগিনী লাবণী -----
ন.
নিত্যানন্দ দাস
প্রতিশ্রুতি
তুমি রাখতে পারোনি তোমার প্রতিশ্রুতি,
ঠিক আছে.........
একবার কী ভেবে দেখেছ সেই দিনটির কথা,
প্রকৃতির খোলা হাওয়ায়
শরতের শিশির ভেজা ঘাসে বসে
তুমি আপ্লুত ভাবে বলেছিলে,
আমি তোমাকে ভালবাসি ....... ।
জানি তুমি ভুলে গেছ সেই প্রতিশ্রুতি
ভুলে গেছ অতিবাহিত সেই সময়,
তাই হয়তো পাষাণ হৃদয়ে বলতে পেরেছ-
ভালো থেকো, পরের জন্মে দেখা হবে।
কিন্তু না, এই কথাটা আমার মুখ দিয়ে কখনো বেরোবে না,
কারণ,
আমি যে তোমায় বড্ড বেশি আপন করে নিয়েছি।
তোমার কী মনে পড়ে সেই দিনের প্রতিশ্রুতি,
সাত জীবন যাকে একসাথে নিয়ে চলার সংকল্প করেছিলে,
এই জীবনেই সব কিছু ধ্বংস করে দিলে।
প্রতিশ্রুতি! প্রতিশ্রুতি! আর প্রতিশ্রুতি!
তবু বলছি সুখে থেকো,
তুমি রাখতে পারোনি তোমার প্রতিশ্রুতি...........!
নিত্যানন্দ দাস
লংকা, হোজাই, আসাম
যোগাযোগ: ৮৬৩৮২৮১৩১৬
র.
রীতা রায়
বর্ষার কান্না
হেমন্তে দেখেছি হিম ধরা মাঠ,আকাশের নিচে দাড়িঁয়ে চাঁদের বুড়ি যেন সাদা থানের আঁচল উড়ে। বসন্তে লাল কৃষ্ণচূড়া,বাহারি পলাশের সারি সারি। আকাশ ঢাকে আবির রঙ্গে,নক্ষত্রে নক্ষত্রে ঝিকিমিকি আকাশ মৃত্যু ও যেন ফেলে যায় তার শ্বাস,দেখ ভালোবেসে। রোগীর জরের মতন কেঁপে কেঁপে এল গ্রীষ্মের স্বাদ কোথায় প্রচণ্ড খরা!নেই জৈষ্ঠ্যের অশ্রু শূণ্য ক্রন্দন! সমস্ত আকাশ যেন সন্ধার রঙ
জীবনবোধ
আতুর ঘরের আর্তনাদধ্বনিতে মেতে উঠল পাড়া বেজে উঠল শঙ্খ ধ্বনি রাশি রাশি ভোজন হলো সারা। আনা হলো দামি দামি আরামদায়ক পোষাক ও আসবাব। দাম দেখে,মান দেখে- সুধীজন অবাক। সবে মাত্র পরলো ভূমে---- তায় এত এত! হায়! হইলে জোয়ান দেখবি সবাই আরও কত্ত কি যে হয়! চাইতে তাকে হয়না কিছুই চাওয়ার আগেই পায়। কভু যদি কাঁদে সে যে মহা পৃথিবী পরে যে চিন্তায়। কোন কোণেতে কি যে আছে কি যে চাই তার? হে প্রভূ, রক
জ.
মন খারাপের ছুটি দিয়ে
রক্তও আজ এক রাজনৈতিক রঙ/
আমি পাপ বুঝি না /
পুণ্য বুঝি না /
ধর্ম-অধর্ম বুঝি না /
কথা বলে যাই মানুষের সাথে /
যে মানুষগুলোর মানচিত্রে পাঁজর সটান /
হাতের তালুতে শক্ত কড় /
এখানে ওখানে বেয়াদব যন্ত্রণায়
গম্বুজিস্বদেশচিত্র /
অন্ধকথায় চাপা থাকা/
সে মানুষগুলোর সাথে কথা বলি /
আতপচিত্রে/
আমি ধর্মাধর্ম খুঁজি না /
অস্ত্ররণ খুঁজি না /
পথের পাশে লাশ দাফনের /
ধোঁয়াচিত্র দেখতে চাই না /
আদমপাহাড় থেকে এভারেস্ট/
গঙ্গোত্রী থেকে টেমস্-আমাজন /
খুম্পুই কিংবা জয়ন্তিয়ার টেরেসে /
জীবন্তলাশ দেখি ত্রিফলাগর্ভে/
ভাল্লাগে না /
ভালো লাগেই না/
আজ ,সব মন খারাপের ছুটি দিয়ে/
আমি শুদ্ধমনের সাথে কথা বলি/
মানুষের সাথে কথা বলি/
কথা বলি মানুষের সাথে ।
নদীর জন্যে আমিই নদী
জয়দুল হোসেন
নদী আমার ফষ্টিনষ্টি নদী শীতলপাটি
স্বচ্ছজলে সিনান করে হই পরিপাটি
নদীর জলে সাঁতার কেটে হাবুডুবু খাই
সঙ্গীসাথি মিলেমিশে ঢেউখেলা খেলাই
নদী আমার খেলার সাথি নদীতীরে বাস
করি আমি দিবানিশি কাটাই বারো মাস
নদীর জলে বৃষ্টি পড়ে সৃষ্টি হৃদয় জুড়ে
হৃদয় খুলে সৃষ্টিরা সব আকাশ পথে উড়ে
নদী আমার খামারবাড়ি ফসল ফলে মাঠে
মাঠের কৃষক কাটে ফসল নৌকা ভিড়ায় ঘাটে
ঘাটে ঘাটে নৌকা ভিড়ে সোনালি ফসল
ফলায় আমার দেশের কৃষক হয়েছে সফল
সফলতার গান গেয়ে নদী গেল কই
নদীর জন্যে আমিই নদী হতে পারি সই
রাধিকা রমণ রায় রাধা
জয়দুল হোসেন
সাগরের তীরে তীরে জেগে থাকে মানুষের মন
মানুষের চেয়ে বড়ো নাই কোনো কারুণিক ধন
কারুণিক ভেসে যায় সাগরের জলে একা একা
একা ভেসে যাবে কভু পাবে নাকো মানুষের দেখা
মানুষেরা বাস করে সাগরের তীরে দল বেঁধে
কারুণিক ভেসে যায় সাগরের জলে কেঁদে কেঁদে
কেঁদে কেঁদে ভাসে যেন বেহুলার ভেলা ভেসে যায়
বেহুলা লখিন্দর ভেসে ভেসে করে হায় হায়।
সাগরের তীরে তীরে চোখ যায় ভেসে যতদূর
ততদূর থেকে গান ভেসে ভেসে আসে সুমধুর
সুমধুর গান গেয়ে উড়ে আসে জোড়া জোড়া পাখি
পাখিদের কলরব শুনে শুনে মন বেঁধে রাখি
মন বেঁধে রাখি যেন পাখিদের সুরে সুর বাঁধা
সুরে সুরে উড়ে যায় রাধিকা-রমণ রায় রাধা।
জেবুন্নেছা ববিন
মানুষের মন বড় উচাটন
মানুষর মন বড় উচাটন
কী যে চাই মনও জানেনা তা বিলক্ষণ।
যাহা পাই তাহা না চাই ;
আবার যাহা চাই তাহা না পাই।
তাই মন সদা হায় হায় ;
মন বলে লোকালয় ছেড়ে চলো অরণ্যে যাই।
অরণ্য জীবন শ্বাপদসংকুল,
সেখানে গেলেই ভেঙে যায় ভুল।
যখন ছিলেম আকাশ বাতাস ঘেরা নদীর কোলে;
তখন মন তুমি চাইতে যেতে নিয়ন বাতি ঘেরা শহরের খোলে।
আজ আবার এই মনই যেতে চায় ;
শহরের বাইরে দূর অজানায়,
কোন এক ঝিলমিল ঢেউতোলা নদীর কিনারায়।
মানুষের মন কী তবে বট বৃক্ষের মতই!
উর্ধ্ব মুখী বাড়ন্ত হোকনা কেন যতই?
আবারও নিম্নগামী করে শেকড়ের টান তাকে,
ফিরে যেতে চায় মাটির গন্ধমাখা সেই সময় টাতে।
ফিরে পেতে চায় মন ফেলে আসা সেই ছেলেবেলা, ভাবনা হীন জীবন আর দূরন্তপনা ;
রৌদ্রময় আলো ঝলমল সকালের উঠোন, নিঝুম দুপুরে হঠাৎ আনমনা;
স্নেহ ভালোবাসা মায়া মমতা ঘেরা স্বজনীয় শাসন;
ভাই বোনে খুনসুটি অকারণ,
কত সহজ সরল ছিলো জীবন যাপনের ব্যাকরণ!
কত স্মৃতি কত কথা, কত রকম সম্পর্ক নিয়ে এই জীবনের উত্তোরণ,
কত প্রাপ্তি কত কত অর্জন
দিন শেষে হয়ে যায় সবই বিসর্জন।
কী পেলাম কত টুকুই বা পেলাম?
কী নিলাম কত টুকুই বা নিলাম?
কী দিলাম কতটুকই বা দিলাম?
এই সহজ প্রশ্ন গুলোর উত্তর সহজ কিন্তু নয় ;
এই হিসেব জীবন সীমান্তে মিলাতে গেলে
শুধুই গরমিল হয়।
নেতা
জেবুন্নেছা ববিন
রাজনীতি আজ বাণিজ্যিক দাসত্ব ভিখারি,
স্বপ্নের শেকড়ে শেকড়ে আকাশ ছোঁয়ার দিশারি।
যত ক্ষুধা লোভের আগুনে পুড়ছে,
কাড়ি কাড়ি টাকা,ধন সম্পদের গন্ধ নাক দিয়ে শুকছে।
সার্বজনীন স্বপ্ন দেখেনা এখনকার নেতাদের চোখ,
নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনে চায় শুধু ভোগ আর ভোগ।
শ.
নিবোদিত
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন
হৃদয়ে হবে নাকো লীন।
নবোদিত সূর্যের মত
জানি তা হবে দিনে দিনে প্রস্ফূটিত
না থেকে অজ্ঞানতার ঘুমে
দেওয়া নেওয়া চলে যেন সু চেতনায়,
পাটকের হৃদয় মর্মে মর্মে।
নবোদিত সূর্য প্রায় হয়ে প্রতিক্ষনে উদ্ভাসিত,
এ ম্যাগাজিন পারবে-
অ মানবিক কু চেতনা করতে প্রতিহত।
গ্রন্থ মেলা ২০২২
মেলা মেলা মেলা,
গুণী জনের জ্ঞান গ্রন্থের মেলা,
হচ্ছে যে এবার আগরতলা
বাইশ এ তেইশ এ অক্টোবরে
হলাম খুশি , এ সুখবরে ।
পূজার মেলা ঈদ এর মেলা,
সঙ্গে যে আছে এ জ্ঞান এর মেলা ,
এ সবেতে ,আনন্দে মেতে,
থাকি যেন সবে, এ ত্রিপুরাতে ।।
স.
সঞ্জয় দেবনাথ
অণুকাব্য
এক.
শিশিরভেজা সকালগুলো
ভোরের আভায় ফুটুক;
রাতের সব তারাগুলো
সূর্য হয়ে উঠুক।
দুই.
তুমি থাকো যখন আমি থাকিনা,
দু'জনের শপথ তাই এক হয় না।
তিন.
কবে থেকে খাচ্ছো তোমরা
সারাটি পেট ভরে!
এখনো তো নিচ্ছো রোজ
আমার খাবার কেড়ে...
...............................
মনের ভিতর আসুন
ভিতরে আসুন না!
প্লিজ ভিতরে আসুন
ধুলোবালির এই শহর ছেড়ে
সবুজ ঘাসে বসুন
একটু জোরে কাশুন...
হাওয়ার বুকে বাতাস ভরে
মেঘের সাথে হাসুন
সবুজ ঘাসে বসুন...
ভিতরে আসুন না!
প্লিজ, মনের ভিতর আসুন...
সহজাত
আমি বন্ধ করি-
চোখ তবু দেখতে চায়,
আমি বাধা দেই-
পা তবুও এগিয়ে যায়..
আমি নিষেধ করি-
মুখ তবু শব্দ করে,
আমি চেপে ধরি
হাত তবুও আগুন ধরে...
ম.
মাধুরী লোধ
কবিতা পত্র
কবিতা কে ছাড়বো বলে ছাড়তে পারি না।
কবির যে আস্ত একটা ফুলবাগান ।
কবিতা পাপড়ির নির্যাস আতর মৌ মৌ করে আমার সারা গায়ে,
আমি ঘুমাই প্রশান্তিতে জেগে থাকে কবিতা ।
কবিতা কে বললাম এবার যাও
আর থাকতে হবে না আমার সাথে ।
দিতে পারবো না খাই খোরাকি।
কবিতা হেসে বলে আমি আছি বলেই তো
তোমাদের সৃষ্টি সৃজনশীলতা
আমি আছি বলেই তো। তৈরি হয় কাগজে কলমে তৈরি হয় হাজারো লাখো কথকতা ।
আমি আছি বলেই তো গৃহযুদ্ধে
সীমান্তে যুদ্ধে আসে শীতলতা ।
আমি আছি বলেই তো তোমরা বানাতে পারো কবি বুদ্ধিজীবী তালিকা ।
আমি আছি বলেই তো কবিতা ফুলের মালা
দিয়ে গাঁথতে পারো শহীদ স্মরণে নীরবতা ।
আমি তোমার সাথে আছি থাকবো
আমি সাথে আছি বলেই তো তোমার
কবি নামে স্বার্থকতা ।
লাল গোলাপ
আশা ছিলো লাল গোলাপ ফুটবে
উপহার হিসেবে দেবো তোমায় ।
তোমার বেণীতে নয়তো আমার পকেটে গুঁজে
অনাবিল আনন্দে হাসবে তুমি ।
আমি হাসবো দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলার শ্রমের মূল্য পেয়ে ।
আফসোস আমার গোলাপ ফুটলো না মনের মতো ,পোকা ধরে গেলো কুঁড়িতে ।
একটানা বৃষ্টি _সূর্য উঠেনি লাল বর্ণ হয়ে গেছে ফ্যকাশে এমন দুর্ভাগ্য পাপড়ি গুলো হয়ে গেছে ফুটো , দুঃখ কাউকে পারলাম না দেখাতে ,এ দুঃখের বড়ো যন্ত্রনা আমার ভালবাসা পারলাম না মেশাতে ।
তোমার আমার মিলন প্রতীক্ষার অবসান তাড়াতাড়ি চেয়ে ও পারলাম না,তাই প্রতীক্ষায় আছি হৃদয় গোলাপ কবে ফুটবে !!
প্রিয়
আমি আরো অনেক লাল গোলাপ গাছ লাগিয়েছি যতন করছি আমার চাওয়া পাওয়া আবেগ অনুভূতি হাজারো আকাক্ষা দিয়ে ।
দেখবে একদিন সূর্য লজ্জা পাবে আমার গোলাপ বাগানের লাল বাহারে ।
পোকামাকড় সাহস পাবে না কুঁড়ি চিবোতে
কটাই বা চিবোবে ?
হাজার হাজার ছাড়িয়ে লাখো লাল গোলাপ
তুমি আমি হাসবো ঐ গোলাপ রঙ্গে
আশপাশ হয়ে যাবে লজ্জায় লালে লাল
সুগন্ধ মাতবে পৃথিবীর বিছানায়
আশা প্রত্যাশা হবে লাল গোলাপ গুচ্ছ ।
গান্ধারের পথে
মণ্টু দাস
পৃথিবীর ছাদে
জমা হওয়া জীবাশ্মের হাসি
আমি টের পাই
এক নিশুঁতি রাতে
সেই রাতে আবার ঘোড়া আসে
তার প্রাগৈতিহাসিক চোখে
বিচ্ছেদের বেদনা
ঘরের প্রত্যেকটি জানালা বন্ধ
গান্ধারের পথে
উলঙ্গ ইতিহাস
সেই সময় রাত্রি আমার সাথে
কথা বলে নিরালায়
এক অশরীরী, সমগ্র পৃথিবীকে
নির্বীর্য করে
চুপিচুপি তুমি দেখে নাও
সেই আদিম কৌশল
কাঠপুতুলির নগ্ন নগর আজ ঘড়িহীন
উদ্বাস্তু চেতনা
মণ্টু দাস
হাড়ের দেউল ঘিরে দেহাতীত কল্পনা
সদ্য প্রাক্তন হওয়া
এই আশ্রয়ে
ঈশ্বরের আনাগোনাও বুঝি কমে গেল!
লণ্ঠন আঁকা প্রচ্ছদে
নিবদ্ধ দু'চোখ
অহরহ কাকে খুঁজে বেড়ায়
উদ্বাস্তু শিবিরের সন্ধ্যালোকে
জীবাণু যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে সেই কবে থেকে
কূটনীতির উর্বর এই ভূমি আজকাল
পুরোটাই তোমার দখলে
আমি কোথায় ঈশ্বরকে খুঁজে বেড়াবো!
জন্মান্তরেও ঢুকে গেছে উদ্বাস্তু চেতনা।
মৌনাক মজুমদার
কাশকন্যা
শারাফা বিনতে শরিফ নাবা
কোনো এক শরতের বিকেলে
কাশফুলেরই শুভ্রতার টানে,
নিল শাড়িতে কাশকন্যা তুমি
সেজে ওঠো আপন মনে।
সাদার মায়ায় হারাও তুমি
আকাশে বাতাসে ছড়াও তোমার রেশ,
কাশফুলের আজ মিছিল নেমেছে
সেথায় তোমায় মানিয়েছে বেশ।
কাশফুলকে ভালোবেসে তুমি
ভরাও তোমার মন,
তারই মাঝে তুমি সুখ খুজে নাও
দু চোখ ভরে দেখতে চাও সারাক্ষণ,,,,,
মেঘের মতো কাশফুল তুমি
আকাশে দাও ছড়িয়ে,
তারই সাথে যেন হৃদয়টাও তোমার
নিয়ে যায় ওরা উড়িয়ে,,,,
কাশফুল কে কাছে ডেকে তুমি
মনের কথা চাও বলতে,,,
প্রতিটি শিরায় তারই নাম যেন
খুব করে চাও তুমি লিখতে।,,,,
তাইতো তুমি কাশকন্যা
কাশের মাঝেই তোমার অস্তিত্ব,
শরতকালের স্নিগ্ধতায় তোমার
ভরে ওঠে এই বিশ্ব.......
শ.
স.
যতি
সু(স্মলী দত্ত
ইত্যাদি মেঘে প্রভৃতিও সব ভিজছে ভিজুক
আজ প্রতিবাদী পরশু সরল অসুখ বা সুখ
নিভছে আকাশ দোভাষী যাপন শুদ্ধ বেঘোরে
ভয় নেই নেই সমবেত রোদ বৃষ্টি অঝোরে
আছো যে যেমন পোশাকি দহনে বিপণন শুধু
সহনে কথনে অনুবাদ আর আশ্রয় ধু ধু
জলের মধ্যে মেছো রাত জাগা একা ও নিভৃতে
খেলা বিপরীত চৌকো সমান জমিতে যোনিতে|
প্লেটোনিক
সু(স্মলী দত্ত
তোর জন্য ঝাপসা সুরে পদ্য লেখা পদ্য লেখা
কালোয় সাদা একটু থামা একটু নত একটু ক্ষত
তোর জন্য ইলশেগুড়ি মিষ্টি ঠোঁটে চুপ কুয়াশা
মধ্যে যা যা ভাবনাজোড়া সাতকাহনা সম্ভবত
সম্ভবত দিনের পরে রাতের আগে ইষ্টজপ
নদীর ছোঁয়া বানভাসি মা তক্ষকে পা নিরর্থক
অর্থহীনে শব্দবোনা কথায় কথা উড়ছে চিল
নকশি মেঘে রূপোয় মোড়া আমার দোরে তোদের খিল
বন্ধ ঘরে শালপিয়ালে দোস্তি জমে জমুক না না
সাম্যবাদী স্বর চেখেছি স্বস্তি থুড়ি সখ বাহানা...
Sushmeli Dutta
Santosh estate(flat 3c)
29b ballygunge circular road
Kolkata 19
Phone 9830022191
এই অন্ধকার সময়ে
সুশান্ত ভট্টাচার্য
একাকীত্বে মোড়া আমার এই অন্ধকার সময় /
ইউক্রেনে মিশাইল পড়ছে রেল স্টেশনে, হাসপাতাল, /
বহুতলার আবাসিক এলাকায় - পাওয়ার হাউসে /
মানুষের রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় - শিশুর আর্তনাদ - নারীর কান্না.... /
জীবন থমকে দাঁড়িয়ে দূর পৃথিবীতে - ইউক্রেনে /
পৃথিবীর গভীরতর অসুখ এখন - /
ঘৃণা আর বিদ্বেষে ভরা এই পৃথিবী /
কোনো নতুন আলো কিংবা শান্তির বার্তা নেই কোথাও.... /
বিষাদের ভাবালুতায় আমি ক্লান্ত এখন - আমার পৃথিবীতে /
রাত্রি গাঢ় হয় - অন্ধকার প্রগাঢ় হয় /
আমার চোখে ঘুম নেই /
শুনি উদ্বাস্তুদের কান্না - নতুন উদ্বাস্তু শিবিরে... /
প্রিয়তমা আমার
সুশান্ত ভট্টাচার্য
সত্তার গভীর থেকে তুমি উঠে আসো বারে বারে
প্রিয়তমা আমার শীতের সন্ধ্যায় কিংবা হেমন্তের দুপুরে;
রক্তের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ শুনি হৃদয়ে
যখন বলাকারা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে উড়ে যায়
মেঘলা সকালে দূরে আরো দূরে।
বসন্তের মাতাল হাওয়া তোমাকে একান্ত করে চাওয়া
উদাস করে আমারে বারে বারে নিঃসঙ্গতায়।
পৃথিবীতে খুঁজি না তোমাকে আর -
এমনি করে জীবনের দিন যায়।
তবুও সত্তার গভীর থেকে
তুমি উঠে আসো প্রিয়তমা আমার
জীবনের মোড়ে মোড়ে বারে বারে এমনি করে
রক্তের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ করে।
এই সব মনের আবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে
আলস্যে কাটাই এই জীবন ঃ
তুমি যাওয়া আসা করো যখন তখন -
ভালো কথা এ ভাবেই বেঁচে আছি এখন।
[30/10, 7:57 am] SUSANTA BHATTACHARYA, SILCHAR: ঠিকানা
সুশান্ত ভট্টাচার্য
সুরেন্দ্র ভবন, কলেজ রোড
শিলচর - ৭৮৮০০৪
কাছাড়, আসাম
মোবাইল নম্বর : ৯৪৩৫০৭১০৮০
E.mail : sushanta_bhattacharjee@yahoo.co.in
রঙ পাইনি
সম্রাট শীল
সবকিছুই তো রঙিন,
যেভাবে দেখি এভাবেই মনে হয়।
আমার ইচ্ছে গুলোকেও
সাতরঙা ভালোবাসা মুড়িয়ে দিয়েছে,
যেদিন থেকে আকাশ দেখেছি।
স্বপ্নের চিঠিও জানি রঙিন খামে -
এসে বুকের উপর রঙ মাখায়।
আমি নিখুঁত রঙিন ফোয়ারায়
ভিজবো বলে এখনো বসন্তের
রঙ গায়ে দিয়ে আবার ধুয়ে নিই।
ভুলটা আমারই
সম্রাট শীল
তোমার সাথে সম্পর্কের,
নামকরণ করা হয়নি।
বিলম্ব হয়েছে অনেক আগেই,
কয়েক মাসের আবেগ
খুঁজে দেয় নি কিছুই।
আবেগ ভরা মনের শিরোপা জয়
হয়ে উঠেনি, বাজারে আবেগ ক্রয় বিক্রয়
ভন্ড প্রেমিক হয়েছি শুধু, না হয় পেতাম!
১০০০ কবির ১০০০ কবিতায় কবিতা পাঠালাম।গৃহীত হলে বাধিত হব।মেলেও পাঠিয়েছি।
১)
বাঁচার মন্ত্র
সুদেষ্ণা সিনহা
আলো আঁধারির বিবর্ণ ফুটপাতে
উদগ্র কামনা আষ্টেপৃষ্টে ধরে।
কখনও হয়ত রোপিত হয়েছে বীজ
জ্বলে ওঠ নারী, নিজেকে বাঁচার তরে।
ধারণ করেছ মহীরুহ নিজ মধ্যে
মরা চাঁদখানি ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ।
তোমার ভেতরে তুমি অক্ষয় বাতি
জ্বলে ওঠ নারী,আঁধার রজনী শেষ।
পাপ শয্যার নিয়েছ মহান ব্রত
দোলনাতে শিশু ডুকরে ডুকরে কাঁদে
দায়ী পুরুষটি সুখ সংসার মাঝে
জ্বলে ওঠ নারী ,বাঁধ ওকে মরণ ফাঁদে।
বারে বারে প্রেম এসেছে তোমার দ্বারে
প্রেম নয় ভুয়ো ,শরীর লুঠের ছল
ছিঁড়ে ফেল ওই আলগা মুখোশখানি
জ্বলে ওঠ নারী,নিজেই নিজের বল।
অনেক হয়েছে,সমাজ তোমায় দুষছে --
'বিধবা ,কুলটা,বেশরম,নোংরা,পাপটি'
বিবাহিত হয়ে যে পুরুষ তোমায় লুঠছে
সে কি নির্দোষ ! শুধুই সোনার আংটি!
গর্জাও নারী , সহ্যের দিন শেষ,
বারুদের মতো জ্বলে ওঠ বার বার।
নারী দিবসের প্রাক্কালে নাও মন্ত্র,
'হারব না কভু,দিন এল হারাবার।
হারব না কভু,দিন এল হারাবার।'
২)
মেঘের দেশে
সুদেষ্ণা সিনহা
একদিন সেই মেঘের দেশে
পাড়ি দিলাম অবশেষে।
"মেঘকুমারী,মেঘকুমারী
কোথায় তুমি?
খুঁজছি আমি
উথাল পাতাল তোমায় খুঁজে।
শূণ্য মনে, সেও তো বুঝে।"
মেঘের মাঝে মুখ বাড়িয়ে
বললে তুমি হাত বাড়িয়ে
"এই তো আমি।এই তো আমি।
একটু দূরে
মেঘেয় উড়ে
যাচ্ছি আমি পাহাড় চূড়োয়
বৃষ্টি হয়ে পড়বো ধূলোয়।"
মেঘের ভেলায় উড়ছ তুমি
দেখছ কত রুক্ষ ভূমি।
দেখছি আমি।দেখছি আমি।
নয়ন জুড়ে
প্রাণটি ভরে
এদেশ থেকে ওদেশ হোথায়
বৃষ্টিরাণী যাচ্ছে সেথায়।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
মেঘকুমারী যাচ্ছে উড়ে
সবুজ কত! কতই সবুজ!
বৃষ্টি ঝরে।
বৃষ্টি পড়ে।
আমার মনে বৃষ্টি হরষ
মেঘকুমারীর মিস্টি পরশ।
মেঘকুমারীর বৃষ্টি পরশ।
মরুতীর্থ
সুমিত সাহা
কৈশোরের রক্তপাতকে উপেক্ষা করে!
যৌবনের মরূতীর্থ হিঃলাজ পিপাসার্ত শরীরটি
অখন্ড পবিত্রতাকে চুরমার করে বিনম্র বিষধর সর্পের ক্ষুরধারে
ইতিহাস ভূগোলকে নিজের দক্ষতায় রক্তাত্ত বিচ্ছিন্ন করেছে
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য
জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অক্লান্ত
টিয়া পাখীর ঠোঁটের ধারালো ভালবাসায় সিক্ত
মানুষ কৃত্রিম রাশিতে, চরিত্র সৃষ্টির বিন্যাসে
হৃদয় এখন অভুক্ত ক্ষুধার আক্রোশে কেতুর ছোবলে
দলদলে লতপত দুটো মাছ মাছরাঙার ভয়ে সন্ত্রস্ত
ক্লান্তিতে উচ্ছিষ্ট ঘামে ভেজা শরীর নতুন করে দাবানলের শিখায়
খুঁজে বেড়াই
সুমিত সাহা
চন্দ্রের ওপর দাঁড়িয়ে, সূর্য্য পৃথিবীর ওপর নজর রাখব সূর্য্যগ্ৰহণে।
কালকের পোষ্টে চিঠিটা আসার পরই মনের মধ্যে একটা অস্থিরতা ছিল।
সকাল থেকেই বাস না পেয়ে, খোলা বাসস্ট্যান্ডে ভিজেছি বাড়ী না ফিরে।
সকালে কোন সজ্ঞীবনী সুধার জন্য আজ কাউকে ডেকে তুলিনি।
প্রেমের আত্মবিশ্বাসের জন্য আমি যতোটা ইচ্ছা নীচে নামতে পারি।
শৈলেন্দ্রজী অনুযায়ী আমার নপুংসকতা ভুল প্রমাণিত করব।
প্রেমে অনেক গোপনীয়তা রাখার জন্য আজ আমরা দুজনাই দোষী।
সকালে পোষা ময়নার কথা শুনে আত্মবিশ্বাসে বেশ চিড় ধরেছে।
জীবনটা তেলে ভেজে চাপ দিলে মুড়মুড় করে ভাঙা পাঁপড়র টুকরো।
আজ প্রেমের সঠিক অবস্থান জানাব নির্ভরতায় গ্ৰহণ শেষের আগেই।
হ.
অশনি সংকেত
হরিদাস দেবনাথ
জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে রোদ
চৈতন্য অচৈতন্য হয়ে প্রলাপ বকছে।
ধর্মতলার পথ জনশূন্য
সর্বত্রই আজ দেখছি অসুখ।
গান্ধীমূর্তির পাদদেশে হিংসার মশাল
রাতদিন এক করে ডাকছে বারোয়ারি কাক।
মধ্যপ্রদেশে আগুন
হৃদয় পুড়ে পুড়ে লাল এই সকাল,
থেমে যাচ্ছে সব দূর পাল্লার ট্রেন
স্টেশনে গণ্ডগোল
শান্তিপুরে অশান্তি,পথ অবরোধ,
কারা কেড়ে নেয় ভাতের থালা
ছড়িয়ে পড়ে দুঃখ দুঃখ জ্বলা।
সব রোদ খেয়ে খেয়ে আগ্রাসী দিন
বাতিঘরে ঢুকেছে ডাকাত
সব লাইন কেটে কেটে নিভিয়ে দিচ্ছে আলো
অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে দেশ।
মুগ্ধ আমি
কুয়োতলে ডুবে গ্যাছে প্রেমাঞ্জলি
সর্বস্ব উজাড় করে এই আমি উৎসর্গ করি উল্কা,
এবার প্রসন্ন হও দেবী
ফোটাও সুগন্ধী ফুল নিশীথ আঁধারে
ভোরের স্নিগ্ধ আকাশে প্রথম সূর্য দর্শন অভিলাষ
আহা কি অনুপম মুগ্ধতা!
তোমার প্রেমে নামগান জপি অনুক্ষণ
সমুদ্রস্নান শেষে নূতন বন্দরের দিকে
মগ্ধ আমাকে পথ দেখাও।
হে দেবী,তুমিই উপাস্য,তুমিই আরাধ্য
এ ভব সিন্ধুজলে কান্ডারী আমার।
সুরতো তোমারই,তোমারই নূপুর রিনিঝিনি
খ্যাপা বাউল আমি
মরমে সমুদ্র ঢেউ,কোজাগরী রাত
ভাতিছ আমার আকাশে পূর্ণশশী
নেহারি মুগ্ধ আমি।
ন
[21/10, 3:20 pm] Nandita Das Choudhary 2: চড়াই ভাঙ্গি
নন্দিতা দাস চৌধুরী
অতীতের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা মুছে ফেলতে ফেলতে পাথর হয়ে যাচ্ছি,
সূর্য-চন্দ্রহীন আকাশের শরীর বেয়ে নেমে আসে কামাতুর অন্ধকার, প্রচন্ড গুমোট ,নিষিদ্ধ বাতাস,
অন্তিম শ্বাসে আজ পথের পাঁচালী, হারিয়ে যাচ্ছে অপু-দূর্গা শূন্য ঘরে নিঃসম্বল প্রাণ,
দেশ আছে অস্থায়ী ঘরও, বেবাক সভ্যতায় বেকারত্বের কনকনে চাবুক,রুজি- রুটি জীবন সংগ্রামের গান,এসো আশ্বস্ত করি বর্তমান ,
প্রাতঃ- সন্ধ্যা ভ্রমণ আর নয়,চড়াই ভাঙ্গি তবেই গন্তব্য।
10,10,2022
[21/10, 3:20 pm] Nandita Das Choudhary 2: এ মাটি আজও তোমারই
নন্দিতা দাস চৌধুরী
একদিন তুমিও ছিলে আমার কাছাকাছি, দুজনে কতোইনা আনন্দে হাত ধরাধরি করে খোলা মাঠে,ক্ষেতের আলে, টিলার ধার ঘেঁসে, কোন গলিপথে হেঁটেছি। হঠাৎই অজান্তে হাতটা ছেড়ে দৌড়ে এগিয়ে গেলে কোন স্রোতের টানে। পেয়েও গেলে এক নদীর স্রোতের সন্ধান, যে নদী সাগরের মোহনায় মেসে, ফিরেও তাকালেনা একবার। তারপর জলের কল্লোলে নদী থেকে একেবারে মহাসাগরে।বহুকাল ঢেউএর দোলনে দোলে আবার আরেক ঢেউএর মোচড়ে সৈকতে এনে আছড়ে ফেলে দিলো। এখন এশহর ওবন্দর ঘুরে ঘুরে শূন্য হাতে ফিরে এলে শিকড়ের টানে। নাড়ীর টানতো সহজে ছিড়ে ফেলা যায়না। শুনেছি কোন এক দক্ষ নাবিক নাকি আবার ডিঙি নিয়ে সাগর পাড়ির হাতছানিতে ডাক দিলো।শঙ্কিত আমি সাগর শুকিয়ে ডিঙি চরে আটকে নাযায়।এমাটি তখনো তোমারই ছিলো আজও তোমারই।
নন্দিতা দাস চৌধুরী
9774640486 (w)
0 মন্তব্যসমূহ