♥#ব্যাকরণের_বিন্দুবিসর্গ♥ (০৪) ♣বর্ণমালা-সমাচার♣ :মানবর্দ্ধন পাল

♥#ব্যাকরণের_বিন্দুবিসর্গ♥
                    (০৪)
    ♣বর্ণমালা-সমাচার♣

দাদুভাইয়ের সঙ্গে বর্ণ নিয়ে কথা বলার জন্য ঐশী ও হিয়া আজ বেশ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি, কাকে বলে, কত প্রকার ইত্যাদি বিষয় ওরা মনে হচ্ছে বেশ পড়ে এসেছে। ওদের চোখে-মুখে আজ কোন ভাবনা নেই। শুভ-কাব্যও আজ বেশ খুশি। রোদদূত ছবি আঁকবে বলে ওর সব রঙিন পেন্সিল নিয়ে হাজির। দাদুভাই ওকে ছবি দেখে 'অ' লিখে  একটি অজগর সাপ এঁকে রং করতে বললেন।
 মেঘদূত দাদুভাইকে বলল,
--- আজ আমি অ থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত সব বর্ণ তোমাকে লিখে দেখাব।
--- ঠিক আছে। আজ তোমাদের ইচ্ছেমত যা-খুশি কর। তবে আমাদের ভাষার সকল বর্ণই ভালভাবে চিনে নেওয়া দরকার। কীভাবে আমরা এই বর্ণমালা পেলাম তা জানা দরকার। বর্ণগুলো আগে কেমন ছিল তা-ও জানতে হবে।

বর্ণগুলোর জন্ম কিন্তু মানুষের মত একটি নির্দিষ্ট দিনে হয়নি। হাজার- হাজার বছরে দিনে-দিনে, আস্তে-ধীরে এগুলো রূপ পাল্টিয়েছে। বর্তমান চেহারায় আসতে এর যুগযুগ সময় লেগেছে। তাই তোমাদের মত বর্ণমালার কোন জন্মদিন নেই। বহু দিনে, অনেক পথ পেরিয়ে, দীর্ঘ পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্ণগুলো বর্তমান রূপ ও আকার-আকৃতি পেয়েছে। আদিকালে আমরা কেউ লেখতে জানতাম না। লেখব কেমন করে?কাগজ-কলম-পেন্সিল-- এসব তো কিছুই ছিল না! তাই মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য আদিম মানুষ ছবি এঁকেছে। পাথর দিয়ে পাথরের গায়ে দাগ কেটেছে। খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছে চিত্র। ফুল, পাখি, গাছ, পশু এসব বোঝাতে আদিম মানুষেরা এর ছবি এঁকেছে। তারপর কালক্রমে তা ছোট এবং সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে। পুরো ছবি থেকে হয়েছে আংশিক ছবি। এখন যেমন কয়েকটি টান দিয়ে চুলদাড়িটুকু এঁকে আমরা রবীন্দ্রনাথ বোঝাই। কিংবা তর্জনী উঁচানো একটি  উত্তোলিত হাত এঁকে আমরা বঙ্গবন্ধুর  ৭ই মার্চের ভাষণকে বোঝাই-- অনেকটা সেরকম।

এই বলে দাদুভাই তার পাঞ্জাবি-পরা হাতটি ওপরে উঠিয়ে ভঙ্গি করে দেখালেন। তারপর একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন।
--- এভাবে পূর্ণ ছবি হয়ে উঠল আংশিক ও ছোট-ছোট ছবি। তারপর তা থেকে ভাবলিপি ও অক্ষরলিপির পর্ব পেরিয়ে বর্ণমালার উদ্ভব হয়েছে। ---- আচ্ছা দাদুভাই, ভাবলিপি কী? মাঝখানে থামিয়ে হিয়া জানতে চাইল। দাদুভাই বললেন,
 ---- ভাবলিপি হল, ছোটছোট ছবি এঁকে মনের কথা বোঝানো। যেমন মনে কর, একজন ব্যথা পেয়ে কেঁদেছে। এই ভাবটি বোঝানোর জন্য চোখ এঁকে নিচে কয়েকটি ফোঁটা দিয়ে দিল।তাতে বোঝানো হল দুঃখ বা কান্নার ভাব। এটাকেই ভাষা বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ভাবলিপি। এসব বর্ণমালার পুরনো ইতিহাসের বিষয়। তোমরা বড় হয়ে তা বিস্তারিত জানতে পারবে। কুমিল্লার ময়নামতি বা  রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমিতে গেলে প্রাচীন মানুষের আঁকা অনেক ছবি তোমরা দেখতে পাবে। সেসব ছবি পাথরের গায়ে আঁকা। তোমাদের বাংলা বইয়ে সেগুলোর দুয়েকটি ছবি আছে। এখন সবকিছু বুঝতে পারবে না! বড় হলে বই পড়ে ও সেখানে গিয়ে বাস্তবে সব দেখতে পারবে।

সামনাসামনি না-দেখলে কেবল ছবি দেখে বা বই পড়ে সবকিছু ভাল করে বোঝা যায় না। বাস্তবে চোখে দেখে উপলব্ধি  করতে হয়। তবু ছবি দেখে কিছুটা হলেও বোঝা যায়। 
 -- এই বলে দাদুভাই সবাইকে পুরনো দিনের বর্ণমালার গুটিকতক ছবি দেখালেন। পাড়া-পড়শি মিলিয়ে ছয় নাতি-নাতনি  ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই ছবিগুলো দেখতে লাগল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ