বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
রবীন্দ্র গবেষক বিকচ চৌধুরী'র মুখোমুখি
গোবিন্দ ধর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
রবীন্দ্র গবেষক বিকচ চৌধুরী'র মুখোমুখি
গোবিন্দ ধর
প্রশ্ন :১
মুক্তযুদ্ধে ত্রিপুরার গণমানুষ সে সময়ের সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ত্রিপুরা সরকার শরনার্থীদের সহযোগিতা আতিথেয়তা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও দেশভাগের যন্ত্রণায় বাঙালিদের চিরকালীন মুখ নিয়ে আপনার মূল্যবান কথা আমরা শুনবো।প্লীজ বলুন?
উত্তর:১
মুক্তিযুদ্ধ বললেই আমার স্মৃতিতে এতকিছু ভীড় করে যে আজ এই অর্ধ শতাব্দী কাল ডিঙ্গিয়ে সব কিছু তুলে আনতে পারি না।
১৯৭১ আমার স্মৃতিতে এক ঐতিহাসিক জাগরণের সন্ধিক্ষন।
৮ই মার্চ যখন আগরতলা শহরের চার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণ"এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ..."এই বজ্র ধ্বনি উচ্চারিত হলো মনে হলো যেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির জীবন পণ সংগ্রাম কেবল ওপারের নয় এপারের মানুষেরও প্রাণের আকুতি ।
এই চেতনা থেকেই সেদিন ১৬ লক্ষ ত্রিপুরাবাসী ১৪ লক্ষ শরণার্থীদের জন্যে হৃদয় দুয়ার খুলে দিতে পেরেছিল । ওপারে যখন প্রতি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার সংগ্রাম এপারে তখন প্রতি ঘরে নব চেতনার অনুরাগে ঘরে ঘরে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে বিপন্ন সময়ে মনুষ্যত্বের পতাকা উড্ডীন রাখার দৃপ্ত শপথ ।
সে ইতিহাস এতো স্বল্প পরিসরে বলা যাবে না। সম্প্রতি "বাংলদেশ মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের ত্রিপুরা" নামে আমার একটি বই আগরতলার জ্ঞান বিচিত্রা থেকে প্রকাশিত হয়েছে । আগ্রহী বন্ধুরা পড়ে দেখতে পারেন।
২১:০২ঃ২০১৯
রওশন আরার বীরত্বের রিপোর্ট
প্রদীপকুমার কুণ্ড
প্রখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক ত্রিপুরার তৎকালীন (১৯৭১সালে) বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা সংবাদ এর তরুন War Correspondent শ্রী বিকচ চৌধুরী ১লা এপ্রিলে র তাঁদের পত্রিকায় একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করলেন। বাংলাদেশ এর তরুনী রওশন আরার বীরত্বের গাঁথা। সাথে সাথেই অভূতপূর্ব সাড়া জাগানো সেই প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে। বাংলাদেশে পাক বাহিনীর নৃশংস অত্যাচার ও তার বিরুদ্ধে আপামর জনগণের জেগে ওঠার কাহিনী জানল সারা দুনিয়া। দখলদার বাহিনীর অধিনস্ত বাংলাদেশ, দেশের মুক্তাঞ্চল ও সারা ভারত ব্যাপী মহিলা ও যুবতীরা সংগঠিত হতে থাকলো বীর নারী রওশন আরার নামে। কেউ যুদ্ধে যাবে, কেউ ক্যাম্পে কাজ করবে,কেউ যুদ্ধ তহবিলের অর্থ সংগ্রহে নামবে,কেউবা সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে কাজ করবে। বিদেশেও বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় রওশন আরা ব্রিগেড গঠিত হয়েছে বহু স্থানে। দেশে দেশ বিখ্যাত সব পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হতে লাগলো রওশন আরাকে নিয়ে বহু বহু প্রতিবেদন। রাতারাতি বিশ্বব্যাপী প্রচন্ড আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই রিপোর্ট আমাদের বিকচ দাদা কে নিয়ে গেল এক অনন্য উচ্চতায়।
মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে যাঁদের পত্রিকা পড়ার বয়েস হয়েছিল তাঁরা অনেকেই মনে করতে পারবেন রওশন আরার কথা। তাঁর বীরত্ব গাঁথার বর্ণনা পড়ে আমরা কতই না গর্বিত হতাম।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বে ঐ রিপোর্ট এর ভূমিকা ও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। আমার শ্রদ্ধেয় বিকচ চৌধুরী দাদার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই ব্যপারে আমার সাথে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করা ও তা প্রকাশের অনুমতি দেয়ার জন্য।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ঐবং ৩টি ব্রিগেড শক্তির ফোর্স ( জেড,কে এবং এস) গঠনের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু অনেকেই জানি না যে মুক্তিযুদ্ধের সময় ই আমাদের ২টি গোলন্দাজ বাহিনীও গঠিত হয়েছে।তার প্রথমটির নাম মুজিব ব্যাটারী ও দ্বিতীয়টি রওশন আরা ব্যাটারী। ঐ দুটি বাহিনী এখনও ১ম ফিল্ড আর্টিলারী ও দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারী নামে আমাদের দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীর অঙ্গ।
বিকচ দাদার নিজের জবানিতে জানুন রওশন আরার কাহিনী।
২৫শে এপ্রিল ১৯৭১ এ বহুল প্রচারিত সর্বভারতীয় দৈনিক যুগান্তর এর রওশন আরার ছবিটি নেট থেকে সংগৃহীত।
কেউ এ ব্যপারে আরও জানতে চাইলে আমি অথবা বিকচ দাদা উত্তর দিতে সচেষ্ট হবো
0 মন্তব্যসমূহ