একগুচ্ছ কবিতা
পুলিন রায়
এক.
রাতের প্রহর
বিশ্বাসের দরজায় খিল
মানি না।
চায়ের কাপে লিপস্টিক
ক্ষতি নেই
সলাজ চাহনীতে দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা
রঙের ভোজবাজি
ঘুমহীন রাতের প্রহরে।
কোমর জড়িয়ে অন্ধকার
রাতের প্রহরে ঘন হয়।
দুই.
বৈপরীত্য
নির্জলা মেঘহীন আকাশ
জোছনার খেলা বন্ধ?
একলা জাগা চাঁদ লজ্জা পায়
শকুনের ওড়াওড়ি দেখে।
সব দরজা বন্ধ
আলো আসার পথ কিন্তু খোলা।
তিন.
একলা বাতাস
কীনব্রিজ নড়ে চড়ে চিন্তার সুতো
অবিরাম বয়ে চলা জীবনের স্রোতে
হারায় সরফরাজবাহিনী
বোমারু মাথার ওপর এলেও
নেই কোনো বিকার
বদলে যাওয়া দিনের পঞ্জিতে
লেখা নাম কেটে দিয়ে
সকালের রোদ বসালে
অনন্তপুর আর কতদূর
কুকুর বসিয়েছে মেলা
তপ্ত দুপুরে
পুকুরের পানিতে জ্বলন্ত অঙার
লকলকে জিহ্বায় তাকায়
দূরে বয়ে চলে একলা বাতাস।
চার.
দুঃখজট
মুঠোর ভেতর আলো-অন্ধকার খেলা
মিঠাকড়া রোদেরা মুচকি হাসে
পথের শেষে গোলাকার বৃত্তের মারপ্যাচ
পেরিয়ে এসে দেখা পাওয়া গেল ষোড়শীর যৌবন;
ওপারে আনন্দউৎসব
ওপারেই স্নিগ্ধ পার্বতীসুখ
এপারে পোড় খাওয়া জীবনের ঘানিটানা
কৈবর্তের দুঃখজট।
দূরের সীমানায় লালনিশানে লেখা প্রত্নইতিহাস পেরিয়ে হেঁটে আসে
কে.আলীর বইযের গোল গোল কালো অক্ষর
বুকে পাথর চাপা পড়ার আগেই...
0 মন্তব্যসমূহ