ত্রিপুরার ছড়া
সম্পাদনা
গোবিন্দ ধর
ছড়াকারক্রম
অ
★অপরাজিতা রায়
★অনিল সরকার
★অনিলকুমার নাথ
অমল চক্রবর্তী
অনাদি চৌধুরী
★অলক দাশগুপ্ত
অমলকান্তি চন্দ
অপাংশু দেবনাথ
অনিতা ভট্টাচার্য
অনুপ দেব
আ
আব্দুল হালিম
ক
★কাজল চক্রবর্তী
গ
গোবিন্দ ধর
★গোপেশ চক্রবর্তী
গোপালচন্দ্র দাস
গৈরিকা ধর
চ
★চুনি দাশ
★চয়ন দেবকানুনগো
জ
★জ্যোতির্ময় রাশ
★জহরলাল দাস
প
পদ্মশ্রী মজুমদার
পৃথ্বীশ দত্ত
ফ
ফুল্লরা ধর
র
★রাখাল রায়চৌধুরী
রাখাল মজুমদার
ব
বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী
ম
★মানিক চক্রবর্তী
মিললকান্তু দত্ত
★মানস পাল
মিলনকান্তি দত্ত
মঞ্জুশ্রী শর্মা
ন
নিয়তি রায়বর্মন
দ
দেবীস্মিতা দেব
★দিব্যেন্দু নাথ
শ
শচী চৌধুরী
স
সুব্রত দেব
★সুভাষ দাস
সবিতা দেবনাথ
সঞ্জীব দে
সঞ্জয় চক্রবর্তী
হ
★হিল্লোলী দাম
স.ম্পা.দ কী.য়
ত্রিপুরারছড়া চর্চা শুরু হয় অপরাজিতা রায় অনিল সরকার চুনী দাশসহ আরো অনেকের হাত ধরে।তারপর বিমলেন্দ্র চক্রবর্তীর ঝিনুক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে।যদিও ঝিনুক আরো কাজ করার ছিলো।চুনী দাশের কাকলীও এক সময় ছড়ার জগতকে আলোকিত করেছে।
ত্রিপুরার সংবাদপত্রের অবদান অনস্বীকার্য।দৈনিক সংবাদের ছোটদের পাতা,স্যন্দন পত্রিকার ছোটদের আসর,ডৈইলী দেশের কথার শিশুমহল,ত্রিপুরা দর্পণের শৈশব সহ অন্যান্য দৈনিক পত্রিকাগুলোর সাহিত্য পাতা,ছোটদের পাতা আমাদের ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যকে এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বাঁক আনে রসমালাই, কুসুম,চাঁদের পাহাড়।এখন ছড়া লেখতে আরো অনেকেই আসছেন।
এখানে অনিল সরকারের বরাকের উনিশের ভাষাবিষয়ক একটি ছড়ার কয়েক পঙক্তি তুলে দিলাম।
একটি নদী উতাল
পাতাল
একটি নদী বরাক।
নদীর বুকে আগুন জ্বলুক
নদী
আগুন ছড়াক।----অনিল সরকার।
ত্রিপুরার ছড়াকারদের একটি স্মৃতিনির্ভর তালিকা
অ.
অপরাজিতা রায়
অনিল সরকার
অনিলকুমার নাথ
অনাদি চৌধুরী
অমল চক্রবর্তী
অমলকান্তি চন্দ
অপাংশু দেবনাথ
আব্দুল হালিম
অভীককুমার দে
অশোক দেববর্মা
ক.
করবী গুপ্ত
গ.
গোবিন্দ ধর
গোপেশ চক্রবর্তী
গৈরিকা ধর
দ.
দেবীস্মিতা দেব
ন.
নিয়তি রায়বর্মন
নারায়ণচন্দ্র আঢ্য
চ.
চুনী দাশ
চয়ন কাননগো
জ.
জ্যোতির্ময় রায়
জ্যোতির্ময় দাস
প.
পদ্মশ্রী মজুমদার
পারভীন নাহার
ফ.
ফুল্লরা ধর
ব.
বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী
বলাই দে
ম.
মিলনকান্তি দত্ত
মাধুরী লোধ
মানস পাল
র.
রাখাল মজুমদার
রতন আচার্য
স.
সুব্রত দেব
সুধীর সরকার
সুস্মিতা চৌধুরী
সম্পা চৌধুরী
শ.
শচী চৌধুরী
হ.
হরিহর দেবনাথ
হিল্লোলী দাম
ছড়ায় ছড়ায় ছড়া
বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী (১৯৫৩)
বাংলা শিশুসাহিত্যে ত্রিপুরার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। থাকেন আগরতলায়। মূলত ছোটোদের জন্য লেখেন। "ঝিনুক" নামে একটি চমৎকার শিশুপত্রিকা সম্পাদনা করেন। এ ছাড়াও তিনি ত্রিপুরার শিশু-কিশোরদের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আন্তরিক প্রয়াসে নিরন্তর নিয়োজিত। বাংলায় প্রকাশিত সমস্ত প্রথম শ্রেণীর পত্র পত্রিকায় তাঁর লেখা মর্যাদার সঙ্গে ছাপা হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল : রাবনরাজা, কাকতাড়ুয়া, কানামাছি, ঘুমভাঙা নদী, নাও ভাসালাম জলে, রেলের চাকা ঝমঝম (কবি অনিল সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে), এই তিতাস আর সেই তিতাসের গল্প, মজারু, রসিকলালের রসিকতা, ঝালমুড়ি, অল্প গল্প, এক পৃথিবীর গল্প, নির্বাচিত ছড়া ইত্যাদি। তাঁর 'দাও ফিরে অরণ্য দাও জীবন' বইটি বাংলা, ইংরাজি, হিন্দি ও পাঞ্জাবি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে। 'মনের পাখি বনের পাখি' গ্রন্থটিও বাংলা, ইংরাজি, হিন্দি, তামিল ও চীনা ভাষায় মুদ্রিত হয়ে দেশ বিদেশে সমাদর লাভ করে। সারা বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ কর্তৃক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, ত্রিপুরা সরকারের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরস্কারসহ পেয়েছেন নানাবিধ পুরস্কার ও সম্মাননা। শিশুকিশোরদের জন্য তাঁর 'দেড় ডজন গল্প' পাঠকের মন জয় করেছে। এবং প্রতিটি গল্পের কথা শিশু-কিশোরদের ভাবনা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ছোটোদের অন্তরে। চিত্রশিল্পী হিসাবেও তাঁর সুনাম দেশের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে পৌঁছে গেছে সাহিত্যপ্রেমীদের অন্তরে। বলা যায়, তিনি ছোটোদের সাহিত্যের উন্নতির পথ রচনায় এক সফল কারিগর।
সুব্রত দেব
সিঁদল
সিঁদল পোড়ার স্বাদ
অমৃত তুল্য
খেয়েছে-যে সে-ই জানে
কত এর মূল্য।
' চাটনি ' কি ' দরঅ ' তুমি
বানাতেই পারো
' গোদক ' ও ' পালটুই '
আরো কত আরো।
অরুচিতে রুচি দেয়
দুর্বলে বল
পান্তাভাতের সাথে
জিভে আনে জল।
সিঁদলের গন্ধেতে
যত ন্যাকা-নেকি
নাকেতে রুমাল চেপে
বলে, আরে এ কী !
দুর্গন্ধে পালাবে ভূত
কী করে যে খাস
মানতেই হবে তোরা
আদত খাটাস !
হেসে বলি, বলি শোনো,
শোনো মন দিয়ে
রান্নাতে যায় উবে
যত সব ইয়ে।
তখন তো সারা ঘর
সুগন্ধে ম ম
এই জেনে করো তবে
সিঁদলকে নমো।
নিজ জিভে একবার
দেখো যদি চেখে
সুখ্যাতি করবেই
সকলকে ডেকে ।
সিঁদলকে নিয়ে কথা
হয় না তো শেষ
কে কী খাবে এই নিয়ে
কেন বিদ্বেষ !
সিঁদলের মূলে পুঁটি
জানো নিশ্চয়
গলা ছেড়ে গাও সবে
সিঁদলের জয়।
শেষ কথা সার কথা
বলে আমি যাই
সিঁদলের মত আর
ত্রিভুবনে নাই ।
আজকের প্রয়োজন
আলো কমে গেছে তাই বাড়ছে আঁধার
তাহলেও দল বেঁধে কী মানে কাঁদার !
যতদূর চোখ যায় সারা মাঠ ফাঁকা
আজকের প্রয়োজন বেঁধে বেঁধে থাকা।
তাহলেই ভয় পেয়ে পালাবে আঁধার
নেই কাজ আজ আর দিদি ও দাদার ।
নিজ হাতে জোর সাথে নিজ বুকে বল
তার সাথে একতাই হোক সম্বল।
দীর্ঘজীবি
ভুলে গিয়ে বেমালুম
যত সব হায় হায়
ছুরি নয়, কাঁচি নয়
শাণ দাও চেতনায় ।
যেখানেই থাকো আজ
শহর কি অজ গ্রাম
দীর্ঘজীবী হোক
তোমাদের সংগ্রাম।
তাহলেই যাবে কেটে
আঁধারের যত ভয়
শেষমেশ পৃথিবীতে
আলো জয়ী নিশ্চয়।
কমপিউটার বাবা
এলকি বাবা ভেলকি বাবা
' বাবা'য় ভরা দেশ
' বাবা 'রও আজ ক্ষমতা চাই
নিদেনপক্ষে ক্যাশ !
সাধুসন্ত সাথে নিয়ে
মহাযজ্ঞ শুরু
কমপিউটার বাবা নাম
অনেকেরই গুরু।
বিরোধীকে হারিয়ে দিতে
যজ্ঞের আয়োজন
করেন তিনি ভূপালেতে
ধনুক -ভাঙ্গা পণ!
ফল যা-ই হোক, দেশটা জুড়ে
নাম তো ফাটবে তার
কলি যুগে সবার আগে
নামই তো দরকার ।
গিরগিটিবাবু
চুপ থেকে গেলে ভরে
যত খাপখোপ
চুপ থেকে গেলে গায়ে
পড়ে না তো কোপ !
মুখ বুঁজে শুনে গেলে
যেখানে যা তর্ক
মাগনাতে জুটে যায়
খাঁটি মধুপর্ক।
গিরগিটিবাবু তাই
চুপচাপ মৌন
ভরাটাই সার কথা
আর সব গৌণ।
ছড়াছড়ি || মিলনকান্তি দত্ত
এক
কিপটে এসে
চিমটে দিলে
খামচে দিও
গাল,
লালচে হলে
লেপটে দিও
ক্যাপসিকামের
ছাল ।
দুই
রামায়ণে
একমাত্র
বহুমুখী
প্রতিভা ?
দশানন
ছাড়া আর
কার নাম
কহিবা !
তিন
বাসমতী চাল নয়
নাশপাতি খাও
নাশপাতি খেয়ে খেয়ে
হাঁসখালি যাও,
হাঁসখালি গিয়ে দ্যাখো
কতো হাসাহাসি
একশ'টা হাঁস আর
একশ'টা হাঁসি ।
চার
রোগ থেকে রোগা
জগা ধরে যোগা,
কপালে নেই ভাত
একদা ছিল হাতি !
নাক টিপে শিকনি ঝাড়ে
বলে,কপালভাতি ।
পাঁচ
পাখি সব
করে রব
রাতি ঘনাইল
অন্ধকারে
গান্ধীমূর্তি
লাঠি হারাইল ।
অনাদি চৌধুরী
বুকের মাঝে একুশ আছে
একুশ আমার সোনার শৈশব
কিশোর বেলার মন
একুশ আমার কালবৈশাখী
একুশের যৌবন।
একুশ আমার মিষ্টি মেয়ে
একুশ মাঝির গান
একুশ আমার কর্ণফুলি
ভরা বর্ষার গান।
একুশ আমার রণ-দামামা
একুশ শহিদ ভাই
একুশ আমার রক্তিম সূর্য
একুশ দখিন-বায়।
একুশ আমার চর্যার কবি, একুশ চন্ডীদাস
একুশ আমার মঙ্গলগীতি, একুশ কৃত্তিবাস।
একুশ আমার লালন ফকির, একুশ দৌলত কাজি
একুশ আমার চাঁদের হাসি , একুশ রূপরাজি।
একুশ রবি একুশ নজরুল একুশ কিশোর কবি
জারি সারি ভাটিয়ালি সাধক বাউলের ছবি।
মাথা ভন্-ভন্
দাদু এলেন গাঁ থেকে
শুভ্র হাসি শুভ্র কেশ,
'ভালো আছো তো সবাই
নাতি-নাতনিরা বেশ ?'
শহরবাসী ছেলে-বউ
সদা কর্মে ব্যস্ত,
মৌন হাসি ঠোঁটের কোণে
মনে মনে ত্রস্ত।
শনিবারে এলেন দাদু
নাতির দেখা না-ই,
রোববার সকালবেলায়
'কী-হে দাদুভাই !'
নাতি বলে,'গুড মর্নিং',
খুব বি-জি আজ;
চারখানা টিচার বাড়ি
আ-রো কত কাজ।
গান আছে, তবলা আছে―
আছে চিত্রাঙ্কন ;
মিস করা যাবে না তো- - -
দাদুর মাথা ভন্-ভন্।
অপাংশু দেবনাথ
ফিরে এসো
(কাব্যপুরুষ প্রিয় নজরুল তোমাকে)
ভাগ হলো কাঁটাতারে
দুটো ভাগে দেশটা,
তুমি কবি জেনে গেলে
বৃথা হলো শেষটা।
ভাব নেই ভাষা নেই
চোখে তার বিষ্ময়।
ব্যথা বুকে চেপে তুমি
কেঁদেছিলে নিশ্চয়।
গাছেদের মতো তুমি
ভাষাহীন দাঁড়িয়ে,
দেখেছিলে জীবনের
সব রঙ হারিয়ে।
তখনও কি বেজেছিলো
বুকে সেই বাঁশরী?
কার সাথে বারে বারে
দিয়েছিলে সেআড়ি?
তুমি সেই দেবদূত
মুক্তির প্রহরী,
ভাবনায় জাগে দেখো
অফুরান লহরি।
আমি বলি ফিরে এসো
গান নিয়ে কন্ঠে
খুকি আজ পড়ে দেখো
নন্টে ও ফন্টে।
একলা ছড়া
পদ্মশ্রী মজুমদার
একলা দুপুর
একলা পুকুর
একলা জলে ঝুপুরঝাপুর
একলা পা
একলা পথ
একলা চলে হ্দয়রথ
একলা গাছ
একলা পাখি
একলা বসে ডাকাডাকি
একলা কাঁদা
একলা হাসা
একলা-একলি ভালবাসা
একলা ডুবা
একলা ভাসা
একলা জলে নাইতে আসা
একলা মেঘ
একলা বৃষ্টি
একলা কত স্বপ্নসৃষ্টি
একলা উঠান
একলা রোদ
হলুদ পাখির একলা ঠোঁট
একলা নদী
একলা নাও
একলা ভেসে কোথায় যাও
একলা ঘর
একলা বাড়ি
একলা চলে সময়-ঘড়ি।
গোলাপ জামের ফুল
গোলাপ গোলাপ গন্ধ গায়ে
গোলাপ জামের ফুল
জৈষ্ঠ্যে এল বাপের বাড়ি
দিয়ে কানে দুল
ঘোমটা ফেলে
খোঁপা খুলে
ছড়িয়ে এলো চুল
শ্বশুরবাড়ির
গল্প জুড়ে
গোলাপজামের ফুল।
গরু ও শালিখ
গরুর পিঠে শালিখ চড়ে
ছাগল দেখে হেসেই মরে
ভেড়া বলে
লাজে মরিমরি
মহিষ বলে বিচার চাই
বাঘের কাছে চলো যাই
শালিখ বলে
আমিও চাষ করি।
মজার অংক
অংক করি মজাতে
এক দুই তিন সাজাতে
মা'র কাছে বকা খাই
ভুল যে করি তাই
নামতা পারি আটের ঘর
মা বলে অংক কর।
ভ্যাকসিন ॥ফুল্লরা ধর
পৃথিবীর স্টেডিয়ামে
বসে আছি সকলে
জানি না তো মুকুটটা
যাবে কার দখলে ।
ব্রিটেন ও রুশ আছে
সামনের সারিতে
দেখা যাক কে-বা জেতে
এই তাড়াতাড়িতে ।
কার আগে কে -যে ছোঁবে
ভ্যাকসিনটাকে
সেই খেলা দেখছে যে
লোকে ঝাঁকে ঝাঁকে
মহামারী করোনায়
ডুবে আছি সবে
মুক্তির দরজাটা
খুলবে যে কবে!
লক ডাউন ।। ফুল্লরা ধর
দেশজুড়ে লক ডাউন
টেনে দিয়ে দ্বার
ক্ষতি ছাড়া আর কিছু
নেই করোনার ।
এমনই ছোঁয়াচে সে যে
তাই এত ভয়
ভোগে সবে আতঙ্কে
কী জানি কী হয় ।
গড -আল্লা - ঈশা - মুসা
কোথা ' আছে তারা
দিনভর ডেকে দেখি
দেয় না তো সাড়া !
মানুষই মানুষের
কাছাকাছি থাকে
এ - কথাটা জানে তবু
কেন খুঁজে তাঁকে ?
ভয়াবহ করোনাতে
ভুলে জাতপাত
গৃহবন্দী থাকলেই
রোগ কুপোকাত ।
জল -সার ।। ফুল্লরা ধর
আজ থেকে করছো তো
নিশ্চয় আঁচ
সেই কথা মনে রেখে
ভাবো সাতপাঁচ ।
আসুক না সামনে
যত দুর্দিন
মেনে নেবে সত্যিটা
সবে একদিন ।
মানুষের সংগ্রাম
চলবেই চলবে
জল সার দিলে তবে
সুফলটা ফলবে ।
শচী চৌধুরী
ফুলকলিদের কান্ড
রাতদুপুরে
ফুলকলিরা
পাপড়ি মেলে
সাজছিল ,
দেখ না চেয়ে
গালের উপর
সুগন্ধি কী
মাখছিল !
আয়না খুলে
নরম আলোয়
চাঁদনি রাতে
আনমনে ,
কাজলরেখার
আঁচড় দিল
নয়ন পাতায়
একমনে ।
আঁকল ভুরু
ধনুক বাঁকা
তারই ফাঁকে
মাঝখানে–
আলপনাতে
পড়ল টিপ
রং মিলিয়ে
সাবধানে ।
ঠোঁট রাঙাল
মউ দিয়ে ভাই
বেজায় কোমল
টসটসে ,
ঝুঁকছি যখন
মুদল কলি
শব্দ পেয়ে
খসখসে ।
দুটি পাখি
ফোঁস করে ওঠে বউ , খোশ কেন হয় না ?
ঝন-ঝন থালা-বাটি , মণ মণ রান্না ,
তাই বুঝি ?
এই কথা ভেবে নিয়ে পুষিটাকে ঝেঁটিয়ে
ভোঁদারাম মাছ কাটে বাটালিতে পিটিয়ে
পটাপট ।
তেলে-জলে ছ্যাৎ-ছ্যাৎ , বউ তবু থোপা গাল !
ফাল দিয়ে ঝাল ঢালে সম্ভারে লাল লাল !
ঝাঁঝে ঝড় ।
ভয় পেয়ে ভোঁদারাম , ঝড় সয় আপসে
খক্ খক্ কেশে কয় , করোনা তো নয় সে ;
বেরসিক ।
সান-বাঁধা ঘাটে নিয়ে এই রোববারেতে
কুল দেব কাড়ি কাড়ি মালসায়-ঝুড়িতে
ফলবেই ;
নিয়ে যাব মেলাটায় , গনশার দোকানে
খাজা-গজা-বুট খাক , বউ বিনা বাঁচি নে ।
এইবার —
বউ ওঠে তেড়েমেড়ে খুন্তিটা উঁচিয়ে
বলে , এই কাটি আমি ঘর-দোর পুঁচিয়ে ,
দে সময় ।
নিরিবিলি আপনার চাই কিছু নির্জন
আমাকে যে ডাকে ওই নীলাকাশ-শ্যামরং !
আর ? আর ?
ভোঁদা কয় , কও সোনা , নেই নেই কোনো চাপ ;
—'চেয়ারেতে ঠ্যাং নেড়ে খাব চা এক কাপ'
বাপরে !
হাঁচি দিয়ে মিছিমিছি সেরে কুলকুচিটি
দুটি পাখি দিনভর গায় কিচিমিচিটি ;
কেচ্ছা অনেক !
ছড়ায় ছড়াছড়ি়
একটি ছড়া উপুড়-ঝুপুড়
আকাশতলির বাঁকে ,
একটি ছড়া ন্যাংটোপুটো
কাঠবেড়ালি আঁকে ।
ওই ছড়াটি যেদিন খুকি
পুতুল পুতুল খেলায় ,
সাজিয়েছিল অন্তরালের
চিন্ময়ীকে হেলায় !
একটুখানিক আদরমাখা
একটু রাঙা চোখ ,
হালকা হালকা পটে এ কী
সার্বজনীন শ্লোক !
একটি ছড়া বাড়তে বাড়তে
বৃক্ষ যুবরাজ ,
রৌদ্রে-ঝড়ে মাথায় রাখে
বিশ্বপালক তাজ !
বেনজির ।। দেবীস্মিতা দেব
লকডাউন চলাকালীন
মদ কেনাতে ছাড়টি দিলে
ঘোমটা মাথায় খেমটা নাচন
দেখার তবেই সুযোগ মেলে।
জাতে মাতাল তালে সঠিক
দিচ্ছে যখন লম্বা কিউ
লকডাউনের বন্দীদশায়
দেখছি বসে সেসব 'ভিউ'।
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
পকেট যাদের সদাই ফাঁকা
মদ্য কেনার বেলায় তাদের
দিব্যি জোটে নেশার টাকা।
রেশন লাইনে দেখছি আবার
উপচে পড়া থিকথিকে ভিড়
এইভাবে এই দুর্ভাগা দেশ
ভাঙবে রেকর্ড গড়বে নজির।
ভাসছে বাতাসে ।। দেবীস্মিতা দেব
আমার পাড়ার ছেলেটি মরেনি বোমাতে,
আমার দুয়ারে জঙ্গি নাড়েনি কড়া।
মন কেন তবু করে শুধু উচাটন
জওয়ানের দেহ দেখলে পতাকা মোড়া?
কী হবে লিখে দু’এক ছত্র কবিতা
কী হবে লিখে মনভোলানো পদ্য?
যন্ত্রণা তুমি করতে পারো কি আঁচ
যেসব মায়েরা পুত্র হারালো সদ্য?
বাবলুর মা বসে আছে পথ চেয়ে,
বাবলু কখনো আসবে না ফিরে আর –
লক্ষকোটি ভারতবাসীর মাঝে
মা খুঁজে যাবে বাবলুকে বারবার।
ছেলেহারা মা চাপড়ায় তার বুক।
কোনো মা-ই তার ছেলের মৃত্যু চান না।
মায়ের কান্না তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?
ভাসছে বাতাসে ভারতমায়েরও কান্না।
অমলকান্তি চন্দ
ঘুম আসেনি তোর
সবাই যখন ঘুমোয় তখন দরজা দিয়ে খিল,
আঁধার রাতে তারার সাথে করছে খেলা নীল।
পাশের বাড়ি দিলেম পাড়ি পান সুপারী হাতে,
রাঙ্গা পিসি ভাজছে তিসি, কি ছিল আর সাথে ?
বলছি গিয়ে পুতুল বিয়ে পান সুপারী খাও,
মিষ্টি রসে সবাই বসে দোলনা দুলে যাও।
আমার পাতে সবার সাথে মণ্ডা, মিঠাই, গুড়
বলল কাকা আকাশ ফাঁকা, ঘুম আসেনি তোর!
কে তুলে হাতরে
তালপাতা, কলাপাতা, শালপাতা তেঁতুলে,
জঙ্গলে বরোমাস হাতগুলো কে তুলে?
জারুলের দাদাভাই নিমপাতা চরকি,
বট দূরে হাঁক ছাড়ে লাল জামা তর কি?
ডানা জোড়া কেঁপে উঠে তির তির বাতাসে,
প্রজাপতি নেচে যায় হলদেটে পাতা সে।
উড়ে উড়ে বহুদূরে নদী ছুটে সাঁতরে,
জঙ্গলে বারোমাস কে তুলে হাতরে ?
নিমতার চামলেরা, গর্জন, সুন্দি,
দরদাম কষাকষি সংখ্যায় গুণ দি।
তারপর বট জুড়ে লম্বাটে শিকড়ে,
লাল লাল মাদাগুলো এল ভাই কি করে?
জারুলের ডালে বসে মাথা নাড়ে বড়শি,
থানকুনি পাতাগুলো বেটে খায় পড়শি।
দুচোখ কানা আমার নানা
দুচোখ কানা আমার নানা
কপাল তুলে দেখেন,
চকের টানে নানাই জানে
কি সব তিনি লেখেন ?
নামতা ঘরে আকাশ নড়ে
মস্ত কটা ফুটোয়,
ভাঙ্গা টিনে দিলেন কিনে
তাপ্পি মেরে দুটোয়।
কেমন করে ঘরটি নড়ে
বাতাস এলে জবর,
আকাশবাণী শুনছে নানি
দিনের সেরা খবর।
নানার কথা একাগ্রতা
গাঁ গেরামে রটল,
নিউরনেসা সাজল পেঁচা
কাণ্ড খানা ঘটল।
রাতের বেলা শ্যামের ছ্যালা
গিলল দুটো বড়ই,
নানার পাশে বিড়াল হাসে
দৌড়ে পালায় ধর ঐ।
নিয়তি রায় বর্মন
ষোড়শী মেয়ে
মেঘলা আকাশ ভ্যাপসা গরম
কাঁঠাল গুলো পেকে নরম ।
রোদের পরে পেয়ে বৃষ্টি
শুকনো মাটিতে প্রাণের সৃষ্টি ।
প্রথম ছড়ায় সোঁদা গন্ধ
নেচে ওঠে আতুর অন্ধ।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
টিনের চালে ঠিক দুপুর ।
জলের ফোঁটার যত পতন
গাছের পাতার তত নাচন ।
ঝড়ো হাওয়ার দাপটে ভাই
শান্তি ফেরে ধরার ঠাঁই ।
বৃষ্টি স্নাত হলো আজ
বাসন্তী আকাশ বাসন্তী সাজ ।
ধূলা বালু ঝেড়ে নেয়ে
প্রকৃতি যেন ষোড়শী মেয়ে ।
জাবড়া
যদু মধু অনেক স্মার্ট
জাবড়া ফেলে শর্ট কার্ট ।
কোনে কোনে চুপিসারে
জমে ওঠে স্তূপাকারে ।
বাড়ি গাড়ি কী যে নেই
জমাদারের টাকা নেই ।
কিপটেগুলো রিক্সা চড়ে
ঠাটবাটে জাবড়া ছুরে ।
ক্যারি ব্যাগের না না রঙ্
জাবড়া ফেলার নানা ঢঙ্ ।
ভাবে ওরা কেউ দেখে না
জাবড়া ফেলায় নেই ভাবনা ।
গলি রাস্তায় দু তিন চাকা
সদা মাড়ায় চার চাকা ।
রাস্তা ময় পুঁতি গন্ধ
ভদ্রলোকের চোখ বন্ধ ।
প্রতি দিনের গল্প গাঁথা
বাঁচি খেয়ে লজ্জার মাথা ।
অভীককুমার দে
আবেগ
নীলের কোলে চাঁদেরকণা
আবছা মেঘে ঢাকা,
মুক্ত বাতাস যায় যে ছুঁয়ে
যায় না বেঁধে রাখা।
মুক্ত আকাশ,খুশির নেশা,
বাতাস বাজায় বাঁশি,
পূর্ণ চাঁদের জ্যোৎস্না মেখে
জীবন প্রেমের দাসী।
*
অবস্থান
.
কোন সে দেশে ভোটমেলায়
শব্দরেণুর আঁধার রাত,
নিত্য দুখের সকলবেলায়
কষ্ট বিলায় অভাবপাত ?
-- তোমার দেশে, আমার দেশে।
ধারাপাতিক কোন সে ধারায়
ঝরে এমন অশ্রুধারা,
আগের যারা আজও তারা
সর্বকালের সর্বহারা ?
-- দশের দেশে, সবার শেষে।
অঙ্ক কষো, অঙ্গ কষো,
কতক ছিল ঝান্ডাধারী,
সবাই যেমন আজও তেমন
আধপেটা আর অনাহারী।
*
মেঘরঙা ছবি
জলদেশের মানুষ তুমি
মেঘরূপেই হাসো,
মেঘরঙা ছবি মেখেই
নীলের গাঁয়ে ভাসো !
এই ছিলে না, হঠাৎ এসে
পুরো আকাশ চষো,
শূন্য খাঁচার শূন্যে থেকে
কি দেখে যে হাসো !
নেচে- খেলে ঘুরতে দেখি
দলবেঁধে সব বসো,
হঠাৎ আবার বদলে গিয়ে
কি যে হিসেব কষো !
সাদা কালোর ঝগড়া হলে
ঝড়ের বেগে আসো,
নীলকে কেন কষ্ট দেবে,
মাটি ভালোবাসো ?
*
মূলধন
বাতাস বাতাস উষ্ণ শীতল
শূণ্য থেকে ছন্দে,
যখন তখন তাল কাটে তার
হিসেবনিকেশ দ্বন্দ্বে।
জীবনবেলায় কতক খেলায়
ভেতর ভেতর খুঁজি,
চলন শেষে ধোঁয়ায় মেশে
তোমার আমার পুঁজি।
*
অনুভূতি
১
ওপারে যে তুমি থাকো
মনের মতো ছবি আঁকো
এপার থেকে চেয়ে দেখি
সবুজ সাজে সাজিয়ে রাখো।
২
রাস্তার কালো দেহে
পূর্ণিমার আলো
সাদা রূপে ধরা দিলে
রূপবতী ভালো।
৩
সীতার চিতায় চিতার সীতা
বুকের ভেতর কবর
কুণ্ড জ্বেলে পোড়াই দেহ
দেহের কাছেই খবর !
৪
ব্যথা নিয়ে কাটাই কিছু কাল,
কাছে এলে মুছে দিও।
একদিন আসবো তোমার কাছেই,
সুখটুকু রেখে দিও।।
৫
চোখ দেখে নিলাম আদর,
রূপ নিলে সুখে,
সুখ দেখি গোপন চাদর,
ধূপ দিলে মুখে !
৬
মনকে বলি মনের কথা
খাঁচার ভেতর বুকে
সুখের খাঁচায় মন থাকে কই
মনের খাঁচা সুখে।
৭
ব্যথা নিয়ে কাটাই কিছু কাল,
কাছে এলে মুছে দিও।
একদিন তো আসবো তোমার কাছেই,
সুখটুকু রেখে দিও।।
৮
কুয়াশা পড়লেই মরে না ধুলো
পথভুলো মানুষও তেমন
রোদ মেখে নিও সকালগুলো
ঝুরঝুরে আগেও যেমন।
৯
ধরণটা ধরবো ভেবে
ধরতে গেলাম ধরণীতে,
কার্য ভয়ে বদলে ফেলা
কারণের ধড়ফড়িতে !
*
ঘরছাড়া
বাষ্পনদী আকাশ সাজায়
মেঘলা যত ঢেউ,
কত রাগের জল গড়ালে
ঘর হারালো কেউ !
ঘরছাড়া মন ঘরের খোঁজে
কোথায় যাবি বল,
ভেতর ঘরে ঘরের ভেতর
কষ্ট নদীর জল।
শূন্যে ডানা, পাখনা জলে,
মাটির উপর পা,
ঘায়েল বুকের আঘাত বলে--
ঘায়ের উপর ঘা...
*
শিশির ও আয়না
১
শিশিরবিন্দু চোখের খুশি
অল্প সময়
সর্বহারা
শিল্পধারী এলোকেশী।
সল্প স্মৃতি
গল্প অনেক
সুখের চেয়ে জ্বলন বেশি।
আয়না জানে--
এলোকেশী সামনে দাঁড়ায়
মনের সুখে দুঃখ হারায়।
২
ভাঙতে ভাঙতে সবই ফুরায়
জীবন যৌবন সৃষ্টি কৃষ্টি হৃদয় ব্যথা
আয়না যেন মরণপুরির অমর কথা।
.
ঘাসের ডগা শিশির কুড়ায়
শিশির জীবন রোদেই ফুরায়।
৩
আয়না জানে শিশির কেমন,
মেয়ের সাজে
পাড়ার ছেলে
ঢাকির চালে...
রঙের কাজে রঙিন যেমন,
জলের তালে
ঘাসের জালে
আলোর ছলে
আয়না সাজে শিশির তেমন।
৪
শিশির বুকে জ্বললে আলো
কাঁচের তাতে কী
আয়না শুধুই ফলন জানে,
দুধের যেমন ঘি।
আলো- কালো অনেক ব্যথা
নকল এক্কা- তাস,
গলির মোড়ে গলে আলো
প্রলেপ বারোমাস।
*
জীবনকথা
সকাল হলেই অকাল ভোর
স্বপ্ন জেগে থাকা,
সে এক দিন গেছে চলে
বেলার ভেতর বেলা গলে
নষ্ট জীবনকথা,
চেনা পথই অচেনা কেমন
গুরু ছাড়া শুরু যেমন
আদিগন্ত ফাঁকা।
কেউ আমাকে পথটা দেখাও
বাঁচার মতো বাঁচতে শেখাও
চলছি আঁকাবাঁকা।
*
মায়াজাল
তুলতুলে তুলি সই,
তুলোভরা গা,
রঙচঙে চুলের ঐ
রঙভরা ঘা।
কার রঙ, কে ঢালে ?
আকাশের মায়ানীল !
দূরে চিল ডানা মেলে
খোঁজে কী খাল- বিল ?
ছটফটে ঝাঁট কেন
সাদামাটা শরীরে ?
মচমচে খাট যেন !
মার খেয়ে মরিরে।
*
ভোজবাজি
অঙ্গ সাজের রঙ্গ দেখাও !
বাঁচবে ক'দিন চতুরঙ্গ ?
সঙ্গীরা সব ঢঙের পুতুল,
ক'জনই বা আছে খাঁটি...
বাঁধা সুতোয় সঙ্গ- খোঁজে--
ইতিহাসকেই করলে মাটি !
*
একদিন সেইদিন
একদিন সেইদিন
স্মৃতিঘরে আছে,
শেষদিন একদিন
শেষ বুঝি কাছে...
একদিন চলমান
গায়ে মাখামাখি,
চলমান অভিমান
কালঘরে রাখি...
একদিন কাছাকাছি
কাছাকাছি স্বপ্নের,
স্মৃতিঘর- কালঘর
আবার সেই রত্নের।
একদিন শেষ নেই
শেষ নেই পরদিন
স্পন্দন থামলেই
কালঘরে শেষদিন...
আব্দুল হালিম
ঝাপসা চোখের ধূল সরাও
দেখতে যদি না পাও বন্ধু
তবে তুমি অন্ধ হে।
আপনকে আজ শত্রু ভেবে
মরছো মিছে সন্দেহে।
ভাঙলো যারা ঘরের খুঁটি
তাদের সাথেই সখ্যতা!
চোখের ধূলো সরিয়ে দিয়ে
এবার বলো হক্ কথা।
মুখের ভাষায় বারুদ ঢেলে
সত্যকথার সুর তুলো।
ফিরে পেতে মুখের হাসি
মুক্তিপথের দোর খুলো।
বাঁশচাষি
রমিজ মিয়ার সময় ভালো
করছে এবার চাষ;
বাড়ির পাশে পূবের টিলায়
ডজন ডজন বাঁশ।
রমিজ সাহেব বেজায় খুশি
সারা মুখেই হাসি।
বাঁশের টাকায় বিমান চেপে
ঘুরতে যাবে ঝাঁসি!
নতুন ঘরে আনবে রমিজ
আলমিরা আর খাট!
গতর জুড়ে লাগিয়ে দেবে
শমিং মলের শার্ট!
সকাল বিকাল তার পেছনে
ঘুরবে অনেক লোক।
এমন হাজার স্বপ্ন দেখেই
রমিজ মিয়ার সুখ।
তবে---------
বাঁশবাগানের এদিক ওদিক
উইপোকাদের বাস।
শেষবেলাতে খারাপ খবর
ধ্বংস সকল বাঁশ!
সঞ্জয় চক্রবর্তী
পথ্য
নার্স এসে বলে গেল
ন্যাস পাতি ফল ,
খাওয়ান বেশী করে
তবেই পাবে বল।
ডাক্তার এসে বলে -
ডাবটাই আসল
জোর বাড়াবে দেহে ,তার
মিষ্টি জল।
সার্জন এসে বলে
বেদানা উত্তম ,
ভরায় তাড়াতাড়ি
যদি থাকে জখম।
কলা, আম পেঁপে
খাবে মেপে মেপে
যদি দেখো পেট উঠে শুধু
ফেঁপে।
কাঁঠাল, লিচু, জাম আর আনারস
খাবেনা কখনো যেন ,
দেহেতে থাকে যদি অতিরিক্ত
রস।
সবাই পথ্য দেয় শুধু
মেপে মেপে
সবকিছু খেয়ে ফেলি
যখন যাই ক্ষেপে।
(২)
পুতুল কে ভাঙ্গলে
সে কাঁদে না
কাঁদে অগণিত
জীবন্ত হৃদয়।
ভাঙ্গার আনন্দে যারা উল্লাস করে
তারাও একদিন
নীরবে কাঁদে।
যারা ভাঙ্গে
আর যারা ভাঙ্গায়
তাদের প্রমত্ততা একদিন থেমে যায়,
পুতুল তখনো নির্বিকার।
(৩)
বৃষ্টি শুধু তোমাকেই চাই।
চাইনা ফনি,
চাইনা মহাসেন
ওরা সব ধংসের কারিগর।
ওদের চরিত্রে হিংস্রতা ,
উন্মত্ততা, সবকিছু গ্রাস করার প্রবনতা,
তাই বৃষ্টি তোমাকেই চাই ।
তোমার রিমঝিম নিরালা বর্ষনে স্নাত হয়
এই পৃথিবী
শুস্ক মৃত্তিকা হয় রসবতী,
ফসল ফলে
কৃষক হাসে
ফুল ফোটে
হৃদয় জাগে
নদী বয়ে যায়
কলকল রবে
তোমাতে স্নাত হয়ে
শান্তির রসাস্বাদন করি।
(৪)
নিজের পুতুল নিজে ভেঙ্গে
করছে কত খেলা
সেই পুতুল কে বিয়ে দিয়ে
বাড়ায় ঝামেলা।
ঝগড়া-ঝাটি,
গালাগালি
চড়ায় সপ্তম সুর
সেই সুরের নেশায় ডুবে
হয়ে আছি বুঁদ।
ভাল মন্দ জলাঞ্জলি
দেশটা যাক চুলায়
চুলাচুলি গলাগলি
স্বার্থ সিদ্ধির লাটাই।
নাইটকুইন
মঞ্জুশ্রী শর্মা
পাতায় মূল ,পাতায় গাছ,
পাতায় ফুল দুলে,
চাঁদনি রাতের আলোকেতে,
ফোটে পাপড়ি মেলে ।
সাদা সাদা পাপড়িগুলি
সাজায় থরে থরে,
হাওয়ায় হাওয়ায় ,মিষ্টি সুবাস
দেয চারিদিক ভরে।
টবের শোভা মনোলোভা
নাইট কুইন নাম
দিনের আলোয় ফোটে না সে
ন্য শুধু বিশ্রাম
নার্সারি
উডুক উডুক রঙিন প্রজাপতি
ফুডু ফুডু উডুক পাখি সব
রঙেরঙে ফুটুক কুসুমগুলি
আধো আধো মুখে ফুটুক বোল।
ছলাত্ ছলাত্ চলুক নদীধারা
অভিমানে চোখে নামুক ঢল
বৃষ্টি বৃষ্টি কচিপাতার দেশে
তালতমালে নাচুক অশ্বথ-বট।
নবীন নবীন আশার মুকুলরাজি
ছন্দে ছন্দে উঠুক বীণায় বাজি
নীল আকাশে ঝলমলে সব রোদ
গভীর রাতে তারার ছায়াপথ।
শীতল শীতল মায়ের আঁচল তলে
হাসুক খেলুক বাডুক কৌতূহলে
নার্সারিতে চলুক খুশমেজাজ
ওদের দেশে ওরা সবাই সাজুক মহারাজ ।
তুফান
গোপালচন্দ্র দাস
তোমি ত্রিপুরার আশারাম রিয়াং
পেটের দায়ে ছিলে দেশান্তরী
তোমি এখন নাইশিং পাড়ায়
আমরা তোমাকে চিনি ।
একই ঘরের মাঝখান দিয়ে
বইতে পারে না নদী
এক রাস্তা ধরতে হবে
ঘর নয়তো নদী ।
হাজার বেদনায় চৌচির হয়ে
সবাই চেয়েছো একটু আশ্রয়
কেউ খুলেনি ঘরের আগল
হারিয়েছো তোমরা পরিচয়।
কাঙ্খিত ইচ্ছেকে বাতাস দাও
পথেই পথ খুঁজে পাবে
লুকিয়ে থেকোনা পাহাড়ের ভেতর
বোকারা হাহাকার করে ।
বাড়াও পা বাড়াও কদম
পারবে তোমরা সবাই পারবে
তোমাদের দুঃখের শ্বাসে এবার
ভয়ঙ্কর তুফান উঠবে ।
শিকারি
দূর হাওড়ে কুড়া ডাকে
মন থাকে না ঘরে
ধানের ফাঁকে জল টলমল
জোঁক কাটে পায়ে।
ধান ফুলে প্রজাপতি
উড়ে উড়ে যায়
নীল আকাশে মেঘ হাসে
মৃদু মন্দ বায়।
ফিঙ্গে পাখি পোকাগুলো
চট্পট্ খায়
জলের উপর সাপের ফণা
ঐ দেখা যায়।
শিকারের নেশা বড়
রোদবৃষ্টি মানে না
পোকামাকড় সাপ হোক
শিকারি তা বুঝেনা।
বদ্যি
হরিশঙ্কর বদ্যি
শুধু খায় সিদ্ধি
জ্বর হলে জলে চুবায়
আইসক্রীম দেয় পথ্যি।
বছরে তিনমাস
অমাবশ্যার উপবাস
প্রতিদিন লক্ষিপূজো
অভাব তবু নিত্য
ভূতের ছানা
ঘুড় ঘুড় ঘুড় করে
গাপুস গুপুস পিঠে খায়
লম্বা হাত ঢুকিয়ে ঘরে।
পিঠে চুর গেদা ভূত
দোষে পরে বেড়াল পো
হাত দেখে কামড়ে দিলো
ভূত হলো উড়ন ছো ।
নিমন্ত্রণ
আমার রাজ প্রাসাদ
আমার মাটির ঘর
একই পরিবার সবার
নাই কেউ পর ।
ক্লান্ত দুপুরে ঘুমাই
কাঁঠাল বটের নীচে
প্রতিদিন ঘুম ছাড়ে
পাখির কলতানে ।
পুকুরে মাছ ফলাই
কৃষি কাজ করি
গাভীর দুধ দিয়ে
পায়েস রান্না করি।
গরমে গাছের আম
বর্ষায় বাই জাল
মিষ্টি হেমন্ত উৎসবে
গাই কবি গান ।
শরতের সাদা মেঘ
বসন্তে কুকিলের বুলি
বারোমাস চাকের মধু
শীতে পিঠে পোলি ।
আলোর বন্যা চোখে
সহজ সরল মন
মাটির ঘরে এসো
রাজা,তোমার নিমন্ত্রণ।
মল্লযুদ্ধ
বানর দেখ পেয়ারা খায়
কুট কুট কুট
তাই দেখে কাঠবেড়ালী
হয়েছে একজোট।
কাঠবেড়ালী বানর সর্দার
আলোচনায় বসে
এলাকাটা ভাগ কর
এই জিকির উঠে।
কাঠবেড়ালী চোরের সর্দার
বানর সর্দার বলে
বানর সর্দার ডাকাত সর্দার
কাঠবেড়ালী বলে।
শুরু হয় মল্ল যুদ্ধ
পেয়ারার মগ ডালে
কাঠবেড়ালীকে মারতে গিয়ে
সর্দার পিছলে পড়ে।
আসাম
সঞ্জীব দে
একটি আসাম মনোহরী
একটি আসাম ডাস্টবিন,
একটি আসাম হাসির ঝিলিক
একটি আসাম ডলপিন।
একটি আসাম ক্ষুধায় মরে
একটি আসাম খাল বিল,
একটি আসাম পথশিশু
একটি আসাম আকাশ চিল!
একটি আসাম বন্ধ্যাজমি
একটি আসাম তিস্তা-চর,
একটি আসাম ব্রম্মপুত্র
একটি আসাম বন্ধঘর।
একটি আসাম আলো-পথে
একটি আসাম অন্ধকার,
একটি আসাম অশ্রুমোছে
একটি আসাম জলসাঘর।
বেলা
মহাকালের প্রলয় নেশায়
উদ্যত ঐ সান্ত্রি,
ক্ষমতার লোভে রক্ত লোলুপ
মুখোশ মুখে মন্ত্রী।
শিরদাঁড়াতে চির ধরেছে
স্বপ্ন বালি ঘর ,
ঘরের ভিতর ঘরখানি ঐ
ধূ ধূ বালু চর।
শিক্ষা যেথায় বণিক- হাতে
পুতুল পুতুল খেলা ,
বুঝতে বুঝতে শেষ হবে ঐ
মহা ভারতের বেলা।
একুশ
একটি বরাক ঊনিশ বটে
একটি তেসরা মূহুরী
একটি একুশ জাতির বটে
লক্ষ মায়ের প্রহরী।
একটি বরাক তোমার- আমার
একটি মূহুরী তেমনি
একটি একুশ সকল মায়ের
গান ঘুম পাড়ানি।
একটি বরাক লালন ফকির
র-সু-ন বিলকুল
একটি একুশ সালাম- জব্বার
সকালের বুলবুল ।
একটি একুশ মায়ের আঁচল
ঐযে শিমূল পলাশ
তেমনি বরাক রক্তকরবী
ভাষা খেকোর ত্রাস!
একটি একুশ বাংলা মায়ের
ঐ দোতারার সুর --
একটি একুশ মুক্তির প্রেরণা
সুমুজ্জ্বল ভোর ।
সত্যের জয় নিশ্চয়
দক্ষিণ কোনে রোহিঙ্গাদের
রক্তে ভাসায় কে?
বুকের ভিতর বারুদ গোলা
উথলে উঠেছে।
উথাল পাতাল হৃদয় জুড়ে
দমকা হাওয়া বয়!
কে আছো মানুষ তোমরা
কথা কও নির্ভয়।
যা ইচ্ছে তাই করে তবু
নীরব রক্ত বয়
ওঠো জাগো নির্যাতিতা
সত্যের জয় নিশ্চয়।
আঁধার-বনে
যেমন করে তাকিয়ে ছিলে নদীর ধারে ,
দূরের ঐ শূন্য আকাশ, ফসলহীনা মাঠটি জুড়ে --
সন্ধ্যাবেলা--
অমনি আমি চুপটি করে, পেছন দিকে --
দুহাত দিয়ে দুচোখ ধরে, শব্দহীনা কৌতুহলে,
দারুণ খেলা।
ভীতু তুমি! বুঝতে পেরে, দুহাত তুলে --
হাতটি ধরলে আলতো করে , হাসিমুখে নিঃসঙ্কোচে,
ধীরে ধীরে,
অবাক আমি! বলেই ফেললে নামটি আমার !
চোখটি ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে, বালুচরে একলা একা
নদী- নীরে।
দাঁড়িয়ে তুমি দুচোখ মুছে সু-নয়নে
চেয়ে আছো নিস্পলকে ,স্নানটি আ-মা-র
উদাস মনে!
আস্তে আস্তে নিভে গেলে আকাশ বাতি ---
কোথায় যেন হারিয়ে গেল , মনটি আমার
আঁধার বনে।
এমন করে ডেকো নাকো
এমন করে ডেকো নাকো
মনের উঠোন বিছিয়ে দিয়ে ,
কখন থেকে বাড়িয়ে দিলাম
হাতখানি ঐ উঠোন জুড়ে :
পরখ করে দেখতে পারো
মনের চোখে ইচ্ছা --নদী,
ছুটছে আমার পরান তরী
সংকীর্ণতার বাঁধন ছিঁড়ে।
এপার-ওপার বলো নাকো
সবার আকাশ একতো তাই,
মনের দেশতো সীমানাহীন
'আমি' বিশ্ব জুড়ে :
হাত বাড়িয়ে পাবে কি আর?
মন বাড়িয়ে নাও!
সেই মনেতে গাইতে পারি
মৈত্রির গান বিশ্ববীনার সুরে ,,,
বাবুর হাট
গোবিন্দ ধর
বাবুর হাটে কুমারঘাটে
বসতো কুমোর কলসী নিয়ে।
আঁখের গুড় আর মন্ডামিঠাই
নিয়ে আসতো সঙ্গে বয়ে।
কুমারঘাটের দেওহাটে
মিলতো মাঝি মল্লা সবে।
তখন কেউ-ই বাবু ছিলো না
হাঁক দিলো কেউ হাট-ই হবে।
দেওহাট কালক্রমে
বাবুর হাট হলো।
ক্রেতারা সব বাবু এখন
বিক্রেতেরা কালো।
বাবুর হাটে সব পাওয়া যায়
মাছি থেকে মৌমাছি।
কিনতে পারো পটল ঝিঙে
জীবন রাখি বাজি।
পিঁপড়ে
পিঁপড়ে গুলো ডানা মেলে
উড়বে আকাশ যেই
গাছের ডালে বলদ ঝুলে
পিঁপড়ে টানে মই।
পিঁপড়ে গুলো মাটির নিকট
শান্ত দলবল।
আকাশ চড়তে ডানা পেলে
ক্লান্ত মন বল।
দলবল সব ছেড়ে দিলে
একা একাই সব।
পিঁপড়ে তখন কাজ খুঁজে
কোথাও নাই জব।
দেওহাটের বাবুর বাজার
দেও হাটে কত হাঁটি মুরগী তখন কিনে আনি
কিংবা সিঁদল বাঁশকরুল আর শাড়ি ঢাকাই জামদানি।
মাছের শেডে মাছের থেকে মাছির কত উড়াউড়ি
সবই দেখি অমল কমল চড়ছে টাটার দামিগাড়ি।
আমিই কেবল বাবু সেজে বাজার আনি ভর্তি থলে।
বেতন টেতন সব কিছু যায় মাছ বাজারের মাছের জলে।
তাও আমি দেওহাটে যাই পচা সিঁদল ভেরমা আনি।
খুব বেশি টু ভনভনিয়ে উড়াল দিতে তাও জানি।
গোপালটোপাল অভীকটভীক সব কটাকেই দেও হাটে পাই।
সজলদাকে গরম দিনে পায়ে মোজা তাতেই চাই।
রোজ রোজ এমনি আমি দেও হাটে যাই
কচি লতি পুঁই কিনে খাই স্বাস্থ্য বাড়াই।
আমিও জানি আমি এখন শ্রমিক হলেও বাবু।
জিএসটি আর টেকসো দিয়ে সংঘদোষে কাবু।
খোকাবাবু
খোকা যাবে ইস্কুলেতে,
হরেক রকম বই ৷
বই এর ব্যাগ বড়ই ভাড়ী
কষ্টের কথা কই ৷
প্যান্ট শার্ট গায়ে দিয়ে
জুতো মোজা পরে
গরমেতে ছোট্ট খোকা
হাস ফাস করে ৷
কম্পিউটার ,আর্টের খাতা
আরো জি.কের বই
নাচের সঙ্গে গানের খাতা
জিমের ড্রেস কই?
মস্ত বাবু হতে গেলে
একটু দুঃখ সই ৷
খেলা ধূলো গল্প গাঁথা
সব ভুলে রই ৷
হাসি খুশী আদর আবদার
নেই তো কিছুই ৷
দিনে রাতে কেবল পড়া
মুখ গুঁজে রই ৷
অনিতা ভট্টাচার্য্য
সোনা বৌ.......
পুতুল পুতুল পা তুল তুল
আলতা রাঙা পায় ৷
বদ্যি বাড়ীর সোনা বৌ
জল ভরতে যায় ,
ধান ,দূর্বা তেল সিন্দূর
সঙ্গে নিয়ে যায় ৷
দুধের সন্দেশ, চিনি বাতাসা
পানের খিলি তায় ৷
আরো আছে মাটির পিদিম
দই এর সাথে খই ৷
জলের ঘটে আমের পাতা
সঙ্গে পাঁচ সই ৷
কেউ বাজায় ফুঁ শঙ্খ
কেউ বাজায় কাঁসি
সোনা বৌ এর চন্দ্রবদন
মুখটি হাসি হাসি ৷
মা দুগ্গা .......
দুগ্গা আসছেন বাপের বাড়ী
লক্ষ্মী স্বরাই কে নিয়ে ৷
ঢ্যাং কুড়াকুড় বাদ্যি বাজায়
খ্যাংড়া কাঠি দিয়ে ৷
লক্ষ্মীর সাথে আছে পেঁচা ,
গনাইর সঙ্গে ইঁদুর৷
স্বরাইর সঙ্গে রাজহংস
কার্তির সাথে ময়ূর ৷
শিব আসেন ষাঁড়ে চড়ে
ডমরু নিয়ে হাতে ৷
কার্তির হাতে তীর ধনু
বীণা স্বরাইর হাতে ৷
মা দুগ্গা দশহাতে
দশ অস্ত্র ধরে ,
পেন্নাম করি মাগো দুগ্গা
দাও ধনে ভরে ৷
ক্ষুদ্র তবু তুচ্ছ নয়
পৃথ্বীশ দত্ত
ছুটছে তারা পিলপিলিয়ে
দল বেঁধে এক নতুন গায়ে,
বাঁচার রসদ মুখে বোঝাই-
চলছে সবাই পায়ে পায়ে !
বউ বাচ্চা চলছে সাথে
চলছে পাড়াপড়শি সব,
ক্লান্তিবিহীন শান্ত গতি,
ক্ষান্ত নয়, নয় কলরব !
দিবারাত্র শ্রম করে যায়
শ্রমের সাথেই ঐক্যতান,
নিদ্রাবিহীন ক্ষুদ্র প্রাণী
মন মাতানো প্রণয় গান !
সেনাপতি চলছে আগে
চলরে সখা হাপড়ে চল্ !
এক আদেশের আহ্বানে
ঘর ছেড়েছে পিঁপড়ে দল l
আমরা যারা বড়াই করি
মাতব্বরির গর্বে ঘোর
পিঁপড়ে হাসে মানুষ দেখে
মানুষ শ্রেষ্ঠ কর্মচোর !
মৃত্যুহীন রাসেল
বুটের ভাষা বুঝলো না সে/
আসছে ধেয়ে আগ্রাসী,/
বুলেটের তীব্র ক্ষুধায় /
প্রাণ সপেছে কোমল হাসি !/
#
বুঝলো না সে দখলদারির--/
কুটিল অংক জটিল কত,/
অবোধের সুবোধ হৃদয়/
কাঁদছে রাসেল অবিরত l/
#
কাঁদছে আমার ধানমণ্ডী/
কাঁদছে আমার বাংলাদেশ,/
চিনলো না সে পয়গম্বর/
চিনলো না সে অসুরবেশ !/
#
খেলার ডাকাত সত্যি হল/
গল্প দানব সামনে ঠায়,/
একদংগল ধামড়া ছেলে /
একটি শিশুর দাফন চায়,/
#
স্তব্ধ ভুবন বাক-রুদ্ধ /
আজান গেল থেমে,/
বেহেস্ত থেকে কান্না এলো/
মাটির কাছে নেমে !/
#
বিশ্বব্যাপী লক্ষ রাসেল/
বাঁচার জন্য করজোড়,/
মানবতার হত্যালীলায়/
জখম হলো হাজার ভোর !/
#
বিশ্ব-হৃদয় অশ্রু বিভোর /
রাসেলদের কী মৃত্যু হয় !/
এক রাসেলের প্রাণের খুনে /
লক্ষ রাসেল জন্ম লয় !/
পিঁপড়ে
সবিতা দেবনাথ
মিষ্টি চিনির গন্ধ পেয়ে
পিঁপড়েরা সব আসছে ধেয়ে।
ছোট-বড়-মাঝারি
চলছে সারি সারি।
সাদা পিঁপড়ে, কালো পিঁপড়ে,
লাল পিঁপড়ে, কাঠ পিঁপড়ে,-
কত প্রকার, কত আকার,-
দেখতে মজাদার!
শয়ে-শয়ে পথ চলা
শুঁড়ে-শুঁড়ে কথা বলা।
ওদের অনেক গুণ!
ভার বয় ছয় গুণ!
সৈনিক হয়ে যুদ্ধ করে
শিল্পী হয়ে বাসা গড়ে।
বড়-সড় পোকা ধরে,-
নিমিষে সাবার করে!
গংগা ফরিং এর দফা রফা
তেলাপোকার ও একই দশা!
সর্দার থাকে পিঁপড়ে দলে
ওর হুকুমেই সবাই চলে।
বুদ্ধিতে জুড়ি মেলা ভার
পোকা-মাকর,মানে হার।
আজব সব কান্ড কারখানা!
কেউ করেনা মানা।
জলে সাঁতার কাটা,গাছে উঠা
দেওয়াল বেয়ে ছাদে উঠা।
বিপদের পূর্বাভাষ দিয়ে যায়
আগে থেকেই পিঁপড়ে টের পায়।
সুর সুর করে ঢুকে পরে ঠাকুর ঘরে
নির্ভয়ে চড়ে বসে আসনের উপরে।
খিদেয় কাতর পিঁপড়ে
লুকিয়ে পড়ে প্রসাদের ভিতরে!!
সেই পাখিটা
অমল চক্রবর্তী
হাজার পাখি
কাঁদে বুকে
কেউবা দুঃখে
কেউবা শোকে,
তারই মাঝে
একটা পাখি
ওড়ে গেলো
হাসি মুখে।
তার যে জানা
আকাশ মাঝে
ওড়তে নেই যে
কোন মানা,
সেই পাখিটা
একা একাই
মেলে দিলো
তাইতো ডানা।
হৃদয় মাঝে
কালো মেঘে ওড়ছে বক
দেখার বড়ই ছিল সখ
তাকিয়ে থাকি তাইতো আমি
মেঘলা দিনে রোজ,
কিন্তু আমি জানি সে কী !
বাঁশ বাগানের পাশেই নাকি
ভালোবেসে রাখছে ওরা
আমার সকল খোঁজ।
তাই না জেনে আনন্দে খুব
অন্তরেতে দিলাম যে ডুব্
দেখি হাজার বকের সারি
মেঘের কোলে ভাসে,
এদিক তাকাই ওদিক তাকাই
এখন কোন দুঃখ যে নাই
বকগুলো সব হৃদয় মাঝে
বন্ধু হয়ে হাসে।
বাবা
শিশু কাঁধে প্রবাসী
দিনরাত হেঁটে
বাবা যান খেঁটে।
চোখে নেই জল,
মা'কে বলে, আসো
রাখো মনে বল।
হেঁটে,খেঁটে যায় দিন
তবু চুপ্ থাকে,
বাড়ী এসে চাল,ডাল
এনে দেয় মা'কে।
ভাল্লাগেনা
কাকের ডাকে সজাগ হয়ে
ঘুমোই পেঁচার ডাকে,
কোনটি ভালো,কোনটি খারাপ
প্রশ্ন করি মা'কে।
মা হেসে কন বলিস কী তুই !
এসব চিন্তা কেন ?
স্যারকে বলবি বিদ্যালয়ে
সঠিক বলেন যেন।
আমি বলি, দেবে কী স্যার
সকল প্রশ্নের জবাব !
ভাল্লাগেনা; বাড়িঘরের
নেই যে কোন প্রভাব।
কোন প্রশ্নের পাই না উত্তর
তোমাদেরই কাছে,
এখনও তো বল নাই মা
বানর কেন নাচে !
গোপেশ সূত্রধর
খুকুমণি খুশি
কাঠফাটা রুদ্দুরে
দাদু করে ছটফট
আহা উঁহু মরে যাই
ছাতা খুলে ফটফট ।
দর দর ঘামঝড়ে
কপালের কাছে,
ছেঁড়া ঐ গামছাটা
হাত তুলে নাচে।
ঘটি ঘটি জল খায়
আর খায় ভূষি
পেট ফুলে হল ঢোল
খুকুমণি খুশি।
এই শুধু হাঁক ডাক
সরবত্ চাই,
তেষ্টায় মরে যাই
দাদু তুলে হাই।
নাতি দেয় কাতুকুতু
চিমটিতে কাটে,
রোজদিন হৈ চৈ
দাদু গেলে হাটে।
বাঙ
হারাধন বৈরাগী
ব্যাঙের বাস ডোবা নালা আর নর্দমা
খায় তারা মশা মাছির ছানা পোনা।
ব্যাঙ খেতে খুব পাগল পাহাড়ি মানুষ
ব্যাঙ মেরে তাই করতে লাগল ভোজ।
এই দেখে ব্যাঙরাজ হয়ে গেল বেহুস
মশা মাছি বলে এইতো মহা সুযোগ।
মেলেরিয়া আর ডায়রিয়া আমাদেরই দাস
পাহাড়িদের মজা দেখাবো করবো সর্বনাশ।
গৈরিকা ধর
বৃষ্টি এল
ডাক দিয়েছে মেঘ
আকাশ কাটলো করছে
বাতাস দিচ্ছে জোরে
পাখিরা ভয়ে উড়ছে।
এরপর তো বষ্টি পড়ে
ঝম্ ঝম্ ঝম্ ঝম্
পাখিরা বাসায় গিয়ে তবে
ছানাকে দেয় ওম্।
দোলনা
এখন চনি দোলনা রানী
আমি বসে দুলি
আমার কাছে সব আছে
রঙ বেরঙের তুলি।
বেড়ালছানা
কোথায় যাও বিড়ালছানা
কুট কুট কুট করি
নাচি নাচি যেতে যেতে
চাও ফিরি ফিরি
জানালা দেখে ভয় পাও
মিট মিট মিট করি
পরীর মতো লাফায় কত
হাতে পরে ঘড়ি।
বেড়ালমাসি
বেড়ালমাসি বেড়ালমাসি
কোথায় যাও বলো?
আমি যাই ইঁদুর খেতে
তুমিও সাথে চলো।
মাছ
ব্যাঙ তুমি কেন ডাকো
ঘ্যাঙের ঘ্যাঙের ঘ্যাং
আমি কিছু বুঝি না যে
মণ্ডুমাথা ঠ্যাং।
0 মন্তব্যসমূহ