অনিকেত :প্রথম সংখ্যা প্রথম বর্ষ:অক্টোবর ২০২২

অনিকেত 
প্রথম সংখ্যা :প্রথম বর্ষ:অক্টোবর ২০২২


সম্পাদক 
রীতা পাল 

সূচীপত্র 

সম্পাদকীয় 

গল্প: ছোটগল্প :অণুগল্প 

পিউর দান:সমীর আচার্য
সারোগেট মা:শুভ্রা সাহা

কবিতা

গোবিন্দ ধর 
রীতা চট্টোপাধ্যায় 
মনীষা পাল গুপ্ত 
জবা পাল 
শাশ্বতী দাস 
সুস্মিতা দেবনাথ
নীলাপদ বণিক
রূপসী দাস
শাশ্বতী দেব 
চিন্ময় চক্রবর্তী 
ভুলুকুমার দেববর্মা
উৎপলা গোস্বামী মুখার্জি 
রীতা পাল 

সম্পাদকীয় 

একটি লিটল ম্যাগাজিন অনিকেত।রাজ্যের বহিঃরাজ্যের দেশের বিদেশের কিছু কবিতা নিয়েই প্রথম সংখ্যা প্রথম বর্ষ প্রকাশ হলো দ্বিতীয় ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা :২০২২ মেলায়।প্রকাশনা মঞ্চের এই আয়োজনে উপস্থিত সকল গুণীজন অনিকেতের এই প্রকাশ মুহূর্তকালকে স্মরণীয় করে রাখলেন। আমরা ত্রিপুরার সাহিত্যে একটি সলতে উসকে দিতে হয়তো মাঝে মাঝে প্রকাশ করবো আমাদের সাহিত্য। সকলের ভালোবাসা পেলে আমরা ঋদ্ধ হবো।


গ|ল্প:ছো|ট|গ|ল্প :অ|ণু|গ|ল্প গ|ল্প:ছো|ট|গ|ল্প :অ|ণু|গ|ল্প 


ছোটগল্প 

পিউর দান
সসীম আচার্য

দুপুর দুটো বাজে। ছোট্ট পিউ ঘরের জানলা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মা বাবা দুজনেই  অফিসে চলে গেলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত  পিউকে কাজের মাসি মালতির কড়া হুকুমেই চলতে হয়। ঘর থেকে বেরোনোর কোনহুকুম নেই পিউর। প্রতিদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর পিউকে ঘুমোতে কড়া হুকুম দিয়ে নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে মালতি মাসি। পিউর ঘুম আসে না। বিছানায় শোয়ে নাটক করতে হয়। মালতি মাসি নাক ডাকা শুরু করতেই পিউ জানালার গ্রীল ধরে বাইরের জগতে হারিয়ে যায়।  সারাদিনের এই বন্দী জীবন অসহ্য লাগে তার।  পথের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে রাস্তার লোকগুলোর কত মজা , যখন যেখানে খুশি চলে যেতে পারছে। সে বড় হলে মা তাকে এই ভাবে ঘুরতে দেবে তো? হঠাৎ পিউ দেখে একটি মেয়ে পিঠে বড় ঝোলা নিয়ে কি সব যেন কুড়িয়ে কুড়িয়ে পিঠের ঝোলাতে রাখছে। পিউর সঙ্গে চোখাচোখি হতেই পিউ তাকে কাছে ডাকে। মেয়েটি কাছে আসতেই পিউ জিজ্ঞাসা করে - তুমি একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছো,  তোমার খুব মজা তাই না ?মেয়েটি বলে   - আমার তো কেউ নেই , বাড়ি নেই  ঘর নেই তাই আমি রাস্তাতেই থাকি।  পিউ- ইস আমার যদি তোমার  মত বাড়ি না থাকত কি মজা হতো।  এবার মেয়েটি জিজ্ঞাসা করে - তোমার নাম কি গো?  আমার নাম পিউ, তোমার নাম কি? মেয়েটি - আমি হলাম রাণীবালা । পিউ - রাণীবালা তুমি আমার বন্ধু হবে?  মেয়েটি - দেখো না আমি  গরীব, ছেঁড়া জামা , তোমার বাবা মা তোমাকে আমার বন্ধু হতে দেবেন কেন? পিউ - তুমি দাঁড়াও আমি আসছি। পিউ ফিরে এসে রাণীবালার হাতে
দুটো জামা তুলে দিয়ে বলে - রাণীবালা এই দুটো জামা তুমি পড়বে। রাণীবালা - এত সুন্দর জামা তুমি আমাকে দিয়ে দিলে, তোমার মা বকবে না ? পিউ- আমার অনেক জামা  কিনেছি পুজোর জন্য। এই দুটো জামা তুমি পুজোতে পড়বে কেমন! রাণীবালা পিউকে টাটা দিয়ে নাচতে নাচতে কাল আবার আসবে বলে চলে যায়।
রাতে ভয়ে ভয়ে পিউ মাকে সব ঘটনা খুলে বলে। মা'র গম্ভীর মুখ দেখে পিউ ভয় পেয়ে যায়। পিউ ভয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। মা ধীরেধীরে  কাছে এসে পিউর মাথায় হাত রেখে বলে- পিউ আগামীকাল তোমার বন্ধু রাণীবালা এলে তাকে বলবে নতুন জামা পরে সে যেন তোমার সঙ্গে পুজো দেখতে বেরোয়।মায়ের কথা শুনে পিউ আনন্দে নেচে উঠে ।  মায়ের চোখ জলে ভরে যায় - মনে মনে ভাবে - পিউ রাণীবালাকে জামা দিয়ে যে  আনন্দ পেয়েছে এই খুশি সে মা হয়ে কোন কিছুর বিনিময়ে  পিউকে দিতে পারবে না!

অণুগল্প 

সারোগেট মা
শুভ্রা সাহা

উৎপলা দুদিন ছুটি কাটিয়ে আজ হাসপাতালে যায়।ওর ডিউটি ওটিতে। ডক্টর দ্বীপ মালার সঙ্গে প্রায়ই ডেলিভারি কেস গুলি হ্যান্ডেল করতে হয় সিনিয়র নার্স হিসেবে। ডক্টর দীপ মালা  বেশ অমায়িক স্বভাবের। উৎপলা কে নিজের মায়ের মতো শ্রদ্ধা করে। বেশি পরিশ্রম করলে বলে, -"দিদি এখন বিশ্রাম করা তো ।বাকি কাজ গুলি পড়ে করবে।"
একটু হেসে উৎপলা বলে -" কতদিন আর কাজ করব। চাকরি তো প্রায় শেষের পথে। যে ক'দিন আছে করে নি।" 
উত্তরে দীপমালা বলে -" কেন দিদি তোমাকে বলেছি না চাকরি শেষে আমার কাছে, আমার চেম্বারে নিয়ে যাব।সেখানে কাজ করবে।যদি কাজ করতে ভালো লাগে।"
  উৎপলা  কোন উত্তর করে না।কি বা বলবে।দীপ মালা ওর সন্তানের বয়সী হবে।আজ কত বছর আগের কথা। কিছুতেই ওকে উৎপলা ভুলতে পারছে না।প্রায় 35 বছর তো হবেই। উৎপলার. প্রতিটি মূহুর্ত ওর ভাবনায় মন ভরে থাকে  । কি  নাম রেখেছে ওরা কে জানে ! কোথায় বা থাকে তাও জানেনা উৎপলা।চেষ্টা করাও বারণ। কারণ সর্তটাই  তো  এরকম ছিল।নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি যারা উৎপলা কে সাহায্য করেছে।ওর পড়ার খরচ দিয়েছে।ওর ভাইয়ের পড়ার খরচ দিয়েছে।ওর মার সম্পূর্ণ চিকিৎসা করিয়েছে। পরিবর্তে ওদেরকে একটি সন্তান উপহার দিতে হয়েছে।কেউ জানে না সেই রহস্য। আজও স্বপ্নের মত মনে হয়।ওকে সেই ডাক্তার দম্পতি একটা বড় হসপিটাল এ নিয়ে গিয়ে কি যেন পুস্ করলো।ও সন্তানসম্ভবা হলো।তারপর দূরে একটি বড় বাড়িতে খুব যত্ন করে ওকে ওরা 9 মাস রাখল। যেদিন সন্তান প্রসব করল তার এক মাস পরে ওকে বিদায় করে দিল।সন্তানটিকে ওরা রেখে দিল।সে মেয়ে সন্তান ছিল।ওরা খুব খুশি ছিল। আর কুমারী উৎপলা সেদিন সেখান থেকে যেন পালাতে পারলে বাঁচে। কিন্তু নিজের বিয়ের পর যখন কোনদিন আর মা হতে পারে নি।তখনই বুকটা ওর জন্য ব্যথায় ভরে ওঠে।কান্নায় চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে। আজও ওকে ভুলতে পারে নি।
-" কি ভাবছো দিদি।"
  দীপ মালার ডাকে উৎপলার সম্বিৎ ফিরে আসে।
-বলে  -"না কিছু না।আজ তো চাকরির শেষ দিন, তাই পুরনো দিনের কথা মনে পড়ছে।"
   দীপমালা  --" আজ তোমাকে আমি ছাড়ছি না।আমার বাড়িতে নিয়ে যাব।আমার চেম্বার দেখাবো। আমার মার সঙ্গে দেখা করাবো। আমার বাবা বেঁচে থাকলে,তোমাকে দেখলে খুব খুশি হতো।বাবা নার্সদের খুব শ্রদ্ধা করতেন। মাও করেন। সদিন উৎপলার বিদায় অনুষ্ঠানএর পর দীপ মালা  নিজের গাড়িতে করে,উৎপলাকে বাড়ি নিয়ে যায়।উৎপলাকে দীপ মালা ড্রয়িংরুমে বসতে বলে, ভেতরে মাকে ডাকতে যে চলে যায়।উৎপলা সুসজ্জিত ড্রয়িং রুমের এক কোনায় টেবিলের উপর স্বামী স্ত্রী ও বাচ্চা কোলে একটি ছবি দেখে এগিয়ে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। ছবিটি খুব চেনা।সেই ডাক্তার দম্পতি আর সে।পেছন দিকে দীপ মালাওর মা আর মেয়েকে নিয়ে এসে দাঁড়াল।  
দীপমালা  বলল -"দিদি,মা বাবার সঙ্গে এটা আমি।"
 দীপ মালার মা  উৎপলা কে  দেখেই চমকে উঠে। সেই মুহূর্তে উৎপলার কাছে মনে হলো পৃথিবীটা যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে। ও হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হলো না।

ক|বি|তা ক|বি|তা ক|বি|তা ক|বি|তা ক|বি|তা ক|বি|তা 

অগ্নিকন্যা 
গোবিন্দ ধর 

একটি দেশ গঠনে আপনি বারবার সজাগ ছিলেন
ঋণ পরিশোধে প্রতিজ্ঞা আপনার।
অসংখ্য নুড়ি পাথর আর ভাঙা সেতু পেরিয়ে
মানুষ ও সভ্যতাকে দিয়েছেন নিরাপত্তার চাদর।

দেশের সকল মানুষের নিকট সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য 
আপনি মন প্রাণ সঁপে দিয়ে কাজ করেন রাত-দিন। 
এ দেশের প্রতিজন আপনার হৃদয়ের সম্পদ
সকলের সুখে- দুঃখে আপনি মাতৃসমাজন।

এত পিচ্ছিল পথ পরিক্রমণ করতে করতে 
শান্তির নীড় গড়ার স্বপ্ন আঁকেন আপনি।
পিতৃঋণ লেগে থাকা রক্তের বর্ণে, বুকের
ভেতর ভালোবাসার মানচিত্র এঁকেছেন আপনি।


রীতা চট্টোপাধ্যায়

 ঢেউ তোলা শ্বাস বক্ষতলে, 
ঘনীভূত স্বৈরীগুলো, চাপা অহংকারে,
ভাগাভাগি ক'রে নেয় বিষণ্ণতাকে,
ঐ দূরে পাড়-ভাঙ্গা ধূসরতার আড়ালে,
ম্রিয়মাণ  জলরং থমকে থাকা বাষ্পকে,
নিবিষ্টচিত্তে সরিয়ে নিয়ে যায়।
ঝাপসা বিস্মৃত বারিকণা,
জড়ানো বিক্ষিপ্ত হতাশাকে উন্মেষ করে,
নগ্নতার বিচ্যুতির আড়ালে ছায়াসঙ্গী হয়,
অজ্ঞাত মৃত্যুকে উপেক্ষা করার জন্য।


আড়ালে 
মনীষা গুপ্ত পাল 

মেঘ দেখে ভয় পেয়ো না 
আড়ালে তার সূর্য আছে ।

সূর্যের প্রখর তাপে হয়তো দিশেহারা পৃথিবী গলছে---
গলছে অবিরাম।
 জেনো, তার আড়ালেও ছায়া আছে।

 যুগ যুগ ধরে বয়ে চলেছে যে নদী হঠাৎ তারই রণমূর্তি ,
ভাসিয়ে দেয় বসতি।

  তবে তার আড়ালে ও  নতুন ভোর আছে। 
আলোর ফুলকি আছে।

অজস্র মিথ্যের সাত কাহনেও মানুষ বাঁচে ,
তবে তার আড়ালেও  সত্যিই সত্যি আছে।
 কোলাহলে ভেসে গেলেও আড়ালে তার নির্জনতা আছে।

 তাকে খুঁজতে হবে একান্তে।

উমা আসবে বলে
জবা পাল

উমা আসবে বলে   
                   শরৎ  হেসে চলেছে।
নীল আকাশের সাদা মেঘ
      পেঁজা তুলার মতভেসে চলেছে।
    
উমা আসবে বলে সবুজ ঘাসে
       শিশিরের চুম্বন।
শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে
    উমা আসবে বলে 
শিউলির আলিঙ্গন।
উমা আসবে বলে,সোনারবরণ
  রোদ ছড়িয়ে সূর্য  উঠেছে।
উমা আসবে বলে নদীর ধারে
     কাশ বনে দোলা লেগেছে।
কাশ ফুল যেন সাদা শাড়ি পড়ে
 তোমার আসার অপেক্ষায়
       দাঁড়িয়ে আছে।
শিউলির  আলিঙ্গন দেখে
 তোমার আসার অপেক্ষায়
পদ্মকলি উঁকি দিয়েছে।
তোমার আগমনীর সুর ভাসছে


মন পাড়া
শাশ্বতী দাস 


জল আমি হতে পারি তুই যদি হোস্  নাও
বেয়ে যাবি আমার বুকে যেথায় খুশি যাও।
নদী আমি হতে পারি তুই যদি হোস সাগর
মিলন সুখে দোলব ঢেউয়ে সঙ্গে যে নাগর।
মুক্ত আমি হতে পারি তুই যদি হোস ঝিনুক, 
বুকের মাঝে আগলে রাখবি আসুক দুঃখশোক।
ঝরনা আমি হতে পারি তুই যদি হোস পাহাড়,
হৃদয় মাঝে প্রেমের ধারা বইব নিরন্তর। 
বৃষ্টি আমি হতে পারি তুই যদি হোস মেঘ,
ঝরব দুজন আপন মনে আদর মেখে সোহাগ।
শিউলি আমি হতে পারি তুই যদি হোস  আকাশ, 
শরত মেঘে কাশের দোলায় ছড়িয়ে দেব সুবাস ।
ভাবনাগুলো ইচ্ছে হয়ে দিচ্ছে মনে উঁকি
 মন পাড়াতে থাকিস যেন দিসনে কভু ফাঁকি। 


সুস্মিতা দেবনাথ 
আশায় আশায়

তুমি আসবে বলে 
      নীলাকাশে সাদা মেঘের ভেলা
উড়ে বেড়ায় সারাবেলা  
     রৌদ্র-ছায়ায় আজব খেলা।

তুমি আসবে বলে
       শরৎ এসে ঋতুর মেলায় 
রঙ ছড়াল আলোর বন্যায় 
         তুলল খুশির ঢেউ। 
 
তুমি আসবে বলে 
        দিঘির জলে পদ্মহাসে
নদীর তীরে মাতাল হাওয়ায় 
        সাদা কাশ দোলায় মাথা।

তুমি আসবে বলে
       ভোরের সূর্য সবুজ সমতলে-
সাদা মেঘ ফুড়ে খুঁজে চলে 
        নবীন ধানের মন্জরী।

তুমি আসবে বলে
         কুমোরপাড়ায় তোড়জোড় 
ঢাকিপাড়ায় যখন তখন  
         বাদ্যি উঠে বেজে।

তুমি আসবে বলে
        ন‍্যাংটা শিশু অবাক চোখে 
ভিখিরি মায়ের ক্ষুধার চোখে 
       পৃথিবীর রূপ খোঁজে। 

তুমি আসবে বলে 
          নতুন শাড়িতে কমলা 
তুলে রাখল একমুঠো মাটি
          অপেক্ষায় গান গেয়ে।

তুমি আসবে বলে
          মন বাউলের একতারাতে 
সুর বেঁধেছে একলা পথিক
           নতুন প্রাণের স্পন্দনে।

তুমি আসবে বলে
          আশায় আাশায় থাকা বাঙালি 
 দ্বন্দ্ব  ভুলে  গাইবে গান 
           করবে তোমার আরাধনা।

আগমনী
নীলাপদ বণিক

  এলো খুশির শরৎ
  একটু হিমেল হাওয়া
  অনেক খুশি অনেক আলো
  পুজো এবার কাটুক ভালো
  মা আসছে গজে করে
  যাবে মা নৌকা চরে
  থাকবে মা চারদিন
  খুশি আনন্দ মজার দিন
  ষষ্ঠীতে হয় মায়ের বোধন
  সপ্তমিতে অবগাহন
  অষ্টমিতে মুষ্টি ভরা অঞ্জলি দিয়ে
  কর সন্ধি পূজার আয়োজন
  নবমিতে ভোগ প্রসাদ
  দশমিতে বিদায় বেলা
  মার দু-চোখ জলে ভরা
  এসো মা আবার তুমি
  রইল  এই কামনা।

দেবী 
রূপসী দাস

শরতে আগমন দেবীর
কাশবনের ফাঁকে ফাঁকে 
নাচতে নাচতে চলে আস প্রতি বছর। 

মন্দিরে মন্দিরে বাজে ঘন্টা কাশর
ধূপ দীপে ভুবন মোহিত। আর তাতেই 
কত অসুর নিধন।


শরতের শারদীয়া 
শাশ্বতী দেব

শরৎকালে শিউলি ফোটে গাছের ফাঁকে ফাঁকে, 
কাশ ফুলের আন্দোলনে মন আমাদের ডাকে। 
নদীর জলে শাপলা নাচে বুনো হাঁসের সঙ্গে ,
শরৎ এলে লাগে দোলা সবার অঙ্গে অঙ্গে । 
শরতে শেফালী শোভা পায় ঘাসে ঘাসে, 
বন ময়ূরীর দল নেচে বেড়ায় দিক থেকে দিগন্তে। 
শরতে আমরা পাই দেখা শারদীয়া মায়ের, 
দুঃখ সব দূর হয়ে যায় সবার অন্তরের। 
মাতৃ আগমনের অপেক্ষায় থাকি আমরা অপেক্ষমাণ, 
মায়ের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই হয়ে যাই ম্রিয়মাণ।

আগমনের আঙিনায়
চিন্ময় চক্রবর্তী

বাতাসে বাতাসে 
শিউলি ফুলের গন্ধে মোহিত হয়ে
গেছে আকাশ। 
সেই আকাশময় নীল সাদা মেঘের ভেলা 
এই প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটছে শুধু। 
শরতের নীল আকাশে 
হঠাৎই বৃষ্টি নামে
এই বৃষ্টি হার মেনে যায়। 
কিছু পরেই শরতে ভেসে বেড়ানো
 শুভ্র কাশফুল দেখা যায়। 
তখন আগমনীর বার্তা পৌঁছে যায়
 বাতাসে বাতাসে সারাবেলা। 
সকালে শিশিরের স্পর্শে
 মন প্রাণ জুড়ে যায়। 
শরৎ বার্তা নিয়ে এসেছে
আগমনীর আনন্দ। 
অবগাহন হবে এবার নতুন প্রেমের ধারায় 
হৃদয় পুড়ে শীতল হবে শরতের আঙ্গিনায়।

 আমি
ভুলুকুমার  দেববর্মা

খেলার মাঠে গ্যালারীর আসনে-
আমি কে ?
ক্রীড়া প্রেমী একজন দর্শক।
অটোরিক্সার পেছনের আসনে-
আমি কে?
নিত্য যাতায়াতকারী একজন যাত্রী।
দোকানপাটে আর শপিংমলে-
আমি কে?
ভগবান তুল্য একজন ক্রেতা।
বিদ্যুৎ নিগম কিংবা গ্যাস এজেন্সিতে-
আমি কে?
পারিবারিক শ্রেণীর একজন ভোক্তা।
নির্বাচন ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে -
আমি কে?
ভোট প্রদানকারী একজন নির্বাচক।
মাতাপিতার সজ্জিত পরিবারের কাছে -
আমি কে?
হৃদয়ের টুকরো একজন সন্তান।
পাড়ার ক্লাবের জরুরী সভায় -
আমি কে?
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য।
তাহলে পবিত্র বিধানভার অধিবেশনে -
আমি কে?
কেন? 
এতদিন তো কাউকে পরিচিতি দিতে হয় নি।
আজ কেন পরিচয় দেব ?
দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে নাকি!
চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নাও তবে।

দশভূজা
রীতা পাল

হিমালয়ের কন্যা তুমি হেমন্ত নন্দিনী কৈলাসে শিবের গৃহিনী উমা তুমি সর্বজননী 
বাবা ভোলানাথ নন্দি ভূত পেত সঙ্গে শশ্মানে থাকে সারা গায়ে ভম্ম মেখে 
মা চার সন্তান নিয়ে থাকে দু'চালা ঘরে মর্ত্যবাসীকে কখনো ভুলে না অতি কষ্টের মাঝে 
বছর ঘুরতে আগমনীর ঐ বাজে সুর 
নদীর ধারে কাশ ফুলের হেল দোল
আকাশে টুকরো টুকরো সাদা মেঘের খেলা 
শিউলি ফুলের গন্ধ প্রানের মাঝে দেয় দোলা
পদ্ম শাপলা জলে হেলে দুলে
খুকুমণি সাজি ভরে ফুল তুলে 
ঢাকের গায়ে পড়ল কাঠি 
পূজা হবে জম জমাটি 
হাসি খুশি মায়ের মুখ 
দেখলে পরে সব দুঃখ হবে দূর।


জীবন
উৎপলা গোস্বামী মুখার্জি

জীবনের মৌসুমী বেলায় ঝিনুক শঙ্খ মেলায় 
কুড়িয়ে নিয়ে কত মালা গাঁথা ছিঁড়ে ফেলা হেলায় ফেলায় যা কিছু পেয়েছি
দিয়েছি যত ‌জীবনের  সফল ‌প্রয়াস 
সব হারিয়ে এই সব হারানোর হাটে 
কেনা বেচা সাঙ্গ এবার
কান পেতে আছি চোখ মেলে আছি 
চেয়ে আছি ‌যার পথ পানে চির বাঞ্চিত 
যদি সাড়া দেয়, আমার ‌সুরে ও গানে।


ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|
ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|
ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|ছ|ড়া|


পাখির  বিয়ে
সুবোধ দাস

টিয়া পাখির বিয়ে
বর সেজেছে কুটুম পাখি
টোপর মাথায় দিয়ে।
ভাবটি ছিল  টিয়া পাখির
মাছরাঙার সনে,
কাকে দেবে বর মালা
ভাবছে কেবল মনে।
বর পক্ষে আর কন্যা পক্ষে
বাঁধল কোলাহল ,
বাজ পাখি এসে বলে
থাম্ সবাই চুপ কর্ ।
বিহিত একটা হবে,
বর ,কন্যে দুই পক্ষে
আলোচনার মাঝে,
সয়ম্বর সভার আয়োজন 
করল সবাই  বসে।
বর মালা পরল শেষে
কুটুম পাখির গলে।
মাছরাঙাটি চেয়ে রইল 
টিয়া পাখির পানে।


কৃতজ্ঞতা 
গোবিন্দ ধর 
শাশ্বতী দাস 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ