♥#ব্যাকরণের_বিন্দুবিসর্গ♥
(১২)
♣ধনী হই শব্দপুঁজিতে♣
ভাষা যদি শিখতে চাও
শব্দের সঞ্চয় বাড়াও--
ধনী হও শব্দপুঁজিতে।
লিখলে ছড়া-কবিতা
হবে না অপাঠ্য যা-তা
স্থান পাবে সফল সাহিত্যে।
দশটি 'কার' দিয়ে দশটি করে শব্দ লিখতে আজ ওরা আরার নতুন করে চেষ্টা করেছে। তবে কেউই পরিপূর্ণভাবে সফল হয়নি। ছোট দু'জন শুভ ও কাব্য কোনও কারেরই দশটি করে প্রয়োগ করতে পারেনি। ঐশী এবং হিয়া ঐ-কার, ঔ-কার এবং ঋ-কার দিয়ে সব শব্দ লিখতে পারেনি। শুভ আর কাব্য তো দুয়েকটা করে শব্দ লিখেছে মাত্র! বড়রা কেউ সাতটি, কেউ আটটি করে লিখেছে। তবে কাটাকাটি এবং বানান ভুল সবাই করেছে!
শুভ দেখতে নাদুসনুদুস হলেও লেখাপড়ায় বেশ দুর্বল! তাই দাদুভাই ঠাট্টার সুরে বললেন,
---- আমি দুর্বল সিং শুভর খাতায় লিখে দিচ্ছি। তোমরা তুলে নাও। তবে বুঝে তুলবে। কোনও শব্দের অর্থ বা বানান না-বুঝলে আমাকে জিজ্ঞেস করবে এবং অর্থ ব্র্যাকেট দিয়ে পাশে লিখে নেবে।
★ আ-কার ( া) : মা, বাবা, দাদা, নানা, খালা, মালা, ডালা, বালা (অলংকার বিশেষ বা স্ত্রীলোক), হাতা, পাতা।
★ হ্রস্ব-ই-কার ( ি) : দিদি, পিসি, দিঘি, বিধি ( নিয়ম ), চিনি, নিশি, (রাত্র), বিলি (বণ্টন), সিঁড়ি, সিঁথি (মাথা চুল দুই ভাগ করলে মাঝের রেখা)।
★ দীর্ঘ-ঈ-কার (ী) : গীতি (গান), দীর্ঘ (লম্বা), গীতা (ধর্মগ্রন্থ), জীর্ণ (পুরাতন), শীর্ণ(হালকা), নীতি (নিয়ম), প্রীতি (ভালবাসা), শীত, গ্রীষ্ম, শীতল।
★ হ্রস্ব-উ-কার (ু) : বুবু, ফুপু, গুরু (শিক্ষক), শুরু, গুরুত্ব (দরকার), গুরুগুরু (মেঘের ডাক), কুকুর, খুকু, পুকুর, মুকুট, (বর-কনের টোপর)।
★ দীর্ঘ-ঊ-কার (ূ) : নূপুর, মুহূর্ত (অল্প সময়), মুমূর্ষু (মৃতপ্রায়), স্ফূর্তি (আনন্দ) ঘূর্ণিঝড়, মূল (শেকড়), মূল্য, মূর্তি, মূর্খ, মূক (বোবা)।
ঋ-কার (ৃ) : কৃষি, কৃপণ, তৃণ (ঘাস), ঘৃণা, ঘৃত (ঘি), বৃষ (ষাঁড়), নৃ (মানুষ), নৃপতি (রাজা), আবৃত্তি, নৃত্য (নাচ)।
★ এ-কার(ে) : মেঘ, মেকি (নকল), মেঝে (মধ্যভাগ), মেটে (মাটির তৈরি), মেঠোপথ (মাঠের পথ), মেদ (চর্বি), মেথি (মশলা বিশেষ), মেধা (বুদ্ধি), মেয়ে, মেষ (ভেড়া)।
★ ও-কার (ো) : বোন, বোবা, বোকা, মোটা, রোদ, মোম, মোষ (মহিষ), মোহ (লোভ) লোক, মোর (আমার)।
★ ঐ-কার (ৈ) : বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, চৈত্র, বৈঠক (সভা), চৈতালি (চৈত্র মাসের ফসল), কৈবর্ত (জেলে), কৈলাস (হিমালয় পর্বতের একটি শৃঙ্গ), কৈশোর (বাল্যকালের পরের সময়), পৈতৃক (পিতার), গৈরিক (গেরুয়া রঙের)।
★ ঔ-কার (ৌ) : মৌন (চুপ), মৌ (মধু), মৌমাছি, মৌখিক, মৌসুম (ঋতু), পৌষ, বৌ, বৌদি, ভৌতিক, নৌকা।
দশটি 'কার' দিয়ে এই শব্দগুলো শুভর খাতায় লিখে দাদুভাই সবাইকে তুলে নিতে বললেন। তিনি এ-ও বললেন যে,
---- এরকম করে আরও শব্দ মনে হলে তোমরা লিখতে পার। আমার লেখা শব্দগুলোর মধ্যে কিছু শব্দের অর্থ তোমাদের অজানা থাকতে পারে ভেবে আমি ব্র্যাকেটে তা লিখে দিয়েছি। এগুলোর মধ্যে যদি আরও কোনওটির অর্থ কারও অজানা থাকে তাহলে বলতে পার।
সবাই শব্দগুলো লেখার পর আবার চোখ বুলিয়ে নিল। কিন্তু কেউ কোনও প্রশ্ন করল না। দাদুভাই সবার মুখের দিকে তাকিয়েও নিশ্চিত হলেন। তারপর বললেন,
---- এই কারগুলোর, মানে স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপের দিকে ভাল করে খেয়াল রাখতে হবে। এগুলোর গুরুত্ব অনেক। 'কার' না-থাকলে বাংলা শব্দের বানান অনেক লম্বা হয়ে যেত। মনে কর, আমরা লেখতে চাই-- পিপীলিকা। 'কার' না-থাকলে লেখতে হত এভাবে-- পইপঈলইকআ। এভাবে লেখলে একেকটি বাক্য হয়ে যেত দেড় মিটার লম্বা। দ্রুত এবং সহজে পড়তেও পারতাম না! তাছাড়া বানানও ভুল হওয়ার আশংকা থাকত বেশি!
অনেকে মনে করেন, কারের কারণে বাংলা বানান জটিল। ইংরেজিতে কার-এর ঝামেলা নেই বলে বানান সহজ! তা কিন্তু ঠিক নয়। 'কার' না-থাকলেও,তোমরা জান, ইংরেজি বর্ণমালার রূপ তিন ধরনের। বড় হাতের বর্ণ, ছোট হাতের বর্ণ এবং টানা হাতের বর্ণ। এই তিন রকমই আমাদের শিখতে হয়। নইলে ইংরেজি ভাষা পড়া ও লেখা যায় না। এই তিন প্রকার মিলে ইংরেজি বর্ণ শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় বাহাত্তরটি। যা-ই হোক, সব ভাষার বানানই যত্ন করে শিখতে হয়-- নিয়ম মেনে লেখতে হয়। বাংলা ভাষার কার-এর উচ্চারণগুলো শুদ্ধ করে শিখতে হয়। নইলে চোর 'চুর', ভোর 'ভুর' আর আলো 'আলু' হয়ে যায়! আবার মৃত 'মিত', পৃথিবী 'পিথিবি' হয়ে যায়! তাই বলায় ও লেখায় কার-এর প্রতি সচেতন থাকা দরকার। শুদ্ধ উচ্চারণ করতে পারলে সব না-হলেও অনেক বানানই শুদ্ধ হয়।
0 মন্তব্যসমূহ