কী লিখি কেন লিখি মিল্টন বিশ্বাস

কী লিখি কেন লিখি 
মিল্টন বিশ্বাস


কী লিখি কেন লিখি 
মিল্টন বিশ্বাস
(প্রাবন্ধিক-কলামিস্ট)



ইউজিসি পোস্টডক ফেলো হিসেবে কাজ করছি এখন। প্রবন্ধ লিখি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করি।  কাজ করছি বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। 
প্রবন্ধ দিয়ে লেখালেখির শুরু আমার। তবে ২০১৮ সালে ‘নন্দিনী’ নামে আমার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গল্প লিখেছি ৩টি। আর ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সাল অবধি দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কলাম লিখেছি ২ হাজারের বেশি।
কেন লিখি? এর জবাব- নিজের জন্য লেখা, সমাজের জন্য লেখা, পাঠকের জন্য লেখা- এটাই তো সাধারণ কথা। কিন্তু আমাকে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের কলাম সম্পাদকদের প্রত্যাশার কারণে নিয়মিত কলাম লিখতে হয়। কখনো বা কোনো জরুরি ইস্যু উপস্থিত হলে লেখার তাগাদা আসে। বিশেষত শেখ হাসিনা সরকারের ইতিবাচক দিক নিয়ে কলাম লেখা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকদের অনুরোধে প্রবন্ধ লিখতে হয়। আবার বই-আলোচনা লিখতে হয় নিজের গরজে।একাধিক প্রকাশকের তাগাদায় বেশ কিছু বই সম্পাদনা করতে হয়েছে। এমনকি গবেষণামূলক বইও লিখতে হয়েছে।
নিজের ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারে লিখে থাকি। আবার লেখা প্রস্তুত করার জন্য গবেষণা কাজে নিয়োজিত হতে হলে দরকারী নোট নিতে খাতা-কলম ব্যবহার করতে হয়।কখনো কখনো অতিদ্রুত লেখা দেওয়া এবং ছাপানোর প্রয়োজনে অন্য সব কাজ বাদ দিয়ে তাৎক্ষণিক লিখতে বসে লেখা শেষ করতে হয়।
দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, গবেষণা পত্রিকা, অনলাইন ওয়েব ম্যাগ এবং লিটিল ম্যাগাজিন।
শিক্ষকমণ্ডলী, শুভানুধ্যায়ী, নিজের পরিবার এবং বন্ধুসহ সম্পাদক ও প্রকাশকরা আমার লেখার প্রধান প্রেরণা।যেমন, ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু’ বের হয়েছে বিশিষ্ট লেখক তপন বাগচীর অনুপ্রেরণায়।২০২১ সালে ‘সাব-অল্টার্ন তত্ত্ব : উদ্ভব, বিকাশ ও প্রভাব’ প্রকাশিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের প্রেরণায়।
১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পে থাকার সময় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের দিক-নির্দেশনা পেয়েছি।তিনি আমার গুরু। অন্যদিকে পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকরা লেখা প্রকাশ করে উৎসাহ দিয়েছেন। সে হিসেবে আজকের কাগজ, কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদকরা আমার গুরু।
লেখালেখির সূত্রে সব মিলে এখন আমার গ্রন্থ সংখ্যা ২২টি। কয়েকটির নাম হলো-‘শওকত আলী ও সেলিনা হোসেনের উপন্যাস : প্রসঙ্গ রাজনীতি’, বাংলা একাডেমি, ১৯৯৬; ‘বাংলা কথাসাহিত্য’, জাগৃতি প্রকাশনী, ১৯৯৮; ‘বাংলা কথা-সমালোচনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’, নিউ এজ পাবলিকেশন্স, ২০০৬; ‘তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে নিম্নবর্গের মানুষ’, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০০৯; ‘রবীন্দ্রনাথ : নবজাতক’, মূর্ধন্য, ঢাকা, ডিসেম্বর ২০১১; ‘রবীন্দ্রনাথের কবিতা : শেষ দশকের পটভূমি’, মূর্ধন্য, ঢাকা, ডিসেম্বর ২০১১; ‘রবীন্দ্রনাথ ও ব্রিটিশরাজ’, মূর্ধন্য, ঢাকা, ডিসেম্বর ২০১১; ‘শেখ হাসিনা : নেতা ও রাষ্ট্রচিন্তক’, দেশ পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৫; ‘শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু’, নবযুগ প্রকাশনী, ঢাকা ২০১৭; ‘নন্দিনী’ (কাব্যগ্রন্থ), রিডার্স ওয়েজ, ঢাকা ২০১৮; ‘উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু’, বাংলা একাডেমি, ২০২০; ‘সাব-অল্টার্ন তত্ত্ব : উদ্ভব, বিকাশ ও প্রভাব’, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২১। এসব গ্রন্থ প্রকাশই আমার জীবনের অন্যতম ঘটনা।  
অর্জন বলতে লেখক হিসেবে দেশের মধ্যে পরিচিতি লাভ। কোনো পুরস্কার না পেলেও ‘বঙ্গবন্ধু গবেষক’ হিসেবে পরিচিতি অর্জন এবং ‘সাব-অল্টার্ন’ তত্ত্ব নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম বই প্রকাশের কৃতিত্ব অর্জন প্রধান ঘটনা।তাছাড়া জাতীয় অনেক ইস্যুতে কলাম লেখার সক্ষমতা তৈরি হওয়াতে কলামিস্ট হিসেবে ব্যাপকভাবে ‘মিল্টন বিশ্বাস’ নামটি এখন সকলের কাছে পরিচিত।লেখক হওয়ার কারণে আমার নিজের ওয়েবসাইট https://www.writermiltonbiswas.com/ আছে, নিজের অনলাইন নিউজ পোর্টাল https://www.varsitynews24.net/ আছে।  
অন্যদিকে লেখালেখির সূত্রেই ২০২০ সালের করোনা মহামারিতে লকডাউনে বন্দি ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠা করি ‘বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র’(https://blrcbd.com/) নামক সাহিত্যের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। একই নামে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে ‘বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র’ নামে ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়েছেন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ফলে গৃহবন্দি থাকলেও এখন শিক্ষার্থীদের সাহিত্য পাঠে কোনো অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে না। বরং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পঠনসামগ্রীর সবকিছুই হাতের নাগালে পাচ্ছে তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ