২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সংখ্যা

২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সংখ্যা 


আমার ভাষা তোমার ভাষা

টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে ছিলোমিলো
বিপ্লব উরাং 

২১ ফেব্রুয়ারি  মাতৃভাষা দিবস।এই শব্দটি শুনলে সংবেদন
শীল প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ মায়ের ভাষার কথা মনে
পড়ে যায়।
আমার মায়ের ভাষা কি?জিজ্ঞেস করলে--সঠিক ভাবে
বলতে পারিনা। কি বলব আমি।আমার পূর্বপুষদের মাতৃ
ভাষা ছিল হিন্দি।এসেছিলেন বিহারের হাজারীবাগ জেলা
থেকে।এসেছিলেন নয় আনা হয়েছিল-প্রলোভন দেখিয়ে।
চা-গাছ--ঝাড়লেই টাকা  পাওয়া যায়।ঘন অরন্য ত্রিপুরায়।
সালটা সম্ভবত  1915-1916 হবে।

শুধু বিহার থেকে নয়।উড়িষা,পশ্চিম বাংলার পুরুলিয়া,
উওর প্রদেশ,মধ্যপ্রদেশ,বিভিন্ন রাজ্য থেকে।কারও মাতৃ
ভাষা হিন্দি,কারও উড়িয়া,কারও ভোজপুরী,  কারও বা নাগপুরী,কারও সাঁওতালী।বাগানের ম্যানেজার বলত বাংলা।ইংরেজের কর্মচারীরা বলত ইংরেজী।,কেউ কারও
ভাষা বুঝত না।মনের ভাব প্রকাশ করা ছিল দুঃসাধ্য।সব
ভাষা মিলে চা-বাগানে এক ধরনের কথ্য ভাষা সৃষ্টি হল।
কিন্তু কি বলবে এই ভাষাকে।তখন কেউ ততটা মাথা ঘামায়
নি।কিভাষা বলা হবে এটাকে।কেউ বলত জংলী কেউ বলত বাগানীয়া।এই সমস্যা শুধু ত্রিপুরায় নয়। আসাম,
বাংলাদেশ--যেখানে চা-বাগান  কিংবা কোন শিল্প কারখানা
তৈরী হয়েছিল--ঐ সমস্ত জায়গার মানুষেরা এই সম্যায়
পড়েছিল।এই সব জাতি গোছষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃ ভাষা আছে।
যা নিজ গোষ্ঠী  ছাড়া অপরের কাছে দুর্বোধ্য।কোন কোন
আদিবাসী  জনগোষ্ঠী  নিজস্ব  মাতৃভাষা  বর্জন  করেছেন
কিংবা ভুলে গিয়েছেন।এই সমস্ত মানুষেরা মিশ্র ভাষা ব্যাব
হার করেন।ভাষাবিদরা এই ভাষাকে লিঙ্গুয়া ফ্রান্কা(Lingua frnca)বা সংযো
গস্হাপন কারী ভাষা বলেন।

সংযোগস্হাপন কারী ভাষা গুলোর মধ্যে সবচাইতে বেশী সাদরী ভাষায় কথা বলা হয়।সাদরী ভাষা স্হান ভেদে বিভীন্ন নামেও পরিচিত।যথা (লুইসের মতে)সাদানি,সাদানা,সাদতি,সদরী,সাধন,সদনা,সদরিক,সিদ্দ্রী,স্রাদি,সাধারি,সদন,সান্ত্রী,নাগপুরি,নাগপুরিয়া,ছোটা
নাগপুরি,দিক্কু কাজি,গাওয়ারি,গাঁওয়ারি,ঝাড়খন্ডি।

সুন্দরবনের জনজাতি মানুষষদের(ছোট নাগপুর থেকে
আগত সাঁওতাল,মুন্ডা,ওরাওঁ,ভুমিজ,)মধ্যে সাদরী ভাষায় কথা বলে।শুধু সুন্দর বনেই নয়,উত্তর বঙ্গের বিস্তীর্ন এলাকায়(চা-বাগান এলাকায়)কিংবা বাঁকুরা,পুরলিয়া,চব্বিশপরগণা,মানভুম,মালদহ প্রভৃতি
জেলার মানুষ এইভাষায় কথা বলেন।,এছাড়াও বিহার
ওড়িশা,আসাম,ঝাড়খন্ড,ছত্তীশগড়,মধ্যপ্রদেশ,আন্দামানওনিকোবর,ত্রিপুরার আনুমানিক 2(দুই)কোটির বেশি মানুষ
এইভাষায় কথা বলেন।বাংলাদেশেও বিশেষ করে চা-বাগান এলাকায় এই ভাষায় কথা বলেন।

আমাদের রাজ্যেও এক লাখের বেশি মানুষ সংযোগ স্হাপনকারী ভাষায় কথা বলেন।কিন্তু এই ভাষার নিদৃষ্ট
নাম ছিলনা।কেউ জংলী বলত কেউ বলত বাগানীয়া।
1987সালে সিমনার নরেন্দ্র পুর চাবাগানে ঝুমুর সাহিত্য
সংস্কৃতি  সংসদের এক সভায় এইভাষা নিয়ে আলোচনা
হয়।সভায় উপস্থিত  ছিলেন লোক কবি বুধুদাস পানিকা,কথা সাহিত্যীক জয়া গোয়ালা,সংসদের উপদেষ্টা
টনি লাল পাঁড়ে,সভাপতি বিরষা সাঁওতাল,সহ সভাপতি প্রমোদ কেউট,মোহন ঘাটুয়াল,রন্জিৎ নায়েক,অরুন গোয়ালা প্রমুখ।জয়া গোয়ালা প্রস্তাব রাখেন-যেহেতু বিভিন্ন  ভাষার সংমিশ্রণে  একটা  মিলিঝলি ভাষা সৃষ্টি  হয়েছে-
এটাকে ছিলোমিলো ভাষা বললে কেমন হয়? সংগে
সংগে বুধুদাস পানিকা সহ সবাই সহমত পোষণ  করেন
এবং এই রাজ্যে এই ভাষাকে ছিলোমিলো ভাষা হিসাবা
আখ্যায়িত করা হয়।

1984 সালে প্রথম লোক কবি বুধুদাস পানিকা ছিলোমিলো ভাষায় গান লিখেন।পরবর্তী সময় জয়া গোয়ালা।বুধুদাস
পানিকা,জয়া গোয়ালার গান কবিতা রাজ্যে,বর্হিরাজে এমনিক বাংলাদেশেও সমাদৃত।জয়া গোয়ালা তাঁর উপন্যাস,গল্পে ছিলোমিলো ভাষা ব্যাবহার করেছেন যা
পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে।এর পর বিপ্লব উরাং লিখছেন।পাঠক সমাজ গ্রহন করছেন।

ইদানিং  নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা লিখতে শুরু  করেছেন যা ছিলোমিলো ভাষীদের কাছে গর্বের।এঁদের
মধ্যে আছেন অজয় সুরেন সাঁওতাল,অনন্ত উরাং,নান্টু
উরাং,শীলা সাঁওতাল,সুশীল মুন্ডা,মামুনি সাঁওতাল,বিদ্যুৎ
বারাইক,মধুমিতা বারাইক,পৃজা বারাইক,রিমা গোয়ালা।অজয়,শীলা,মামুনিরা সাঁওতালী ভাষায়ও লিখছেন।

আশার কথা বাংলা ভাষী লেখক,কবি নাট্যব্যক্তিত্বরাও
ছিলোমিলো ভাষা বিকাশে এগিয়ে আসছেন।
 বিশিষ্ট  সাংবাদিক,গনসংগীত শিল্পী  সমীর ধর বুধুদাস
পানিকা-র গান নিয়ে (ডর ক্যানে অন্তরে)গানের ক্যাসেট
বাহির করেছেন।এই ভাষা নিয়ে লেখা লেখি করছেন সমীর
ধর,কবি দিলীপ দাস,কবি বিমল চক্রবর্তী,সমর চক্রবর্তী।ছিলোমিলো ভাষায় কবিতা লিখছেন মধুমিতা নাথ,শ্যামল কান্তি দেব।যারা কবিতা লিখছেন তাঁদের প্রতি অনুরোধ,উচ্চারন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে নজর রাখবেন।
পুরুলিয়া অন্চলের ভাষার সঙে মিলিয়ে নেবেন না।ছিলো
মিলো ভাষার সঙে মিল থাকলেও উচ্চারণে  প্রার্থক্য আছে।

এই রাজ্যের প্রকাশকরাও এগিয়ে আসছেন।এঁদের মধ্যে নব
চন্দনা প্রকাশনী,অক্ষর প্রকাশন,সৈকত প্রকাশন,ত্রিপুরা
দর্পন প্রকাশনের নাম উল্লেখ করতে হয়।ব্যাক্তি বিশেষের 
নাম ও উচ্চারণ  করতে হয়।বিশিষ্ট কবি রাতুল দেববর্মণের সহযোগীতা ছাড়া আমার প্রথম কবিতার বই--এক বিঘত
জমিন।প্রকাশ করা সম্ভব হত না।

পরিশেষে বলব আসাম,বাংলাদেশ,পুরলিয়া,ত্রিপুরার স
ংযোগস্হাপন কারী ভাষীরা যাতে এই ভাষায় বেশি বেশি
করে সাহিত্য চর্চা করে এই ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ  করেন।

ঋণ স্বীকার -----ঝন্টু বড়াইক।
সহকারী অধ্যাপক ও সাদরি ভাষার গবেষক,রবীন্দ্রভারতী
বিশ্ববিদ্যালয়।
সন্জয় কুমার তাঁতী---বিশিষ্ট লেখক,আসাম।

মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ সমান 

সুস্মিতা চৌধুরী 


ভাবতে রোমাঞ্চ হয়, পৃথিবীর বুকে আস্ত একটা দেশ রয়েছে, যার রাষ্ট্রভাষা বাংলা!  যেখানে সবাই বাংলায় কথা বলেন। সবে দুই প্রজন্ম আগে আমার পূর্ব পুরুষেরাও এই দেশটির অধিবাসী ছিলেন। বাংলাদেশ–- নামটি উচ্চারণ করলেই একটা তিরতির খুশি ছুঁয়ে যায়। ওখানে পথে ঘাটে–- দোকানের সাইনবোর্ড বা বাসের নামে ,সর্বত্র বাংলা অক্ষর সগৌরবে , স্বমহিমায় বিরাজ করছে। হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি বা অন্য কোন ভাষা তাকে গিলে খেতে আসে না। মানুষ বাংলায় ভাবেন, বাংলায় মত প্রকাশ করেন। প্রেম, ঘৃণা, শোক, ঈর্ষা সবকিছুরই প্রকাশ হয় বাংলায়। ভাষার অধিকারের প্রশ্নে তাদের জ্ঞান খুব টনটনে। কারণ, রক্ত দিয়ে এই অধিকার ওদের অর্জন করতে ‌হয়েছে। নিজের ভাষাকে কে‌ না ভালোবাসে ? কিন্তু ‌ভাষার জন্য ‌রক্ত ঝরাতে হয়েছে বলেই এই ভাষার মর্যাদা তাদের কাছে আজও অম্লান। 
মিথ্যাচার করে তো লাভ নেই। আমরা মুখে ‌বলি , বাংলাকে ভালোবাসি। এদিকে সন্তানকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ‌পাঠাই। ওদের কেরিয়ারের চিন্তা আছে। তার সঙ্গে আরও একটা কারণও রয়েছে। যতই মনকে চোখ ঠারি না কেন, খুব ‌সূক্ষভাবে হলেও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পাঠিয়ে ‌কিছুটা কি শ্লাঘা বোধ করি না ?অথচ আমাদের বা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের কতো কতো গুণী মানুষ বাংলায় পড়াশোনা করে দেশজোড়া এমনকি জগৎজোড়া খ্যাতি পাননি কি ? আমরা বলবো, তখন ‌এতো প্রতিযোগিতা ছিলো না। আজকে আমাদের ‌সন্তানরা বাংলা মাধ্যমে পড়লে তাদেরকে অনেক বেশি ‌প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। মা বাবা হিসেবে আমরা নিশ্চয় সন্তানের ভবিষ্যৎ  নিশ্চিত, নিরাপদ করতে চাইবো । এই বাস্তব সত্যটাকে অস্বীকার না করেই বলছি, আমরা তো ‌পারি অন্তত ওদেরকে বাংলা ভাষা- সাহিত্যের সঙ্গে যতটা সম্ভব পরিচিত করাতে। যেহেতু ইংরেজিতে সচ্ছন্দ , ওরা খুব স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজি বইয়ের দিকে ঝুঁকবে।সে ঝুঁকুক, কিন্তু আমরা তো একটু ধৈর্য ধরে , ভালোবেসে ওদের বাংলা পড়ার অভ্যেসটা তৈরি করে দিতে পারি। সেটাও কি সবাই সবসময় করি ? এর জন্য তো ওরা দায়ী নয়। আমাদের অবহেলায়, আমাদের ধৈর্যের অভাবে ওদের মাতৃভাষার সঙ্গে ঠিকঠাক পরিচয়টাই হয়ে ওঠে না। এভাবেই দিন যায় । যথেষ্ট চেষ্টা না করেই একসময় আমরা হাল ছেড়ে দি"। "ওকে কিছুতেই বাংলা বই পড়ানো যায় না"-- শেষ পর্যন্ত ‌এই হয় আমাদের অজুহাত । একসময় ওরা ইংরেজি গল্পের বই , গান, ইংরেজি সিনেমা, অ্যানিমেশন -- এইসব নিয়েই মত্ত হয়ে ওঠে। নিজেদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্ৰাম, মেসেঞ্জারে আগাগোড়া ইংরজিতে চ্যাট করে।আর এইসব দেখে শুনে একদিন হয়তো হঠাৎ আমাদের ‌বোধোদয় হয় ," কি হবে ? আমি তো আমার ভাষার উত্তরাধিকার আমার সন্তানকে দিয়ে গেলাম না !ওর‌কি নিজের ভাষার প্রতি , মায়ের ভাষার প্রতি ‌আদৌ কোন দরদ আছে ?যদি না থাকে , তার জন্য আমি কি ‌নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো ?" মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান। মাতৃদুগ্ধ ‌তো‌ দিলাম, কিন্তু মাতৃভাষা? এ এমন এক অপরাধ , যার জন্য আমার সন্তান কোনদিন আমার ‌কাছে‌ জবাবদিহি চাইবে না। সে তো জানেই না, তাকে আমি কি মধু থেকে বঞ্চিত করেছি ।



কদমবুছি
মলয় রায়চৌধুরী

এ নাও বাংলাভাষা, কদমবুছি নাও
বাচিক বর্ণসংকরের কদমবুছি নাও
এ নাও বঙ্গদেশ, কদমবুছি নাও
অর্ধেক কাফেরের কদমবুছি নাও
সামান্য ওপরে তোলো জামদানি
পুর্ব ও পশ্চিম দুই পা এগিয়ে দাও
ঠোঁট দিয়ে কদমবুছি দিই
হে এপার হে ওপার 
কদমবুছির ছোঁয়া মনে রেখো 
যতোদিন পারো


ভাষা
প্রবালকুমার বসু

কেউ কেউ অনুবাদের ভাষা বলে
কেউ বলে সীমান্ত পারের
কেউ কেউ শীতকালের ভাষা বলে
কারো ভাষা শুধু বিকেলের
কারো কারো ভাষা ভালোবাসা
কেউ তাকে ভাবে প্রতিবাদ
কারো ভাষা রাজনীতি হলে
অনবধানে ভাঙ্গে তা বিশ্বাস
কেউ বলে পাখিদের ভাষা 
কেউ কেউ দুর্বিপাকের
নদীর ভাষায় কেউ বলে
কারো ভাষা শুধুই শোকের
সমুদ্রের ভাষা বলে কেউ
কেউ কেউ নিয়ম মাফিক
কেউ শুধু বলে সেই ভাষা
যেই ভাষা আন্তর্জাতিক
কেউ কেউ সাংকেতিক বড়
কারো ভাষা ভীষণ অচেনা
অনেকে এমন ভাষা বলে
যেন তার ভাষাই ছিল না

আমি তো চেয়েছি সেই ভাষা
যে ভাষায় ফুল ফুটে ওঠে 
ভাষার আড়ালে খুঁজে দেখি
নিজের ভাষাই সংকটে।

বাংলাভাষা
শ্বেতা চক্রবর্তী 

তুমি নাকি আমার মা,
তাই তোমায় নিয়ে যথেচ্ছ খেলা যায়,
তোমায় ভুল বানানে ডাকা যায়,
তোমায় ভুলভাল শব্দে সাজানো যায়,
তোমায় প্রতিদিন ছোটো করা যায়।

বিদেশী ভাষায় বানান ভুল হলে ক্ষমা নেই,
কিন্তু তোমায় ভালোবাসলে বানান ভুল শিরোধার্য!

সত্যিই তো!বাংলায় ভালোবাসলে বানান ভুল করো!ইংরেজিতে নৈব নৈব চ!
বাংলায় বানান ভুল হলে তুমি অশিক্ষিত নও!
ইংরেজিতে বানান আর শব্দ ভুলে তুমি অশিক্ষিত!

মাতৃভাষা নিয়ে খেলার হরেক নিয়ম,
তার আবার হরেক যুক্তি!
আহা,অত মাস্টারগিরি কেন?

আসলে বাঙালিরা তোমায় ভালোবাসার ছলনায় এত ছোটো করে যে বাকি জাতি লজ্জা পাবে!

পৃথিবীর আর কোনো ভাষার জন্যে সোনামনরা প্রাণ দেয় নি!

পৃথিবীর আর কোনো ভাষাকে তার সন্তানরা এত ছোটোও করে না!

বাংলা ভুল?তুমি বুক ফুলিয়ে বেড়াও!
ইংরেজি ভুল,তুমি লজ্জায় মাথা নোয়াও!

তোমার বুকের ওপর কেউ কলাপাতা দিয়ে ঢাকলে আমি সেই কলাপাতা পরিষ্কার করি এই আমার হাতে,
ওতে ধুলো আমার সয় না,
আমি তোমায় নোংরা দেখতে পারি না,বাংলাভাষা!

আমি তোমায় নিয়ে ভান করতে শিখি নি,বাংলাভাষা!

আমার মাকে প্রণামের সময় আমি আকাশ দেখতাম না,মাটি দেখতাম,
তোমায় প্রণামেও আমি প্রণামই করি,
দায়সারা প্রণাম কোনো প্রণামই নয়!

চিতল হরিণী তুমি,
তোমার দেহের চিত্র স্বয়ং ঈশ্বর এঁকে দিয়েছেন,
তাকে টেরাবাঁকা করি,এমন তঞ্চকতা আমার সইবে না!

প্রবল খিলান ভেঙে কাঠের ঠেকো বানানো আমার কাজ নয়,
পরিখা ছেড়ে পুকুর,
পলাশ ছেড়ে বসন্ত,পারবো না!
যাতে যার শোভা,তাতে তার সুস্থতা!

তোমায় নিয়ে অসুস্থতা আমার সয় না,
তুমি জীবনের দিকে মুখ করে মৃত্যুর গান গাইতে শিখিয়েছ বরকতদের,
আধখানা জীবন শেখাও নি!

আমিও আধখানা,এলোমেলো সইতে পারি না!

বাংলা আমার গৌরব,
আমি তার ওপর মিথ্যের ধুলো সইবো না!
তাতে যদি আমার পথ একলা হয়,হোক্!

আজ তোমার জন্মদিন,আমার বুকে শোক!


ফেব্রুয়ারি একুশের ভোরে / পীযূষ রাউত 

শত শতাংশ অসাম্প্রদায়িক আমি 
ফেব্রুয়ারি একুশের ভোরে 
ভুলে যাই কাঁটাতারের নিষ্ঠুর বিভেদ। 

কিছুতেই ভুলতে পারিনা এক ভাষা
এক সংস্কৃতির  প্রিয় জন্মভূমি তোকে।


বাংলাদেশ: প্রাণের ভাষা 
মাসুদা তোফা

অনাদরে  অবহেলায় চলছে মায়ের  ভাষা
লিখছি  বানান যে যার মতন খেলছি যেনো পাশা।
সালাম বরকত রফিক জব্বার জীবন দিল আশায় 
ভাষা  হবে, বলবে কথা বাংলা  মায়ের   ভাষায়। 

শিমুল পলাশ ফুলে হলো বর্ণমালার  মালা
বায়ান্নতে  রক্ত ঢেলে  গাঁথলো ভাষার মালা।
শহিদদের সে  রক্তের দামে  বাংলা ভাষায় লিখি
ভালোবাসা কৃতজ্ঞতায়   তাঁদের স্মরণ  রাখি। 

প্রাণের ভাষা  পেলাম যখন রাখি তারে প্রাণে
বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস  মানে।
ভাষা এলো , স্বাধীন দেশের স্বপ্ন আশা এলো, 
রক্তের দামে  সোনার দেশের  স্বপ্ন পূরণ হলো।
বিশ্ব সেরা  হবে  এদেশ স্বপ্ন শুধু  দেখি
বুকের মাঝে এই ছবিটি সারাক্ষণই রাখি । 
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা, প্রাণ জুড়ানো দেশটা
জনম জনম  থাকুক মাগো ভালবাসার রেশটা
গর্ব যত ঋণ যে তত তোমার  তরে  আমার 
বিপদ এলে রাখবো তোমায় বুক পকেটে  জামার।

একুশের গান
শ্যামল কান্তি দে

এবার একুশ হকের জন্য
এবার একুশ সংগ্রাম ,
এবার একুশ শতকের
এবার একুশ লক্ষ মা ৷
এবার একুশ রক্ত কনা 
এবার একুশ মুক্তি ,
এবার একুশ সর্বহারার
এবার একুশ তুমি সুর্য ৷
এবার একুশ অনন্য অনন্যা
এবার একুশ শক্তি ,
এবার একুশ স্বাধীনতা
এবার একুশ একুশের প্রেরণা ৷

একুশের গান
পুলিন রায়

একুশের গান-এক.

কোকিলের ডাক
নদীর কলতান
পাতা ঝরার শব্দ
সবুজের আলপনা
দিগন্তের রঙিন ঝালর
দখিনা বাতাসের কলধ্বনি
কিংবা 
মেঘেদের নিপুন ছন্দে---ভাষার গান
মায়ের মুখে মর্মরিত কলহাস্যময় সুরের ঝংকার।

একুশের গান-দুই.

দূর আসে কাছে রোদের সাথী হয়ে
চোখের তারায় নীল প্রত্যাশা করে খেলা
নদী ছুটে সাগরপানে
জনতার কল্লোলিত গুঞ্জরণ
আরো দৃঢ় হয়
পাখির পালকে আকাঁ স্বপ্ন হয় আরো উজ্জ্বল
পৃথিবীর পথে পথে লালসবুজের উঁকিঝুঁকি 
হাসছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
হাসুক তাবৎ প্রাণ
একুশের চেতনায়

অভিমান
পুলিন রায়

অভিমানে জড়ানো আরো কিছু কথা ছিলো 
আরো কিছু প্রেম চেয়েছিলে
সোনাঝরা দিনের নিরাভরণ মুহুর্তে 
সাক্ষী ঝলমলে রোদ আর পাতার আড়াল থাকা কোকিলের ডাক
হারানো দিনের স্মৃতিরা আনে
অবিমিশ্র অনুভূতির আনন্দাশ্রু
আরো কিছু অভিমান জমা থাক 
কিছু অভিমান ছুড়ে দেই বসন্তদিনের শরীরে...

কথাবার্তা

চৈতন্য ফকির

বর্ণমালা
বাংলা অক্ষরের শরীর জুড়ে জ্যোস্না ও উষ্ণতা।

এ দল ছেড়ে সে দলে নাম লেখাতে রাজনীতির মতো সাহিত্যিকদেরও জুড়ি নেই।কোন কোন প্রকাশক তো মওকা মারার মতো দল ভারি করেই আনন্দে আছেন।আবার কেউ কেউ দল ত্যাগ করে আনন্দ পান।বেশ জমছে খেলা।
আমি হাসবো না কাঁদবো না করে সম্মানীয়দের শ্রদ্ধাই করি।
নিজেকে আরো শাণিত করে কলম তরবারিতে শান দিই।
ঢেঁকি নরকে গেলেও ধানই কুটবে এ বিষয়টা আমার নিজস্ব। 
দলবল হলো না বলে আমি দলীয় নয়।

লিখতে এসে জানি কার কেমন পিপাশা।কে কতটুকু। 
কলম তাই খাপছাড়া তরবারি।যেদিন
কলম আর চলবে না নিজেই পরিয়ে দেবো 

সীমাবদ্ধতার দেওয়াল।

কত কত ডান হাত বাম হাত হয়ে যায়।
বাপুরাম তবু হেঁটে হাটে হেঁটে আসে যায়।

বনতট হাতে নিয়ে তবু  কেউ মিটমিটে চায়।
হারাধন পটাপট ক্লিক মেরে ছবি করে দেয়।

আমি বলি
প্রকৃত মানুষ খুঁজি
তাই
মাটি থেকে তুলে আনি কিছু
মানুষ।

আমি প্রকৃত মানুষ খুঁজবো
বারবার 
তাই ডাকবো
মানুষদের।

২০:০২:২০২১
রাত:০৭:৪৮মি
কুমারঘাট

বাংলা মানে কী

সিমু দাশপুরকায়স্থ
  
বাংলা 
         মানে সৃষ্টি ।
বাংলা 
         মানে এক পস্ লা বৃষ্টি। 
বাংলা 
         মানে বাউল গান ।
বাংলা 
         মানে আড্ডা, রস-গান ।
বাংলা 
         মানে মায়ের ভাষা।
বাংলা 
        মানে সংগ্রামী ভাষা।
বাংলা 
         মানে একুশে ফেব্রুয়ারি 
বাংলা 
      ভাষাকে ভুলতে নাহি পারি   
বাংলা 
        মানে  কবির ভাষা ।
বাংলা 
        মানে জাগায় প্রত্যাশা ।
 
            

ইক হপন
শ্যামল কান্তি দে

বাবুরা ,
কাইল রাইতে ইক হপন দিখি গাঁ
লাই কুন টকা পাইবার লাই ৷
হপনটা ইকবার শুনি লও বাবুরা ,
মু ইকটা কবর লগে দড়াই আছি ৷
কবর পাথ্যরটার ইখানে ওখানে
শ্যাওলা ছড়াই গিছে অন্যক পুরান ৷
কটা লিপি খুদ্যই আইছে পাথ্যরটায় ,
পইড়তে চাইলম লিখ্যটা , পারি লাই
লিজে সাফ কইরতে লগি পাথ্যরটা ৷
ইবার পইড়তে পাইরলম লিখ্যটা ,
      " আমার ভাই এর রক্তে "
পাথ্যরটা বার বার সাফ কইরতে লগি
বাবুরা অর কুন্ন লিখ্য পইড়তে
লাই পাইরলক মুর ডাগর দুই চুখ ৷
মইনের মইঝে যন্ত্রনা লিয়ে
কবর পাথ্যরটা ঘুইরতে থাকি ৷
কান ঠেকাইলম পাথ্যরটার গায়ে
বাবুরা , শুনলম কেউ কথা বইলছে ,
   " মুক্তি চাই , আমারে মুক্ত কর "
তখ্যন দূরের কুন্ন মিছিল থেইকে
ভেইসে আইল একুশের মনের কইন্ঠ
 " আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো
          ২১শে ফেব্রুয়ারি
      আমি কি ভুলিতে পারি "
মু কবর পাথ্যরটা ভেইঙে চুড়মার
কইরে কইরে দিখি বাবুরা
মুর অ আ ক খ কথা বইলছে ||

অমর একুশ
আব্দুল হালিম

----------------

একুশ মানে ঝড়ের নদী
যুদ্ধ জয়ের খাম।
একুশ আমার রক্তে কেনা
বাংলা মায়ের নাম।

একুশ আমার আঁধার হরা
সূর্যোদয়ের ভোর।
আকাশ চিরে ভেসে আসা
হাজার পাখির সুর।

একুশ মানে মন ভোলানো
কাঁচা বাঁশের বাঁশি।
একুশ আমার ছোট্টমেয়ের
ফোঁকলা দাঁতের হাসি। 

একুশ আমার বাংলা হরফ
একুশ কালের গান।
এই একুশের মধুর ছোঁয়া
জুড়ায় কোটি প্রাণ।

একুশ মানে ভোরের মিছিল
এগিয়ে চলার ডাক।
একুশ মানে পালিয়ে যাওয়া
হাজারটা দাঁড়কাক।

একুশ মানে রফিক সালাম
হাজার শহীদান।
অমর একুশ অতুল সেনের
প্রাণ জুড়ানো গান।

আমার একুশ মায়ের কথা
বাবার আদর স্নেহ।
এই একুশের ছায়ায় বসে
জুড়াই মন ও দেহ।
____________________

একুশে

রসরাজ৷ নাথ

একুশে বসন্ত এসেছিল
             রক্তগঙ্গায় -
একুশে পেলো
মাতৃ -ভাষার আন্তর্জাতিকতা ।
মহান একুশে
একুশে ই রয়ে গেলো
এ কোন অশনি সংকেত ?
 
বাঁচুক বাঁচুক,বাঁচাবো
তোমার আমার ভালবাসা
মাতৃভাষা মাতৃভাষা ।



মাতৃভাষা 
দীপাঞ্জন ভট্টাচাৰ্য 

এই দিনে শুধু বাংলা বলবো 
তা তো হয় না 
আমার মুখের ভাষা আজ অপহৃত 
কে এবং কেন অপহরণ 
সে এক কাহিনী 
কিন্তু বুকে তো অবিরত রক্তক্ষরণ 
ভাষার জন্য প্রাণ 
সে তো সহজ কথা নয় 
সে সাহস আমার আর অবশিষ্ট নেই 
প্রাণ খুলে আজ কথা বলাই দায় 
ঘরের দেয়াল শুনে ফেলে 
জানলা খুলতে পারিনা 
সিংহাসন লোভীরা আজ চারিদিকে সক্রিয় 
সব কিছু গোল্লায় যাক 
থাকুক সিংহাসন আর অর্থভান্ডার 
সূর্যের নিয়ম আজও কেও বদলাতে পারেনি 
তার নিয়ম বাধা 
মাতৃভাষা ও বদলানো যায় না 
তার ও নিয়ম বাধা 
স্বপ্ন দেখি একদিন 
সূর্য আর ভাষা মিলে ওই 
সিংহাসন টাকে চুরমার করে 
বাল্য শিক্ষার অঙ্গনটা কে ভরিয়ে তুলবে 
হাসবে শুধু কিশলয়।

ভাষা আন্দোলন
হরিহর বৈদ্য


জন্ম মোদের বাংলাতে তাই 
    আমরা বাঙালি ভাই, 
বাংলা ভাষায় কথা বলি 
   আর বাংলাতে গান গাই।
বাংলা আমার  প্রাণের কবিতা 
     বাংলার নদী নালা,
বাংলার ফল, বাংলার পাখি 
     বাংলার ফুলমালা।
বাংলার মাঠ বাংলার পথ 
     সবুজ শ্যামলে ভরা, 
বাংলার বন কাড়ে প্রাণমন 
     হাতছানি দেয় তারা।
বাংলা মোদের জননী সম 
     স্নেহের মমতা মাখা,
পাখির কূজনে কলরব করে 
     ডাকে তারে তরুশাখা।
বাংলার গান জুড়ায় যে প্রাণ 
      বাংলার ইতিহাস-- 
শেখায় বারতা প্রেম-ভালোবাসা 
    তাই বাংলাতে করি বাস।
বাংলা আমার জীবনানন্দ 
        বাংলার নজরুল, 
বাংলা ভাষাতে এনেছে প্লাবন 
         গর্বিত প্রাণীকুল।
মরে ও আজ ওমর তাঁরা 
     বরকত, জব্বার --
বাংলাভাষাকে রুদ্ধ করিবে 
     এমন ক্ষমতা কার!
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো  
       একুশে ফেব্রুয়ারি,
অমর তারা, আমরা কি কভু 
      তাদের ভুলতে পারি।
প্রতিবছর শ্রদ্ধার সাথে, তাই
     আজকের এই দিন---
ভাষা শহীদদের স্মরণে 
     আমরা সুধব রক্তঋণ।

রক্তে রাঙা একুশে 
দ্বীপ বণিক 

রক্তে রাঙা সেই দিনটি,
মাগো; ভুলবো কী করে।
শত বছর পেরিয়ে গেলেও;
মাগো; সেই দিনটি মনে পরে। 
বাংলা মোদের মাতৃভাষা,
বাংলা মোদের প্রান।
বাংলা ভাষা রক্ষার জন্যেই,
হয়েছে সেই সংগ্রাম।
কতো ভাই শহিদ হয়েছে,
কতো রক্তে লেগেছে মাটি।
তবু মোরা উর্দু ভাষা'কে;
করে নিলাম না খাঁটি। 
ফুলের মতো ছিঁড়তে চেয়েছিল,
আমাদের বাংলা ভাষা'কে।
বুক দিয়ে আগলে রেখেছি;
আমাদের বাংলা ভাষা'কে।
রক্ত ঝড়িয়েছি প্রানের মাঝে, 
তবু ব্যথ্যা পেতে দেয়নি তোমায়।
হৃদয়ের মাঝে রেখেছি তোমায়,
মনের মনি'কোঁঠায়।
সেই দিনের মতো ভালোবাসি আজও;
বাংলা ভাষা তোমাকে। 
দুঃখের কথা মনে এলে আজও, 
চোখের কোনে অশ্রু ঝরে আসে।।



বাংলাভাষা

চৈতন্য ফকির

তুমি আমার একুশ
তুমি আমার বর্ণমালা
তুমি আমার ভাষা
তুমি আমার ফাগুন
তুমি আমার আগুন ঝরাদিন।

তুমি আমার বাহান্ন
তুমি আমার
তুমি আমার
ফাগুনে আগুনলাগা
শিমুল পলাশ রঙ্গিন।

২১:২:২০১৮
বেলা:২:৩০মি
কুমারঘাট।


বর্ণমালা
গোবিন্দ ধর

আমাদের সময় এত কাগজ ছিল না
বাবা দিলেন শ্লেট আর চক।
এই শ্লেট থেকেই উঁকি দিল
ঝকঝকে সাদা বর্ণমালা।


মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্ দ্বিপ্রহর VS আত্মহত্যা
গোবিন্দ ধর

ঠিক তেলে জলে না মেশারঝোঁক যতটা কাম্য ছিলো না
ততটা দূরত্ব নিয়ে, আঁটোসাঁটো
ছবিমানুষ তুমি
কথা না বলে বলিয়ে নাও
নিজের আত্মহনন মুহূর্ত।

তুলির আঁচড় দিলাম হ্যান্ডমেড কাগজ দাও
লিখি অসুখ, নিজের বসন্ত।

২১:০২:২০১৭
আগরতলা
সকাল:৫:৪৫মি।


মা
চৈতন্য ফকির

ক-তে কাঁটাতার
আটকে আছে
এপার ওপার
দুপারে দুই-মা।

বাংলাভাষা মা
বর্নমালা মা
মাতৃভাষা মা

সব ক'টা তার উগলে চলো
বাংলায় ডাকি -মা।

২১:০২:১৭
বেলা:১১:২২টা
আগরতলা


বাংলাভাষা
চৈতন্য ফকির

এত রক্ত লেগে আছে।
এত রক্ত দিলো আমার ভাই।
আমার মা।
আমার বোনটি পারুল।
আমার ভাইটির রক্তস্নাত বর্ণমালা 
আমার মাতৃভাষা।

২১:২:২০১৮
সময়:১২:৩৯মি
রাজেন্দ্রনগর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ