কী লিখি কেন লিখি সংযুক্তা দাস পুরকায়স্থ

কী লিখি কেন লিখি 

সংযুক্তা দাস পুরকায়স্থ 


কেন লিখি, এটা একটা বিশাল প্রশ্ন চিহ্ন? একটি জীবন বীক্ষা। 
লেখকের কাজ হল শিল্প সৃষ্টি। কিন্তু প্রশ্ন হল এই সৃষ্টি কেন করব, শুধু ই   কী আনন্দ দানের জন্য না পাঠক মনে আনন্দ সঞ্চারের অভিলাষে। না, আসল কারণ টা কিন্তু অনেক গভীরে প্রোথিত। আমি বা আমরা যারা লিখি, নি: সন্দেহে আমাদের একটা বড় উদ্দেশ্য থাকে পাঠকের সঙ্গে স ্ যোগ স্থাপন। পাঠকের মনে আমার অনুভূতির অনুরণন। জীবন জিজ্ঞাসা, জীবন অন্বেষা প্রতি নিয়ত মনকে আলোড়িত করে।
আমরা জানি সমাজে যা কিছু ঘটে তার প্রতিফলন পাই সাহিত্যে। তাই সমাজে সংঘটিত ঘটনাগুলোর জন্য পরোক্ষ ভাবে আমরা লেখকও দায়ী। কারণ আমাদের সাহিত্যে যদি এ সকল সংঘাত চিত্রিত না হয় তবে তার উত্তর দায়িত্ব কিন্তু বহন করতে হয় এক লেখককে!
তাই শুধু মাত্র মনের আবেগকে ধরে রাখার আধার হিসাবে লিখব তা কখনই নয়। আমাদের চারপাশে যে অসংখ্য ঘটনা রোজকার জীবনে ঘটে সেই উপলব্ধি তা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার তাগিদে লিখি। মনের মধ্যে যে আরেক মন বাস করে সে, কত শত অব্যক্ত ঘটনার নীরব সাক্ষী। নিজের ঢারপাশে যে, ঘাত, প্রতিঘাত জীবন যন্ত্রণা, জীবনের ছোট বড় নানা উপলব্ধির  ইতিহাসকে সঠিক মর্যাদায় ধরে রাখার জন্য লিখি। জীবন হচ্ছে অসংখ্য ছোট ছোট অনুভূতির সমাহার। মানুষের সুখ দুঃখের গল্প জীবনের উপজীব্য বিষয়। মানুষ ছাড়া জীবন নি: সঙ্গ। নিজের আত্মার মনের ভেতরের চাপা কান্নার মুক্তি চাই, তাই লিখি। 
এখন প্রশ্ন হল, আমরা যে লিখি, তা কী কল্পনা প্রসূত বা অলীক!  রূঢ় বাস্তব আসলে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সমাজে কী ঘটছে---মানূষ কীভাবে নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছে, তবে, লেখার প্রয়োজনে শুধু মাত্র রূঢ় বাস্তবকে সাহিত্যের পাতায় স্থান দিতে পারি না, সেখানেই কল্পনার পক্ষীরাজের প্রয়োজন। যে সমস্ত ঘটনাকে সুন্দর অলংকারে সাজিয়ে পরিবেশন করে। 
আমার মনে হয়, লেখার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে এক একটি সমাজ তার চলমান পরিস্থিতিকে ধরে রাখতে হয় নব প্রজন্মের জন্য। সাহিত্যে কোন কিছু স্থিতিশীল পলির মত জমতে পারেনা। সে বহতা নদীর মত। এই গতিশীল জীবনকে আরো এগিয়ে দিয়ে আগামীর পাথেয় করে রাখার প্রয়োজনেও আমরা যারা সাহিত্যচর্চা করি, লিখি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ