কবি গোপেশ চক্রবর্তী বিশেষ স্মারক সংখ্যা

 কবি গোপেশ চক্রবর্তী বিশেষ সম্মাননা সংখ্যা 

প্রতিদিন বাংলাভাষা. স্রোতকথা
গোপেশ চক্রবর্তী র কবিতা অনেক দিন পর আবার খুব কাছে থেকে শুনতে পেলাম। প্ঙ্কজ যেভাবে আমাদের নিকটতম কবিদের কবিতা পুনঃ পাঠ করার সুযোগ করে দিচ্ছে তা অবশ্যই ধন্যবাদের চেয়ে ও অধিক। গোপেশের কবিতার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। প্রতিবাদী ধ্বনি ব্যঞ্জনা , নিঃশব্দ প্রেমের ‌মিথে আঁকা নিসর্গের মিষ্টিক ছোঁয়া লেগেছে যেন কবিতা গুলোতে। কবিকে আমার শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
-প্রবীর চক্রবর্তী 


গোপেশ চক্রবর্তী-র একগুচ্ছ কবিতা 
ভীড়

কোনো বার্তা নেই!
এই ভীড়ে হাঁটছো তোমরা
মাঝেমাঝে ডাক এলে মনে হয় হাঁফিয়ে উঠছো
আমাদের থেকে জল নিয়ে আবার হারিয়ে যাচ্ছো ভীড়ে

তোমাদের সুন্দর অথচ ফাঁপা বাড়িগুলো
মিষ্টি কথার আড়ালে আত্মবিষের ছবিগুলো
মুখের আড়ালে মুখোশগুলো এই ভীড়েই মানায় খুব।

কোনো স্পষ্ট ছবি নেই!
যে যার কথা বলছেতো বলছেই
আর ভীড়ের বাতাসে ভেসে যাচ্ছে অজানায়
কিছু দূর গিয়ে গিয়ে নিচের সিঁড়ি আর খুঁজে পাচ্ছে না
কি কথা বলেছিল একদা নিজেই ভুলে যাচ্ছে
আবার ফিরে আসছে নতুন রূপে তীর পজিশনে রেখে

বারবার যেখান থেকে শুরু করেছিলে
ঠিক এখানেই ফিরে আসছো
দেখতেই পারছো না কারা চলে গেছে দূরে

চাঁদের গল্প

ওহে চাঁদমুখ ওহে সুন্দর
কেন এত অভিমান 
চোখে চোখ রাখলে সমুদ্রের জন্ম হয়
চাঁদমুখে লাগে সপ্তরঙ
হাত বাড়ালে আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে সুন্দরের ভাষা

আর কিছু নয়
শুধু ফুলের মতো দুলে ওঠা ক্ষণ চাই
চাই পদচিহ্নের নিশানা, চোখের ভাষা, অন্তপুরের খবর হাঁটার দোলন,লাল শাড়ির ঢেউ

ওহে প্রসন্ন বিকেল ওহে লাল গোলাপ
একটি রমনীয় আলো ছড়িয়ে দাও
একটি প্রশ্নহীন মূহুর্ত এনে দাও
ডুব দেই অতল জলে
ছিটিয়ে দেবো জল তোমার জ্যোৎস্নারাঙা শরীরে 
ভুলে যাবে সব 
কথা দিলাম আর কিছু নয়
শুধু একটি গোপন কথা রয়ে যাবে যেমন করে দিনের আলোতে চাঁদ রয়ে যায়


শেকড় কথা

কাঁধে হাত রেখে এগিয়ে গেলো ঘোড়াদৌড়
বারবার জিতে হয়ে গেল বিমূঢ়
গাছকে পুতুল ভেবে নাচ দেখি তা ধিন ধিন তা
  
চৌমাথায় একা দাঁড়িয়ে আছে পথিক
[03/02, 8:29 am] Gopesh Chakrabarty Rechent: নিঝুম রাতের কাব্য 
শেকড় পর্ব -১
(বাবাকে মনে রেখে) 

তুমি জানতে এগোতে পারিনি আমি
যা ছিলো হাতে উজাড় করে দিয়েছো
তখনতো বুঝিনি  তা

ওরা বুঝে না শেকড়ের টান 
মাটি ফুঁড়ে বের হওয়া নতুনের আহ্বান 
পাতা,ডাল-পালা,পাখি, মানুষ, নদী, সমুদ্র, আকাশ, ফুল-শিশু-গান-সবাইকে কোলেপিঠে করে গড়ে তুলে শেকড়

বাবা মৃত্যু মুহূর্তে সবাইকে দেখে,সবশেষে মাথার উপরে থাকা আমার দিকে চেয়েছিলেন। কত কথা ছিল এই চাওয়াতে!তার মর্মকথা অল্প বুঝতে পেরেই মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠি!শেকড় কেঁপে উঠার শব্দ পাই!

বাবা স্রোতে ভাসেনি
তাই স্রোতের মানুষ ভুলে গেছে
বাবার ছায়ার সঙ্গে লড়াই করছে আজও কিছু কেউটে
অফুরাণ কান্না জমা ছিল বুকে তাই কিছু বলে যেতে পারেনি
অতলে জমা ছিল জল নিঃশব্দে বেঁচেছিলেন একা

ভেতর মানেই বাবার কথা লিখা থাকে
ভেতর মানেই শেকড়ের সন্ধান করা
ভেতর মানেই তোমার নীরবতার হারানো মুহূর্ত 
ফেলে আসা জীবন্ত ছবি ভেসে ওঠে হঠাৎ! 
ভেতর মানেই অন্ধকার 
ভেতর মানেই এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় আছে
ভেতর মানেই স্বপ্ন হারানোর ভয়
ভেতর মানেই ইচ্ছের ঝরা পালক আছে
ভেতর মানেই শেষ না হওয়া কথা
ভেতর মানেই রহস্যঘেরা জীবন আছে
ভেতর মানেই প্রেমের আঁকা আলপনা
ভেতর মানেই সীমাহীন ভালোবাসা আছে
ভেতর মানেই দেওয়াল ভেদ করা পাতার ছবি

শেকড় চিনে গেলেই রিপুগুলো ধেয়ে আসে দ্রুত
মনে হয় চোখে কাপড়ের পট্টি পড়া
গা লাগোয়া সবাইকে বলে দিই মূল ইতিহাস 
যার যা প্রাপ্য দিয়ে দিই
বদ্ধ দরজাগুলো খুলে দেখিয়ে দিই বাইরে কী আছে
চোখে আঙুল দিয়ে সরাসরি দেখিয়ে দিই দর্পণে কেমন লাগে সে

শেকড় বড় কাঁপন ধরায় বুকে
মাঝে মাঝে অজ্ঞাতজনেরা এসে পরিযায়ী পাখির মতো শেকড়ের কথা বলে হারিয়ে যায়! 

মা বলতেন 'চুপ থাক' ওরা বুঝে যাবে একদিন
নিজের জন্য না রেখে যে যা চাইতেন দিয়ে দিতেন নির্দ্বিধায়! 

হায়রে পাতার জীবন 
হায়রে পরিযায়ী মন
হায়রে শেকড়ের টান

কুয়াশা সরে গেলে

তুমি যখন ফিরে তাকাও কুয়াশা সরে যায়,একটা জলীয় আভা ফুটে শরীরে -এতে বিলীন হয় পুরুষ, যাকে ছোঁয়াও সাধ্যের বাইরে!বারবার খুঁজে না-পেয়ে হঠাৎ সামনে দেখলেই মনে হয় কবিতার পংক্তি দাঁড়িয়ে আছে,আমিও দাঁড়াই!লাল ফুল চাঁদমুখ ঢেউ কথা বলে শব্দহীন!বেশি সাজের কী দরকার!সুন্দর তুমি।শীত এসে গেছে।পাতা ঝরা শুরু,ঘাস হলুদ রঙ ধরেছে,মেঘ ঘুমোচ্ছে,আকাশ স্থীর,অগনিত মানুষ কুয়াশার ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে রোদের দেশে চলে যাচ্ছে।দিনলিপির পাতায় ধুলো জমছে!বৃষ্টির প্রয়োজন।পৃষ্ঠা খুলে দেখা দরকার কতটা জল পেলে ভেজা মাটিতে ঘাস জন্মাবে, কতটা আলোয় স্পষ্ট দেখতে পারবে কবিতার শরীরের ভাষা।আমরা চেনা পথে রোজ গন্তব্যে গেলেও কেউ এসে এপথেই আবিষ্কার করে নতুন ফুল!হয়তো এপথেই যেতে পারতাম একদিন ফুলের দেশে।তুমি যখন ফিরে তাকাও ভেসে ওঠে কুয়াশার ছায়াশীতল নগরীর নির্জন দুটি নদীর অন্তহীন কথামালা।



মন্তব্যহীন কবিতা ও কিছু কথা

তোমার মন্তব্যহীন কবিতা নিঝুম রাতের জ্যোৎস্নারাঙা ফুল,না-বলা কথার স্বপ্নতাড়িত প্ল্যাটফর্ম,দুটি মানুষের ইচ্ছেডানার গল্পের খোলা পৃষ্ঠা,জলীয় আভাস ছড়ানো সীমাহীন পথ,মাতাল করা সৃষ্টির সূচনা পর্ব,মায়ানগর রচনার পটভূমি,বহন করা তাড়িত আশার প্রতিলিপি, এই কবিতা ঘোর অন্ধকারে কুপিবাতির আলো নিয়ে গন্তব্যে যাওয়া অচেনা নগরের সিঁড়ি।তোমার ভেতর ও বাইরের শীতল জলের স্পর্শে শিহরিত কালজয়ী ভাষার নির্মিত সাঁকো।
শুকনো পাতার মর্মর শব্দ,বাতাসের গতি,ভোরের মায়া,রোদের তাপ,গোধূলির রঙ,সন্ধ্যার ঘরে ফেরা যেমন আলাদা করে ভাবায় না অথচ এগুলোতেই লিখা থাকে আমাদের ফেলে আসা পথের কথা ঠিক তেমন করেই ঢেকে থাকা যাপনের শীতল ভাষা আমরা বলে যেতে পারি না! নিজেকে প্রকাশ করি একটি মন্তব্যহীন কবিতার মতো। দুঃখ যেমন বলে শেষ করা যায় না কাউকে বুঝানো যায় না,সুখের কথা বলতে শুরু করলেই শেষ হয়ে যায়।গাছ পাখি নদী ভালোবেসে কুযাশা মেঘ আকাশ ভালোবেসে গান শিশু ফুল ভালোবেসে আমরা বেঁচে থাকি অথচ এসব নিয়ে ভাবিনা।জানিয়ে যেতে পারি না নানা অজুহাতে পিষে মারি আশা, প্যান্ডুলামের মতো ঝুলে থাকে জীবন!

শীত কবিতা#

কথা কখনও হারিয়ে যায় না 
সম্পর্ক হারিয়ে যায়
তুমি কে ভেবে পথ বেছে নিলেই
হারিয়ে যায় ছায়া প্রতিমা
কবে থেকে কথায় কথায় কুয়াশা হয়ে গেছে প্রেম
কবে থেকে কথায় কথায় ঢেকে গেছে শীতল ছায়া
সবার মান রাখতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে নিজস্ব কলতান
তুমি গিয়ে বুঝে জল ঢালো গাছে
আমি চুপ থেকে জিইয়ে রাখি গাছ
স্রোতের ব্যক্তিগত সুতো হয়ে যায় হলুদ 
বসন্ত পাতায় থাকে হা-হুতাশ 
গাছের ডাল হয়ে যায় অচেনা
সহজে একটি কথা বলে দিলেই
সহজে একটি দিন কেটে যায় না
চুপ থেকে যা বলা যায় 
চেয়ে থেকে যা বলা যায় 
দূরে থেকে যে বার্তা পাওয়া যায়
সব গিয়ে জমা হয় শেকড়ে 
তোমায় সাজাতে পারি সপ্ত রঙে 
শেকড়ে জল ঢালো 
হাতে ফুল হৃদয়ে ভরসা 
চোখে স্বপ্ন মুখে হাসি
আর কিছু লাগে না এই পথে
জয়শব্দ দরকার 
জলীয় সংবাদ দরকার 
শীতল ছায়া দরকার 
এই লহমা বড় মায়াময় 
ঢেউ যখন গড়িয়ে পড়ে বুকে
বাতাস যখন মাতাল করে তুলে
ইচ্ছেডানার গোপন পর্দা ছিঁড়ে যায়
ছুটন্ত ট্রেনে জানালা দিয়ে দেখা মনে রাখা দৃশ্যগুলোর মতো প্রেম। নীরব-গোপন-রহস্যঘেরা সম্পর্কও নতুন ঢেউ বয়ে আনে।
এভাবে তুমিও সেজে ওঠো বলে ভেজা মাটিতে লিখে রাখি কবিতা।


লহমা

যে কথাগুলো স্বপ্নতাড়িত,প্রেমের,তোমার জন্য, জীবনের মানে থাকে, মনে পুলক জাগে, ভাবিয়ে তুলে,
যে কথা আমাদের একান্ত,যে কথার অপেক্ষায় থাকি নদীর মতো,লাল শাড়ি বিছানো,জেগে ওঠে চাঁদমুখ, জলে শীতল বাতাস ছড়ায়,তোমাকে চেনায়,যার শুরু আছে শেষ নেই,কান্নার ভাষা শীতল,সুখের ঘরে পালক গজায়,জীবনে জীবন যোগ হয়, শেখানো যায় না,যে কথা আপনা থেকেই আসে,ফিরিয়ে নেওয়া যায় না, সঞ্জীবনী,যে কথা বুঝে নিতে হয়,তাকে কী বলে সম্বোধন করবে?যাকে খোলা যায় বন্ধ হয় না,মনে মনে কথা হয়,যার ছবি কথা বলে,চোখ স্বপ্ন দেখায়,যাকে দেখলে পাতা নড়ে,দূরে গেলে গাছ নড়ে ওঠে,হিসাবের খাতায় ফেলা যায় না,মেপে দেখা যায় না, নিঝুম রাতের মতো রহস্যময়,খাঁ খাঁ দুপুরের মতো নির্জন, যাকে দেখে পুরুষ হয়ে যায় জল, নারীর হৃদয়ে ফুটে ফুল,
এই সেই সকাল যার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি,সে দেখছে মাঝে মাঝে,আমি শিশুর খেলা দেখি,ভ্রমনের গল্প বলি,নরম রোদে দাঁড়িয়ে তার রূপের গভীরতা মাপি,সে বসে আছে,ফিরে আসি,কবিতার ছায়া মায়া দিয়ে সাজাই লহমা,ডুব দিই জলের অতলে


তোমাকে নিয়ে

আমি জানি এখন তুমি কি করছো
জানি কি করতে ইচ্ছে করছে
তাও জানি কী ভাবছো
তোমাকে নিয়ে কিছু বর্ননা লিখতে পারি
অসম্ভব কিছু পংক্তিও হয় মাঝে মাঝে
আমি জানি এ পথে তুমিও ছিলে একদা
এই সমুদ্রতটে বারবার তোমার নাম লিখে যায় কেউ
তোমার পদচারণ টের পেয়ে পাগলের মতো দৌঁড়ে যায় কেউ
আমি জানি তুমি এলেই বাতাস জলীয় সংবাদ দেয়
শিশুর স্বপ্ন দেখার মতো ভরে ওঠে মন

এবং জানি তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক মাপা যায় না,দূরত্ব দেখা যায় না, স্বপ্ন আঁকা যায় না,কিছুর উত্তর পাওয়া যায়না,সীমাহীন কথা বলেও যা বলতে চাই তা বলা যায় না,

আরও জানি তুমি আছো
তোমার ইচ্ছের ডানা আছে 
অথচ তোমাকে চিনতে পারলাম না বুঝতে পারলাম না সঠিক ঠিকানাও পেলাম না!

নদীর সাথে মেলাই
ফুলের সঙ্গে করি তুলনা
বিষাদে তুমি জীবন্ত হয়ে ওঠো

এভাবেই শুধু লেখা যায় তোমায়
শরীর দেওয়া যায় কবিতায়
আমি জানি তুমি ছায়ার মতো 
পেরিয়ে যাওয়া  যায় না
আমি জানি তুমি জলের মতো
ভাগ করা যায় না
আমি জানি আমি জানি তুমি কবিতার মতো
শুধু এক ভাবে ভাবা যায় না

বাতিক

তুমি যে এলে আর কেউ যেন না জানে!

তাড়াতাড়ি  চলো
দাঁড়িও না
বলে দিও সময় নেই

অন্য কেউ এলেই কালো স্পট ও দুর্বলতাগুলো
বেরিয়ে যাবে

কেউ এলে 
তোমার বিশ্বাসে অন্ধকারের জন্ম হতে পারে
দাঁড়িও না
বলে দেবো তোমার হাতে একদম সময় ছিল না

নাও ললিপপ

বৃত্ত 

মাঝে মাঝে মাথা কোনো কাজ করে না
                  তোমাদের হাত দেখতে পাই না
                   বাতাসের দিক বোঝা যায় না
                   সহজ কথা বোঝা যায় না
                   পথ চেনা যায় না

মাঝে মাঝে হারিয়ে যাওয়া প্রেম জেগে উঠে  
                   শৈশব জেগে উঠে                            তোমাদের থেকে পাওয়া অপমান জেগে উঠে
                   বন্ধুর কাছে পাওয়া ব্যথা জেগে উঠে 
                   মুখের আড়ালে থাকা মুখোশ জেগে উঠে

হঠাৎ আসা ভাবনা হারিয়ে ফেলার মতো সম্পর্কগুলো জোর ধাক্কা দেয়
তোমার সাথে মিল খুঁজে পাই
সমস্ত বিরহ বেলা ও সুখের মুহূর্তগুলোর।
কেবল দুঃখই জমিয়ে রাখি নিজস্ব জমিনে

এইসব কথামালায় কবিতার প্রাণ ঢেলে দিয়ে
যারা উতরে গেছে মানুষ থেকে মানবে
হয়ে গেছে কবি থেকে ঋষি
সবার জন্যই অদৃশ্য প্রহরী দাঁড়িয়ে থাকে
যেন নিজের সীমারেখা পেরুতে না পারে


দিনাতিপাত

তোমাদের থেকেই
জেনে যাচ্ছি নেপথ্যের বিষয়গুলো

চেয়ারে বসা
জায়গা দখল করা
বাঁকাপথে সামনে যাওয়া
আহা বেঁচে থাকা!
আহা বেঁচে থাকা!

অন্যকে দেখাতে নিয়ন্ত্রনরেখা
কথার পরিমাপ
পোশাক-আহার- সংসারের মর্মবাণী
মাথাকে তবলা ভেবে বাজাতে যখন-তখন
যেন পাখি থেকে গান,নদী থেকে জীবন এনে
বুঝিয়ে দিতে যাপন কথা!

আজ নেই,নেই সেই পাহাড়--সমতল কাব্য

তুমিও সেদিন বলে ছিলে বোগাস!বোগাস!

আমি হেসেছিলাম বলে তোমার সে-কি অভিমান!
তোমার সমস্ত অভিমানের কারণ বুঝিনি বলেই পেয়ে পেয়ে হারানোর ব্যথায় দিশাহীন হয়ে যাচ্ছি 

এখন যখন তোমাদের প্রয়োজন
কেউ একজন দাঁড়িয়ে বলবে হাত ধরো
সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে যাবে আমজনতা

এরকমই কথা ছিল।

নেই নেই বলে চিৎকার শুনতে ভালোলাগে না

সময় প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার
এই তত্ত্ব তোমাদের নয়

নড়বড়ে সংসারে, এখনও কারা গাছের খায় নিচেরও কুড়ায়, তা চিহ্নিত করার বোধ হারিয়ে বসে আছো
বলে ফলদায়ী গাছ ঢেকে যাচ্ছে আগাছায়!

চলে যাচ্ছে কায়া
চলে যাচ্ছে ছায়া

কতদূর গেলে ওই মায়াহীন পৃথিবীর দেখা পাওয়া যাবে
তা গাছ-আগাছার চিহ্নিতকরণই বলে দেবে
কে আছে
কে আছে
কে আছে

তোমাদের গা ঘেষে যে বাতাস চলে যায়
তোমাদের মাথার উপর দিয়ে যে দাবি চলে যায়
তোমাদের সীমানার ভেতর থেকে মানুষ চলে যায়
সব সমস্ত কিছু যেতে দিচ্ছো কিসের বশে
কোন বোধের জায়গা থেকে মনে করছো ওরা ভুল!

তুমি সেদিন বলেছিলে শেকড়চ্যুত জনতার কথা
আরও বলেছিলে বরফ গলতে শুরু করেছে
কে শুনে কার কথা

তোমাদের থেকেই বোঝার চেষ্টা করছি
কবিতার মায়াভূমির আসল রূপ



দিনাতিপাত-২

এখনও ছাঁচে পড়ে  আছে ভালোবাসার আঁতুড়ঘর
জেগে উঠেই ডুবে যাচ্ছে অজানা শঙ্কায়
এখনও কে কি করছে,কোথায় গেছে  তা নিয়েই চলছে দিনাতিপাত
কে ভেসে যেতে পারে স্রোতে
কে ছোরা মারতে পারে পিঠে
কার হাসি বানানো
কে মুখোশ পড়ে আসে
কার প্রতিটা কথা প্ল্যান করা
কে বলাতো নিজের কথা অন্যের মুখ দিয়ে
কে শুধু কথার উপর ভর করেই হারিয়ে ফেলে ফুল
কার কাজ কে করে কৌশলে
কে বুদ্ধি করে সমস্ত কাজে ভাগ বসায়

তুমি যেদিন দেখিয়েছিলে অন্ধকার
বলেছিলে চারিদিকে শুধু ছল
ভালোবাসা ও প্রেম এক বিষয় নয়
যেদিন বলেছিলে এ পথ খুব পিচ্ছিল,দেখা যায় না!
ব্যাবহার করছে তোমায়
বিপদে করছে নিয়ম রক্ষা 
বলেছিলে চিনে নাও আন্তরিক মানুষগুলোকে

নদী জীবন ভালোবেসে
সবাইকে কাছে টেনে
তল্লাটে জমেছে ঘুণ পোকা

এখনও যারা বসে আছে সুযোগের অপেক্ষায়
কাকের মতো আহার খেতে চায়
নিজেকে সেয়ানা ভেবে আড়ালে পুষে রাখে ঘোলা জল
কারা হাসছে তাদের দেখে
কারা এসব দেখেও বসে আছে চুপচাপ
কাদের ভেঙে গেছে মন
আর ঘুরে দাঁড়াতে ইচ্ছে হয় না

তোমায় আর তেমনভাবে পাই না এখন
কত কথা জমে আছে বুকে
মানুষগুলো হয়ে আছে বধির
যাদের সঙ্গে থেকে ভেবেছিলাম হেসে খেলে চলে যাবে জীবন 
সব,সব পড়ে আছে শুকনো পাতার মতো
ভালোবাসার কোনও সীমারেখা নেই
প্রেমেরও নেই কোনও বদ্ধ জলাশয়
জীবনও দাঁড়িয়ে নেই কোথাও
চলো আরেকটু নড়েচড়ে বসি
জীবন ডাকছে


গোধূলি

ডেকে নিয়ে হারিয়ে গেলে শহরের পথে
গলি গলি হেঁটে তোমার পায়ের ছাপও পাইনি কোথাও
আমাকে কটাক্ষ করছে পথ
অট্টহাসি দিচ্ছে সময়
খিলখিলিয়ে উঠছে মানুষজন।
কষ্ট দেখে কি তুমিও পুলক অনুভব করো
ভালোবাসার প্রাণ খুঁজো বেদনা মধুর হিংস্রতায়
সেদিন আকাশ পরিস্কার ছিল
গোধূলি বেলা ছিল
আলো-অন্ধকার পথে রহস্য ছিল
সপ্তরঙ ছিল
প্রেম ছিল

জানো,হারানোর গল্পগুলোতেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার বীজ
হারিয়ে গেলেই প্রেম বেঁচে থাকে
হারালেই বদলে যায় চোখের দৃষ্টি 

প্রেম তো সাময়িক মোহ
এই বোধের জন্ম থেকেই তোমাকে আর সেই নজরে দেখি না
হারাতে হারাতে কারা একা হয়ে গেছে
একা হতে হতে কারা চিৎকার করে উঠছে
এই চিৎকারের ভাষা কারা বলতে পারছে তোমায়
কারা বুঝে গেছে সব বোগাস এসবে কায়া নেই
কারা দূরে চলে গেছে
সবকিছু পেছনে ফেলে কারা বেঁচে আছে বুক ফুলিয়ে
এরা সবাই ভালোবাসার পথিক।

ডেকে নিয়ে লুকিয়ে থেকে যে নতুন পথে আলো দিয়েছো
যে পথ তোমারই রচনা করা
যে পথে গেলে ছায়া কথা বলে ওঠে
মনে জেগে থাকে বৃন্দাবন
বুকের ভেতর দিয়ে গড়িয়ে যায় জল
তার দৃশ্যপট ফুটিয়ে তুলতে পথ যখন ঝাপসা হয়ে ওঠে
মোহের ভেতরও নতুন প্রাণের জন্ম হয় অন্যরকম

কবিতার মতো তোমাকেও নানাভাবে বিশ্লেষণ করতে শুরু করে কুয়াশার ভেতর
আকাশ,গাছ পাখি নদীকে ডেকে আনে-
তুমি কে বোঝানোর জন্য।

ঝাপসা আলোতে জীবন রচনা করে অসম্পূর্ণ
এভাবে ডেকে নিয়ে লুকিয়ে যেও না
অপূর্ণতার মহাসাগর রচনা হচ্ছে শুধু

প্রতিমুহূর্তে কিছু মানুষ ছুটে অজানায়
কিছু মানুষ অকালে ঝরে যায়
অনেকেই হয়ে থাকে স্ট্যাচু
আর কিছু সরলরেখা বরাবর হাঁটত হাঁটতে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় হয়ে যায় কাতর

ওরা কিছু বুঝে না, হাঁটতে থাকে ছাতা মাথায়
রোদ ও বৃষ্টি লাগে না গায়

আর কে আছে বলো


অচেনা স্রোত

এই তল্লাটে ঢুকছে অচেনা স্রোত
ওরা লুফে নিচ্ছে 
এদিকে শুরু হয়েছে পাড় ভাঙন
ওদিকে অসম্ভব খানাখন্দ 
ভেতরে বাড়ছে রাগ-বিদ্বেষ
কত বার্তা আসছে চারিদিকে 
যেন রাত হয়ে যাবে দিন
কত তর্ক হচ্ছে আড়ালে 
যেন অচিরেই আসছে শীতল ঝড়
এখানে পুরুষের বুকে কোনো প্রেম নেই
নারীর মুখে নেই অভিমানের ছাপ
এখানে যত্নে লালন করা শীতল বাতাস নেই
চোখে পড়ে না লজ্জারাঙা মুখ
কেউ তার অতীত নিয়ে বসে আছে 
কেউ সব অপরাধ সপে দিচ্ছে ঈশ্বরের কাছে
কেউ শেষ সম্বলটুকু নিয়ে ভগ্ন ঘর দেখাচ্ছে 
কেউ স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে আবার আসবে সেইদিন 
যারা ভেসে যাচ্ছে অচেনা স্রোতে
যারা দেখছে কিছু বলছে না
যারা ভেসে যাক বলে নিজের ফায়দা লুটছে
যারা দিন গুনছে নতুন বসন্তের 
যারা নীরব নিস্তব্ধ হয়ে আছে 
যারা নিজেই ঠিক আছে বলে আজও ঢেকুর তুলছে
যারা ভেবে এগোচ্ছে মানুষ ভুলে যাবে সব অপরাধ 
যারা সব ঠিক হয়ে যাবে বলে কানের কাছে চিৎকার করছে
যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চায়
যারা চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে  ওঠে গেছে
যারা কষ্ট পেতে পেতে মুষড়ে পড়েছে
যারা সব দেখে হাসছে চিৎকার করে
যারা ঘরের ভেতর কেউটে পুষে রাখছে
যারা একটু স্বস্তি পেতে দিশাহীন হয়ে যাচ্ছে 
যারা বলছে এক,করছে আরেক 
যারা ঝোপ বুঝে কোপ দিচ্ছে 
যারা হেঁটে যাচ্ছে অজানার দিকে
যারা আর কিছু না করতে পেরে দোষী করছে সবাইকে 
যারা প্রেম হারিয়ে ভেতর শূন্য 
যারা ভালোবাসার নেশায় ঘুরছে হাতে ফুল নিয়ে 
সবার কেটে যাচ্ছে বেলা
এই তল্লাটে কারো সঙ্গে কারোর কথা হয় না প্রাণ খুলে
সময় চলছে...পাল্লা দিয়ে বইছে অচেনা স্রোত



কথা

কোনোভাবেই আমি ওকে খুঁজে পাবো না
সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সে
শুধু তাই নয় আমাদের সমস্ত পরিচিত মন্ডলীও ওর কথায় চালাতে পারে
ঠিক সুক্ষ্ম মিহি কৌশলে এসব হয় না
কিছুটা প্রকশ্যে
তার ভেতর খেলা করে কী?
এসবকিছু করে কিসের নেশায়? 
কাছে এলে বন্ধু মনে হয়ভাবনার জগতটাভাবনার জগতটা উলট-পালট হয়ে গেলে সবকিছুতেই সাময়িক বিরতি পড়ে । চাকা ঘুরছে ... আমার জন্যও বসে থাকবে না তোমার জন্যও । সব শেষে নীট ফল কিছু  একটা হয় উলট-পালট হয়ে গেলে সবকিছুতেই সাময়িক বিরতি পড়ে । চাকা ঘুরছে ... আমার জন্যও বসে থাকবে না তোমার জন্যও । সব শেষে নীট ফল কিছু  একটা হয়
মনে হয় এই হাসি নিষ্পাপ 
মনে হয় যা হচ্ছে  সব মিথ্যা 
মনে হয় আমাকে একা রেখে সে সখী নয়
মনে হয় তার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই
মনে হয় তার সামনে একটা দেয়ার গড়ে তুলি
মনে হয় সব বলে দিই চিৎকার করে
আমি জানি তাকে কোনোভাবেই পাবো না
সুতরাং এখনই বলতে পারি সব
একদিন হঠাৎ দেখা পেয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে  দাঁড়িয়ে পড়ি,সবকিছু অন্ধকার লাগছিল 
এভাবে বলে,লুকিয়ে যাওয়া অর্থহীন
কিছু কথা বলা যায় না 
কিছু দেখা শেষ হয় না
কিছু স্মৃতি ভুলা যায় না 
ঠিক তেমন করেই খুঁজে পাওয়া যায় না তাকে
পেয়ে পেয়ে হারিয়ে হারিয়ে তার অস্তিত্ব টিকে থাকে


গূঢ়ৈষণা

ছায়ার ভেতর দিয়ে এতদিন হাঁটছিল যে দিগভোলার দল

আজ রোদ দেখে
          রাস্তা দেখে-
          দিশাহীন হয়ে যাচ্ছে-
কেউ ঢোকে গেছে ঘরে
         মিশে গেছে স্রোতে
         রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে আছে কেউ

কে বলবে ওরা হেরে গেছে জীবন থেকে
কে বলবে বেশি দাঁড়ালেই ভেঙে যাবে পা
কে বলবে ঠিকানাগুলো হয়ে গেছে প্যাণ্ডুলাম
কে বলবে আরেকটু এগোলে গর্তে পড়ে যাবে
কে বলবে বাঁকা পথে বেশিদূর যাওয়া যায় না
কে বলবে এখনও তোমার দিকেই চেয়ে আছে হাত-পা ওয়ালা মানুষ

ওই দ্যাখো অল্প দৌড়েই হাঁপিয়ে উঠছে পরিচিত মুখ
ওই দ্যাখো বাতাসের দিকনির্ণয়ে ব্যর্থ যুবকগুলো
লিখছে হিজিবিজি কথা
ওই দ্যাখো অকালে মৃত্যুর  দায় নিচ্ছে না কেউ

এক ছায়া থেকে আরেক ছায়ার দূরত্ব একজীবনে মাপা যায় না 
এ কথাটা বোঝে না বলেই ওরা পারে না পথ ও মতের বিরুধী হতে ,পারে না সহযোদ্ধা হতে



 গোপেশ চক্রবর্তী র কবিতা অনেক দিন পর আবার খুব কাছে থেকে শুনতে পেলাম। প্ঙ্কজ যেভাবে আমাদের নিকটতম কবিদের কবিতা পুনঃ পাঠ করার সুযোগ করে দিচ্ছে তা অবশ্যই ধন্যবাদের চেয়ে ও অধিক। গোপেশের কবিতার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। প্রতিবাদী ধ্বনি ব্যঞ্জনা , নিঃশব্দ প্রেমের ‌মিথে আঁকা নিসর্গের মিষ্টিক ছোঁয়া লেগেছে যেন কবিতা গুলোতে। কবিকে আমার শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।


কবিতাকথা

স্বপ্ন-কল্পনা ও বাস্তবের যোগসূত্র কবিতা।স্বপ্নের আকার নেই,কল্পনার সীমানা নেই,বাস্তবের মাটিতে পা রেখে যাপনও প্রায় দুঃসাধ্য।সবকিছুর রসায়ণে কবিতার জন্ম।
চলতে চলতে দেখা চলতে চলতে একা 
আমরা বাইরে-ভেতরে যুদ্ধ করে আরেকটু সুখে থাকার জন্য পথ চলি।পাই কিছু। হারাই অনেক বেশি।নিজের ব্যক্তিত্ব ঠিক রাখার জন্য সংযম করি,ত্যাগ স্বীকার করি।কিছু পাই।অনেককিছু হারাই!এভাবে আমরা গভীরে যেতে যেতে কবিতার শরীরকে সাজাই মাত্র।

বারবার শূন্য হই একা হই
শূন্যতার ভাষা একাকীত্বের রূপ আর যাপনের ছায়ায় কবিতা আরও রূপবতী হয়।জীবন?সংসার?সমাজ?সম্পর্ক?লোভ?প্রেম?বিরহ?ভালোবাসা?সুন্দর?প্রত্যেকটি শব্দ একেকটি কবিতা!আমাদের যাপনে এসবের শেষ হয় না।রেশ থেকে যায়।সঠিক অর্থ বের করতে পারি না শব্দগুলোর!

প্রতারণা অবহেলা ছল-কৌশল বেইমানী আমাদের পথ চেনায় এদের রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে কবিতার গায়ে আলপনা আঁকি।এভাবেই বেঁচে থাকার কাব্য হয়।

যেমন করে অনেকটা জবানবন্দী আকারে লিখলাম কবিতার কথা তা লিখার কথা ছিল না!সত্যিই যে ভাবনা তাড়া করছিল অস্থির করে তুলছিল ভেতরে তার আভাসও এলো না এই লেখায়!কী অদ্ভুত!সারাটা জীবনই একটা কবিতা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ