কী লিখি কেন লিখি
বিধানচন্দ্র দে
কী লিখি কেন লিখি
বিধানচন্দ্র দে
কোনো মানেই হয় না।এই,আমরা যারা এ,ওর কাগজে লেখা লিখি করি।
আমাদের লেখা কেউ পড়ে বা না পড়ে,কিংবা এক্কে বারে না পড়েই বলে ফেলে,ধূর্চাই,এসব লেখার
কোনো মানেই হয় না।
আসলে জীবনে অনেক সময় অনেক কিছুরই কোনো মানে হয় না।এই
যেমন উপত্যকার এই সবুজ পৃথিবীর নাভিমূলে থাকা মাটি, যার বুকে কুড়ে কুড়ে কাদার তাল,সোনার ফসল,ধানের ক্ষেত, খামারে কুমড়ো মাচান,হলুদ ফুল এর কোন মানে হয়!!
ঝড় জল রোদ ঘাম গায়ে মেখে ক্ষয়ে খুঁয়ে চাষা জীবন।রোগ ভোগ অবধারিত মৃত্যুর তো কোনো মানেই হোয় না।
ওই পাথর অচলায়তন যার পরে আঘাতে আঘাতে বেড়িয়ে পড়ে
শ্রমিকের পাঁজর আর গড়ে উঠে নগর সভ্যতা,ইমারত বহুতল প্রাসাদ মালিকের তরে তিলে তিলে নিঃশেষে এর অর্থাৎ অবধারিত ধ্বংসের তো কোনো মানেই হয়না। আর উই নদীর স্রোত,নদীর পাড়ে ভাঙ্গা তীরে মাঝি নৌকার
এপার ওপার এসবের কোনো মানে হতে পারে না।
এই ইস্কুল বাড়ি,বই খাতা,চক ডাস্টার,ব্ল্যাকবোর্ড, ডেস্ক বেঞ্চি র পরে কানধরে দাঁড়ানো পিরিওড এর পর পিরিওড গিলে খেয়ে অক্ষর বিন্যাস, শব্দ আর সংখ্যার সমীকরণ, যোগ বিয়োগ গুণফলের সঙ্গে
টাকলা মাকান,ইন্দিরা পয়েন্ত পামীর মালভূমি,কিংবা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আর নির জোট সম্মেলন এর সঙ্গে সঙ্গে ছুটির ঘন্টার উল্লাস ধ্বনির
জীবন মিলিয়ে যেতে যেতেও কোনো মানে রেখে না।
ক্রমাগত কর্মহানির গ্লানিতে ধুঁকতে ধুঁকতে
১০/৫০হাজার শ্রমিক কী মানে রাখতে পারে??
কী মানে রাখতে পারে অতি মারী সংক্রমনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন তালি থালি,দিয়া বাতির আলোয় উদ্ভাসিত অদ্ভূত উটের গ্রীবার চিন্তা।
তবু আমরা এসব লেখার তত্ত্ব নিত্য অভ্যাস করি। বাহবা করাই।একটি মহাকাব্য, এপিটাফ,রবি ঠাকুরের শেষ প্রশ্ন বা বিভূতি বাবুর পথের পাঁচালীর সেই রেলের গাড়ী আর দৌড় দৌড় প্রতিযোগিতা।
কী হবে এমন একটি বিশাল সংগ্রহশালা আর
বিরাট সংবিধানের? তার সদা জাগ্রত উদগ্রীব জনগণের? তার রক্ষক! তার সাংসদ,তার সংসদ গোল্ড ভিস্টা, কতকী?
তবু আমরা সবাই মিলে লিখি দেশ,দুনিয়া পরিবার ভাঙ্গা গড়া নিয়ে। অথচ,
আমরা যেদিকে দুচোখ মেলে ধরি সব কিছু ডেকে কয় কিছু লিখে দে আমাকে তুই মুক্তি দে।তাই
হাজার হাজার মৃত্যু দহনে চণ্ডাল সেজে গুজে গিয়ে আমি স্ম শানে ঘুমিয়ে পড়ি।মৃত্যু আমার গভীর ঘুমের চেয়ে বেশি কিছু নয়।
এই মহান সংসার,ঘর গেরস্ত,সন্তান সন্ততি,আহার বিহার, হাট বাজার দর দাম,উৎসব ধর্ম কর্মের নীতি দুর্নীতির, অত্যাচার অবিচারের যুগ যুগান্তরে কোথায় শেষ আর কোথায় শুরু,আসলে কোনও কিছুরই কোনো বিশেষ মানে হয় না,অথচ আমরা সবাই লিখে যাই অবিরত কীসব মাথামুন্ডু ,,,,,,
0 মন্তব্যসমূহ