সমুদ্রে ঠায় দাঁড়িয়ে
সমুদ্রের উথাল পাতাল ঢেউ
ঠাই দাঁড়িয়ে আছি
ঝিনুক থেকে মুক্তা আনতে।
দাউ দাউ জ্বলছে
হাথরাস থেকে কামদুনি
রাজনীতি শুধুই রাজনীতি।
আমরাতো নুন আনতে
পান্তা ফুরিয়ে ফেলছি
তবুও উষ্ণতার মাঝে
ঠান্ডা বাতাস খুঁজছি
বাঁচার জন্য স্বপ্ন দেখতে দেয়ে।
প্রতিবাদ ক্ষোভ বিক্ষোভ
চারিদিক আওয়াজ তদন্ত চাই
দোষীদের শাস্তি হোক
আমরা বাঁচতে চাই।
ঠায় দাঁড়িয়ে আছি
সূর্য দেখে বাঁচতে।
[
দেখব ই নতুন সূর্য
এবড়ো খেবড়ো রাস্তা
মেঘলা আকাশ
অনিয়মে ভরে গেছে
তবুও পৌঁছাতে হবে
গন্তব্যস্থল।
যেখানে একটা ভোর আছে
যেখানে লাঙ্গল কাঁধে চাষী চলে
দিনশেষে ভাত জোটে
সেই জায়গায়।
ওখানে পাহাড় আছে
ওখানে ঝরনা আছে
মেঘ আছে
বৃষ্টি হবে
রোদ্দুরে উষ্ণতা নেব।
ওখানে সকালবেলা হবে
কখনো শিউলি ফুলে
কখনো শিমুল পলাশ ফুলে
কৃষ্ণচূড়ায় মেতে উঠবো
ওখানে যাব
সাদা কাগজের পৃষ্ঠা জুড়ে
স্বপ্ন ঘেরা দিন দেখব
ওখানে দেখব ই রাঙ্গা সূর্য।
আমাদের ঘর কোথায়?
পাড়াগাঁয়ের নদী
আর জীবন যাপন
এইসব নিয়ে বেঁচে থাকা
তাই এখনো বলতে হয়
আমাদের ঘর কোথায়?
কি বিচিত্র এই দেশ!
শুধুই বিন্দাস অভিনয়
তাই থামছেনা ঝগড়াঝাঁটি।
শুধুই দেখতে পাচ্ছি রোদ্দুর
আর মেঘ ভর্তি বৃষ্টি।
আমাদের ঘর কোথায়?
এখনো অনেকেই না খেতে পেয়ে
মরছে এখানে সেখানে
বাঁচার জন্য করছে দেহ বিক্রি!
আমাদের বাঁচার জন্য
আমাদের ঘর কোথায়?
শুধুই দুঃখ, অন্ধকার
দুঃখ ঠেলে হাসি নেই
দম বন্ধ হয়ে আছি!
আমাদের ঘর কোথায়?
এ যেন এক গভীর রাত
কেউ থাকেনা পাশে
শুধুই প্রার্থনা করি
জোসনা রাতে,একটা রুটিতে
মা লক্ষী হয়ে এসো---।
আমাদের ঘর কোথায়?
ঘর হোক, সকলের জন্য
বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতি পূরণ।
ধর্ষক কত আর বলবো ?
বামিয়ান থেকে বাবরি ধ্বংস
নারী! নিরাপত্তা তোমাদের কোথায়?
কেরোসিনে দাউ দাউ করল শরীর
পোড়ানো দেহ হলো লোপাট
যেন জানতে না পারে কেউ
অপরাধ ছিল কি তার?
মরতে হলো তাকে?
হায় কপাল !লাশ হলো গায়েব,
এই কি আমাদের নারী স্বাধীনতা?
হে রামমোহন ,এ বিদ্যাসাগর
কোথায় তোমরা?
চিৎকার করে হচ্ছি শুধুই সর্বহারা!
শুধুই চিৎকার ,শুধুই ছিনিমিনি
স্বাধীনতা নেই, মুখ খুললেই বিপদ!
বলুনতো ,এদেশে হবে টা কি?
প্রতিদিন ঝরছে রক্ত
বিক্রি হচ্ছে সন্তান
দোষ শুধুই বাবা কিংবা মায়ের
ভাবছিনা হবে কেন? আমার এ দেশে!
মরতে হচ্ছে কেন?
শকুনির দল বলে দাও
নিরাপত্তায় স্বাধীনতার কথা
কোথায় নারী স্বাধীনতা?
শিক্ষাদিক্ষা বাঁচার অধিকার
হারিয়ে ফেলছি আমরা।
প্রতিবাদ হোক চিৎকার করে বলবো
আঙ্গুল তুলে বলবো
এদেশ আমার তোমার ।বাঁচবো----
রক্তহীন, কর্ম ক্ষমতা নিয়ে স্বাধীনতায়।
আমরা চিনি আমরা জানি
আঙুল তুলে বলবো
হে ধর্ষক। হে ধর্ষক ।দূর হটো --দূর হটো--।
আগে মানুষ ভাবতে শেখো
আমাদের পরিচয় আমরা মানুষ।
নারী কিংবা পুরুষ শুধুই লিঙ্গ ভেদাভেদ
কিন্তু আমরা সকলেই মানুষ।
আমাদের প্রাণ আছে, মন ও আশা ।
হৃদয় জুড়ে আছে ভালোবাসা
আমাকে নারী না ভেবে
ভাবুন ,আমি একজন মানুষ।
নরম মাংসের রকম ভেদে একজন মানুষ
আমি মানুষ ।আগে মানুষ ভাবতে শেখো।
নারী বলে আমার কি সম্মানবোধ নেই?
আমি তো কারো মা ।আমি তো কারো বোন
আমি তো কারো স্ত্রী। কারো প্রেমিকা হতে পারি
আমার পরিচয় ,আমি তো একজন মানুষ!
কষ্ট হয় ,মাঝে-মধ্যে ভেঙেও পড়ি
আমাকে মানুষ ভাবতে হবে!
আমি একজন মানুষ।
থাকতেই পারে লোভ ,লালসা ও কাম
আমাকে ভাবতে হবে আমি একজন মানুষ।
সোহাগে আদর করতেই পারো ?
ইচ্ছের বিরুদ্ধে প্রলোভন ঠিক নয়
এসো --আমরা বাঁচি শুধুই মানুষ হয়ে
পুরুষের ছায়ায়,নারীর মায়ায়,মিলেমিশে ।
আগে ভাবতে হয়, আমরা সকলেই মানুষ।
গোলাপ তোমাকে দিলাম
গোলাপ তোমাকে দিলাম
মেঘ দিয়ো, বৃষ্টি দিয়ো
চালা ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে
এসব ভাববো রোজ।
এ গোলাপ সৌন্দর্যময়
তাইতো দুহাত বাড়ানো।
আবার রয়েছে কাঁটায় ভরা
চিন্তায় মগ্ন
ভালোবাসাময় গোলাপ নিয়ে।
রক্তিম গোলাপ
ভালো-মন্দে মিলেমিশে একাকার
রক্ত ঝরা পথে
গোলাপ কুড়োতে ভয়
চাইনা এ গোলাপ নষ্ট হোক।
গোলাপ স্বপ্ন দেখায়
বেদনার মাঝে যন্ত্রণা নিরসনে
সেই গোলাপ চেয়েছি
বাড়িয়ো দুহাত
ঘুমোব এক চাদরে ।
0 মন্তব্যসমূহ