কী লিখি কেন লিখি
শামসুল আলম সেলিম
কী লিখি কেন লিখি
শামসুল আলম সেলিম
'জাতধর্মের লড়াই করো সিংহাসনে বসি
নামাজ পড়ো পূজা করো, রোজা-একাদশী
তুমি কি জানো না রে মন নিত্যসূর্য-শশী
তাঁর ইশারায় ওঠে, রে মন শত ফুল ফোটে
শত ফুল ফোটে রে মন শত ফুল ফোটে।।'
-ধর্মীয়,রাজনৈতিক এবং সামাজিক ভণ্ডামী- অবক্ষয় আমাকে পীড়া দেয়। গান সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে।তাই গানই আমার প্রতিবাদ এবং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।আর ব্যক্তিগত প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা প্রসঙ্গে বলতে চাই-সৃষ্টির আনন্দে লিখি।কখনও গণসংগীত,কনও আধ্যাত্মবাদ,কখনও প্রেম বিরহ। বিশেষ করে লোকায়ত ধারায় বর্তমানকে ধরে রাখবারও একটা চেষ্টা বলতে পারেন।
শুধু এটুকুই জানি যে সমাজ সংস্কৃতির প্রতি একটা দায় আছে।যুগের প্রয়োজন হয়তো তাঁড়া দেয়,তাই কলম হাতে নিই।
কবিতা দিয়েই লেখালেখি শুরু।প্রথম যৌবনে যা হয়,প্রেমের কবিতা দিয়েই কবিতার যাত্রা।প্রথম ছাপা হয় নবম শ্রণীতে থাকা আবস্হায়।ছোট বেলা মায়ের কণ্ঠে গান শুনতাম,ভালো লাগতো,খুব টানতো।ঘারকন্নার ফাঁকে ফাঁকে মা খালি গলায় গাইতেন।১৯৮১ তে গান শিখতে শুরু করলাম।তার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতাম,গণসংগীত,লোক সংগীত।একদিন আমার সংগীতের ওস্তাদ মরহুম আলী আকবর খান আমাকে নির্দেশ দিলেন ' কোয়েলিয়া বোলে রে মায়ী' ইমন ঠাটের এই রাগপ্রধান গানটিতে বাংলা কথা বসিয়ে দিতে।নির্দেশ অনুযায়ী লিখে দিলাম ' প্রিয়ারও প্রেমে তাজমহল গড়ে শাহ্জাহানে'।ওস্তাদজী সেদিন মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন।সেই থেকে ধীরে ধীরে গান লিখতে শুরু করি।একসময় বুঝতে পারলাম গাওয়াটা আমাকে দিয়ে যথার্থ হবেনা,থেকে গেলাম লেখাতেই।গান লেখার পাশাপাশি একটু আধটু কবিতা লিখি।
বাদ্যযন্ত্র সহযোগের আগে গানের বানীটি একটি কবিতা।আমি তাকে গানের কবিতা বলি।তবে আধুনিক গান বলুন কিংবা লোকায়ত ধারার গান বলুন,সবখানেই কাব্য থাকা উচিৎ।যে গানে কাব্য নেই, তা হয় তো শুধু সুর আর যন্ত্রানুসঙ্গে শ্রবণযোগ্য হতে পারে কিন্তু উৎকৃষ্টতা পায় না।একটি মানোত্তীর্ণ গানের বাণী নিঃসন্দেহে একটি উত্তীর্ণ কবিতা।
আমার জন্ম বাবার চাকরীস্থল সিলেটের হাবিবনগর চা বাগানে।আমার বাবা শফিক আহমদ,মা- মনোয়ারা বড় ভুঁইয়া।আমারা সাত ভাই বোন বাবা মায়ের কাছেই জীবন শিখেছি,যে জীবন মানুষের, যে জীবন সাধনার।
রাধারমণ,হাছন,ভবানন্দ,হেমাঙ্গ,আব্দুল করিম সহ অসংখ্য সাধক কবির ভাবনার ফল্গুধারায় স্নাত
হাজার বছরের বাঙালি লোকসাহিত্য আমাকে সমৃদ্ধ করে,প্রেরণা দেয়।
এ উজ্জ্বল সাধকরাই আমাদের বাতিঘর।তাঁদের পথ অনুসরণ করেই চলতে চাই।
আমার এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ গুলো:
১]গানেয়াল (অমর একুশের বইমেলা ২০১০)গীতিকবিতা।
২] ঠুনকো কাচের শব্দডিঙা (২০১৪) ষষ্ঠীপদি সনেট) কবিতা।
৩] অন্ধের কুর্নিশ (অমর একুশে বইমেলা ২০১৫) তানকা সনেট কবিতা।
৪] আয়নাঘর দুয়ার খোলা ( অমর একুশে বইমেলা ২০১৬) গীতিকবিতা।
৫] বঙ্গবন্ধু তুমি মুক্তির গান ( বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান ২০২০) গীতিকবিতা।
-------------------------------------------------------
0 মন্তব্যসমূহ