বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ||কবি সুকুমার দত্ত|| মুখোমুখি গোবিন্দ ধর

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি 
------------------------------------------
ত্রিপুরার বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক গুণিজনদের মুখোমুখি 
গোবিন্দ ধর 
এই পর্বে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব কবি সুকুমার দত্ত 

পরিচিতি 
সুকুমার দত্ত অধুনা বাংলাদেশের মুরারি চাঁদ কলেজ থেকে আই এস সি পাশ করে, পরবর্তী সময়ে কোলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বি এস সি পাশ করে  অটোমোবাইল ও রেডিও টেকনিশিয়ান এ ডিপ্লোমা কোর্স করেন জর্জ টেলিগ্রাফ কোলকাতা থেকে। তারপর ১৯৬৫সালে ত্রিপুরা রাজ্যে এসে ICAT ডিপার্টমেন্টে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৯১সালে অবসর গ্রহণ করে। তিনি।প্রবন্ধ গল্প লেখেন দুহাত ভরে।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর তখন চল্লিশ বছর।প্রখর স্মৃতিশক্তি জনিতায় বলতে পারতেন তৎকালীন সময়ের ঘটমান বর্তমান।তাঁর কলম সময় ও সময়ের পরিভাষা রচনায় আজীবন ছিলো জাগ্রত স্ফুলিঙ্গ।

প্রশ্ন :১
কি লিখি কেন লিখি?

উত্তর:১
আমি লিখি নিজের মনের তাগিদে,তাই নিজেকে লেখক কবি,সমালোচক,প্রবন্ধকার বা ঐ জাতীয় কিছু মনে করিনা। লেখালেখি আমার অবসর বিনোদন এর একটা অঙ্গ, সেগুলোর সাহিত্য মূল্য কতটুকু আছে সে নিয়ে কখনো ভাবিনি। কঠোর কঠিন বাস্তবধর্মী বিষয় নিয়ে লেখালেখির নিষ্ফল চেষ্টা করি মাত্র।

প্রশ্ন :২
বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের সময় আপনার বয়স কত ছিল? তখনকার কোনো বিশেষ স্মৃতি মনে পড়ে?

উত্তর:২
মুক্তি যুদ্ধের সময় আমার বয়স চল্লিশ বছর,আমি তখন ত্রিপুরা সরকারের অধীনে চাকুরী করতাম। সেই সময় মানুষের দুর্দশা খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার বাড়ি কৈলাসহরের উওরাঞ্চলে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামে ছিল তাই শরণার্থীদের যণ্ত্রণা অনুভব করতে পেরেছি, প্রতিদিন হাজার হাজার শরণার্থী আমাদের বাড়ীর সামনে দিয়ে রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয়ের উদ্দেশে পাড়ি দিতেন, সর্বস্ব হারিয়ে শিশু, বৃদ্ধ ,স্ত্রী পুরুষ মাইলের পর মাইল হেঁটে আসতেন। তাদের ক্লিষ্ট , উদ্বিগ্ন মুখ গুলো মনে পড়লে এখনো বুকের ভেতর যন্ত্রণা হয়। আমাদের আদি বাড়ি যে গ্রামে ছিল সেখানকার অনেক মানুষ ভিটেহারা হয়ে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন , আমরা ও ততটা পারি তাদের আপ্যায়ন করেছি। পরবর্তীতে তারা উদ্বাস্তু ক্যাম্পে অথবা অন্য কোন আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন।


প্রশ্ন:৩
চাতলাপুর বর্ডার দেখেছেন? গেছেন বাংলাদেশ?

উত্তর:৩
না আমি ১৯৫১সালের এপ্রিল মাসে সিলেট থেকে কোলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে গিয়ে ভর্তি হবার পর আর ওমুখো হইনি।

প্রশ্ন:৪
বালাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট লাগোয়া কৈলাসহরের কেউ মুক্তি যুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর:৪
একজনের নাম বলতে পারি,স্বর্গীয় অরুনাভ পাল কৈলাসের সিনেমা হল রোগে থাকতেন মুক্তি যুদ্ধের সময় তার পূর্বনিবাস ছিল সমশেরনগর। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই দেশের সরকার তাঁকে মুক্তি যোদ্ধার খেতাব দিয়েছে।

প্রশ্ন :৫
বৃহত্তরো সিলেট অঞ্চলের অবিভক্ত ভারতের আপনি সিলেট কলেজ থেকে স্নাতক। কলেজটি নিয়ে বলুন।পরবর্তী সময় কোথায় শিক্ষালাভ করেন?পেশাগত দিক কী ছিলো?

উত্তর :৫
আমি মুরারি চাঁদ কলেজ থেকে আই এস সি পাশ করে, পরবর্তী সময়ে কোলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বি এস সি পাশ করে  অটোমোবাইল ও রেডিও টেকনিশিয়ান এ ডিপ্লোমা কোর্স করেছি জর্জ টেলিগ্রাফ কোলকাতা থেকে। তারপর ১৯৬৫সালে ত্রিপুরা রাজ্যে এসে ICAT ডিপার্টমেন্টে চাকরিতে যোগদান করে ১৯৯১সালে অবসর গ্রহণ করেছি।

প্রশ্ন :৬
আপনার কড়চাগুলো আমাকে আপ্লুত করে।একটু বলবেন?

উত্তর :৬
আলী সাহেবের ব্যঙ্গমিশ্রিত রসিকতার দুটি নিদর্শন নিজ ভাষায় তুলে ধরছি ।

কোলকাতার কোন এক সবজি বাজারে এক সিলেটি ভদ্রলোক বেগুন কিনতে গিয়ে দোকানিকে
বলছেন; ' দাদা আপনার বাইগুনের কিলো কত করে ' ?
ভদ্রলোকের কথা শুনে দোকানিও আশপাশের কিছু খদ্দের একেবারে হতবাক ?
একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি শুরু করে দিলো। যেন জন্মেও 
ওই নাম শুনেননি । দুজনে রীতিমত বচসা বেঁধে গেল। তখন খদ্দের ভদ্রলোক আঙ্গুল দিয়ে বেগুন
দেখিয়ে উত্তেজিত স্বরে দোকানিকে বললেন ; ' বাইগুন চিনেন্ না তাহলে ওইগুলো বোধ হয় আপনার প্রাণনাথ এখন বলুনতো আপনার প্রাণনাথের দর কত করে ' ?
দোকানি ও আশপাশের খদ্দেররা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে
সবাই একসাথে হো হো করে হেসে উঠলো । 'প্রাণনাথ 'কথাটি তখন থেকে ওই এলাকায় লোকের মুখে খুব জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল ।

জনৈক ইংরেজ পুঙ্গব প্রথমবার
প্যারিসে গেছেন। সেখানে এক রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ করতে গিয়ে ওয়েটারের কাছে তাদের মেনু কার্ড চাইলেন। ওয়েটার ফরাসি ভাষায় লেখা একখানা মেনু কার্ড নিয়ে এল। ইংরেজ পুঙ্গব ফ্যাসাদে পড়লেন কারণ
তিনি ফরাসি ভাষায় একদম আনাড়ি ছিলেন। তাহলে কি হবে ইঙরেজরা ভাঙবে তবু মচকাবেনা । তিনি মেনু কার্ডের প্রথম নম্বর টি ও মাঝখান থেকে
অন্য একটি নম্বর

ও একদম শেষের 
নম্বর টি তে আঙ্গুল রেখে ইশারায় ওয়েটারকে লাঞ্চের অর্ডার করলেন। ভদ্রলোক ভেবেছিলেন প্রথম টি কোন রকম স্যুপ হতে পারে দ্বিতীয় মেইন কোর্সের পদ হবে আর
শেষের টা নিশ্চয়ই ডেজার্ট জাতীয় কোন কিছু ,
সব ই ছিল তাঁর অনুমান নির্ভর। ওয়েটার টেবিলে এসে সার্ভ করলো দুরকমের স্যুপ আর ছোট একটি পাত্রে করে কিছু
টুথপিক । ইংরেজ পুঙ্গবের জানা ছিলনা ফরাসি দেশের 
রেস্তোরাঁয় ম্যানুকারডে পঞ্চাশ
রকমের স্যুপের নাম লেখা থাকে
শেষ পর্যন্ত ইংরেজ পুঙ্গব নিজের
জেদ বজায় রাখতে গিয়ে আধ পেটা খেয়ে মুখ মুছতে মুছতে
রেস্তোরাঁ ছেড়ে বেরিয়ে এলো। বেচারার লাঞ্চ খাওয়া মাঠে মারা গেল । অনেক টা চোরের ওপরে রাগ করে মাটিতে ভাত খাবার মত অবস্থা। 
এ জাতীয় অনেক সরস চুটকি
আলী সাহেবের লেখা থেকে পাওয়া যায় ।
আলী সাহেবের একটি লেখা থেকে জানতে পেরেছিলাম কলকাতার জ্যাকারিয়া ষ্ট্রীটের মাটন নাকি জগৎ বিখ্যাত । কলকাতায় থাকা কালীন অনেক বার পরখ করে দেখেছি কথাটি একশত শতাংশ খাঁটি ।সে অনেক দিন আগেকার কথা । কলকাতা ছেড়ে আসার পর ওই জাতীয় সুস্বাদু মাংসের পদ আজ পর্যন্ত পাতে পড়েনি । এই নব্বই বছর বয়সে ওই সব পদ তো আমার জন্য বিষবৎ খাওয়ার প্রশ্ন ই ওঠেনা । আফশোস ও হয়না ।
ড: সৈয়দ মুজতবা আলী
ওমর খৈয়াম ও সত্যপীর এই দুই ছদ্মনামে কখনো কখনো রম্যরচনা লিখেছেন ।

প্রশ্ন:৭
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শরৎচন্দ্র বসু সম্পর্কে কিছু শুনবো?

উত্তর:৭
আজ ২০.০২.২১ শনিবার, ভারতবর্ষের অন্যতম স্বাধীনতা সঙগ্রামি প্রখ্যাত ব্যারিস্টার এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অগ্রজ শরৎচন্দ্র বসুর ৭২তম মৃত্যু বার্ষিকীতে প্রয়াতর  স্মৃতির উদ্দেশে আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শরৎচন্দ্র বসু। স্বাধীনতার পর ইঙরাজ সরকারের নিকট থেকে প্রাপ্ত দলিল পত্র যেগুলো ইদানিং প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো থেকে জানা যায় নেতাজীর পরিবারের সকল সদস্যদের নামে পৃথক পৃথক ফাইলে তাদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চলতো। শরৎচন্দ্র সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ  ভীষণ চাপের মধ্যে থাকতো।তার গতিবিধির ওপর সব সময় গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা জারি ছিল। পুলিশের খাতায় উনার নাম ছিল 'serpent of the grass'
শরৎচন্দ্র বসু ১৮৮৯ খৃষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার কটকে জন্ম গ্রহণ করেন।কটকের স্বনামধন্য আইনজীবী জানকী নাথ বসু তার পিতা ও মাতা প্রভাবতী বসু । তাদের পৈতৃক বাড়ি ছিল ২৪ পরগণার জেলার কোদালিয়া গ্রামে ।
 তারা ৮ ভাই ৬ বোন ছিলেন । ভাইদের মধ্যে  জ্যেষ্ঠ সতীশচন্দ্র তারপর ক্রমানুসারে শরৎচন্দ্র, সুরেশচন্দ্র, 
সুধীর চন্দ্র,সুনিলচন্দ্র, সুভাষচন্দ্র,শৈলেশচন্দ্র, সন্তোষ চন্দ্র ।
বোনদের মধ্যে জ্যৈষ্ঠা প্রমিলা বালা
মিত্র ও সরলাবালা দে
কনিষ্ঠা বোনদের মধ্যে তরুবালা দে, মলিনা দত্ত, প্রতিভা মিত্র ও কনকলতা মিত্র ।
শরৎচন্দ্র স্কটিশ চার্চ কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে কলিকাতায় পাঠ শেষে ১৯১১ তে ইঙলণ্ড যান ও সেখানে লিনক্লন ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে  দেশে ফিরে কলিকাতায় আইন ব্যবসা শুরু করেন তার কিছুদিন পর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে আইন ব্যবসা থেকে অব্যাহতি নেন।
১৯৩৬ সালে বাঙলা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন।১৯৩৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এআইসিসির সদস্য ছিলেন।
বাংলয় ফজলুল হক মন্ত্রী সভায় সদস্য হ ওয়ার আগের দিন সুভাষচন্দ্র বসুর হঠাৎ অন্তর্ধানের কারণে শরৎচন্দ্রেকে 
কারারুদ্ধ করে প্রথমে মার্কার জেলে ও পরে কুক্কুর জেলে বন্দী করে রাখা হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়াতে  চার বছর পর ১৯৪৫ সালে তাকে কারাবাস মুক্ত করা হয়।
১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত শরৎবসু কেন্দ্রীয় আইন সভায় বঙ্গীয় কঙগ্রেস প্রতিনিধী দের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি সুভাষচন্দ্র বসুর আইএন একে দৃঢ়তার সহিত সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিলেন।১৯৪৫ সালে  দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত  
হলে শরৎবাবু  ডিফেন্স ও রিলিফ কমিটির মাধ্যমে আইএন এ সৈনিক পরিবারবর্গের মধ্যে ত্রাণ ও সাহায্য বিতরণে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন । তিনি ১৯৪৬ সালে জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তী সরকারের খনি ও শক্তি দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছিলেন।
ঐ সময় কেবিনেট মিশন  ভারতে  এসে  গরিষ্ঠহিন্দূ অধ্যুষিত এলাকা ও গরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে বাঙলা প্রদেশ কে দুভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে শরৎবাবু এআইসিসি থেকে পদত্যাগ করেন।
মুসলিম লীগের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও হোসেন সোহরাওয়ার্দী সহায়তায় শরৎবাবু
উত্তর পূর্ব ভারত সহ স্বাধীন বাংলা দেশ  গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন । ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের কিছু সংখ্যক  বাঙালি হিন্দু সদস্য প্রস্তাবটির বিরোধীতা করাতে তার মত বদলাতে বাধ্য হন।
স্বাধীনতা লাভের পর সুভাষচন্দ্র বসুর ফরোয়ার্ড ব্লক পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন পরবর্তীতে সোস্যালিস্ট রিপাবলিকান পার্টি গঠন করেন ।
১৯৫০ খ‌ষ্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি ৬০ বছর বয়সে কলিকাতায় তার মৃত্যু হয়।
অক্ষয় কুমার দে মহাশয়ের কন্যা বিভাবরী দের সাথে ১৯০৯ সালে তার বিবাহ হয়। তাদের আটটি সন্তান।
পুত্র অশোক নাথ জার্মান ফেরৎ কেমেষ্ট্রিতে ডক্টরেট ও প্রখ্যাত ইন্জিনিয়ার ।অমিয় নাথ বসু স্বাধীনতা সঙগ্রামি ও এমপি পরে বার্মায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ।শিশির বসু নেতাজীর অন্তর্ধানের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হয়েছিলেন বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক ওএম এল এছিলেন।সুব্রত বসু ইলেকট্রিক ইন্জিনিয়ার ও এম পি ছিলেন।তার কনিষ্ঠা কন্যা ড: চিত্রা ঘোষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবিকা। তার নাতি সুমন্ত বসু লণ্ডন স্কুল ওব ইকনমিকস ও পলিটিক্যাল সায়েন্স এর অধ্যাপক ।

প্রশ্ন :৮
বায়ান্ন থেকে কৃষক আন্দোলন বিষয়ে আপনার নিজস্ব বক্তব্য শুনবো?

উত্তর :৮
বাহান্ন 'একুশ ' থেকে কৃষক আন্দোলন ২০২১ ।

মৃত্যু সতত দু:খের কারক।
মহান 'একুশ' 
আজ আর বেদনার নয়, প্রতিবাদের হাতিয়ার ।
শত শহিদের রক্তে রাঙা
মহান সঙ্কল্প গাঁথা 
ইতিহাসের পাতায় 
স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ ।দৃঢ় প্রতিজ্ঞা সমৃদ্ধ 
মহান ত্যাগের প্রতিচ্ছবি ।
ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ 
প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ,
অভিষ্ট লক্ষ্য সাধনে দূর্বার ক্ষমতার অধিশ্বর ,
স্মরণ করার লগ্ন আজ ।
স্মৃতি চারণ পর্যাপ্ত নয় ,
পু্ঞ্জীভূত অন্যায় 
উৎপীড়ন স্বৈরাচারী পদক্ষেপ মোকাবেলায় 'একুশের ' ইস্পাত 
দৃঢ় সংকল্প আত্মীকরণ 
ঠিক সময়ে সঠিক 
প্রয়োগ 
বীর শহীদদের 
স্মৃতি তর্পনে 
অনন্য পন্থা
দেশে প্রতিষ্ঠান বিরোধী সদ্য জাগ্রত 
কৃষক আন্দোলন 
মহান ' একুশের ' 
যথার্থ উত্তরাধিকার।
প্রশ্ন :৯
মুরারিচাঁদ কলেজের অতীত থেকে বর্তমান?
উত্তর :৯
একজন সিলেটী ও মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সমৃদ্ধ হয়েছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট ভ্রমনের কথা আমরা অনেকেই জানি। 
সিলেট বা শ্রীহট্টের মুরারিচাঁদ কলেজ অতীতে ভারত উপমহাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসাবে পরিচিত ছিল আমি নিজে ও সেই কলেজ থেকে-1949-51 সালে আই এস সি পাশ করেছি। সেই আমার প্রিয় কলেজের স্থাপনের ইতিহাস থেকে শুরু পর্যন্ত স্মৃতিতে গাঁথা। বর্তমান প্রজন্মের যারা সিলেটের গৌরব গাঁথা সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নন তৎকালীন সময়ে উচ্চশিক্ষার প্রসারে মুরারিচাঁদ কলেজের ভূমিকা কতটুকু। এই কলেজের কৃতী ছাত্র ছাত্রী রা পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন এবং সিলেট তথা মুরারি চাঁদ কলেজের নাম উজ্জ্বল করেছেন তারা অনেকেই হয়তো বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছেন।

প্রশ্ন :১০
জীবনের সেরা স্মৃতি যদি বলেন?

উত্তর :১০
জীবন সায়াহ্নে পৌঁছে, এখন অতীত দিনের নানা স্মৃতি আমার মনকে ভারাক্রান্ত করে, আবার কখনও কিছু সুখস্মৃতি মনে আনন্দ নিয়ে আসে। তবে বয়সের ভারে বেশির ভাগ স্মৃতি আবছা হয়ে গেছে। তবু আমি খানিকটা হলেও চেষ্টা করেছি

বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া ঘটনাবলি সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে।


তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে পুরোদমে । হিটলারের ঝটিকা বাহিনী প্রায় সমগ্র ইউরোপ দখল করে নিয়েছে। ভারতের মুখ্য রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেস ইংরেজ দের বিরুদ্ধে বিশ্ব যুদ্ধ বয়কট করেছে । ৪২এর ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাকে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলের মূখ্য নেতৃত্ব জেলে আটক ।যুবা নেত্রী অরুণা আসফ আলি জেলের বাইরে থেকে দলের হাল ধরেছেন এই পটভূমিতে মৌলভীবাজারে আমার পড়তে আসা ।

মৌলভীবাজার বর্তমান বাঙলা দেশের একটি জেলা সদর ।

গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকের কথা । 

মৌলভীবাজার ছিল

ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের 

সিলেট জেলার 

একটি মহকুমা শহর । 

সেই সময় আমকে ছয় থেকে সাত বছর পড়াশুনার জন্য বাসা ভাড়া করে মৌলভীবাজারে থাকতে হয়েছিল ক্লাস ফোর থেকে দশম ক্লাস পর্যন্ত মৌলভীবাজার গভর্নমেন্ট স্কুলের ছাত্র ছিলাম । বাসা থেকে প্রায় দুই ফার্লঙ দূরে বড় রাস্তার ওপর আমার বন্ধু নুরুল হোসেন খানদের বাড়ি ছিল।

ওই বাড়িটি ছিল আমাদের স্কুলের বন্ধুদের অবসরের আড্ডা স্থল । ছোট বেলা থেকেই নুরুল কবি ,লেখক ও বাচিক শিল্পী তার অবর্তমানে শহরে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অকল্পনীয় ছিল। প্রথমে তার আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হতো।উদ্দাত্ত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের পুরাতনভৃত্য, দুইবিঘা জমি, এবার ফিরাও মোরে প্রভৃতি কবিতা আবৃত্তি করে হলসুদ্ধ লোকের হাততালি কুড়াতো । তার পিতা ছিলেন আসাম সরকারের ডাক সাইটে পুলিশের অফিসার । নুরুলদের বাড়িতে তাদের নিজস্ব একটি লাইব্রেরী ছিল । সেখানে অনেক মূল্যবান বইয়ের সংগ্রহ থাকতো। প্রতিমাসে নতুন দুই  খানা বইকেনা ছিল ওই পরিবারের একটি ঐতিহ্য । ছোট্ট ক্লাসে পড়ার সময় গুরুগম্ভীর ব ই পড়ার প্রশ্ন ই

আসেনা । তখনকার দিনে বাঙলা ভাষার বিশিষ্ট সাহিত্যিক রা প্রায় সকলেই ছোটদের উপযোগী ডিটেকটিভ উপন্যাস লিখতেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ নামে প্রকাশনী সংস্থা থেকে বই গুলো বেরোত ওই সিরিজ থেকে শতাধিক বইবাজারে এসেছিল। এছাড়া ছিল শশধর দত্তের শতাধিক মোহন সিরিজের বই। নুরুলের দৌলতে ওই সমগ্র বই গোগ্রাসে অতি অল্পদিনে গলাধঃকরণ করেছিলাম । আমার মৌলভীবাজারে আসার আর একটা কারণ ছিল সিলেট জেলায় পাঁচটি মহকূমা শহরে

কেবলমাত্র পাঁচ টি গভর্নমেন্ট হাই স্কুল ছিল। বাকিরা সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বেসরকারি নড়বড়ে  স্কুল সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে কোনমতে চলতো। সেই সমস্ত স্কুলে পড়াশুনার কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । ঐ সব স্কুলকে পাবলিক এইডেড স্কুল বলা হত তবে সারা জেলায় সংখ্যাটি ছিল খুবই সীমিত ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ