রূপালী মান্না
রাত
পরিচ্ছেদ -দুই
এত রাত্রিতে লোকাল ট্রেন তো চলেনা ।উপরন্তু গ্রাম্য স্টেশনে এক্সপ্রেসও দাঁড়ায় না ।প্রবল উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা হরিণের মনে কিন্তু বুদ্ধিমত্ত্বা ও সাহস তার অসাধারণ ।কোনো উপায় না পেয়ে ওভার ব্রীজের ওপর থেকে কয়লার গুঁড়িবাহী মালগাড়ির ওপর লাফ দেয়।কয়লার গুঁড়িতে পা দুটি ঢুকে যাওয়ায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রইলনা ।বছর কয়েক আগেও যে কিশোরী আরশোলার ভয়ে লাফিয়ে উঠতো ,লোড শেডিং হলে মায়ের আঁচল ধরে ঘুরতো ,বাজ পড়ার শব্দে অজ্ঞান হতো কিন্তু আজ সে সকল বাধাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছে ।
অবশেষে এসে পৌঁছল কলকাতা মেডিকেল হাসপাতালে।প্রবল উন্মত্ততায় তার শরীর কাঁপছে ।
হাসপাতালে এমারজেন্সিতে ভর্তি থাকা পেসেন্টের ঘরের সামনে অপেক্ষারত তার পরিবার পরিজনের সাথে হরিণের কথোপকথন চলল ।
পেসেন্টের মা বলে -এটা তোরা কি করলি বলতো ?আমাকে একবারও কেউ জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ?এত কিছু ঘটে গেল আর আমি কিচ্ছু জানতে পারলাম না !
হরিণ বলে -অরুণেশ দা কোথায় ?কেমন আছে ?জেঠিমা আমাকে একটিবার অরুণেশ দার সঙ্গে দেখা করিয়ে দাও প্লিজ !
জেঠিমা বলে -জানিনা ঈশ্বর আমাদের কপালে কি লিখেছেন ?
অরুণেশের বাবা বিশ্বম্ভর রায় বলেন -ঈশ্বর আমাদের কপালে যাই লিখুন না কেন আমি তোমার কপালে যা লিখব তা স্বয়ং ঈশ্বর ও খণ্ডাতে পারবে না ।
বিবাহের সাজে সজ্জিতা,বৃষ্টিতে ভেজা ,হাঁটুভর্তি কয়লার গুঁড়ি মাখানো হরিণকে দেখে জেঠিমা তার মনের অবস্থাটা বুঝলেন কিন্তু না বোঝার ভান করে রইলেন ।যে জেঠিমা হরিণকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন তিনিই হরিণকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ।ক্লান্ত হরিণ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে ।
প্রীতম বলে -তোমারা যে কি করো না ?এরকম অবস্থায় মেয়েটাকে এসব কথা শোনাচ্ছো?
প্রীতম হল অরুণেশের ভাই ।প্রীতম ডক্টরের সাথে কথা বলে হরিণকে অরুণেশের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয় ।ডক্টরের অনুমতিতে হরিণ তার স্যার কে জানালা দিয়ে দেখে সে কি আর্তনাদ !
অরুণেশ দা .........বলে জ্ঞান হারালো হরিণ । জ্ঞান ফিরে দেখে পুলিশ এসেছে তাকে থানায় নিয়ে যেতে ।দুজন মহিলা পুলিশ তাকে হাতকরা
পড়িয়ে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকে ।
হরিণের সে কি আর্তনাদ !অরুণেশদা...
.থানায় নিয়ে গিয়ে হরিণকে লকাপে বন্দী করা হয়
হরিণ তখন ক্লান্ত ,রিক্ত ,নয়ন জলে সিক্ত ।অসাধারণ সুন্দরী হরিণকে সকলে বিস্মিত হয়ে যায়।
আগামী কাল পড়ুন পরের পাতা....

0 মন্তব্যসমূহ