কেন লিখি ? এ নিয়ে কখনো ভাবিনি বা বলা যায় তেমন কোনো সাজানো-গোছানো উত্তর আমার কাছে নেই। প্রথমেই বলব, লিখি কিনা বা কতটা লিখতে পারছি বা কতটা লিখেছি সেটাও দাবি করার মত ক্ষমতায় নেই । তবে সম্পাদক মহাশয় যেহেতু চেয়েছেন এবং যেহেতু অল্প কয়জন মানুষের মধ্যে একটা পরিচয় আছে কিছু না কিছু লেখালেখির, সেজন্য তো বলতেই হয় আমি সেই জন্য লিখি। আসলে কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে লেখালেখিতে নামা হয়না। অন্যান্য কাজের যেমন একটা লক্ষ্য থাকে, উদ্দেশ্য থাকে, আমার মনে হয় লেখালেখির ক্ষেত্রে সেরকমটা আসেনা। তবে লেখা ভালোবেসে বা লেখকদের ভালোবেসে এবং ভাল লেখকদের লেখা পড়ে লেখার একটা ইচ্ছা বা অনুপ্রেরণা জাগে। দ্বিতীয়ত, সেই কারণে লেখালেখি শুরু করা । তৃতীয়ত হচ্ছে, ভালোলাগার একটা বিষয় তো নিশ্চয়ই আছে যে কারণে আমি লিখি। চতুর্থত, আমার লেখা যদি কিছু মানুষের ভালোলাগায় বা ভাললাগে বা তাঁদের উৎসাহ পায় সেজন্য লিখি। পঞ্চমত, তাগিদ । মানে কোন একটা বিষয়কে উদ্দেশ্য করে। যা আমি বলছিলাম প্রথমে যে লেখালেখির কোন উদ্দেশ্য থাকে না । কিন্তু একটা সময়ে লিখতে লিখতে সেই উদ্দেশ্যটাই এসে যায়। যেমন কোন পত্রিকার জন্য লেখা, ম্যাগাজিনের জন্য বা সম্পাদকের জন্য লেখা, যেমন লেখার জন্য লেখা --- কোনো একটা বিষয় কে উদ্দেশ্য করে লেখা। এসব হচ্ছে লেখার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে লেখা। আর এই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সেটাও কিন্তু লেখার কারণ হতে পারে । আমার কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, আদর্শ বা আইডিওলজি আমি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাই । সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে চাই বা আমার সেই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই সেজন্য লেখা হতে পারে।
এবারে সবশেষে বলবো, আমি কেন লিখি? উপরের সবকটা কারণেই আমার লেখার মধ্যে আছে আমি মনে করি। খুব ছোটবেলা থেকেই অর্থাৎ স্কুলে পড়ার সময় থেকেই এলোমেলো লেখালেখি করেছি। মনে আছে, শরৎচন্দ্র এবং বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে আমি প্রথমে লেখায় প্রভাবিত হই। সেই থেকে সেই অর্থে বলতে গেলে আমার লেখার বয়স ৫০ বছর হয়ে এলো প্রায়। কিন্তু অন্য কোন লেখকের মত আমি সেরকম ভাবে প্রতিষ্ঠিত নই বা সেজন্য আমার কোন দুঃখ বা ৫০ বছরের লেখার জীবনের কোনো আনন্দ বা গর্ব কোনটাই নেই । আমার সেই ধরণের কোনো ভাবনা আকাঙ্ক্ষা কোনটাই নেই । ইচ্ছে হলে লিখি, ইচ্ছে না হলে লিখিনা । নিজের কোন লেখাকে ১০ বছর পুষে রেখে আবার সেই লেখাটাকে জাগিয়ে তুলেছি! এরকম লেখা আছে আমার বেশ কিছু। আজ কোন লেখা শুরু করে আর শেষ করতে ইচ্ছা হয়নি । তাকে রেখে দিয়েছি । মাঝেমধ্যে শুরু করার চেষ্টা হতো কিন্তু তাকে ঘুমিয়ে রেখেছি। একসময় সেটা বাতিল করে দিয়েছি আর হবে না বলে। পরে সেটাই আবার জেগে উঠে একটা ভালো লেখা দাঁড়িয়ে গেছে খুব অল্প সময়ে । সেই জন্য আমার যথেষ্ট বেশি লেখা হয়নি বা হয়না। নিজের লেখার প্রতি অনেকটা বীতশ্রদ্ধ বলতে পারেন তবে লেখার চেয়ে বেশি ভালোবাসি পড়ায়। ধন্যবাদ।
বাঁধন চক্রবর্তী
(অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কলেজ শিক্ষক)
মহেন্দ্র ভবন, মধ্যপাড়া, উত্তর গান্ধীগ্রাম
ত্রিপুরা ৭৯৯০১২
চলাচল ৯৬১৫২২২৮৯৫
imbadhan2012@gmail.com.
এবারে সবশেষে বলবো, আমি কেন লিখি? উপরের সবকটা কারণেই আমার লেখার মধ্যে আছে আমি মনে করি। খুব ছোটবেলা থেকেই অর্থাৎ স্কুলে পড়ার সময় থেকেই এলোমেলো লেখালেখি করেছি। মনে আছে, শরৎচন্দ্র এবং বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে আমি প্রথমে লেখায় প্রভাবিত হই। সেই থেকে সেই অর্থে বলতে গেলে আমার লেখার বয়স ৫০ বছর হয়ে এলো প্রায়। কিন্তু অন্য কোন লেখকের মত আমি সেরকম ভাবে প্রতিষ্ঠিত নই বা সেজন্য আমার কোন দুঃখ বা ৫০ বছরের লেখার জীবনের কোনো আনন্দ বা গর্ব কোনটাই নেই । আমার সেই ধরণের কোনো ভাবনা আকাঙ্ক্ষা কোনটাই নেই । ইচ্ছে হলে লিখি, ইচ্ছে না হলে লিখিনা । নিজের কোন লেখাকে ১০ বছর পুষে রেখে আবার সেই লেখাটাকে জাগিয়ে তুলেছি! এরকম লেখা আছে আমার বেশ কিছু। আজ কোন লেখা শুরু করে আর শেষ করতে ইচ্ছা হয়নি । তাকে রেখে দিয়েছি । মাঝেমধ্যে শুরু করার চেষ্টা হতো কিন্তু তাকে ঘুমিয়ে রেখেছি। একসময় সেটা বাতিল করে দিয়েছি আর হবে না বলে। পরে সেটাই আবার জেগে উঠে একটা ভালো লেখা দাঁড়িয়ে গেছে খুব অল্প সময়ে । সেই জন্য আমার যথেষ্ট বেশি লেখা হয়নি বা হয়না। নিজের লেখার প্রতি অনেকটা বীতশ্রদ্ধ বলতে পারেন তবে লেখার চেয়ে বেশি ভালোবাসি পড়ায়। ধন্যবাদ।
বাঁধন চক্রবর্তী
(অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কলেজ শিক্ষক)
মহেন্দ্র ভবন, মধ্যপাড়া, উত্তর গান্ধীগ্রাম
ত্রিপুরা ৭৯৯০১২
চলাচল ৯৬১৫২২২৮৯৫
imbadhan2012@gmail.com.

0 মন্তব্যসমূহ