পরকীয়া // রাধা দত্ত

প্রায় পঁচিশ বছর আগের প্রকাশিত  লেখা একটি গল্প হঠাৎ করেই খুঁজে পেলেন গল্পকার রাধা দত্ত। .... পুরোনো অনেক কথা মনে পড়ে গেল "সন্দীপন"সাংস্কৃতিক সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তখন। সংস্থার মুখপত্র "প্রজ্জ্বলন" এর প্রুফ দেখা থেকে শুরু করে প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজও করেছেন তখন। অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করেছেন প্রচুর। সেই পুরোনো লেখা কেমন ছিলো গল্পটি পড়ুন।

পরকীয়া // রাধা দত্ত।

চোখ খুলেই রোজকার অভ্যেসে টেবিলে রাখা টাইমপীসে চোখ রেখে আঁতকে উঠে সন্দীপ।ইশশ্ সাতটা বেজে গেলো !! অবশ্য আজ সকাল দশটা থেকে ডিউটি। তবু তার আগে বাসায় কিছু রোগী তো দেখতেই হয়, তিস্তা কেন ডাকলো না আজ? কাল রাতের অসহ্য গরমে ঘুমোতে পারেনি ওরা দুজনেই , ভোরের দিকে একটু তন্দ্রা লেগেছে।সেজন্য বোধহয় ডাকেনি। বাইরের ঘরে নিশ্চয়ই এতক্ষণে ভীড় জমে গেছে, বাথরুমে ঢুকতে ঢুকতে ভাবে সন্দীপ।স্নান সেরে বেরিয়ে বেডরুমে ঢুকেই দেখলো প্রতিদিনের মত ওর জামাকাপড় বিছানায় সাজিয়ে রাখা আছে।তৈরী হয়ে চুল আঁচড়ে নিতে নিতে আয়নায় দেখলো তিস্তা চা নিয়ে এসেছে।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সন্দীপ হেসে জিজ্ঞেস করল -কি হলো আজ?
-রাতে ঘুমোতে পারোনি তাই আর ডাকিনি।
-তুমিও তো তাই।
-বাঃ আমার ঠিক সময়ে না উঠলে চলে?
তোমার চা ব্রেকফাস্ট কে দিতে শুনি?
একটু চুপ করে থেকে সন্দীপ বললো
-কব থেকে বলছি একজন হেলপার রাখতে, তাহলে তোমার খাটুনি কমতো। বাঁকা চোখে সন্দীপ কে দেখে নিয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে তিস্তা বলে --ভারী তো কাজ, তারজন্য আবার ক'জন লোক চাই? তাছাড়া......
-তাছাড়া কি? 
--সারাদিন আমি ই বা কি করব? তুমি তো দিব্যি আছো, রোগী আর হাসপাতাল নিয়ে। আমার কথা ভাবো কখনো?
সন্দীপ বুঝতে পারে তিস্তা আবার সেই প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছে। একাকীত্ব ওকে কষ্ট দেয় । সন্দীপ তো যথাসাধ্য চেষ্টা করে ওকে সঙ্গ দেবার, কিন্তু তিস্তার যা চাহিদা তা কিভাবে মেটাতে পারে সে? তাই প্রসঙ্গ চাপা দেবার জন্যই হেসে বলল
--একথা বললে কিন্তু অধমের ওপর অবিচার করা হয় সখী, আমার হৃদয় জুড়ে সারাক্ষণ ই তো তুমি শুধু তুমি!!
--থাক আর আদিখ্যেতা করতে হবে না।দয়া করে গিয়ে আপনার অতিথি দের বিদায় করে আসুন। নয়তো ব্রেকফাস্ট না করে ই হাসপাতালে ছুটতে হবে।
চায়ের কাপ তুলে নিয়ে চলে যায় তিস্তা।ওর চলে যাবার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সন্দীপ ভাবে তার এলোমেলো জীবন টাকে কত সহজেই সুশৃঙ্খল করে সাজিয়ে দিয়েছে মেয়েটা।ভোর থেকে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মূহুর্ত ওকে তিস্তার নানা অনুশাসন মেনে চলতে হয়। হোস্টেল লাইফে অভ্যস্ত সন্দীপের পারিবারিক জীবনের স্বাদ জানা ছিল না।তাই প্রথমে একটু কষ্ট হলেও তিস্তার এই এই অনুশাসন গুলো কৌতুকের সঙ্গে উপভোগ করেছে সে।
--কী ভাবছো বসে বসে? ওদিকে তোমার গেস্ট রা যে বসে আছে!
তিস্তার ডাকে চমক ভাঙে সন্দীপের কিন্তু যাছ্ছি বলেও বসে থাকে ও।আজ কেন যেন ভীষন আলসেমি তে পেয়েছে ওকে। তিস্তা বোধহয় কিছু একটা আন্দাজ করলো, তাই কাছে এসে মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো--তোমার কি হয়েছে বলোতো?শরীর খারাপ লাগছে?
নাহ্ তা কেন হবে?
--রাতে ভালো ঘুম হয় নি তোমার, এখন না হয় একটু রেস্ট নাও, আমি ওদের বিকেলে আসতে বলে দেব।
অন্যদিন হলে কিছুতেই মেনে নিত না সন্দীপ, কিন্তু আজ তিস্তার কথা গুলো ওর যুক্তিযুক্ত মনে হলো। সন্দীপ কে শুয়ে থাকতে বলে চেম্বারের দিকে চলে যায় তিস্তা। সকালবেলায় ওর হাতে একদম সময় থাকে না,এঘর ওঘরে চরকিপাক খেতে থাকে ‌,পাহাড়ী নদীর মতোই সদাচঞ্চল ওর গতি। সংসারে নিত্যদিনের কাজ ছাড়াও ওর পোষা দুটো টিয়া, একজোড়া খরগোশ আর একটা বেড়াল ছানা ও আছে। ওদের যত্ন আত্তি শেষ না করে ব্রেকফাস্ট পর্যন্ত করে না তিস্তা। সন্দীপ ও এসবে বাধা দেয় না ওকে। আসলে সে বুঝতে পারে সন্তান হীনতার দুঃখ ভোলার জন্য ই তিস্তা এসব করে। কষ্ট সন্দীপের ও কম হয়না, কিন্তু ডাক্তার হবার সুবাদেই সে জানে এইমুহূর্তে মা হতে গেলে তিস্তা কে বাঁচানো সহজ নয়।আর তিস্তা কে হারিয়ে সন্দীপ জীবনের কোন সুখ ই পেতে চায় না। প্রথম প্রথম এসব নিয়ে জেদ করেছে তিস্তা। এখন কি বুঝেছে কে জানে, মাঝে মাঝে ঔষধ খেতে ও চায়না, বলে 'কি লাভ?'
সারাদিন গেরস্থালি র নানা কাজে ডুবিয়ে রাখে নিজেকে। তবে ওর মনে কতটা কষ্ট পুষে রেখেছে তার খোঁজ সন্দীপ কে পেতে দেয়না। সারাদিনের পর ক্লান্ত সন্দীপ ঘরে ফেরে তখন তিস্তার মিষ্টি হাসির চমকে ওর সব ক্লান্তি ধুয়ে যায়।
তমালের বাড়িতে প্রথম যেদিন তিস্তাকে দেখেছিল সেদিনই মনে হয়েছে এমন একটি প্রাণবন্ত মেয়েই তো ওর চাই,এই সেই মেয়ে যাকে তার জীবনে একান্ত প্রয়োজন। সন্দীপের কথায় আকাশ থেকে পড়ল তমাল--সে কি রে! প্রথম দর্শনেই কাত হয়ে গেলি? তুই কতটুকু জানিস ওর সম্পর্কে?
--কিচ্ছু জানি না জানতেও চাই না।
পরমাসুন্দরী নয় তিস্তা। ছেলে বেলায় বাবাকে হারিয়ে মামা বাড়ীতে বড়ো হয়েছে। খরচের ভয়ে ওর মামা প্রথমে রাজি হননি। সন্দীপের বাবাও পিছিয়ে গিয়েছিলেন। তবু সন্দীপ আশা ছাড়েনি, তিস্তার মাকে রাজি করিয়ে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেছে।
চুপচাপ শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়েছিল সন্দীপ। তিস্তার ডাকে ঘুম ভেঙে গেল।
--হাসপাতালে যাবে?
--হ্যা যাব। বলে উঠে বসলো সন্দীপ। তিস্তা বোধহয় এই মাত্র চান সেরে বেরিয়েছে, একটা মিষ্টি সৌরভ ঘিরে আছে ওকে। কপালে দু-একটি ভিজে চুল লেপ্টে আছে। অপরূপ না হলেও ওর মুখে এক আশ্চর্য লাবণ্য আছে মা সচরাচর চোখে পড়ে না।সদ্যস্নাত ওর ভেজা মুখটা সন্দীপ কে মাতাল করে দেয়। মৃদু মথিত কন্ঠে তিস্তা কে কাছে ডাকে সন্দীপ।
--এখন কোন দুষ্টুমি নয়, আমি এক্ষুনি পূজার ঘরে ঢুকব।
কপট শাসনের ভঙ্গিতে আঙ্গুল তুলে তিস্তা।
একেক সময় ওকে ভীষন রহস্যময়ী মনে হয় সন্দীপের। ওর মনের তল খুঁজে পায়না যেন। সন্দীপ ও অবশ্য সেই রহস্য ভেদে করতে চায় না।
--ব্রেকফাস্ট দিয়েছি টেবিলে , তাড়াতাড়ি এসো। বলে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় তিস্তা।

সন্দীপ হাসপাতালে রওয়ানা হলে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় তিস্তা।রোজ ই দাঁড়ায় যতক্ষন না সন্দীপ হাসপাতালের সবুজ গেট টা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়।
আজকে সন্দীপ কে প্রথম নিয়ম ভাঙতে দেখলো তিস্তা। নয়তো রোগীদের কখনো ফেরায় না সন্দীপ। সকালে ওভাবে কথাটা না বললেই হতো। কষ্ট তো ওর ও কম নেই। একটা সন্তানের জন্য সন্দীপের আকুলতার কথা অজানা নয় তিস্তার। শুধু তিস্তার জীবন আশঙ্কার কথা ভেবেই ও সমস্ত আবেগ রুদ্ধ করে রেখেছে। তাই পারতপক্ষে সন্দীপের সাথে এব্যাপারে কথা বলে না তিস্তা।

সন্দীপ হাসপাতালে ভেতরে ঢুকে যাবার পরও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে তিস্তা। মফস্বল এলাকা হলেও এই সময়ে বড়ো শহরের মতোই এখানেও কর্মব্যস্ত মানুষের ভীড় থাকে রাস্তায়।এখান থেকে অনেকেই বাইরে কাজ করতে যায়।অন্যমনস্ক ভাবে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল, হঠাৎ একটা বাস এসে থামতেই সেদিকে চোখ ফিরিয়ে ওকে দেখতে পেল তিস্তা। মুহুর্তের জন্য শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল ওর।স্বপ্ন নয়তো? ঠিক তেমনি পাজামা পাঞ্জাবী পরণে,একমুখ দাড়ি, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ,বাস থেকে নেমে পরিচিত ভঙ্গিতে হেঁটে বাসস্টপের উল্টোদিকে যাছ্ছে কিন্তু রাহুল এখানে কেন? তবে কি পার্টির কোনো কাজে এসেছে? তিস্তা যে এখানে আছে সেটা কি ও জানে? বারান্দা থেকে পা সরছেনা যেন ওর দু পায়ে পেরেক ঠুকে দিয়েছে কেউ। রাহুল বড় রাস্তা ছেড়ে একটা গলিতে ঢুকে গেলে কোনমতে নিজেকে ঘরে টেনে নিয়ে একটা সোফায় বসে পড়ল তিস্তা। স্নায়ুগুলো যেন অবশ হয়ে আসছে ওর। এতদিন পর যখন তিস্তা ওর স্মৃতি গুলো মন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে চাইছে,কোথা থেকে এখানে এলো ও? ওকে তো তিস্তা কয়েকশো মাইল পেছনে ফেলে এসেছে।আজ যদি তিস্তার সামনে এসে দাঁড়ায় তবে কি জবাব দেবে ওকে?
কথামত রাহুলের জন্য অপেক্ষা করতে তো পারে নি সে। এদেশের হাজার টা মেয়ের মতই নিজের জীবনকে ইচ্ছে মত খরচ করার অধিকার ছিল না তিস্তার। তাই তো মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে ওকে। রাহুল তখন পার্টির কাজে দিল্লীতে।বুকভর্তি কষ্ট নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এলেও সন্দীপের বাঁধভাঙা জলের মতো ভালবাসার তোড়ে কষ্টের প্রাবল্য অনেকটাই কমে এসেছে। আস্তে আস্তে নিজেকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দিয়েছে। তবু রাহুল রয়ে গেছে ওর হৃদয়ের গোপন প্রকোষ্ঠে। তাকে তালাবদ্ধ করে রেখেছে তিস্তা। মাঝে মাঝে তিস্তার স্বপ্নে এসে ধরা দিতো রাহুল। আজকাল স্বপ্নেও ওর আনাগোনা বন্ধ।
দেয়ালে চোখ পড়তে তিস্তা দেখলো বারোটা বেজে গেছে। এখনও রান্না শেষ হয়নি। প্রেসার কুকারে ভাত চাপিয়ে বেডরুমে চলে এলো তিস্তা। বিছানা পাট করতে করতে পুরোনো কথা মনে পড়ে গেল। ইউনিভার্সিটি তে এম এ ফাইনাল ইয়ারে র ছাত্র ছিল রাহুল। তিস্তা তখন সবেমাত্র ভর্তি হয়েছে। বান্ধবী দের কাছে শুনেছিল সব বিষয়ে তুখোড় এই ছেলেটি রাজনীতি করে।ওর এক বান্ধবী অলকাও ছাত্র রাজনীতি করত, সেই একদিন পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেছিল--এই হচ্ছে তিস্তা, তোমার মত ইংরেজি ওর বিষয়।
-- বাঃ ভারী সুন্দর নাম তো। তিস্তা পারের মেয়ে তিস্তা।
এরপর থেকে প্রায়ই দেখা হতো এখানে ওখানে। কি প্রচন্ড আবেগ ই না ছিল ওর জন্য। কিন্তু দেখা হলে কিছুই বলতে পারতনা তিস্তা। রাহুলও ছিল মিতভাষী। টুকরো টুকরো কথা হতো। হাতে হাত রেখে পাশাপাশি বসে থাকতো নিঃশব্দে।
প্রেসার কুকারে সিটি বাজলে রান্না ঘরে চলে এলো তিস্তা, যদিও রান্নায় মন বসছে না মোটেও। অথচ সন্দীপ খারাপ রান্না মুখে তুলতে পারে না একেবারে। কোনমতে রান্না সেরে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে তিস্তা। সন্দীপ ফিরে আসতে এখনও ঘন্টা খানেক বাকি। বসার ঘরে এসে টিভি চালিয়ে দেয় তিস্তা। কিন্তু অশান্ত মন শান্ত হয় না, তাই টিভি বন্ধ করে দেয়। টেবিলের ওপর রাখা একটা ম্যাগাজিন নিয়ে খুলে বসলেও মন বসাতে পারে না। বারবার মনে হচ্ছে সন্দীপ কে রাহুলের কথা বলা উচিত ছিল। বিয়ের পর সন্দীপ কে অনেক বার বলতে চেয়েছে কিন্তু প্রতিবারই অজানা ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।যদি সন্দীপ ভুল বোঝে এই ভয়ে থেকেছে। কিন্তু এখন রাহুল এখানে এসেছে,যদি কোন ভাবে সন্দীপের সাথে পরিচয় হয় আর যদি সন্দীপ সব জেনে যায় তবে কি হবে??
কলিং বেল বাজছে। এখন কে আসতে পারে? সন্দীপের তো ফেরার সময় হয়নি! তবে কি রাহুল?? নিঃশ্বাস দ্রুততর হতে থাকে তিস্তার।দু হাতে মুখ ঢেকে বসে থাকে ও। বেল টা আবার বাজছে। কি করবে তিস্তা, দরজা টা খোলা কি উচিত হবে? অথচ রাহুলকে কাছ থেকে দেখার জন্য, দুটো কথা বলার জন্য কতদিন তৃষিত হয় আছে। সম্মোহিতের মত দরজার দিকে এগিয়ে যায় তিস্তা, কাঁপা হাতে ছিটকিনি তে হাত রাখে।
--কি ব্যাপার? ঘুমিয়ে পড়েছিলে নাকি?
দরজায় সন্দীপ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাকহীন হয়ে গেল তিস্তা। ওর অস্বাভাবিক পান্ডুর মুখটা দেখে অবাক হয় সন্দীপ।
আমি তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম, তুমি খুশি হও নি?
এতক্ষণে কথা খুঁজে পায় তিস্তা, কাঁপা গলায় বলল আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরে এলে যে?
--সুখবর আছে একটা, কিন্তু সেটা বলার আগে তোমার কি হয়েছে জানতে চাই।
কি আবার হবে? কিছু হয় নি।
কিন্তু তোমার মুখ তো তাই বলছে না
তোমাকে কিছু বলতে চাই সন্দীপ, নয়তো আমি নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকব সারাজীবন। যদিও আরো আগেই বলা উচিত ছিল---
তিস্তা কে কথা শেষ করতে দেয়না সন্দীপ।
--আমি জানিনা তোমার কি হয়েছে, কিন্তু তোমাকে যতটুকু জেনেছি বুঝেছি এর চাইতে বেশি কিছু জানতে চাই না আমি। একটা কথা মনে রাখো যা ঘটে গেছে তাকে আবার সামনে টেনে আনলে শুধু কষ্ট ই বাড়ে । তার চেয়ে আমার সুখবরটা শোনো।
তিস্তা বুঝতে পারছে সন্দীপ কিছুতেই ওকে বলতে দেবে না, তাই জিজ্ঞাসু চোখে তাকায় সন্দীপের দিকে।
তুমি আন্দাজ ও করতে পারবেনা আমি তোমাকে কি শোনাতে যাছ্ছি।
--এতো ভণিতা না করে তাড়াতাড়ি বলেই ফেল না।
স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে তিস্তা।
তোমার রিপোর্ট গুলো কলকাতার ড.মিত্রের কাছে পাঠিয়ে ছিলাম না? উনার চিঠি এসেছে,সব ও কে । এবার--কথা শেষ না করে ই তিস্তাকে দুহাতে তুলে ধরে সন্দীপ। ওর বাহুবন্ধনে নিজেকে সঁপে দিতে দিতে তিস্তা জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখল বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা শহরগামী বাসটার দিকে পাজামা পাঞ্জাবী পরে দীর্ঘ দেহী একজন এগিয়ে যাচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ