রূপালী মান্না
রাত
পরিচ্ছেদ -সাত
উভয়ের বাবা নির্বাক হলেও হরিণ বলে -আমি আপনাকে ভালোবাসিনা ।কারণ হরিণের মনে হয়েছিল এই তিন বছরে অরুণেশ তার প্রতি শুধু কর্তব্যই করেছে ,তাকে কখনই ভালোবাসেনি ।ভিন্ন মানসিকতার অধিকারী দুটি মানুষের মধ্যে কখনো সম্পর্ক রচিত হতে পারেনা ।তাই অরুণেশের স্বরতন্ত্রী থেকে প্রেমের সামান্যতম ধ্বনিও শুনতে পায়নি সে ।আসলে রীতেসের কথায় হরিণ অরুণেশ কে অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে ।
অরুণেশের মুখে এমন কথা শুনে হরিণের বাবা বলেন -ছিঃছিঃ তুমি না একজন শিকক্ষ ?তোমার এরকম আচরণে অন্যরা কি শিখবে ?তুমি কি এতদিনে এই শিক্ষার পাঠশালা খুলেছ ?তারপর হরিণকে তার বাবা টানতে টানতে নিয়ে ঘরে চলে যায় ।
লজ্জায় ,অপমানে অরুণেশের মাথা হেঁট হয়ে যায় ।অরুণেশ ভাবে সত্যিই তো আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আধুনিক মানুষ প্রেমকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেনা ।তার ওপর আবার শিকক্ষ-ছাত্রী সম্পর্ক ?প্রেমের ক্ষেত্রে সমাজনীতি প্রবল হয়ে দাঁড়ালে প্রেমের মাধুর্যতা নষ্ট হয় ।তবু হরিণের জন্য অরুণেশ সকল বাধা বিপত্তি সহ্য করতে রাজি ।কিন্তু হরিণের আচরণে তার মনে হতে থাকে হরিণতো তাকে চায় না ।
প্রবল সন্দেহ বশত হরিণের মনে হতে থাকে ,অরুণেশের চরিত্র ভালো না ,যে ঘটনা সে অরুণেশ হরিণের সাথে ঘটিয়েছিল একই ঘটনা অনেক মেয়ের সাথেই ঘটিয়েছে ।তাই এই সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে মুক্তি নেওয়াই ভালো ।হরিণ ঈগো -সেন্ট্রিক হয়ে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেয় ।এবং অরুণেশ কে তার সিদ্ধান্তের কথা জানায় ।
একরকম প্রায় নিরুপায় ও বাধ্য হয়েই অরুণেশ রাজি হয় ।অরুণেশের ও মনে হয় এই বোধ হয় ভালো ।যেটা তার নয় সেটা কোনোদিনই তার হওয়ার নয় ।অরুণেশ সম্মত হয় ।তাদের চলার পথ হয় আলাদা ।সদ্য উড়তে শেখা জোড়া শালিক দুটি যেন ডানা ঝাপটে মাটিতে পড়ল ।
পরের পাতায়....

0 মন্তব্যসমূহ