লতা মঙ্গেশকর স্মৃতিচারণ সংখ্যা
বা গী শ্ব রী
উত্তর গোয়ার ষোলশো শতকে ফিরে যাওয়া যাক।
অভীক মুখোপাধ্যায়
ভাস্কো-দা-গামার যাত্রা বিবরণ কোনো এক বেনামী কলমে লেখা হয়েছে। বিবরণ নিয়ে বিশেষ কিছু বলার অবকাশ এখানে নেই, তবে কিছু কথা না-বললেও নয়। ভারতে এসে ভাস্কো-দা-গামা মন্দিরগুলোকে দেখে গির্জাঘর ভাবল। ভারতে আসার পেছনে তার মাথায় নাকি একটা ভ্রান্ত ধারণাই কাজ করেছিল যে এদেশে কোনো এক খ্রিস্টান রাজার রাজত্ব আছে। এবং সে তার সাহায্য নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্তিম ক্রুসেড জয় করবে।
কিন্তু এসব তো আর মিললই না। ভাস্কো -দা -গামা অচিরেই বুঝল এই ধর্ম খ্রিস্টধর্মের থেকে পৃথক। সে মন্দির ভাঙতে শুরু করল। তখন গোয়ার হিন্দুরা গোয়ার উত্তর দিকে পালিয়ে আশ্রয় নিতে লাগলেন। সেখানে তখন জঙ্গল। আদিল শাহের রাজত্ব চলছে। আজও গোয়া গেলে দক্ষিণ আর উত্তর গোয়ার বাড়িঘরে একটা ফারাক চোখে পড়বে। তবে হ্যাঁ, গোয়ায় গবেষণা করতে কেউ যায় না। গিয়ে ইস্তক ফেনি, বালুকাবেলা আর বালিকায় ডুবে থাকতে চায় সকলেই।
একটা কিংবদন্তী আছে। একবার হর - পার্বতী কৈলাশে বসে চৌসার খেলছিলেন। শিবঠাকুর সর্বস্ব হেরে বসলেন। রেগে উঠে চলে গেলেন গোয়ায়। গোয়ার দক্ষিণে (কারওয়ারের কাছাকাছি) একটা তট আছে, সেটাকে 'ওম'-এর মতো দেখতে। মা পার্বতী শিবঠাকুরকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে এলে বন্য প্রাণীরা তাঁকে ঘিরে ধরে। তিনি চিৎকার করে ওঠেন, 'ত্রাহি মাম্ গিরিশ!' শিবঠাকুর যথাসময়ে এন্ট্রি নিলেন। বলা হয়, এই মাম্ গিরিশ কালক্রমে মামগ্রিশ এবং পরে মঙ্গেশ হয়ে ওই জায়গার নামেই পরিণত হয়৷
পর্তুগীজ আক্রমণকারীদের ভয়ে এখান থেকে শিবলিঙ্গ তুলে নিয়ে হিন্দুরা উত্তরে চলে যান৷ দুশো বছর ধরে সেখানেই লুকিয়ে পুজোপাট চালাতে থাকেন। পরে সুন্দর মন্দিরে দেবতার স্থাপনা করা হয়। মন্দিরের নাম হয় মঙ্গেশ মন্দির। তারই পুরোহিতকুলে জন্ম হয় দীননাথ হারডিকরের। তিনি বড় হয়ে নিজের পদবীটাকে গ্রামের নামের সাথে জুড়ে করেন মঙ্গেশকর।
ভারতের স্বাধীনতার লড়াইতে পঞ্জাব ছাড়াও অপর দুটো রাজ্যের ভূমিকা ছিল চরম। এক, বঙ্গ এবং দুইয়ে, মহারাষ্ট্র। দীননাথ যখন বড় হয়েছেন, রাষ্ট্রবাদ তখন চরমে।
রাজনৈতিক গতিবিধির কেন্দ্র তখন মরাঠা প্রদেশ।
আন্দোলনে তখনকার মরাঠা গীতিকার আর নাটকগোষ্ঠীগুলোর কী ভূমিকা ছিল তা আমাদের পাঠ্যবইতে পাবেন না হয়তো, কিন্তু লিখতে বসলে তাবড়া বই হয়ে যাবে৷ শর্টকাটে বলা চলে, এসবের আড়ালে তীব্র সামাজিক লড়াই চালাচ্ছিলেন বিপ্লবীরা।
ইন্দোর। শিখ মহল্লাতে একটা বাড়ি ছিল। নাম - বাঘ ভকিল কা ওয়াড়া। সেখানেই দীননাথের কন্যা হৃদয়ার জন্ম হল। তারিখটা ২৮/০৯/১৯২৯। এই হৃদয়াকেই পরে ভারতবাসী জানবে লতা নামে।
মোটামুটি এর বছর ১/২-এর মধ্যে দীননাথের এক প্রিয় বন্ধু একটা গান লিখলেন—
শত জন্ম শোধিতানা, শত আর্তি ব্যর্থ ঝাল্যা
শত সূর্য মালিকাঞ্চ্যা, দীপাবলি বিঝাল্যা
তেবহা পডে প্রিয়াসী, ক্ষণ এক আজ গাঠি
সুখ সাধনা যুগাঞ্চি, সিদ্ধিশ অন্তি গাঠি
হা হায় জো ন জাই, মিঠি ঘালু মি উঠোনি
ক্ষণ তো ক্ষণাত গেলা, সখি হাতচা সুটোনি
(শত জন্ম গেল, শত ইচ্ছা ব্যর্থ গেল, শত সূর্য, শত দীপাবলি নিভে গেল, আর সবশেষে যখন এক মূহুর্তের জন্য প্রেয়সীর সাথে দেখা হল, তখন দেখা করেই সে চলে গেল।)
দীননাথ গানটা গাইলেন। প্রিয় বন্ধুর জন্য। বন্ধুটির নাম -- বিনায়ক দামোদর সাভারকর।
লতা মঙ্গেশকরকে যখন ওঁর পছন্দের রাজনীতিকের নাম জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন উনি ইন্দিরা গান্ধী, পণ্ডিত নেহরু, লোকমান্য তিলক এবং বীর সাভারকরের নাম বলেছিলেন। সাভারকর লতাজির কাছে পিতৃতুল্য। বিশেষত লতাজির বাবা অল্পবয়েসে মারা যাওয়ার পর থেকে লতাজি সাভারকরকে পিতার সমতুল্য আসন দিয়েছিলেন। লতাজি একটা সিনেমাও বানিয়েছিলেন 'ভৈরবী'। সেই ছবির মূহুরতে এসেছিলেন সাভারকর স্বয়ং৷ ছত্রপতি শিবাজীর ওপরে সাভারকরের লেখা গানগুলোকে গেয়ে অ্যালবাম বানিয়েছিলেন লতাজি। এখন বললে কেউ বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, তবে সাভারকর না-থাকলে ভারতবাসী গায়ক লতা মঙ্গেশকরকেই হয়তো পেত না।
কেন?
এ তো আজকের কথা নয়। ফিরে যেতে হয় তাহলে ১৯৩৪ সালে।
'চন্দ্রকান্ত্, বন্দিশটা রেওয়াজ করো। আমি বাজার থেকে আসছি,' বলে দীননাথ মঙ্গেশকর বেরিয়ে গেলেন। চন্দ্রকান্ত্ তাঁর ছাত্র। সে রেওয়াজ করতে লাগল। লতার বয়েস তখন ৫ বছর। ছোট্ট লতা এসে বলল, 'ভাউ, এই বন্দিশের সুরটা ঠিক হচ্ছে না। এভাবে গাও!'
দীননাথ বাজার থেকে এসে দেখেন লতা গান শেখাচ্ছে। ওমা! এ গান কবে শিখল? তালিমই শুরু হয়নি মেয়ের!
'মা লতা, এই বন্দিশ কী করে শিখলে? আবার গেয়ে শোনাও তো দেখি!'
লতা লজ্জাবতী হয়ে ছুটে পালিয়ে গেল। পরদিন থেকেই মেয়ের সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করে দিলেন দীননাথ।
দীননাথ মঙ্গেশকরের পরিবার রাষ্ট্রবাদী প্রকৃতির ছিল। সাভারকরের যাতায়াত ছিল নিয়মিত। লতা সাভারকরকে দেখে বিশেষ অনুপ্রেরণা পেতেন। আলাদাই তেজ! আলাদা রকমের ব্যক্তিত্ব।
একদিন লতা বলল, 'কাকা, আমি আপনার মতো রাষ্ট্রবাদী হতে চাই। সমাজসেবা করব। গান গাইব না।'
বিনায়ক দামোদর সাভারকর বলেছিলেন, 'মা, গান ছেড়ো না। গান গেয়েই তুমি রাষ্ট্রসেবা করবে... মনে রেখো আমার কথাটা।'
আমি চলতে চলতে থেমে গেছি
তৃষ্ণা বসাক
আকাশপ্রদীপ জ্বলে। গ্রামের পুজোর প্যান্ডেলে বাজা এই গান শুনে আমার ছোট্ট মা লতাকে গুরু মেনেছিলেন। স্বপ্ন ছিল সামনে থেকে গান শুনবেন। যত দাম হোক টিকিটের। নেতাজী ইন্ডোরে মাকে তাঁর স্বপ্নের দেবীকে দেখতে পাঠিয়েছিলেন বাবা। এই বাবাই কিন্তু মাকে চাকরি করতে দেননি। বলেছিলেন আমার উপার্জনেই সংসার দিব্যি চলে যাবে। আমার মেধাবী মা এক কথায় ছেড়ে দিয়েছিলেন শিক্ষকতার কাজ, কোন আফসোস ছিল না সে জন্য। সংসারে আকণ্ঠ তাঁর ডুবে থাকা, প্রতিদিন প্রতিটা গ্রিলের নকশার অদৃশ্য ধুলো মোছা, জানলার ধারিতে প্রতিদিন বালিশ রোদ দেওয়া- এসব দেখে দেখে বিরক্ত আমি প্রথম থেকেই সাংসারিকতায় যতটা না জড়িয়ে থাকা যায় চেষ্টা করে গেছি। এই মা-ই যখন গান গাইতেন, তখন যেন তিনি আমার মা-ই নন। আমার যে খিদে পেয়েছে, ঘুম পেয়েছে, তা পর্যন্ত খেয়াল নেই। তিনি গেয়ে চলেছেন ‘বাদল কালো ঘিরল গো/ সব নাও তীরে এসে ভিড়ল গো’ কিংবা ‘নিশিদিন নিশিদিন বাজে স্মরণের বীণ, সে যে তুমি বিন জানে না’। সব, সব লতার গান। বাবার বড় চাকরি, আজ থেকে প্রায় অর্ধশতক আগের মফস্বল থেকে কলকাতায় যাতায়াতের অসুবিধে আর মায়ের তেমন উদ্যোগ ইচ্ছে, যাকে বলে কিলার ইন্সটিংক্টের অভাব, গানকে পেশা হিসেবে নিতে দেয়নি। কিন্তু শিল্পীর তগদত রূপটি যে কী, তা মা গান গাইতে বসলে বুঝতে পারতাম। কোনদিন মা বলেননি, তোদের এই সংসারের জন্য আমার কিচ্ছু হল না। কোন অভিযোগ দেখিনি, মনে হত লোকজন, রান্নাবান্না নিয়ে দিব্যিই আছেন। অথচ যখন গাইতেন ‘কী যে করি, দূরে যেতে চাই’ তখন সেই যে সেই জায়গাটা, ‘কী যে করি বলো এত আশা লয়ে/ বোবা হয়ে মরি এত ভাষা লয়ে’ তখন বুকটা কি ভীষণ মুচড়ে উঠত। মনে হত কি মহতী বিনষ্টি। একটা সুরের পাখিকে খাঁচায় আটকে ফেলা হয়েছে।
লতা মঙ্গেশকর এমন কত যে অখ্যাত শিল্পীর বুকের মধ্যে চাপা কান্না হয়ে রয়ে গেছেন।কত মেয়ের হয়ে তার না গাওয়া গান গেয়ে গেছেন। শুনেছি একবার এক সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে জুহু বিচে গাড়ি নিয়ে বেড়াতে গেছেন লতা। সন্ধ্যায় নৌকো থেকে ভেসে আসছে রেডিওতে বাজা তাঁর গান। লতা বলেছিলেন এগুলো আমার গান নয়, আমার কান্না।
প্রতিটা গানের পেছনে অনেক অপমান, প্রত্যখ্যান আর যন্ত্রণা।
লতা আর মার দূরতম দুই জীবন। যোগ শুধু সঙ্গীত। সারাদিন বাড়ির সমস্ত কাজ করতে করতে মার গান থামত না এক মুহূর্তের জন্যেও। ২০১৫ সালে বেলভিউতে কোমাতে যাবার আগের মুহূর্তেও আমাকে শুনিয়েছিলেন গান।আমার মা পেশাদার শিল্পী হতে পারেন নি। কিন্তু সংসারে শুধু গানকে আঁকড়ে থাকার মধ্যেও কত লড়াই ছিল, ছিল না?
একজন সৃজনশীল মানুষ, বিশেষ করে যদি নারী হয়, তার প্রতিটি ধাপে ধাপে এরকম অশ্রু ও রক্ত লেগে থাকেই। দু একটা আলগা মন্তব্য, তা তপ্ত চাটুতে জলকণার মতো নিমেষে উড়ে যাবে। শুধু এই উপমহাদেশের কত কত শিল্পীর না পাওয়াকে গানে গানে বাঁচিয়ে রাখবেন লতা, আমার মা বেঁচে থাকবেন লতার মধ্যে, লতা বেঁচে থাকবেন আমার মায়ের মধ্যে।
লতা মঙ্গেশকর :পীযূষ রাউ
এখনো মনে পড়ে অতিদূর সত্তর বছর আগে
আমার অন্তরাত্মার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তোমার সেই মন ভালো করা মন উদাস করা গানের সংযোগ, যা আজ সত্যি সত্যি ছিন্ন হয়ে গেল।
চিরতরে ছিন্ন হয়ে গেল আমার মন খারাপ মুহূর্তের
একান্ত আশ্রয়।
বিষণ্ণ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
দুপুর ১২টা ২০ মিনিট
যতদিন বেঁচে থাকবো তাঁর গান শুনে আশ্রয় তো পাবই। কিন্তু এই আলো-হাওয়া-রৌদ্রে তার পার্থিব অস্তিত্ব না থাকার বেদনা যে আজ অশ্রুসিক্ত করে তুলছে
স্মরণ : লতা মঙ্গেশকর
মন্দাক্রান্তা সেন
চরাচর জুড়ে বীণা বেজে ওঠে যে গানে
সেই কোকিল কি গাইবে না আর বাগানে ?
গাইবে না? তবু রয়ে যাবে তার গানটি
অনেক দিয়েছ,
... এবার অপার শান্তি
ভা সা ন
------------
শ্রীজাত
রইল পড়ে শুকিয়ে যাওয়া ফুল
রইল পড়ে শুভ্র ডাকের সাজ
মৃত্যুদিনও করেনি খুব ভুল –
সরস্বতী ভাসান যাবেন আজ।
সা থেকে সা আমার দেশের মাটি।
পা থেকে পা মিলিয়ে চলা সুরে,
তাঁর কণ্ঠের আলোতে পথ হাঁটি।
জিরোয় না গান। এমন ভবঘুরে।
জিরোয় শুধু ক্লান্ত শরীরটুকু
সময় এলে বাজে না এস্রাজ...
আলতো হাতে আলগা করি মুকুট,
সরস্বতী ভাসান যাবেন আজ।
প্রাণ যাবে, তাও গান যাবে না কোথাও।
আশেপাশেই থাকবে বাতাস হয়ে
দু’ধারে থাক সুরেলা সভ্যতাও
গান-নদী তার মাঝখানে যাক বয়ে...
দেবীর চালচিত্র ছিল দেশই।
শরীরে তার সুরের কারুকাজ।
এবার তাকে নিঃস্ব দেখায় বেশি,
সরস্বতী ভাসান যাবেন আজ...
সহসা সমস্ত গান স্তব্ধ হলে
—————————————
মীনাক্ষী ভট্টাচার্য
—————————————
সহসা সমস্ত গান স্তব্ধ হলে
চেরাপুন্জী নেমে আসে
প্রতিটি ঘরে
জ্যোৎস্না যায় মরে।
কাল-বিহঙ্গ উড়ে যায়
কাঁপন লাগে পাতায় পাতায়
বোবা ব্যথায়
পাপড়িরা থরোথরো
এ শোক আজ
কোথায় রাখি, বলো!
অবিরাম বৃষ্টির শব্দ
শালবনে
পুন্জীভূত অনন্ত বেদনা
সমুদ্রের মনে।
পাহাড়ে- বন্দরে, নদীর স্রোতে
বাতাসে ছিল সুরের খেলা
আজ কেবল শূণ্য দু হাত
বাজায় না বীণা
শুধু বয়ে যায় বেলা।
( ০৭-০২-২০২২ ইং
আগরতলা।)
গান থেমে গেলো
গোবিন্দ ধর
গান এসে থেমে গেলো। গানের সরস্বতী।
সময়ের অন্ধকারে ভেসে বেড়ায় চাবুক।
তোমার কণ্ঠে প্রয়োজন ছিলো অমৃতধারা
অশোকে রেখে তুমি খালি করে দিলে এ বুক।
০৬:০২:২০২২
বেলা:১০টা
কুমারঘাট।
স্মরণ
সেই ছেলেবেলায় শুনেছিলাম গানটিঃ ‘ও আমার ময়না গো, কার কারণে তুমি একেলা .......!’ চমকে গিয়েছিলাম কতো গভীর থেকে উঠে আসা স্বর! যেনো কোকিলেরই ডাক। ওই আমার প্রথম ভালোলাগা! তারপর কতো সহস্র গান শুনেছি কোকিলকন্ঠি, সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর-এর কন্ঠে, মুগ্ধ হয়েছি।
... অসুস্হতার সংবাদে উদ্বিগ্ন ছিলাম, তারপরও কামনা ছিলো ফিরে পাবো আমাদেরই মাঝে আপনাকে। অমোঘ নিয়তি বাধ সাধলো সেথা। তবু বলবো, এ যাওয়া, যাওয়া নয় আপনি বেঁচে থাকবেন আপনার সীমাহীন শক্তিধর সৃষ্টিতে। ..... যাত্রাপথে রইলো আমার শ্রদ্ধার্ঘ !
-বেলায়েত হোসেন
আবারও দুটি মৃত্যুর খবর একেবারে বজ্রাহত করল। এইমাত্র জানলাম। খুব খুব কষ্ট হচ্ছে। একজন বিশ্ববন্দিত সঙ্গীতশিল্পী। আর একজন অল্প কিছু দিন আগে আলাপিত এক ফেসবুক বন্ধু। সে বয়সে একেবারেই নবীন। কবিতাঅন্ত প্রাণ এক তরুণ কবি। কয়েকদিন আগেও আমার পোস্টে তাকে মন্তব্য করতে দেখেছি। আজ সে নেই এটা ভাবতেও পারি না। আর বিশ্ববিখ্যাত যে সঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যুতে আজ সারা দেশ মুহ্যমান সত্যি কথা বলতে , বিশ্বাস করতে পারছি না যেন, তাঁরও মৃত্যু হতে পারে।
-মহুয়া দাস
ভারত রত্ন" লতা মঙ্গেশকর:(১৯২৯--২০২২)
মণিকা বড়ুয়া
সুর সম্রাজ্ঞীর আশ্রয়তল
যুগ যুগ ছায়াতল
সবার হৃদয়ে অম্লান বল
"নাইটিঙ্গেল" সুর ফল
একশ' চল্লিশ কোটির আজ অশ্রুজল।
ভারতের সবক'টি ভাষায় গান
আরো অন্য দশটি ভাষার টান---
অজস্র গান উপহারে
জাগ্রত ভূমি---
"ভারত রত্ন" লতা মঙ্গেশকর
তেরো থেকে তিরানব্বই বছর ধরে
ভাসিয়েছেন বিশ্ব নদী।
সাতশো বিরানব্বই কোটি র প্রণামে
আজ নতজানু পৃথিবী।
--------------------------------------------------------------------
০৬|০২|২
অশ্রুসিক্ত এগারো--- দীন দিন
World population---7,925,321,426 on 6/2/22 at 11am ( online--- live population)
Population of India---1,401,643,083 on 6/2/66 at10:55 am( online--live population)
সুর - রানি লতা মঙ্গেশকর এর জন্ম১৯২৯।
মৃত্যু ৬|২|২২ সকাল ৮:১৫
তেরো বছর থেকে তিরানব্বই বছর ধরে অপূর্ব মধুর সংগীত সুষমা ছড়িয়ে গেছেন। ২০০১ এ "ভারত রত্ন" উপাধিতে সম্মানিত হয়েছেন। ওনাকে
ভারতের নাইটিঙ্গেল বলা হয়।ভারতের সব ভাষায় হাজারো হাজারো গান গেয়েছেন এবং অন্য আরো দশটি ভাষায় গান গাওয়ার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী।দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার(১৯৮৯) ইত্যাদি বহু সম্মানিত পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
অনুসারী গ্রন্থ--- মনোরমা ইয়ার বুক ২০২০ , ২০১৯ ,২০১৬, ২০১৫ ।
জেনারেল নলেজ--- পি.এন.গাঙ্গলী
----------------------------------------------------------
0 মন্তব্যসমূহ