প্রকাশনা মঞ্চের মুখপত্র বইবার্তা দ্বিতীয় বর্ষ:দ্বিতীয় সংখ্যা :২২-২৩ অক্টোবর :২০২২

প্রকাশনা মঞ্চের মুখপত্র 
                       বইবার্তা
দ্বিতীয় বর্ষ:দ্বিতীয় সংখ্যা :২২-২৩ অক্টোবর :২০২২

প্রচ্ছদ:প্রশান্ত সরকার 

প্রকাশনা মঞ্চের মুখপত্র 
                       বইবার্তা
দ্বিতীয় বর্ষ:দ্বিতীয় সংখ্যা :২২-২৩ অক্টোবর :২০২২

প্রকাশনা মঞ্চ



ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা :২০২২
তারিখ :২২-২৩অক্টোবর:২০২২
আগরতলা : পশ্চিম ত্রিপুরা :৭৯৯০০১


সম্পাদক :গোবিন্দ ধর


প্রচ্ছদ :প্রশান্ত সরকার

মুদ্রণ:গ্রাফিপ্রিন্ট,কুমারঘাট, ঊনকোটি, ত্রিপুরা :৭৯৯২৬৪

কথা:৮৭৮৭৪৩৭৫৫৯


মূল্য :২৫টাকা



শুভেচ্ছাবার্তা

প্রতি
সম্পাদক 
প্রকাশনা মঞ্চ 
আগরতলা, ত্রিপুরা 


আমি জেনে আনন্দিত প্রকাশনা মঞ্চ আগামী ২২-২৩ অক্টেবর ২০২২  দুদিন আগরতলা প্রেসক্লাবের নৃপেন চক্রবর্তী হলে অনুষ্ঠিত হবে  ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা :২০২২। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রকাশনা মঞ্চ। বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খানকেও অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 
ত্রিপুরা আমার নিকট দ্বিতীয় সাহিত্য বাড়ি।এখান থেকে স্রোত প্রকাশনা আমার "নির্বাচিত ২৫টি শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প "সংকলন প্রকাশিত। কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর আমার সাহিত্য জীবন নিয়ে একটি কাজ" উপমহাদেশের অহংকার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন "প্রকাশ করতেও ব্রতী হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার একগুচ্ছ প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশের দায়িত্বও স্রোত প্রকাশনা নিয়েছেন। এগুলো আমার নিকট খুবই আনন্দের অনুভূতি। 
গত ২০১৭ সালের জুন মাসে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজনেও আমাকে স্রোত প্রকাশনা উদ্বোধক হিসেবে ত্রিপুরায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।আমি সে বছরও খুব সম্মানিত হয়েছি।
গত এপ্রিল মাসে ৩০ তারিখ কলকাতার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় স্মৃতি মঞ্চে স্রোত আমার হাতে তুলে দিয়েছিল স্রোত সাহিত্য সম্মাননা :২০২২।আমি গৌরবান্বিত হয়েছি।
মূলত কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর, স্রোত প্রকাশনা এবং প্রকাশনা মঞ্চ যখনই আমাকে ত্রিপুরায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়ে কথা বলেন আমি না বলতে পারি না।
সাহিত্যের জন্য ত্রিপুরায় আমার উপস্থিতি এই অঞ্চলের পাঠকেরা, সুহৃদজনেরা আমার উপস্থিতি চান এই প্রাপ্তি গর্বেরও।
লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা :২০২২ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র " বইবার্তা"প্রকাশিত হবে জেনে আমি খুব খুশি হয়েছি।গত বছরও প্রকাশনা মঞ্চ বইবার্তা প্রকাশিত হয়েছে। এবছরের উদ্যোগও সফল হোক এই প্রত্যাশা রাখি।ভালো থাকুন গোবিন্দ ধর ও প্রকাশনা মঞ্চের সকল সদস্য সদস্যারা।
ধন্যবাদান্তে
সেলিনা হোসেন 
সভাপতি 
বাংলা একাডেমি,ঢাকা,বাংলাদেশ 
১৭:০৮:২০২২


স|ম্পা|দ|কী|য় 

একটি বই আমাদের মনের দরজা খুলে দিতে যেমন পারে তেমনি অন্ধকার দূর করতেও বইয়ের বিকল্প নেই। বই শুধু কাগজের স্তুপ মলাট বন্দী নয়।বইয়ের ভেতর আলো থাকে।পাঠের মাধ্যমে তার নিহিত প্রাণ জাগাতে হয়।
পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন আমাদের সাহিত্যকে নতুন পথ প্রদর্শন করে। 
প্রকাশক ও লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের সমবেত সংস্থা প্রকাশনা মঞ্চ। গত বছর আয়োজন করেছিল লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও গ্রন্থমেলা :২০২১।এই বছর দ্বিতীয় বছরে পা দিলো।
আমাদের উদ্দেশ্য প্রতিটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনায় আসুন।
ত্রিপুরার প্রতিটি জেলায় অনেক সম্ভাবনা।কোন এক দুটি প্রতিষ্টিত প্রকাশনা হাউস সকল জেলা মহকুমা এমন কি প্রত্যন্ত এলাকার সেই সাহিত্যিকদের সেরা সৃষ্টিগুলো বৃহত্তর পাঠকের নিকট পৌঁছে দিতে পারবে না।এ কাজ একমাত্র লিটল ম্যাগাজিনই পারে।
সুতরাং লিটল ম্যাগাজিনগুলো হতে পারে ছোট ছোট প্রকাশনা হাউস।আর তখনই সম্ভব ত্রিপুরায় আরো পাঠক তৈরী করা।
আমাদের বিশ্বাস প্রকাশনা মঞ্চ রাজ্যের লিটল ম্যাগাজিন সংস্থাগুলোকে প্রকাশনার জগতে নিয়ে আসার সেতু। আর সেই সেতু ধরেই রাজ্যের লেখকদের প্রকৃত সম্মানে সম্মানিত হওয়ার পথ তৈরী হবে।


স|ভা|প|তি|র|ক|থা

বিশ্বস্ততা দায়বদ্ধতা ও পাঠক তৈরীর অঙ্গীকার নিয়ে২০১৮ সালের ঊনত্রিশে ডিসেম্বর গঠিত হয়েছিল 'ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ'।আর এই অঙ্গীকার কে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যেই ১৪ নভেম্বর ২০২১ সালে প্রথম বারের মতো বৃহৎ কলেবরে অনুষ্ঠিত হলো লিটল ম্যাগাজিন প্রর্দশনী ও গ্রন্থমেলা।আর সেই প্রথম বারের এই কর্মসূচিতেই অনেক প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে যথেষ্ট সফলতার ছাপ এঁকে দিয়েছি আমরা।
আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যারা লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে কাজ করছেন, লিটল ম্যাগাজিন এবং কিছু কিছু বই প্রকাশ করছেন,বা বই প্রকাশের ইচ্ছে আছে কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছেন না, তাঁদের সবাইকে নিয়ে একটি বৃহৎ মঞ্চ তৈরী করা। আর সেই লক্ষ্যে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। আমাদের সাথে হাত মিলিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক এবং কয়েকজন প্রকাশক। তেমনি নতুন প্রজন্মের সম্পাদক ও প্রকাশকরাও এগিয়ে আসছেন।

সবাইকে একসাথে নিয়ে আমরা পথ চলতে চাই। এখনো যে অনেক পথ চলতে হবে। এখনো তেমন কিছু করে উঠতে পারিনি আমরা, এই সময়ে আমাদের রাজ্যে প্রকাশনা শিল্পের একটা নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তবে সময় বড়ই কঠিন এই নয়া বিশ্বায়নের যুগে একা একা পথ চলা বড়ই কঠিন। চাই শক্তিশালী মঞ্চ বা সংগঠন।

আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি এই 'প্রকাশনা মঞ্চ' অবশ্যই তার লক্ষ্যে অবিচল থেকে সবাইকে একসাথে নিয়ে আগামী দিনে একদিকে যেমন সাহিত্য জগতে লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশনা সংস্থা নুতন নুতন ভালো বই সমাজকে উপহার দেবে তেমনি শহর কেন্দ্রিক না হয়ে রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাশালী কবি সাহিত্যিকদেরকেও তুলে এনে বৃহত্তর পাঠক সমাজের কাছে তাঁদের সৃষ্টি কর্মের পরিচিতি দেবে। পাশাপাশি নব প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সাহিত্য পাঠের জোয়ার আনতে সক্ষম হবে।।


সূচীপত্র 

উত্তর-পূর্ব ভারতের কথাসাহিত্যে দেশভাগ-উদ্বাস্তু যন্ত্রণা : প্রসঙ্গ বাংলা ছোটগল্প : একটি সমীক্ষা
 ড. অগ্নিমিত্রা পাণ্ডা


প্র|ব|ন্ধ 

 উত্তর-পূর্ব ভারতের কথাসাহিত্যে দেশভাগ-উদ্বাস্তু যন্ত্রণা : প্রসঙ্গ বাংলা ছোটগল্প : একটি সমীক্ষা
 ড. অগ্নিমিত্রা পাণ্ডা
 
উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলা ছোটগল্পের পরিসর বহুল বিস্তৃত। নানান রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও ভাষিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্বের ছোটগল্পচর্চা এগিয়ে চলেছে এবং একটি বলিষ্ঠ সাহিত্যধারা সৃষ্টি করেছে। তবে এ পর্যন্ত অসম ও ত্রিপুরার ছোটগল্প নিয়ে প্রবন্ধ, গবেষণাগ্রন্থ দু-একটি থাকলেও১ সমগ্র উত্তর-পূর্বের (অর্থাৎ যে যে অঞ্চলে বাংলা ভাষাচর্চা ও গল্পচর্চা হচ্ছে, যেমন অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ড) ছোটগল্পের নানামাত্রিকতা আগে আলোকিত হয়নি।২ পূর্বে গবেষণার সময় উত্তর-পূর্বের বাঙালির বিভিন্ন সংকটের কথা জেনেছিলাম যার প্রতিফলন গল্পগুলির পাতায়। আমরা জানি, ব্যক্তির ‘social history’ যেমন আছে ঠিক তেমনি আছে তার প্রাতিম্বিক ইতিহাস বা ‘Personal history’।৩ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের বিষয়েরও বাঁকবদল ঘটেছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে গল্পগুলিতে দেশভাগের যন্ত্রণার কথা জানার আগে বিস্তৃত পরিধিতে অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক ইতিহাস, বাঙালিদের অবস্থান ও স্থায়ি বসবাসের ইতিবৃত্ত ও লড়াইকে জানা ও বোঝা একান্ত জরুরি।৪ ছোটগল্পগুলিতে সেইসব প্রবণতা ছোটগল্পের পরিসর নির্মাণে স্বতত ক্রিয়াশীল। দেশভাগ-উদ্বাস্তু সমস্যা গল্পগুলিতে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে সেটির বিশ্লেষণ ও অন্বেষণ এই প্রবন্ধে অন্বিষ্ট।   
  ২
   উত্তর-পূর্বের বাঙালির জীবনচর্যা অন্যান্য অঞ্চল (পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ) থেকে অনেকাংশেই পৃথক। পৃথক তার মন ও মননেও।৫ সমালোচকেরা অনেকের একে ‘তৃতীয় ভুবন’ বলে ব্যাখ্যা  করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিজিতকুমার ভট্টাচার্যের অভিমত- ‘আমরা আবদ্ধ হয়ে পড়লাম বাঙালির এক নতুন ভুবনে। বাংলা সাহিত্যের প্রধান প্রকাশনাকেন্দ্র কলকাতার কোনো আগ্রহ ছিল না আমাদের নিয়ে, পূর্ববঙ্গের দুয়ার একেবারেই বন্ধ, তাই যখন সময় এল, বাংলা সাহিত্যের একটা নতুন ভুবন জন্ম নিল উত্তর-পূর্ব ভারতের ছড়িয়ে থাকা বাঙালির সমাজকে আশ্রয় করে। তৃতীয় ভুবন একটি বাস্তব সত্য আমরা কোনো প্রস্তাব নিয়ে একে তৈরি করে নিয়েছে –এই পর্যন্ত।’৬ অন্যদিকে উত্তর-পূর্বের বাঙালি মিশ্র বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের অবস্থান, অসমিয়া খাসি, মিজো, কুকী, ডিমাসা, মণিপুরি, ত্রিপুরী, নাগা প্রভৃতি উপজাতিগোষ্ঠী তাদের প্রতিবেশি। সবক্ষেত্রেই মধুর সম্পর্ক নেই তবে এই অঞ্চলের বাঙালির পরিচয় যে একটু ভিন্ন সেকথা বোঝাই যায়। সমালোচকের ভাষায় বলা যায় ‘আসলে বরাক উপত্যকার বাঙালিদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় আছে...’৭ শুধু বরাকই নয় সমগ্র উত্তর-পূর্বের বাঙালি সম্পর্কেও যা প্রযোজ্য। গল্পবিষয়ে যাবার আগে উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে পাঠকের জন্য দু-চারটি কথা বলা আবশ্যক। অসমের বাঙালি সম্পর্কে অনেকের ধারণা আছে যে ‘শিলচর এবং কাছাড়-হাইলাকান্দি -করিমগঞ্জ নিয়ে গড়ে ওঠা আজকের এই বরাক উপত্যকা বহির্বঙ্গ এবং এখানকার বাঙালিরা  প্রবাসী বাঙালি। ...’৮  এ নিয়ে নানা মত তবে সে সব বিস্তৃত প্রসঙ্গে না গিয়েও সমালোচক সুজিৎ চৌধুরীর অভিমতটি স্মরণযোগ্য, ‘এ অঞ্চলে ষোড়শ শতাব্দী থেকেই বাঙালির বসবাস।’৯ এছাড়াও জানা যায় ষোড়শ শতাব্দীর পূজার্চনার রীতিনীতি দেখা যায়।১০ অন্যদিকে সুকুমার সেনের মতে বাংলা গদ্যের ব্যবহার ‘ষোড়শ শতাব্দী হইতে ত্রিপুরা কাছাড়-কামতা অঞ্চলেই পাইতেছি।’১১ পরবর্তীকালে উনবিংশ শতকে এসে অসমিয়া ও বাঙালির সম্প্রীতি থাকলেও নানা কারণে বিদ্বেষের সূচনা হয়। ১৯৬১-এর পূর্বে দেশভাগকেন্দ্রিক উদ্বাস্তু সমস্যা বা বিদেশি বিতাড়ন-এর উত্তাল অধ্যায়ের কথা কমবেশি সবারই জানা।
   অন্যদিকে ‘ত্রিপুরা ভারতের সংস্কৃতিচর্চার একটি বাতাবরণ গড়ে উঠেছিল অনেককাল আগে থেকেই।... রাজনৈতিক বহু উত্থান-পতন হয়েছে এ-রাজ্যকে কেন্দ্র করে, কিন্তু বাঙালী ভাষার দৃঢ়ভিত্তি কখনো শিথিল হয়নি।’১২ ত্রিপুরার রাজদরবারেও বাংলা ভাষার ব্যবহার ছিল। এছাড়া দেশভাগ পরবর্তী উদ্বাস্তু সমস্যা, আর্থ-সামাজিক, জনবিন্যাসগত কেন্দ্রে সূদুরপ্রসারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। এরই সূত্রে ত্রিপুরার উপজাতিদের সঙ্গে বাঙালির সমস্যাও সৃষ্টি হয়। সংঘটিত হয় ৮০-র দাঙ্গা। অন্যদিকে নাগাল্যান্ড  ও মেঘালয়ের ইতিহাস প্রসঙ্গে দু-একটি তথ্য দেওয়া যাক। ১৯৬৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগাল্যান্ড রাজ্যের সৃষ্টি। ভাষাবৈচিত্র এত বেশি যে এক গোষ্ঠীর মানুষ অন্য গোষ্ঠীর ভাষা বোঝে না। নাগাল্যান্ডের এগারোটি জেলার মধ্যে ডিমাপুর, কোহিমা ও মোককচঙে-এই তিনটি জেলায় অল্প হলেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা হয়। আবার মেঘালয়ে মূলত শিলং তুরা ও গারো অঞ্চলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে অল্প স্বল্প চর্চার কথা জানা যায়। আমরা জানি একসময় শিলংই অসমের রাজধানী ছিল। টি.এস.মূর্তি  তাঁর ‘Assam the difficult years’ গ্রন্থে জানাচ্ছেন, ‘The capital earlier used to be at shilling (Now in Meghalaya) but shifted to Dispur, a suburn of Guhati after Meghalaya separated from Assam in 1972.’১৩ যদিও আশ্চর্যের বিষয় এই যে বাংলা মাধ্যমের স্কুল এ অঞ্চলে প্রায় নেই বললেই চলে এমনকি বাংলা ভাষাও বর্তমান প্রজন্মের কাছে লুপ্তপ্রায়।
  এবার দেখে নেওয়া যাক উত্তর-পূর্বের গল্পধারায় বিভিন্ন আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেশভাগের ক্ষত কিভাবে প্রতিফলিত। নির্বাচিত গল্পের বিশ্লেষণের সূত্রে সেই স্বাতন্ত্র (বিষয় ও  আঙ্গিকে) বুঝে নেওয়া যেতে পারে। আমরা পূর্বেই বলেছি যে  ভিন্নমাত্রিক ‘tension’ ও ‘crisis’ বা আততির মধ্যে জাত গল্পগুলিতে ব্যক্তির সামাজিক ও প্রাতিস্বিক ইতিহাস পরস্পর সংযুক্ত, যা ব্যক্তির ‘Inner reality’ কে পরিস্ফুট করে।১৪ প্রথমে আসা যাক অসমের গল্পপ্রসঙ্গে। অসমের দুটি উপত্যকা, ব্রহ্মপুত্র ও বরাক। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাঙালিকে  অসমিয়া ও অনান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সহাবস্থানে থাকতে হয় ফলত সে সব গল্পে প্রতিবেশিদের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক চিত্রিত হতে দেখি। রাজনৈতিক- আর্থ-সামাজিক বৈষম্য জাতিগত সমস্যা, দেশভাগ অস্তিত্বের সংকট, নাগরিকত্বের সমস্যা এসেছে দীপংকর করের ‘হুমকির পর যা ঘটে’ (২০০০), ধীরাজ চক্রবর্তীর ‘মনসুর মিঞাকে সমর্থন করবেন না’ (২০০৫) প্রভৃতি গল্পের গভীরে আছে বহুবিচিত্র বাস্তবতা। আর এক সমস্যা উদ্বাস্তুকেন্দ্রিক। অখিল দত্তের ‘অশ্রু নদী’ গল্পে তারই ছবি। দেশভাগ ও আত্মীয়স্বজনের চক্রান্তে মানুষের জীবন সংকটের ছবি ধরা পড়েছে ধীরাজ চক্রবর্তীর ‘মনসুর মিঞাকে সমর্থন করবেন না’ গল্পে। শুধু ব্রহ্মপুত্রই নয় বরাকের গল্পেও দেশভাগের বিষময় ফল যে জটিলতার সৃষ্টি করেছিল তার বহুল প্রকাশ গল্পগুলিতে । মিথিলেশ ভট্টাচার্যের ‘রক্তমাতাল’, ‘১৫ই আগস্ট’ গল্পে প্রত্যক্ষ বাস্তব সংকট বা সংঘর্ষ না এলেও দেশভাগকেন্দ্রিক স্মৃতি বা নস্টালজিয়া চরিত্রদের মধ্যে দেখতে পাই। রণবীর পুরকায়স্থের ‘স্থায়ি ঠিকানা’তেও নাগরিক সমস্যার বাস্তবায়ন। এছাড়া শর্মিলা দত্তের ‘দেশবাড়ি’ গল্পটিও স্মরণীয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভোটের রাজনীতি দেখা গেছে অপরেশ ভৌমিকের ‘বিপন্ন বিস্ময়’ গল্পে। আবার উগ্রজাতীয়তাবাদ, সন্ত্রাস, অপহরণ, দাঙ্গা বিষয়ক গল্পের সংখ্যাও কম নয়। এসব সমস্যা উত্তর-পূর্বের প্রবল ও প্রধান সমস্যা। এ নিয়ে শেখর দাসের ‘লস্ট হরাইজন’, হিমানিশ ভট্টাচার্যের ‘অপহরণ’, ঝুমুর পাণ্ডের ‘সনারামের বউ’, ‘বিজয়া দেবের ‘ছায়াপথ’, অরিজিৎ চৌধুরীর ‘আগুন,’ মলয়কান্তি দে-র ‘আক্রান্ত’ প্রভৃতি।
    মলয়কান্তি দে বরাকের অন্যতম শক্তিশালী লেখক। তাঁর ‘আসরাফ আলির স্বদেশ’ গল্পটি বহুচর্চিত। দেশভাগ ও অস্তিত্বের সংকট, আত্মীয়ের ষড়যন্ত্র এসবই আসরফকে অস্থির করে তোলে। শুধু বাহ্যিক সংকটই নয় গল্পকার চরিত্রটির অস্তিত্বহীনতার কথা বলতে গিয়ে লিখেছিলেন ‘আসরাফ বলেছে দু’হাঁটুর মাঝখানে মাথা গুঁজে, হাঁড়িকাঠে আটকানো পশুর মতো।’১৫ এখানে ‘হাঁড়িকাঠে আটকানো পশুর মতো’ শব্দবন্ধগুলি লেখক সচেতনভাবেই  দেশচ্যুত আসরাফ চরিত্রটির সামগ্রিক করুণ পরিণতির চিত্র প্রসঙ্গে তুলে ধরেছেন। আবার দেবব্রত চৌধুরীর ‘আব্বাজানের হাড়’ গল্পেও দেখি আর এক অস্তিত্বহীনতার সংকট ঘনীভূত। বিদেশি সন্দেহে আমিরুদ্দির কাছে নোটিশ যায়। দিশাহারা আমিরুদ্দি নিজস্ব পরিচিতি আদায়ের জন্য কবরস্থ আব্বার কঙ্কাল বিক্রি করে অর্থ জোগাড় করেছে। গল্পের সূচনা শেষ থেকে। ‘নদীর ওপারেই বাংলাদেশ। সটান লম্বা ভাঁটাগড়ের বেড়া সীমানা বরাবর। ... আমিরুদ্দি এরকম একটা প্যাকেট ঝোপের অন্ধকারে আব্বাজানের মাসহীন কাঠামোটা পাহারা দিয়ে ঠায় বসে ছিল মাঝরাত অবধি।’১৬ এরপর – flash back-এ দেখানো হয়েছে নাগরিকত্ব প্রমাণের নোটিশে ভীত মানুষটির জীবনসংকটের বর্ণনা। তারপর আবার গল্পের শেষে সেই নদীপার এসেছে ‘দূরে নদীপারে  নৌকা থামার শব্দে সজাগ হলো আমিরুদ্দি। কারা যেন লাফ দিয়ে নামল পারে।’১৭ গল্পটিতে একরাত্রির অভিজ্ঞতা বিবৃত হয়েছে উত্তম পুরুষে। এই সংকটের  পাশাপাশি আর এক ভিন্নধর্মী সংকট লক্ষ্য করা যায় অরিজিৎ চৌধুরীর ‘আগুন’ গল্পে। প্রধান চরিত্র মহেন্দ্র দাস একজন অসমিয়া সে প্রতিবাদ করেছিল ‘অন্যায়ভাবে বাঙালি হিন্দু অভিবাসী,, মুসলমান বা নেপালি দেখলেই তাকে বিদেশি আখ্যা দিয়ে অত্যাচার করাটা অমানবিক।’১৮ এই মারাত্মক প্রতিবাদের ফলে মহেন্দ্র দাসের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। স্বজাতির কাছে লাঞ্ছিত মহেন্দ্র আশ্রয় পেয়েছিল এক বাঙালির ঘরে। গল্পকার অসমিয়া মানুষটির এই crisis কে একটু ভিন্নতররূপে উপস্থাপনা করেছেন যা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শেখর দাসের ‘কোষাগার’ গল্পে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিরীহ শান্ত মানুষটির হত্যাকে কেন্দ্র করে ঘটে গেছে বিপর্যয়। নিহত বিজনের ভাই বিকাশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সে বলেছে ‘আমাদের নিশ্চিত জীবনের নিরাপত্তাকে বা কারা দেবে’ –এসব ‘কেন’র আবর্তে ঘুরতে থাকে চরিত্রটি। সমাজবাস্তবতার নিপুন ছবি পরম ভট্টাচার্যের ‘আহা যদি অহনিশ দাঙ্গা হতো’ গল্পে। লেখক বারবারই ‘সামাজিক অমান্য মধ্যবিত্তের স্মবারির মুখোশ খুলে দেখাতে পছন্দ করেন।’১৯ দাঙ্গার বিধ্বস্ত সময়পট ধরা পড়েছে পরিতোষ তালুকদারের ‘দাঙ্গা’, অভিজিৎ চক্রবর্তীর ‘সন্তোষ বিশ্বাসের গল্প’ তে। রাজনৈতিক চক্রান্ত ও বিপর্যস্ত মানবের কথা গল্পে উঠে এসেছে এভাবে- ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে যারা এসেছি, তাদের উপস্থিতির সংখ্যাতত্ত্বে অসমিয়ারা ভীত হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু এই ভয় অনেকাংশে রাজনীতির তৈরি করাও বটে।’২০ শ্যামলেন্দু চক্রবর্তীর ‘আশ্রয়’ গল্পটির কথা মনে পড়ে। সেখানেও উত্থাপিত হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যেমন ­ক. ‘আমরা বিদেশি হলাম কী করে? খ. ‘ভূমিপুত্র মানে কি আদিম অধিবাসী? সে আমিকে কি এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে? নাকি ভূমিকে যে মায়ের মত ভালোবাসে সে ভূমিপুত্র?’২১ এছাড়াও বিভিন্ন গল্পে এই বিষয়বস্তুর আবর্তন দেখি । এবার ত্রিপুরার গল্পপ্রসঙ্গে আসা যাক।
                                           ৪
   অন্যদিকে ত্রিপুরার বাংলা ছোটগল্পেও দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা, দাঙ্গা, উগ্রপন্থী সমস্যা, উপজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাঙালির দ্বন্দ্ব ও সহবস্থান, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভাষিক সংকট লক্ষ্য করা যায়। এখানেও যে কিছু গল্পের আলোচনা করা যেতে পারে যেমন ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য্যের ‘বাঁশের বুকে ফুল’ (১৯৭৩), বিমল সিংহের ‘ইঙেললেইয়ের-এর মেয়ের বিয়ে’ (১৯৭৪-৭৫) কালিপদ চক্রবর্তীর ‘তীর’ (১৯৭৫) মানস দেববর্মনের ‘স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী’ (১৯৭৩) দুলাল ঘোষের ‘আঁতুড়’(১৯৯৯), কিশোররঞ্জন দে-র ‘ভয়’(প্রকাশকাল ১৯৯৯) দেবব্রত সেনের ‘কাঁটাতার’ (প্রকাশকাল ২০০৮), মীনাক্ষী সেনের ‘স্বদেশ বিদেশ’(২০০৭), সুনন্দা ভট্টাচার্যের ‘বর্ডারের গল্প’ (প্রকাশিত ও সংকলিত ২০১২তে)। উল্লেখ্য বেশ কিছু গল্পের রচনাকাল পাওয়া গেছে ও কিছু কিছু গল্পের রচনাকাল পাওয়া যায়নি সেক্ষেত্রে সংকলিত  হবার সময় যে প্রকাশকাল পাওয়া গেছে তার উল্লেখ আছে। ত্রিপুরার আদিবাসী জনজীবন ও বাঙালি সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখি বিমল সিংহের ‘ইঙেললেই-এর মেয়ের বিয়ে’ গল্পে। গল্পে রিফিউজি জ্বালা, ‘মণিপুরীদের জীবনযাত্রায় নবাগত বাঙালিদের প্রভাব পড়েছে।’২২  ইঙেললেই-এর মেয়ের নাম রেখেছে রীতা, বাঙালি নাম। আদিবাসী জীবনের ভাঙন, তাঁতশিল্পের অবক্ষয় গল্পে চিত্রিত। আবার মানস দেববর্মনের ‘স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী’ গল্পের কেন্দ্রে আছে ভাষাসম্পর্কিত এক জটিলতা। চাকরিপ্রার্থী সৌগত ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্ন-উত্তর পর্বের কিছু অংশ এখানে উদ্ধারযোগ্য।
‘হোয়ার্টস য়্যুর মাদার ট্যাং? ভদ্রলোকের স্বর গাঁক গাঁক করে উঠল। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি।
নোঃ, তোমার মাতৃভাষা কী? ঘরে একটা চাপা হাসির শব্দ।
ত্রিপুরী। সারা ঘর দমকা হাসিতে ভেঙে পড়ল।’২৩
বলাবাহুল্য এ সমস্যা অত্যন্ত বাস্তব। এছাড়া চাকরির ক্ষেত্রেও বঞ্চনার ছবিও গল্পে এসেছে। অন্যদিকে কালিপদ চক্রবর্তীর ‘তীর’ গল্পের পটভূমিতে উঠে এসেছে চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সংঘর্ষ। সেইসূত্রে মালিকপক্ষের আধিপত্য ও শ্রমজীবি মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম। সূচনার সূত্রধারের বর্ণনা এরকম- ‘দৃশ্যটা বাস্তবিকই অদ্ভুত ছিল, তার বাম হাত উপরের দিকে মুঠো করে ধরে থাকলেও নিচের দিকে ফলাটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল...  হাতে তীর মেরেছে কেউ,...কিন্তু তাই বলে তীরটা বের না করে এমনভাবে একেবারে হাকিমের সামনে গিয়ে পৌঁছানোর বাসনা! ব্যাপারটা অভিনব বটে!”২৪ ‘অভিনব’ কারণ শ্রমিক মানুষটির সাহস আগে এমনভাবে কেউ দেখেনি। তাই তীব্র একটা আবেদন রয়েছে ‘অভিনব’ কথাটির মধ্যে । আসলে ষষ্ঠীচরণের মতো শ্রমজীবি মানুষেরা সুবিচার পায় না। উদ্বাস্তু সমস্যাও কমবেশি গল্পে দেখা যায়। দুলাল ঘোষের ‘আঁতুড়’ গল্পে কাংরী সূত্রে যেমন- ‘তারপর পুলিশ যখন আমাকে মুক্তি দিল, অর্থাৎ ইন্ডিয়ায় ঢুকতে দিল তখন আমি ক্ষেতের আলজমিন থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে মাত্র। মনে হয়েছিল যেন শূন্য একটি শ্মশান।’২৫ আবার স্থানে স্থানে সর্বজ্ঞ কথকের দৃষ্টিকোণও দেখা যায় যদিও তা সীমিত। যেমন- ‘কী আর করা যাবে। মনের দুঃখে কাংরী এবার রাস্তায় হাঁটতে  থাকে।’২৬    
  ত্রিপুরার আর বড় সমস্যা উগ্রপন্থী সমস্যা। এ বিষয়ে কিশোররঞ্জন দে-র ‘ভয়’, ‘ভাইকার্ফু’ গল্পদুটি স্মরণযোগ্য। লেখক কর্মসূত্রে বহুস্থানে ভ্রমণ করেছেন তাই তাঁর গল্পে বাঙালি ছাড়াও অসমিয়া, মিজো, মণিপুরি, খাসিদের জীবনযাপনও চিত্রিত হয়েছে। গল্পগুলিও বহুবর্ণে উদ্ভাসিত হয়েছে। যেমন ‘ভয়’ গল্পের প্রেক্ষিত ইম্ফল । প্রথম থেকেই একটা ভীতি সেখানকার মানুষের মধ্যে ক্রিয়াশীল। কথক জানাচ্ছেন, ‘বেশির ভাগই তো উগ্রপন্থী নন। এদের মধ্যে অনেকেরই বুকে রয়েছে ভারতবর্ষের প্রতি ভালোবাসা। আমি চিনবো কি করে? মণিপুর বেড়া ডিঙিয়ে মিশতে সাহস পাই না।’২৭ অন্যদিকে ‘ভাইকার্ফু’ গল্পে নামকরণ লক্ষ্যণীয়। ‘ভাইকার্ফু’ মানে মিজোরামের অমিজোদের জন্য জারি করা বেসরকারী কার্ফু। এর ফলে জনজীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। মানুষের সেই সংকট এ গল্পে রয়েছে।  
       অসম ও ত্রিপুরার বাংলা ছোটগল্প নিয়ে আলোচনার পরিসরটি বৃহৎ। যদিও নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের গল্পসম্ভাবনার ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায় না, তবে যে সব গল্প এখনও পর্যন্ত সংগ্রহ করা গেছে সেগুলির বিষয়ও বেশ বিচিত্র। যেমন খেলু মজুমদারের ‘শহিদের রূপ’ উলেখ্য। এছাড়াও আছে দেশভাগ, উদ্বাস্তু জীবন,পাহাড়ি জনজাতির মানুষের দুঃখকষ্টের সংগ্রাম। মেঘালয়ের শরদিন্দু চক্রবর্তীর ‘চাওয়া আর পাওয়া’ (সংঘাত, ১ম বর্ষ, একাদশ সংখ্যা), বিমল কুমার ঘোষ ‘কলের মানুষ’(সংঘাত, দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা, উমা পুরকায়স্থ-এর ‘লাল সূর্য’ (২০০৪), পূর্ণেন্দু ভট্টাচার্যের ‘আলতা’ (২০০১) গল্পগুলি উল্লেখ্য। পূর্ণেন্দু-র গল্পের কাহিনি শেষ থেকে শুরু হয়েছে। সূচনাটি এরকম- ‘আপনার মেয়েও নিশ্চয় আলতা পরতে চায় এখন?’২৮ প্রশ্নটা যেন চাবুক মারল কথককে। প্রশ্নের কারণ জানা যাচ্ছে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে। রসিকলালের কুড়িয়ে  পাওয়া সন্তান ইদ্রিশ ভালোবাসত মণিকে, মণির জন্যে সস্তায় আলতা দিতে চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয় সেদিন। বহুবছর পর দেশভাগের পরবর্তীকালে মণির সঙ্গে দেখা হয়, মণি ও রসুলের সঙ্গে সুখের সংসার এখন। আলতার প্রসঙ্গটি জিজ্ঞাসা করায় স্মৃতিপটে পুরোনো দেশবাড়ির কথা, পুরোনো সময়ের নস্টালজিয়া কথককে ভাবিয়েছে। অন্যদিকে ‘লাল সূর্য’ গল্পেও স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত পুত্রের সঙ্গে ব্রিটিশের অধীনে কর্মরত পিতার দ্বন্দ্ব ও পুত্র তিলকের মৃত্যু গল্প-পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
  এই প্রবন্ধে উত্তর পূর্ব ভারতের অসম (ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকা) ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের বাংলা ছোটগল্পে দেশভাগ-উদবাস্তু-যন্ত্রণার নানামাত্রিকতাকে আলোকপাতের চেষ্টা রইল।২৯ শুধু গল্পের বিষয়ে নানামাত্রাই নয় গল্পের বা আঙ্গিকে অভিনবত্ব রয়েছে। উত্তর-পূর্বের গল্পকারেরা গল্পের বিষয় ও আঙ্গিক নিয়ে অনেকক্ষেত্রেই সচেতনও। এই প্রবন্ধে গল্প বিশ্লেষণের সূত্রে সেই অভিনবত্বের অনুসন্ধান করেছি। সর্বোপরি বলা যেতে পারে আলোচ্য গল্পগুলির বিষয়ের অভিনবত্ব, স্বাতন্ত্র সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে স্থান পাবার যোগ্যতা রাখে।
 
 
 
তথ্যসূত্র ও প্রসঙ্গনির্দেশ
১. এক্ষেত্রে পাঠক ও সমালোচককে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলা সাহিত্য নিয়ে পূর্বের গবেষণা ও প্রবন্ধ সম্পর্কে দু-একটি কথা জানানো আবশ্যক। যেমন জ্যোতির্ময় সেনগুপ্তের ‘অসমের লিটিল ম্যাগাজিন ছোটগল্পটির প্রেক্ষাপট ও ক্রমবিকাশ’ (বঙ্গীয় সাহিত্য সংসদ, জুন ২০১২), রমা পুরকায়স্থের ‘বরাক উপত্যকার বাংলা সাহিত্যচর্চা’ (অমৃতলোক সাহিত্য পরিষদ নভেম্বর ২০১৫), নির্মল দাসের ত্রিপুরার গল্পকেন্দ্রিক গ্রন্থ ‘উত্তর-পূর্বের বাঙলা ছোটগল্প বীক্ষণ এক (পর্ব-ত্রিপুরা)’ ও এরই দ্বিতীয় খণ্ড একই  নামে প্রকাশিত হয় (অক্ষর পাবলিকেশনস, ২০১৩), এছাড়া বিভিন্ন গল্পগ্রন্থের ভূমিকা, সূচনা, লেখকের কথা অংশে গল্পকার ও গল্প নিয়ে দু-একটি মন্তব্য বেশ কিছু প্রবন্ধে কোনো কোনো গল্পলেখকের গল্প নিয়ে আলোচনা নজরে আসে। তবে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলা ছোটগল্পের বিষয়বৈচিত্র ও শিল্পরূপ নিয়ে গবেষণা পূর্বে ছিল না।
২. এখানে আরো স্পষ্ট করে বলা যায়, প্রথমত বিষয়- নির্বাচনে (সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলা ছোটগল্পচর্চা, শুধু অসম নয় ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ও আলোচনায় এসেছে ) দ্বিতীয়ত বিষয় -বিশ্লেষণে (বিষয়বৈচিত্র ও শিল্পরূপ ) ,তৃতীয়ত বিষয়-বিস্তারে (১৯৭০-২০১৫) ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘উত্তর –পূর্ব ভারতের বাংলা ছোটগল্পচর্চা বিষয়বৈচিত্র ও শিল্পরূপ’ (১৯৭০ -২০১৫) শীর্ষক গ্রন্থটি সেদিক থেকে প্রথম বলা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে প্রকাশিত ‘উত্তর –পূর্ব ভারতের বাংলা সাহিত্যচর্চা’ গ্রন্থটিতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো।
৩. Ralf Fox তাঁর ‘Novel and the People’ গ্রন্থে এ বিষয়ে জানাচ্ছেন, ‘…each man has, as it were a duel history since he is at the same time a type, a man with a social-history, and an individual, man with a personal history. The two of course; even though they may be in a glaring conflict ….’ (see. Rulf Fox, Novel and the People, published by A.K. Bose, on behalf of Eagle publications, 309, Bowbazar. St. Culcutta, First Indian edition 1944, p.15.)
৪. কেউ কেউ মনে করেন উত্তর – পূর্বের বাসিন্দা নাহলে তাঁদের মন ও মনন বোঝা যাবে না । আমরা জানি, সাহিত্যসমালচনাকে কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ করে রাখা যায় না। এপ্রসঙ্গে মনে আসে Devid. L. Curley -এর ‘A Genre and its defination, Poetry and History : Bengali Mangal-kabya and social changes in precolonial Bengal’ (Choronicle Books , New Delhi-110 016, 2008.) গ্রন্থটির কথা। এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে তাদের মধ্যে একটি উদাহরণই যথেষ্ট। Devid. L. Curley মঙ্গলকাব্যের সমালোচনা করেছেন যা একালের সমালোচকদের কাছে গ্রহণযোগ্য।   
৫. বরাকের বাঙালির মন ও মননকে বোঝার জন্য অনেকগুলি বই-এর মধ্যে অন্যতম সুজিৎ চৌধুরীর বইগুলি। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে  মৎপ্রণীত ‘উত্তর –পূর্ব ভারতের বাংলা ছোটগল্পচর্চা বিষয়বৈচিত্র ও শিল্পরূপ’ (১৯৭০ -২০১৫) গ্রন্থটিতে সুজিৎ চৌধুরীর মূল্যবান আলোচনার ঋণ যথাস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬. বিজিতকুমার ভট্টাচার্য, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলা সাহিত্য (প্রথম খণ্ড), সাহিত্য প্রকাশনী, কলেজ রোড, হাইলাকান্দি, অসম, প্রথম প্রকাশ ৩ অক্টোবর ২০০২, পৃ. ১৭।
৭. অমিতাভ দেব চৌধুরী, শিলচরের বঙ্গসমাজ, দ্র. বহির্বঙ্গে বাঙালি, প্রথম খণ্ড, নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য সম্মেলন, কালিবাড়ি মন্দির মার্গ, নিউ দিল্লী-১১০০০১, পৃ. ৪১।
৮. তদেব, পৃ. ৩৯।
৯. সুজিৎ চৌধুরী, বরাক উপত্যকার বাঙালি ও ভাষা একটি ষড়যন্ত্রের শবব্যবচ্ছেদ, দ্র. লালনমঞ্চ- ৫, মে ২০০২, পৃ. ১২৩।
১০. প্রসূন বর্মন, বাংলা ভাষায় উপেক্ষিত ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অবাঙালি লেখক, গাঙচিল প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ এপ্রিল ২০১৫, পৃ. ১৩।
১১. সুকুমার সেন, বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ১৪।
১২. ভূমিকা, দ্র. নির্মল দাশ ও রমাপ্রসাদ দত্ত সম্পাদিত শতাব্দীর ত্রিপুরা, অক্ষর পাবলিকেশনস্, আগরতলা, ত্রিপুরা – ৭৯৯০০১, দ্বিতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ২০১৬।
১৩. T.S. Murty, Introduction, see. ‘Assam the difficult years’ : A Study of Political Development in 1979-83, Himalayan Books, 17-L Connaught place, New Delhi- 110001, 1983.
১৪. অতনু শাশমল, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, সপ্তর্ষি প্রকাশনী, ৪৪এ চক্রবর্তী লেন, শ্রীরামপুর, হুগলি, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, পৃ. ৮৩।
১৫. মলয়কান্তি দে, আসরাফ আলির স্বদেশ, দ্র. বরাক উপত্যকার নির্বাচিত গল্প, অক্ষর প্রকাশনী, অসম, প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৯৪, পৃ.৭৭।
১৬. দেবব্রত চৌধুরী, আব্বাজানের হাড়, একটি প্রামাণ্য দলিল, দ্র. দেবব্রত চৌধুরী,  আব্বাজানের হাড়, সৃজন গ্রাফিক্স অ্যাণ্ড পাবলিশিং হাউস, শিলচর- ৭৮৮০০১, প্রথম প্রকাশন, আগস্ট ২০১৬, পৃ. ১১৫।
১৭. তদেব, পৃ. ১২৬।
১৮. অরিজিৎ চৌধুরী, আগুন, দ্র. কপিশকান্তি দে সংকলিত ও সম্পাদিত বরাক উপত্যকার   নির্বাচিত গল্প, অক্ষর প্রকাশনী, করিমগঞ্জ-৭৮৮৭১১, অসম, প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৯৪, পৃ. ৬৪।
১৯. রণবীর পুরকায়স্থ, তৃতীয় ভুবনের কথাসাহিত্য, দ্র. বরাক উপত্যকায় বঙ্গসাহিত্য ও  সংস্কৃতি সম্মেলন স্মরণিকা, সপ্তবিংশ অধিবেশন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, পৃ. ১৫।
২০. অভিজিৎ চক্রবর্তী, সন্তোষ বিশ্বাসের গল্প, দ্র. পূর্বোক্ত দহনকালের কথকতা, পৃ. ৩৫।
২১. শ্যামলেন্দু চক্রবর্তী, আশ্রয়, দ্র. মিথিলেশ ভট্টাচার্য সংকলিত ও সম্পাদিত বরাক  কুশিয়ারার গল্প, মুখাবয়ব প্রকাশনী, কৃষ্ণনগর, আগরতলা, ওপি-১১১, প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি  ২০১১, পৃ. ০১।
২২. নির্মল দাশ, উত্তর-পূর্বের বাঙলা ছোটগল্প বীক্ষণ এক (পর্ব ত্রিপুরা), অক্ষর পাবলিকেশনস্, সঞ্জীব ভিলা, জগন্নাথবাড়ি রোড, আগরতলা, ত্রিপুরা ৭৯৯০০১, প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০১২, পৃ. ১৫৫।
২৩. মানস দেববর্মন, স্বপ্ন তব কুললক্ষ্মী, দ্র. অনুপ ভট্টাচার্য ও শুভব্রত দেব সম্পাদিত উত্তর-পূর্বের নির্বাচিত বাংলা গল্প, অক্ষর পাবলিকেশনস্, সঞ্জীব ভিলা, জগন্নাথবাড়ি রোড, ত্রিপুরা, পৃ. ১৬০।
২৪. কালিপদ চক্রবর্তী, তীর, পূর্বোক্ত উত্তর-পূর্বের নির্বাচিত বাংলা গল্প, পৃ. ১৭০।
২৫. দুলাল ঘোষ, আঁতুড়, দ্র. উত্তর-পূর্বের নির্বাচিত বাংলা সাহিত্য, পৃ. ২৯০।
২৬. তদেব, পৃ. ২৯১।
২৭. কিশোররঞ্জন দে, ভয়, দ্র. কিশোররঞ্জন দে, উৎসে আরোগ্য আছে, অক্ষর পাবলিকেশনস্, আগরতলা, ত্রিপুরা, প্রথম সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৯৯, পৃ. ৫০।
২৮. পূর্ণেন্দু ভট্টাচার্য, আলতা, দ্র. পূর্বোক্ত উত্তর-পূর্বের নির্বাচিত বাংলা গল্প, পৃ. ১২৮।
২৯. অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন উত্তর পূর্বের গল্প নির্বাচন সম্পর্কে । প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি এখানে নির্বাচনটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে করা হয়েছে। আলোচিত ও কম আলোচিত গল্পকার এসেছেন কারণ গবেষণা করতে গিয়ে প্রসিদ্ধ আলোকিত গল্পকারের জনপ্রিয় গল্প যেমন পেয়েছি, ঠিক তেমনি পেয়েছি বহু অনালোচিত অথচ ভালো গল্পকারের গল্প। বিষয়বৈচিত্র ও গল্পের আঙ্গিকের দিক থেকে সেসব গল্পও বেশ উন্নত অথচ কম চর্চিত। 


প্রকাশনা মঞ্চ 

আয়োজিত 
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা :২০২২

তারিখ :২২-২৩ অক্টোবর :২০২২
স্থান: আগরতলা প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তল অথবা স্টুডেন্ট হেলথ হোম,আগরতলা 
সময়:সন্ধ্যা :৫টা

শুভ উদ্বোধন করবেন:

 ★উপমহাদেশের অহংকার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন মহোদয়া। 

গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি

★ আনোয়ার হোসেন খান,বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ
★খুরশিদ আনোয়ার জসীমউদ্দিন, কবি,বাংলাদেশ
★রতনকুমার বিশ্বাস,ডিরেক্টর, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর, ত্রিপুরা 
★রাখাল মজুমদার, প্রকাশক,মৌমিতা প্রকাশনী,ত্রিপুরা
★কথাসাহিত্যিক বিমল চক্রবর্তী,কথাসাহিত্যিক 
★ গোবিন্দ ধর,সম্পাদক :প্রকাশনা মঞ্চ, ত্রিপুরা 
 ★জহর দেবনাথ, সভাপতি :প্রকাশনা মঞ্চ,ত্রিপুরা 

★থিম সংগীত পরিবেশন করবেন শাশ্বতী দাস।
★থিম সংগীতের কথা গোবিন্দ ধর। সুর শাশ্বতী দাস।পরিবেশন সহযোগিতা :রীতা পাল,উৎপলা বানার্জী
-------------------------------------------------
★ছয়টি বিভিন্ন বিষয়ে সম্মাননা প্রদান করা হবে। 
★প্রকাশনা মঞ্চ স্মারক সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে :
★উদ্বোধক উপমহাদেশের অহংকার কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন মহোদয়া ও
★বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান মহোদয়কে।
★খুরশিদ আনোয়ার জসীমউদ্দিন, কবি ও প্রাবন্ধিক, বাংলাদেশ 
★রমাপ্রসাদ দত্ত স্মৃতি লিটল ম্যাগাজিন সম্মান :২০২২ প্রদান করা হবে :
★নীলকন্ঠ :সম্পাদক :নিবারণ নাথ
★বহৃিশিখা:সম্পাদক :নিভা চৌধুরী 

★বিমল সিংহ স্মৃতি সম্মান :২০২২ প্রদান করা হবে :
★মধুমঙ্গল সিনহা,সম্পাদক :মঙ্গলদীপ,মহোদয়কে।
★আজীবন সাহিত্য সুকৃতি সম্মান:২০২২ প্রদান করা হবে :
★ড.মোজাহিদ রহমান মহোদয়কে।
★ত্রিপুরার শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা সম্মান:২০২২ প্রদান করা হবে :
★সপ্তপর্ণা:নিয়তি রায়বর্মন,মহোদয়াকে।
★তপন দেবনাথ স্মৃতি তরুণ কবি সম্মান :২০২২ প্রদান করা হবে :
★মাম্পি চন্দ মহোদয়াকে।
★উপস্থিত কবিদের কবিতা পাঠ থাকবে প্রথম সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে। 


সঞ্চালনা:শাশ্বতী দাস

★দ্বিতীয় দিন ২৩ অক্টোবর ২০২২ 

স্থান:আগরতলা প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তল অথবা স্টুডেন্ট হেলথ হোম
সময়:সকাল:৯টা

অনুষ্ঠান সূচী

★হোটেল বুকিং:২২ অক্টোবর  থেকে ২৩ অক্টোবর :বিশিষ্ট অতিথি দুজনের জন্য একটি রুম বুকিং করতে হবে।
★সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী হোটেল বুকিং করতে হবে।
★খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 
★চা টিপিনের ব্যবস্থা করতে হবে। 
★আগরতলা প্রেসক্লাব অথবা স্টুডেন্ট হেলথ হোম বুকিং করতে হবে  দুূদিনের জন্য।

★প্রোগ্রাম হল ও হোটেল বুকিং কমিটি

★শ্যামলকান্তি দে,গোবিন্দ ধর,নিয়তি রায়বর্মন,বিজন বোস,গৌরাঙ্গ সরকার

★অতিথিদের আগরতলা চেকপোস্ট থেকে বরণ করবেন ২২ অক্টোবর ২০২৩ সকাল:১০টা

★আপ্যায়ন ও খাদ্য কমিটি:
নিয়তি রায়বর্মন,শাশ্বতী দাস,শ্যামলকান্তি দে,রীতা পাল,গৌরাঙ্গ সরকার

★রেজিস্ট্রেশন:সকাল:৯টা
★রেজিস্ট্রেশন কমিটি: নিয়তি রায়বর্রমন, রীতা পাল,শাশ্বতী দাস,শাশ্বতী দেব

★টিপিন :সকাল:৯টা ৩০মি
★সকাল:১০টা
সূচনা সংগীত:অনিতা ভট্টাচার্য ও রীতা পাল। 

★দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান সূচনায় শিশুশিল্পীদের সমবেত  আবৃত্তি পরিবেশন:শ্রুতি, শিশুশিল্পীদের আবৃত্তি, আগরতলা, ত্রিপুরা 
সময়:১০টা-১০টা ৩০মি
★আলোচনা
প্রথম পর্ব:সকাল:১০টা ৩০ মি থেকে সকাল: ১১টা৩০ মি
★প্রুফ সংশোধন :আলোচক
★বিধান রায়
★মনোরঞ্জন দেববর্মা
★ড.রবীন্দ্রকুমার দত্ত 

★সঞ্চালক: অনাদি চৌধুরী, প্রাক্তন শিক্ষক, বয়েজ বুধজং দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়।

★দ্বিতীয় পর্ব:একটি ভালো বইয়ের বৈশিষ্ট্য ও গ্রন্থস্বত্ব 
সময়:সকাল:১১টা ৩০মি থেকে দুপুর:১২টা৩০মি
আলোচক
★দিলীপকুমার দাস
★বিমল চক্রবর্তী 
★পুরুষোত্তম রায়বর্মন

★সঞ্চালক:ড.নির্মল দাশ,অধ্যাপক বাংলা বিভাগ,ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় 

★চা পর্ব:দুপুর:১২টা৩০ মি থেকে দুপুর ১টা★

★তৃতীয় পর্ব :ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন 
সময়:দুপুর:১টা থেকে দুপুর ১টা ৪৫মি
আলোচক
★নকুল রায়
★মন্টু দাস
★শ্যামল বৈদ্য
★সনজিৎ বণিক
★সঞ্চালনা:বিজন বোস,সম্পাদক :মনু থেকে ফেনী 

★মধ্যহৃ ভোজন★সময়:দুপুর:১টা৪৫মি থেকে দুপুর:২টা ১৫ মি★

★চতুর্থ পর্ব: শতবর্ষে কথাসাহিত্যিক বিমল চক্রবর্তী 
সময়:দুপুর:২টা ১৫মি থেকে দুপুর ২টা ৪৫মি

আলোচক

★বিমল চক্রবর্তী
★জহর দেবনাথ 
★নিয়তি রায়বর্মন
★সঞ্চালক:অশোকানন্দ রায়বর্ধন,প্রাবন্ধিক, ত্রিপুরা 

★পঞ্চম পর্ব:ত্রিপুরার অন্যভাষা ভাবনা 
সময়:দুপুর:২টা ৪৫মি থেকে দুপুর ১
৪টা
আলোচক

★ক্রাইরী মগচৌধুরী
★অরুণ চাকমা
★মধুমঙ্গল সিনহা 

★সঞ্চালক:শ্যামলকান্তি দে, সম্পাদক:লুপূর
★সংগীত:শাশ্বতী দাস,ছিলোমিলো কথা শ্যামলকান্তি দে

★কবি সম্মেলন
সময়:সন্ধ্যা:৫টা থেকে রাত ৭টা
★সভাপতি :মন্টু দাস
★সহযোগিতা :গৌরাঙ্গ সরকার,সুচিত্রা দাস,জহরলাল দাস,সন্ধ্যা দেবনাথ, জগদীশ দেবনাথ, নিয়তি রায়বর্মন

★আবৃত্তি  :শ্রুতির শিশু শিল্পীবৃন্দ 
★স্মৃতা ভট্টাচার্য, ড.মোজাহিদ রহমান, পঞ্চালী রায়
★সঞ্চালনা: শাশ্বতী দাস



আমাদের প্রকাশনা মঞ্চ

★উপদেষ্টা কমিটি 

উষারঞ্জন ভট্টাচার্য 
সেলিনা হোসেন 
তপোধীর ভট্টাচার্য 
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
বীথিকা চৌধুরী 
বিমল চক্রবর্তী 
শ্যামল বৈদ্য
অশোকানন্দ রায়বর্ধন

 ★কার্যকরী  কমিটি 

(ক)প্রবাহ: জহর দেবনাথ :সভাপতি 
(খ)মো:সক ক্রে(মগ): ক্রাইরী মগচৌধুরী:সহ সভাপতি 
(গ)স্রোত: গোবিন্দ ধর:সম্পাদক 
(ঘ)ভুবনডাঙা:জহরলাল দাস:সহ সম্পাদক
(ঙ)মনু থেকে ফেনী:বিজন বোস:কোষাধ্যক্ষ 
(চ)সুবোধঃশাশ্বতী দাস: সদস্য
(ছ)নীলকন্ঠ: নিবারণ নাথ : সদস্য 
(জ)লুপুর:শ্যামলকান্তি দে :সদস্য 
(ঝ)সমস্বর: ড:শ্যামোৎপল বিশ্বাস: সদস্য

জেলা কমিটি

★ঊনকোটি 

অন্যভূমি: অনিতা ভট্টাচার্য 
উন্মেষ: নির্মল দত্ত 

★উত্তর ত্রিপুরা

ফুরবারেঙ:অরুণকুমার চাকমা 
মঙ্গলদীপ: মধুমঙ্গল সিনহা

★ধলাই

অপরাজিতা:সুচিত্রা দাস
প্রয়াসী: সন্ধ্যা দেবনাথ 

★পশ্চিম ত্রিপুরা 

সপ্তপর্ণা: নিয়তি রায়বর্মন
নবোন্মেষ:গৌরাঙ্গ সরকার 


★খোয়াই

এক বিন্দু আলো সাহিত্য অঙ্গন:সুশীলচন্দ্র গোপ 
ঊনকোটি:জগদীশ দেবনাথ 

★সিপাহিজেলা

মোহনা:কাজী নিনারা বেগম 
অন্যপাঠ: গৌরব ধর 

★গোমতী

বহৃিশিখা: নিভা চৌধুরী 
বইবাড়ি:সুমিতা পাল ধর

★দক্ষিণ ত্রিপুরা 

মনু থেকে ফেনী:বিজন বোস
জলেফা :ঝুটন শর্মা

★আমাদের সদস্য প্রকাশন সংস্থা

স্রোত.বইবাড়ি.অন্যপাঠ.দোলনা.যাপনচিত্র.কবিতাঘর.মনু থেকে ফেনী.অন্যভূমি.সপ্তপর্ণা.বনতট.বহৃিশিখা.উন্মেষ.ঊনকোটি.প্রয়াসী. জলীয় সংবাদ.আলো.শব্দনীল.ভুবনডাঙা.শাব্দিক.শ্যাডোক্রাফ্ট.নবোন্মেষ.নীলকণ্ঠ.পাথেয়.প্রবাহ.এক বিন্দু আলো সাহিত্য অঙ্গন.মোহনা.অনুস্বর. জলেফা.অনিকেত


★আমাদের অন্যভাষা প্রকাশন

লুপূর(ছিলোমিলো) .ঝুমুর(ছিলোমিলো) .ফুরবারেঙ (চাকমা) .মো:সক ক্রে(মগ).মঙ্গলদীপ(বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ও বাংলা )

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ