মহান বিজয় দিবস কবিতা সংখ্যা


মহান বিজয় দিবস কবিতা সংখ্যা 


মাতাল হাওয়া 
ইলা লিপি

 বিতর্কের কাছে দাঁড়াতে গেলে 
মন কেমন করা সুগন্ধ আসে... 
 বাকরুদ্ধ জীবন স্থবির আয়নার মতো 
 এক অদ্ভুত নিলাঞ্জনায় স্কুল পালানো 
শৈশব  আসে... 
 সময়ের সাথে  আজন্ম দুঃখ আমার, 
এ জীবন তার তরে,  আমাদের কোনো লেনাদেনা নেই 
অন্ধ ফুটপাত ধরে রাতের খুনসুটি খেয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা সেই মাতাল প্রেমিক 
 আজও ঠিকানা বিহীন নগরের বুকে খুনসুটি খায় 
মেঘের কার্নিশে হৃদয়ের ওম রেখে খুঁজে পাওয়া সেই বসন্ত দুপুর, 
অনন্ত অঙ্গনে আঙ্গুলে বাঁধি হারানোর সুর.. 
গোলাপের পাপড়িতে আরোপিত সন্ধ্যায় 
আজ-ও মেলেনি সেই যুগন্ধর প্রেম 
পরতে পরতে তুমুল অহমে ভেঙে গেছে আকাশের প্রাচীর 
সাইক্লোন আসে, তুমুল বৃষ্টি আসে, ভৈরবী রাগে 
মাতাল প্রেমিক  জিপারের নেয়ার খুলে,
দমকা হাওয়ায় উড়ছে পথঘাট 
এই বিবস্ত্র বাস্তবতায় তুমি নেই, 
একদিন ঠিকই পৌঁছে যাবো তোমার ঠিকানায়...

বিজয় দিবস।। 
অজস্র ফাটল নিয়ে দিন পার হয় 
আতংক, সংশয় আর অস্থিরতা তো আছেই 
যখন দেখি, চারদিকে চোখ বোলালে কেউ পাশে নেই
এক চাপা কষ্টে গুমরে ওঠে হৃদয় . 
সবখানে সামঞ্জস্যহীন জীবন, 
 উড়ুক্কু হয়ে আমিও গোজর করি স্বরলিপি 
বোকাবাক্সের মতো দাঁত কেলিয়ে হাসি 
যুদ্ধে জিতে যাওয়া সেই দিনের জন্য আনন্দ হয়
স্বাধীনতার স্বাদ রন্ধ্রে রন্ধ্রে না থাকায় 
একটা পঙ্কিও তৈরি করতে পারিনি.. 
দীর্ঘ দারিদ্র্যের কষাঘাতে  মেধাবী শৈশব 
খয়েরী বিকেলের কারুকার্য শোভিত সময়
 গলাকাটা কবুতরের মতো আকুলিবিকুলি করে
প্রেমের জন্য একটা গোলাপও জমাতে পারিনি 
সেই মুমূর্ষু সময়ে হিংস্রতার লেলিহানে পুড়ছে আমার
হৃদয়, 
মা সৌন্দর্য হারিয়েছে, বাবা সাহস হারিয়েছে 
 ভাইবোনেরা হারিয়েছি নিজস্ব সত্তা 
এইসব উপখ্যানের মধ্যে দেশ নিয়ে, মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে 
একবারও ভাবার সময় হয়নি... 
বিজয় দিবস মানেই সেই গৎবাঁধা অনুভব 
মাইকের চিৎকারে ছুটে আসা সহস্র তীরের আঘাত
সদ্য কিশোরী বয়সের লুট হয়ে যাওয়া সম্ভ্রমে শুধু 
হাহাকারের ব্য

নিষ্ঠুর নিয়তি
শেলী সেলিনা
 
অবিশ্বাসের উলঙ্গ সময় তোমার সাথে
হেরে গিয়ে আসলেই আমার মন খারাপ! 
একটি কৃত্রিম হাসির জন্য মৃদু আলোতেও 
আমি হেটে যাই, বর্ষার পিচ্ছিল, ভাঙা পথ!
পরম আত্মীয় যাদের মনে করি, 
তারা আসলে কেউ না! 
তারা আমার অগ্নিদগ্ধ মুখের তাপ থেকে নেয়, শীতের অমূল্য আরাম! অথচ তারা আমায় প্রতিনিয়তই 'না' চেনার ভান করে! 
আমার ব্যর্থতার একটি দীর্ঘনিশ্বাসে থাকে-
বহুদিন দখলে থাকা প্রতিবাদী বাক্য, অনাথ কবিতা ও কবিতা উৎসব,  নামী - দামী মানুষের কুঞ্চিত , হিংসুটে  মুখ! 
বেহুলা লখিন্দরের বাসরের মতো 
আমার হৃদয় ঘরে এখন অসংখ্য  ফুটো!
অবিশ্বাসের উলঙ্গ সময় হাতে- কলমে,  ব্যবহারিক জ্ঞানে আমাকে শেখায় নিষ্ঠুর নিয়তি! 
অবশেষে 
কিছুটা শান্তি আপন মহিমায় আমায়  দান করে  ধনাঢ্য প্রকৃতি!!



বিজয় দিবস
শাশ্বতী দাস

১৬ ডিসেম্বর উনিশশো একাত্তর, 
সূর্যের মতো 
শাশ্বত উজ্জ্বল এক সাক্ষর। 
এ সূর্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য, 
কঠিন খাণ্ডবদাহের পর
সোনার বাংলার বুক চিরে উঠা
আলোক রশ্মির তূর্য। 
ত্রিশ লক্ষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে রাঙানো
লাল সবুজের নিশান উড়ে
সহস্র প্রাণের জীবন বাজির ইতিহাস সাজনো । 
অস্তমিত সূর্যের নতুন জাগরণ
বাঙালি জাতির এক অনন্য দিন। 
মহান বিজয় দিবস
তুমি কি জানো! 
তোমার উল্লাস, 
তোমার বাঁধ ভাঙাআনন্দ, 
কত শহীদদের রক্ত স্নাত 
এ স্বাধীনতার ফসল। 
কত নারী, কত বোনের ধর্ষণ ব্যথা
কত পিতামাতার লাশের উপরপড়ে থাকা ওবুঝ শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের নিথর ছবি আঁকা। 
মহান   বিজয় দিবস
তুমি কি জানো,   
যুগশ্রেষ্ঠ কবি বঙ্গবন্ধুকে? 
যার উত্তালকণ্ঠে ধ্বনিত 
আকাশ বাতাস, গর্জে উঠে, 
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম 
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। 
প্রতিধ্বনিতে সব ভেদাভেদ ভুলে
এক সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ধনী,দরিদ্র ,কৃষক, জেলে, মাঝিরা, 
বুকে বল্,মুঠোয় তাজা আগ্নেয়াস্ত্র
মুখে শৃঙ্খল ভাঙারদীপ্ত অগ্নিমন্ত্র। 
   
আজ তোমার অর্ধ শতবর্ষে
সারা বাংলা সেজে উঠছে আলোর
স্পর্শে 
তবুও কি ভুলা যায়, 
দশ বছরের ছোট্ট রাসেলকে
কু্ঁড়িতেই যে ঝাঁঝরা হয়েছিল ঘাতকের গুলিতে। 

১৫:১২:২০২১
রাত ১২:৪৫
রবীন্দ্র পল্লী





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ

  1. রক্ত ঝরা দিনের অমর ইতিহাস
    জীবন্ত করে দিলে কবি শাশ্বতী দাস
    তব লেখনীতে আজ উঠেছে জেগে
    বীর শহীদদের বুকের শ্বাস -----

    উত্তরমুছুন
  2. রক্ত ঝরা দিনের অমর ইতিহাস
    জীবন্ত করে দিলে কবি শাশ্বতী দাস
    তবে লেখনীতে আজ উঠেছে জেগে
    বীর শহীদদের বুকের শ্বাস------
    _দীপঙ্কর দাস
    কাঞ্চন পুর, ত্রিপুরা

    উত্তরমুছুন
  3. কবি শাশ্বতী দাসের লেখা "বিজয় দিবস" কবিতাটি অত্যন্ত তাৎপর্য পূর্ণ। রক্তক্ষয়ী একাত্তর মুক্তি সংগ্রামের উজ্জ্বল প্রতিছবি কবিতাটি পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। এর বহুল প্রচার আবশ্যক বলে
    মনে করি।
    বাকু

    উত্তরমুছুন