এক.
মেহমান
আমাদের বাসায় একটা সদ্য প্রসব করা বাদামি পিচ্ছি ইঁদুর এসেছে কোথায় হতে জানিনা , দুদিন হলো,আমি মারতে পারলাম না, এতো ছোট শিশু ইঁদুর ,অন্যদিকে পবিত্র রমজান l খাওয়া দিচ্ছি ...
এখন ডাকলেই পিচ্ছি ইঁদুরটি আমার পাশে দাঁড়িয়ে বেড়ালের মতো আমার পা- র কাছে ঘুরঘুর করে ... আমি ছোট বেলায় ঢাকায় রাস্তায় কুকুরের ছানা বিড়ালের ছানা (মা ছাড়া পড়ে থাকতো অনেক সময় )আমি উঠিয়ে নিয়ে আসতাম l
ওদের বাসায় রেখে দিতাম lএই জন্য বাসায় রাগ করতো মা কারণ অতিরিক্ত বেড়াল কুকুর ছানা বেশী হয়ে যাওয়াতে l প্রচুর জায়গা ছিল আমাদের বাসায় হয়তো একটা ফার্ম করা যেতে পারতো কুকুর বেড়ালের l মা ও পাল্তেন হাঁস মুরগি একটা বেড়াল , খাওয়া নিজের হাতে দিতেন l আমাকে একদিন মুরগী জবেহ করতে বললেন মা ,বাসার কাজের লোকটি বাইরে গিয়েছিলো ,আমি রাজী হয়নি ,আমার কষ্ট হতো একটা ছোট প্রাণী হত্যা করবো এটা আমার সহ্য হতোনা l কোরবানী ঈদে একবার গরু জবেহ করার সময় ডেকেছিলেন বাবা ,আমি বলেছিলাম আমি পারবো না ,আমার কাছে কষ্ট হতো ,কেন জানি মনে হতো আমার কাছে নিরীহ প্রাণীদের হত্যা করার অধিকার আমার নেই l আজ ও কোনো প্রাণী জবেহ করেনি আমার যতটুকু মনে পড়ে l বেড়াল মুরগী কুকুর ,পাখী কবুতর হাঁস পোষা প্রাণীর মতো আদর করতাম l বিদেশে এসে দেখলাম পোষা প্রাণীদের আলাদা রেস্পেক্ট ,আমি তো দেখে আমার আগ্রহ আরো বেড়ে গেলো 1ছোট বেলায় দেখেছি নেড়ী কুকুরদের লাঠি ও ঢিল মেরে তাড়িয়ে দিতো ,অসুস্থ প্রাণী কে মানুষরা ভাগিয়ে দিচ্ছে ,আমি পারতাম না l আমি একটি রাস্তায় নেড়ী াকুকুর গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে এক্সিডেন্ট করেছিল , কুকুরটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, বলে আমি ওকে রিকসায় করে নিয়ে পুরোনো রেল স্টেশন ফুলবাড়িয়া ক্রস করে
পশু হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলাম l ওকে রেখেছিলো দুদিন ,পরে দুদিন পর আমি নিয়ে এসেছিলাম l
(গত বছরের ঘটনা )
দুই.
মূর্খ
.আমার পরিচিত বন্ধুর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তার সন্তানরা আট ও দশ বয়সের দুই ছেলে দুই ছেলে ঢাকায় জন্ম নিয়েছে আমেরিকাতে এসেছে তিন বছর l ওদের দুই সন্তান বাংলা বই পড়তে চায় দেশেও বাংলা স্কুলে পড়তো l ওদের মা বলেছে বাংলা প্রাকটিস করে লাভ নেই বাবা এই দেশে l বাংলা বই পড়া ইংরেজ দেশে পড়া বোকামি l ইংরেজিতে কথা বলবে ইংরেজি বই পড়বে l ওদের মা ইংরেজিতে কথা বলে সন্তানদের সাথে সবসময়ে l আমি বলেছিলাম ওদের মাকে দুটা ভাষা জানলে ওরা বড় হলে কাজে লাগবে l যখন চাকরি করবে বা ব্যাবসা করবে তাদের কাজে লাগবে দুটা ভাষা জানলে যুক্তরাষ্টে চাকরীর ক্ষেত্রে অনেক ফ্যাসিলিটি দিয়ে থাকে lওদের মা হেসে উঠিয়ে দিলো আমার কথা l আমাকে বলল বাংলা পচা ভাষা বাংলার কোন ভ্যালু নেই এদেশে l
বাংলাদেশকে অনেকে চিনেনা এদেশের অনেক লোক l
এদেশে যখন আমার সন্তানরা থাকবে তখন ইংরেজি শিখুক আপনার যুক্তি মানতে পারছি না ভাই l
তিন.
চাঁদনী রাতের গল্প
আমি তখন বারো বছর হবো l ঈদের চাঁদ রাতে পুরো ফ্যামিলি সহ মায়ের সাথে ঢাকার নিউমার্কেটে গিয়েছিলাম l হালকা শীতের আমেজ অনেক দোকান ঘুরে একটা দোকানে সিল্কের পাঞ্জাবী পছন্দ হলো আমার l
মা কিনে দিলো দাম কুড়ি টাকা ঈদে পড়ব l
আমি আনন্দে আত্মহারা l নিউমার্কেটের বাইরের গেটে আসলাম l একটা ভিখেরী ছেলে দাঁড়িয়ে আছে গায়ে ছেঁড়া জামা আমার বয়সী হবে l শরীর থেকে দুর্গন্ধ আসছে l ভিক্ষুক ছেলেটি বললো আমার ঈদের জামা নেই কিছু অর্থ সাহায্যে দিবেন মায়ের কাছে করুণ সুরে আবদার করলো l আমার পাঞ্জাবীর প্যাকেট আমার হাতে l আমি কেন জানি ছেলেটির হাতে পাঞ্জাবীটা দিয়ে দিলাম l মা বললেন তুমি কি করছো তুমি কি পড়বে ঈদের দিন?
মাকে বললাম আমাকে আরেকটা কিনে দিবে তুমি পাঞ্জাবী মা বললো চলো ভিতরে যাই l
ছেলেটি খুব খুশী l নিউমার্কেটের ভিতরে গিয়ে আরেকটা পাঞ্জাবী কিনলাম সিল্কের একই রং একই দাম l
নিউমার্কেটের বাইরে গেটে এলাম
ছেলেটি আমার পান্জাবী পড়েছে
ফিট হয়েছে আনন্দে মুখ টিপে হাসছে আমার দিকে তাকিয়ে l
খুব সুন্দর লাগছে পাঞ্জাবীতে ছেলেটি কে l আজকে ঈদ মনে হলো আমার কাছে l চাঁদ রাত মনে হলোনা আমার কাছে আজকে l
0 মন্তব্যসমূহ