বর্ণশ্রী বকসী চাকরি সূত্রে আসামের বরাক উপত্যকায় বাস করেন ।সাহিত্য চর্চা তাঁর জীবনের অঙ্গ। কবিতা লেখার পাশাপাশি সেই ছাত্রাবস্থা থেকেই প্রবন্ধ লেখেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল এম.ফিলে বিদ্যাসাগরের অনুবাদ সাহিত্য এবং পি.এইচ. ডি -শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাব্যভাষার চিহ্নতাত্ত্বিক অধ্যয়ন ।
প্রকাশিত গ্রন্থ
১. রবীন্দ্রকাব্যের চলিষ্ণুতা (প্রবন্ধ গ্রন্থ)
২.শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাব্যচর্চা (প্রবন্ধ গ্রন্থ)
৩.আমিও ওথেলো হবো (কাব্যগ্রন্থ)
নারী/ বর্ণশ্রী বকসী
দূর থেকে দেখে মনে হয় ছায়াঘন গাছ
শ্রান্ত পথিকের ক্ষণিকের আশ্রয়-
বাজুবন্ধ খুলে রাখা পাতার মোড়কে সুখ,
নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ছেনে গড়ে তোলা
নিখুঁত প্রতিমা, দুহাতে বরাভয় দিতে গিয়ে
বিচ্যুত আঁচলে কে যেন দেগে দিয়েছে কালি!
ও গ্রামের চাষির ক্ষেতের মাঝে মৃত্তিকা স্বরূপা
আসলে সৃজনের তালে তালে মেয়েটি মত্ত -
রোঁয়া গাড়া শেষ হলে কানুর বাঁশিতে ফুঃ ,
সে আলুলায়িত কেশের ভারে ন্যুব্জ দেহে বেঁকে
যাওয়া পিঠের মাঝ বরাবর খুঁজে পায় হারিয়ে
গেছিল একদিন যে মেরুদণ্ড তাকে, সোজা হয়ে
লড়াইয়ের দামামা বাজায় ,জড়ো হওয়া মহিলা
সমাজ দশহাতের দুর্গায় পরিণত হয় . ......
চিহ্ন/ বর্ণশ্রী বকসী
কিছু স্বরলিপি লেখা হয় না খাতায়
তবু গান বেজে ওঠে মনের মাঝে,
দুলালির সংসার সংসার খেলা শুরু
পান্তা ভাত আর নুনে জীবনের রসায়ন ।
ছড়িয়ে থাকা নুরিতে শ্যাওলা জমে
গ্লাস আর তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের ব্যবধানে
ঝরে পড়ে অবেলার ভালবাসা-
নিখাদ শূন্যতা অনুভব করা হৃদয় জানে
সঙ্গ লালসার থেকে তীব্র আর কিছু নেই!
কতগুলো চিহ্ন বুকের গভীরে নিয়ে বাঁচা
পশমের চাদরে জড়ানো ওম চুরি করে নিয়ে
নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়া বোধের অনির্বচনীয়
রূপকথার মায়া আরক্ত সূর্য সাক্ষী রেখে
ঘুমিয়ে পড়ে চেতনার ভিতরের স্তরে ।
শান্তি/ বর্ণশ্রী বকসী
শান্তি কামনায় মন সন্নিবিষ্ট ধ্যানমগ্নতায়
কারুকার্য খচিত অন্তর মানে না বিরুদ্ধ
যাপন আর নিরাপত্তা বলয় থেকে দূরে
কুহক মায়া আর তারুণ্যের উষ্ণতায় ভেসে
হারিয়ে যাওয়া । কখন যেন ফিসফিসানি
শুরু হয় জানলা দিয়ে উপচে ওঠা চোখের
মেদুরতা ছুঁয়ে ।
শান্তির খোঁজে শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে
জঙ্গলের বুক চিরে বানানো কাফলায়
কাটিয়ে দেওয়া রাত কিংবা দিনের সময়-
বোবা গাছেদের ভাষার সংকেতলিপি পৌঁছে
যায় ডেরা বদলের অহমিকায়।
একদিন সাজানো বাজার থেকে ভেসে আসে
আত্মা জাগ্রত করা আলোর বন্যা-
ভরা নদীর কূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বকের জোড়া ।
গ্লাভস্/ বর্ণশ্রী বকসী
ঢেকে ফেলা হাতের নখে নেলপালিশ
রঙ বদলের নেশায় খেলা শুরু হয়,
জীবন ও জীবাণুর সংগ্রামে পাঁচটি
আঙুল অনায়াসেই ঢুকে যায় গ্লাভসের
আজব গুহায় ।
অস্বস্তি শেষ করে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে
ঘরে ফেরার ঘন্টা বেজে ওঠে -
ধীরে ধীরে খুলে ফেলা বস্তু জানে
কীভাবে ভাল থাকা যায়-
আনুষ্ঠানিকভাবে দিন বদলের ঘোড়ায় জিন
রাঙা ঠাকুরমার মত চাঁদের বুড়ির চরকায়
সাতরঙা রামধনুর আকাশে আমার মুক্তি
মিলিয়ে যাওয়া বিন্দু থেকে গ্লাভসের ছেঁড়া
ইশারা জাগিয়ে রাখতে চেয়ে রোগমুক্ত আকাশ!
0 মন্তব্যসমূহ