সাজ্জাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা


সাজ্জাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা
১...
খেয়ে যায় ভ‚ষুÐির কাক লবঙ্গ প্রেম
সাজ্জাদুর রহমান
ূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূহাত বাড়ানো কার্নিশে সোনালি বিকেল, 
আঙিনায় রক্ত গোলাপ টগর,
প্রেমিকার সুহাসী চুম্বন।

পোয়াতি চাঁদ প্রজন্ম রাতের সোহাগে
ধুন্ধুবী শিহরণে আয়ুষ্কাল মেপে
কেক কেটেছিল জন্মদিনের।

উত্তাল শীতের গুহায়
বয়স হাতড়াতো ঘোটকী মাচায়
আধফোঁটা বাতাবির ঘ্রাণ।

ভিঞ্চির চোখের আড়ালে
মোনালিসা সুরম্য ভাঁজ খুলে
দেখিয়েছে মৃদঙ্গ শহর।

পাশ ফিরে শুয়ে আছে খোয়াবি নিঃশ্বাস
চাঁদে ঝুলে আছে জাহেলি আরব
পাজরে বসে খেয়ে যায়
ভ‚ষুÐি কাক লবঙ্গ প্রেম।

২...
অদৃশ্য বেহায়ার লাল জিভ
প্রতিদিন মানুষ পোড়ার গন্ধ পাই
প্রতিদিন বোধ পুড়ে গন্ধ হয়
বিব্রত অন্ধকারে সাঁতার শেখায় বোধ
তার মানে বোধ পোড়া গন্ধ বসে থাকে
রাতের বিছানায়, বালিশের চিবুক ধরে।

তৃষিত জোছনা পলাশের ডালে
মহামারি করোনার ব্যবচ্ছেদ
চেটে খায় শুকনো বাতাস!
পৃথিবীর পরিশ্রান্ত কলের জীবন
অদৃশ্য বেহায়ার লাল জিহ্াায় ধর্ষিত,
কাতর চিৎকারে প্রকম্পিত মানুষের ভ্রƒণ।

আমাদের চেতনায় গন্ধম রহস্য
বিবর্তনে নিজেকে উন্মুক্ত করে না
ধার্যকৃত আস্তিনে বৃদ্ধ পৃথিবী
নোটিস করে স্বগতোক্তি
বৈরাগ্য সৌচাগারে আমরা মুহূর্ত অগ্নি নেভাই
পাপ ধুয়ে ক্ষরিত মাটিতে চলে যাই অনন্ত।

মহামারি ভৌতিক দাঙ্গা
আর্তে ভেজায় বাদামি ভবিষ্যৎ !

৩....
কর্পূর জীবন কর্পোরেট চুল্লি
নিংড়ানো তেলের শিশির নিচে আয়না খেয়াল
গুমরে কাঁদে মরিচ পেষণ শুভেচ্ছায়
গত আরাধ্য প্রাপ্তির ফসল গৃহে আগুন লেগে
মিরাকেল সংসার ছাই।

কর্পূর জীবন কর্পোরেট চুল্লি বহ্নির শ্বাস নালিতে
বীজ রোপণ করে সার ছিটায়
রেসের ঘেটাকী সন্ধ্যা হৃদয়ের চন্দ্রোদয় নিপাত করে--- অমাবশ্যাকে করে আলিঙ্গন।
ফেরারি জীবনে পিসোত পাল বপন করে জলের নুন
নুনের তৃপ্তি হৃদয়ে জ্বালাতন করে উর্মির কোলাহল।
দীর্ঘকায় নদী ভাসিয়ে নিয়ে যায় ওপারে মেঘের বাড়ি
শাদা কশবন দুয়ারে দুর্ভিক্ষ জানায় স্বাগতম!

৪...
বিবস আর্তনাদে বিপর্যস্ত দলিল
শরীরের হাতদুটো অবস।
মোলায়েম চিবুক আহাজারি করতে করতে
শক্ত চোয়াল-কপাট !
হাসি-উল্লাসের সংসারে অনাহারি হাড়ের
ভেতরে মেহেদিপাতার নিঃশ্বাস
বিশ্বমানচিত্রের কক্ষপথ গুনতে গুনতে 
অবিশ্বাসের কোলাহলে ঘুমিয়ে যায় !

দুটি চোখ যেন ঈগলের ডানায় ভর করে---
ক্ষুধার রাজ্য ঘুরে দেখে মজুতদারের আড়তের চাল, ডাল, নুন, তেলে ফাঙ্গাস রহস্য।

বিবস্ পাদুটো শূন্য রাস্তার কাকর ঘসে ঘসে
ফিরে আসে পুরনো স্মৃতির দহলিজে।
চিলতে চিলতে রোদের ভাঁজে নোনা ঘাম চটকে
বুকের নড়বড়ে কলকব্জায় মজুদ করে দীর্ঘশ্বাস!

কানদুটো বধির, স্তব্ধ শ্রবণশক্তি
জঙধরা নেউলে সমাজের কোনো অহেতুক
আশ্বাসবাণী শুনতে চায় না।
আর্তনাদের দাবানলে ভস্মীভ‚ত দুটি চোখ কাঁদে
অগনতি লাশের পাশে বসে থাকে জোনাক আর্তনাদ।

প্রতিদিন নাকে ভেসে আসে পোড়া মাংসের গন্ধ।
আটার পাতিলে হাহাকার করে ওঠে ক্ষুধার্ত পেট
জ্বলন্ত উনুনে জ্বলতে থাকে স্বপ্নযাত্রা বিত্ত আসে না--- ঠোঁট হাসে না
অসাড় দুটি হাতের মুঠোয় নিষ্পেষিত হতে থাকে
আরেক জনম বেঁচে থাকবার বিপর্যস্ত দলিল।

কখনো কোনো দিন যদি ফেরে কলের গাড়ি
সেইদিন তুলে দেবো মেহেদিপাতার রঙ।

৫.....
পূর্বক্ত ঘ্রাণ
এ জীবন লেপ্টে আছে শিশিরভেজা মাটির সাথে
আঁকা আছে তটরেখা
সময়ের ফুরসত গুনে গুনে কখন যে পাদুটো অবসরের স্থায়ী ঠিকানায় ঠিক পৌঁছোয়
কখন যে তার কাছে নত হয় নৈবেদ্য
কখন যে তত্ত¡ বোঝাই হলুদের ডালাগুলো
আহত দিবসের কাছে সমর্পণ করে নিজের রঙ

পৃথিবীর চলমান ছক অকস্মাৎ স্থির হয়
বুকের বিশ্বস্ত দেয়ালে সাজানো রঙধনু
ছিটকে পড়ে নগর থেকে বন্দরে
ক্ষুধার্ত চোখের নিচে শুয়ে থাকে আমিষ শ্রাবণ।

ঁআটপৌরে জীবন স্থির হয় জানালার গ্রিলে
মগজে নেমে আসে অবিশ্রান্ত পরান্ত চিঠি
চ‚ড়ান্ত ঘামে ভেজা ক্লান্ত দেহের পটে
হাসিটুকু শীতল চুম্বকে আটকে থাকে
পলকহীন উদাস চোখ খুবলে খায় আকাশ ফল।

ঘুমের বালিশ ভেজা অশ্রæ যেন পুষ্ট কষ্টের পদভারে গিলে খায় এক জীবনের ইতিহাস।



সাজ্জাদুর রহমান, পিতা : আব্দুল কুদ্দুস (মৃত), মাতা : সাজেদা বেগম (মৃত), জন্ম তারিখ : ১০/০১/১৯৭৭। ঠিকানা : বোয়ালমারী উপজেলা, জেলা : ফরিদপুর। পেশা : শিক্ষতা (প্রভাষক বাংলা)।    লিখি : কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই : উপন্যাস (১০টি)। ছোট গল্প (১টি)। কিশোর গল্প(১টি)। মঞ্চনাটক : ৩৫টি। টিভি নাটক/ভিডিও চলচ্চিত্র : ৪টি। বর্তমানে অভিনয়, নির্দেশক, চিত্রনাট্য ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ