অন্যভূমি:পঞ্চম বর্ষ:চতুর্থ সংখ্যা :অক্টোবর :২০২২



অন্যভূমি
পঞ্চম বর্ষ:চতুর্থ সংখ্যা :অক্টোবর  :২০২২

সম্পাদক 
অনিতা ভট্টাচার্য 

প্রচ্ছদ 


নামলিপি
শুভদীপ সেনশর্মা
নামকরণ 
গোবিন্দ ধর 

যোগাযোগ 
রবীন্দ্র পল্লী 
কুমারঘাট :৭৯৯২৬৪
ঊনকোটি, ত্রিপুরা 

কথা:৭০০৫৪১৯৩৬৫


মূল্য :১০টাকা



----------------------------------------



সূচী

অ|ন্য|ক|থা

প্র|ব|ন্ধ 


ছো|ট|গ|ল্প

জীবন-দীপ:অনিতা ভট্টাচার্য 

ক|বি|তা

গোবিন্দ ধর 
প্রসেনজিৎ রায়
নুরুন্নাহার শিরীন
প্রণব চৌধুরী 
শাশ্বতী দাস


সম্পাদকীয় 

বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিটি মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুৎ অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায় ৷সমাজের বেশীরভাগ মানুষ আগের মতো ,একে অপরের সাথে খোলাখোলিভাবে মিশতে পারে না ৷ভোগকেন্দ্রিক সমাজ ব্যাবস্থায় মানুষ আজ লোভ -লালসার শিকার ৷মানুষের এখন চাহিদার শেষ নেই ৷সহজ-সরল জীবন যাত্রা এখন আর খুব একটা দেখা যায় না ৷ধনী থেকে গরীব প্রতিজনের মধ্যেই অর্থ উপার্জনের চেষ্টায় হন্যে হয়ে ঘোরাঘোরির ফলে সময়ে বড়ই অভাব ৷আকাশ ছোঁয়া জিনিসের দাম ,আর চাহিদার সাথে যোগানের বিস্তর ফারাক  থাকায় মানুষ আজ নাজেহাল ৷একটি পরিবারের প্রতিটি সদস্যকেই সামান্য রোজগারের পেছনে দৌঁড়তে হয় ৷যার ফলে মানুষের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠার অবকাশ নেই ৷অকপট সরলতা বা সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের ঘাটতি ৷বই এর মতো এমন অমূল্য সাথীকে কতিপয় মানুষ আজ ছুঁতে ও চায় না ৷ ছাত্র সমাজের  বেশীরভাগ ছাত্রদের পাঠাভ্যাস কেবলমাত্রপরীক্ষার সিলেবাসমুখী ৷এর বাইরে যে সাহিত্যচর্চা বা মণনশীলতা এসব এখন খুব কম দেখা যায় ৷ডিজিট্যাল মাধ্যমেই আজকের পড়ুয়ারা আসক্ত ৷এভাবে চলতে থাকলে ,এমন একটি দিন আসবে যখন ছাত্ররা ,শরৎচন্দ্র ,বঙ্কিমচন্দ্র এঁদের মতো গুণীজনকে হয়তো চিনতে পারবে না ৷অর্থের চাহিদার বাইরেও যে সাহিত্যচর্চা করে বা জ্ঞান অর্জন করে মনের প্রশান্তি বাড়ানো যায় তা  হয়তো ছাত্রদের অজানাই থেকে যাবে ৷নেশার কবলে পড়ে যুব সমাজের  বেশ কিছু যুবকের চরম  অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ৷এদের কে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যে কোন পন্থা অবলম্বন না করলে বা ন্যূনতম রুটি-রুজির ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে সমাজ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে ৷সুস্থ সংস্কৃতির পরিসরে এদেরকে নিয়ে আসা প্রয়োজন ৷
  এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে ,অত্যন্ত স্বল্পপরিসরে ম্যাগাজিনটি প্রকাশ করার উদ্যোগী হয়েছি ৷যারা ,নিজেদের অমূল্য সময় ব্যয় করে নিজেদের লেখা দিয়ে ,বা সর্বতোভাবে  সাহায্য করে  ম্যাগাজিনটিকে উৎকর্ষমন্ডিত করেছেন ,তাদের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ৷
    

ছো|ট|গ|ল্প|ছো|ট|গ|ল্প|ছো|ট|গ|ল্প|ছো|ট|গ|ল্প 

জীবন-দীপ
অনিতা ভট্টাচার্য্য

পৌষ সংক্রান্তির রাতে, শর্মিদের পাড়ায় ,প্রতিবারের মতো এবারও পিকনিক হবে ৷শর্মি অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল ও মিশুকে প্রকৃতির ৷ওর গায়ের রঙ শ্যামলা ৷দেখতেও খুব একটা সুশ্রী নয় তবুও পাড়ার সবাই ওকে খুব ভালবাসে ৷খুব ছোটবেলা থেকেই ওকে সংসারের অনেক কাজ করতে হতো কারণ ওর মা প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকতেন ৷পড়ার ফাঁকে ফাঁকে নিয়মিত গরুর ভূষি,খড় ইত্যাদি জাল দেওয়া ,ওঠোন ঝাট দেওয়া ,ভাত রান্না করা ,ঘরের যাবতীয় কাজ,ওকে করতে হতো  ৷এত কাজের মধ্যেও ওর মুখে সবসময় হাসি লেগেই থাকতো ৷সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা ,তাই পড়ার চাপ ও বেশী ৷তবুও আজ যেন সে খুব উৎফুল্ল ৷আজ সকাল থেকেই সে খুব আনন্দোচ্ছল ৷রাতে পাড়ার বন্ধু -বান্ধবীদের সাথে খুব মজা করে খাওয়া দাওয়া করবে ৷বৎসরের এই একটা দিন যেন সে স্বাধীনতা পায় ৷ওর বাবা মা ওকে কোথাও বের হতে দেন না ৷এমন কি ওর মা মামার বাড়িতে গেলেও ওকে নিয়ে যান না ৷ কারণ সংসারের পুরো দায়িত্বটা ওর  ঘাড়েই পড়েছে ৷ওর বাবা ওকে খুব শাষন করেন ৷ছোট ভাইটা ও বাবার মতোই ওকে শাষন করে ৷এমতাবস্থায় আজ যেন শিহরণ অনুভব করছে ৷
সন্ধ্যে হতেই শর্মি ,বান্ধবীদেরকে সঙ্গে নিয়ে পিকনিকের জায়গায় গেল ৷ গিয়েই সবার সাথে কাজে হাত লাগায় ৷সাউন্ড বক্সের গানের সঙ্গে নাচতেও থাকে ৷ তারপর বেশ আনন্দের সাথেই কাজকর্ম চলতে থাকে ৷ যখন রাত  প্রায় বারোটা তখন শর্মির বাবা ওকে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন কিন্তু শর্মিকে সেখানে দেখতে পান না ৷সবাই বল্ল —ওকে তো একটু আগেই দেখেছি ,এখন সে কোথায় গেল?
বাবাতো রেগে আগুন হয়ে বল্লেন —কোথায় গেল মেয়েটা ,একবার হাতের কাছে পাই ,আজ ওর একদিন কি আমার একদিন !
তিনি সারা পাড়া ঘুরেও মেয়ের দেখা পেলেন না ৷দুশ্চিন্তার আর শেষ রইল না ৷ তিনি বাড়ীতে গিয়ে ওর মাকে বলা মাত্রই ,মা সেখানে এসে মেয়েকে দেখতে পেলেন না ৷তিনি চিন্তায় -ভাবনায় অস্থির হয়ে ওঠলেন ৷এমন সময় একটি মেয়ে বল্ ল —আমি তো শর্মিকে একবার টিংকু মামার সাথে দেখেছিলাম ৷সঙ্গে সঙ্গেই শর্মির মা টিংকুদের বাড়ীতে খোঁজ করতে গেলেন ,তখন রাত প্রায় দুটো ৷টিংকু হলো শর্মির দিদার জা এর বোনপো ,সেই অর্থে টিংকু ,শর্মির মামা ৷টিংকু ,শর্মির থেকে মাত্র দুই বৎসরের বড় ৷ভীষণ দুশ্চিন্তায়  শর্মির মা ,মাসীকে টিংকুর খোঁজ করলেন ৷মাসী বল্লেন —  নারে টিংকু তো ঘরে ঘুমোচ্ছে ৷
এবার শর্মির মা দিশেহারা হয়ে পাড়া দুটি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চারিদিকে খুঁজতে লাগলেন ৷এত রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কোথায় যে মেয়েকে খুঁজবেন বুঝতে পারলেন না ৷এদিকে মেয়েটির ফিটের ব্যামো আছে ৷বেশী ভয় ও উত্তেজনায় মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায় ৷এমনিতেই কনকনে ঠান্ডায় হাত পা অসাড় হয়ে আসছে ৷খুঁজতে খুঁজতে টিংকুদের বাড়ীর পেছনেই একটি ছড়া(ছোট নদী) ,আছে ,ওনারা সেখানে গেলেন ৷বড় টর্চের আলো দিয়ে খুঁজতে খুঁজতে দেখা  গেলো ছড়ার পাড়েই একটা মানুষের মতো দেখা যাচ্ছে৷তাড়াতাড়ি ওরা সেখানে গিয়ে দেখেন যে শর্মি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে ৷ওর হাত পা ঠান্ডায় হিম্ হয়ে আছে ৷তারপর ওর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন ভোর হয় হয় ৷উনারা শর্মিকে বাড়িতে নিয়ে আসলেন ৷

বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ,শর্মির বাবা ওকে মারতে আসলেন৷তখন মা বল্লেন ,—একটু রক্ষে করো ,মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল৷ এখন ওকে কিছু বলো না ৷সকাল হলেই সবকিছু জানতে পারবো ৷
মেয়েকে ঘরে খাটের মধ্যে শুইয়ে দিয়ে মা চুপচাপ বসে রইলেন ৷ভাবতে লাগলেন  ,মেয়েটা এত দূর গেলো কি করে ?নিশ্চয়ই কোনো অঘটন ঘটে গিয়েছে ৷কিন্তু মেয়ের মুখ দেখে  কিছু বলতে পারলেন না ৷
মা নিজের ঘরে একটু বিশ্রাম করতে চলে গেলেন ৷ মাচলে যাওয়ার পর শর্মি কাঁদতে শুরু করলো ৷আজ যে তার জীবনে চরম অঘটন ঘটে গেছে ৷সে রাগে-দুঃখে পাগলের মতো হয়ে গেলো ৷
এমন সময় ছোট ভাইটা এসে বল্ল— এই সর্বনাশী ,এই পোড়া মুখটা কি করে মানুষ কে দেখাবি?
শর্মি তখন লজ্জ্বায় -ঘৃণায় শিউরে ওঠলো ৷সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলো ৷ ৷ঘরে ,খাটের নিচেই কেরোসিনের ড্রাম ছিল ৷সে সবটুকু কেরোসিন নিজের গায়ে ঢেলে দিলো ৷তখন সে দিগ্ বিদিগ্ জ্ঞানশূণ্য হয়ে মেচ্ জ্বালানো মাত্রই সারা গায়ে আগুন ধরে গেলো ৷সে খাটের নিচে ঢুকে ,অসহ্য যন্ত্রনায় চিৎকার করতে শুরু করলো ৷পাশের ঘর থেকে বাবা  চিৎকার শুনে কোন রকমে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখেন,ওর সারা শরীরে আগুন ৷ওকে খাটের নিচ থেকে বের করতে পারছেন না ,ওর বুক ফাটা আর্তনাদে বাবা ওর গিয়ে জল ঢেলে দিলেন ৷ মেয়ে অত্যন্ত  জ্বালা -যন্ত্রনায় মেঝেতে ফেলা জল জিভ দিয়ে চাটতে লাগলো ৷ অতিকষ্টে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে অনেকটাই পুড়ে গেলেন ৷তবুও শেষ রক্ষা হলো না ৷মমেয়েটি অস্ফুট স্বরে বলতে লাগল —টিংকু মামা কেন তুমি এরকম করলে ? তারপরেই সে আবার অজ্ঞান হয়ে গেলো ৷ওকে হাসপাতালে  নিয়ে যাওয়ার পর সেকি বিভৎস চেহারা শর্মির ৷সারাটা শরীর পুড়ে গেছে ৷ঘুমের ইন্জেক্সন দেওয়ার পর ও চিৎকির থামানো যাচ্ছেনা ৷বিড় বিড় করে শুধু বলে যাচ্ছে —টিংকু মামা কেন এরকম করলে ৷টিংকু এত  বড় শয়তান যে ,শর্মিকে অজ্ঞান অবস্থায় রেখে ,ঘরে এসে ঘুমের ভান ধরে শুয়েছিল ৷মেয়েটির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেও ওর শান্তি হয়নি ৷এতটাই নির্মম যে  মেয়েটির প্রতি ন্যূনতম মমত্ববোধ দেখালো না ৷ এই পাষন্ডের ভুলের জন্যেই আজ শর্মির জীবন-দীপ ক্ষীণ হয়ে আসছে ৷  অসহ্য মানসিক-শারীরিক যন্ত্রণায়  ফুলের মতো নিষ্পাপ মেয়েটির জীবন অকালে ঝরে গেলো ৷


ক|বি|তাক|বি|তাক|বি|তাক|বি|তাক|বি|তা


ভালোবাসা,গভীর প্রত্যয়
গোবিন্দ ধর 

ভালোবাসা মানে পাশাপাশি বসে 
গল্পে মেতে থাকা।
ভালোবাসা মানে কাছাকাছি থেকে
হাতে হাত রাখা। 

ভালোবাসা মানে আমার অসুখে
তুমি উপশম।
ভালোবাসা মানে তোমার অসুখে
আমি উপশম। 

ভালোবাসা মানে পরস্পর পরস্পরকে 
আঁকড়ে বেঁচে থাকা।
ভালোবাসা মানে পরস্পর পরস্পরকে 
সমৃদ্ধ করে রাখা।

ভালোবাসা এক গভীর প্রত্যয়
গভীর অনুভব।
ভালোবাসা মানে সুখে থাকা সকালে
পাখির কলরব।

ভালোবাসা মানে জীবনের নিকট
আরো প্রত্যাশা।
ভালোবাসা মানে পরস্পর শুধুই 
ভালোবাসা।

ভালোবাসা মানে আপত্যস্নেহ প্রেম 
পাশাপাশি থাকা।
ভালোবাসা মানে জীবনের গল্পে
পরস্পর হাত রাখা।

রোজনামচা
প্রসেনজিৎ রায়

অভাগী হুল্লোড়ে চাপা পড়ে শহরের আর্তনাদ,
আচমকা জৌলুস হারায়  ব্যস্ত প্রাণের নিষাদ,
নীরবতা ভাঙ্গে বাঁধ অনিচ্ছার গা-ঘেঁষে,
মৃত্যুপুরী সাজে অহরহ জীবিত শহুরি বেশে |
নখদন্তে লেগে থাকে তোমার রক্তের দাগ,
পোষাক জুড়ে রীতিমত মিছে আদুরে সোহাগ,
পার্কস্ট্রিটের রাস্তার মোড়ে দমকা হাওয়ার তোপ,
তবু ভীষণ একলা থাকা বুঝি মানসিক অসুখ |
ফুরিয়ে যায় উনুনের গ্যাস আপেক্ষিক অভিমানে,
সময় জানায় সেও ফুরোলো আমার কানে কানে,
ছুরির ফলায় লেগে থাকা তরকারি বিকোয় বেশি দামে,
ব্যর্থ প্রেমিক মাতাল সাজে রাতে উইস্কি আর রামে |
তোমার  আবার পরিপাটি সংসার সম্পর্কের উষ্ণতা বুঝে,
আমার দুর্ভিক্ষের বুকের আগুন একটু শীতলতা খুঁজে |
অভাবি আমার ইচ্ছে  উঁকি মেরে একটা নরম বুক চায়,
কালো দিনের অভিজ্ঞতার নিরিখে বোকা মনটা ভিরমি খায় |
চোখ পড়ে দেওয়াল ক্যালেন্ডারের লাল দাগানো দিনে,
বেশ কাটছে দিন গুলো কিচেন মেনুর শুকনো পেঁয়াজ- বিনে,
খোলা ফাইলের কাগজগুলো অসাবধানতায় হাওয়ায় উড়ে,
 পড়ে থাকে বেহায়া মূহুর্ত উপেক্ষায় স্মৃতিকুঞ্জ জুড়ে...


অজানার মায়াজাল 
নুরুন্নাহার শিরীন 
         
 সেইসব কুসুমিত কালে 
 আমাদের দিনরাত ভেসে যেতো রঙধনু লালে। 
যখনতখন সখীদের ডাকে 
ছুটে যাওয়া হাওয়া যেন ছুঁয়ে দিতো নীলিমা কে। 
গল্পের সীমা নেই 
হাসিও অবাধ ঝালমুড়ি মুঠিমুঠি ...  
কোণে বসা বুড়ি 
মায়ের ছেলেও ভাগ পেতো দুইমুঠি। 
অনাবিল কৈশোর আহা 
ইস্কুল শেষে দুধমুড়ি মাখা 
মায়ের হাতের জাদু 
আঁচলের ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে থাকা। 

আহ দিনগুলো হায় 
ছুটন্ত রেলগাড়ির লাহান ...  
আমরাও জীবনেরই নিয়মে 
কে কোথায় হারালাম। 
সেই শুরু অজানায় 
অভূত জটিল পথে 
পা বাড়িয়ে ভেসে 
যাওয়া কত কী 
আঁকাবাঁকা স্রোতে। 
একে একে সরে গেলো 
মাথার উপর থেকে 
মহীরুহ যত 
ছায়াহীনতায় কুঁকড়ে যাওয়া 
চাঁদমুখ মানবীর মতো। 


আমার গ্রাম 
প্রণব চৌধুরী

খোয়াই নদীর পূর্ব পাড়ে
সবুজ ধানের মাঠের ধারে
আসতে যেতে বাসে চড়ে
তাকাই বারে বারে।
ওই খানেতে ঘুমিয়ে আছে আমার বাল্য কাল,
অনেক সুখ, অনেক দুখ্
অনেক স্মৃতির জাল 
ছড়িয়ে আছে মাঠে ঘাটে
সবুজ ঘাসের চিত্র পটে
আম জাম আর কাঁঠাল বনে
হলুদ পথের ধুলোর সনে ।
ভুলা কি যায় তারে?
সে যে আমার গ্রাম খানা ভাই,আছি তাকে ছেড়ে।
       কানে বাজে এখনো তার কীর্তনের সুর,
খোল করতাল একতারা আর ঢুলকের বোল।
 বৈষ্ণব সেবা,ত্রিনাথের আসর ,এখনো প্রান কাড়ে,
ইচ্ছে করে গ্রাম খানাতেই যাই আবার ফিরে।
ইচ্ছে করে গ্রামের হাওয়ায় খুজি সহজ আনন্দ,
উঠোন ভরা চাঁদের আলোয় ঘুচাই প্রানের দ্বন্দ্ব।
লালছড়া,খোয়াই, ত্রিপুরা


শূন্যের মাঝে পূর্ণ 
শাশ্বতী দাস 

শূন্যে যদি শূন্যতা না থাকতো, 
তাহলে পূর্ণতা কিভাবে আসতো! 
এত মেপে ঝোঁকে কালিদাস হওয়া যায় না, 
মাপতে গেলে ভালোবাসার এককও ঠিক হয় না। 
ভাষা মুখে না'ইবা থাকলো
বুকের ভাষাই নির্ভেজাল ভালো। 
উলঙ্গ আকাশটা সব্বাইকে টানে, 
সে যে মেঘকে ভালোবাসতে জানে।
শরতের আকাশে প্রেমের লুকোচুরি, 
গন্ধ বিলায় শুধু শিউলির ঘুড়ি। 
ভালোবাসা পারে মনের তালা ভাঙতে, 
বুকের বর্ণমালায় রঙ ঢালতে। 
মাটির শরীরে মিশে ভালোবাসার অঙ্কুর, 
উঁকি দেয় আকাশের পানে, 
সে ও ছুঁতে চায় প্রকৃতির টানে। 
নকশীকাঁথার সূতার অলঙ্কারে
কতইনা প্রেম লুকিয়ে আছে । 
সে হিসাব কে রাখে! 
মায়া মাখা শরীরের বরফ গলে
স্রোতস্বিনী নদীর বুক থৈথৈ সোহাগ জাগে। 
বনবাসী বৃক্ষের লজ্জা নিবারণ বল্কল,
মরুমায়ায় তৃষ্ণার্ত পথিকের আত্মবল। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ