ধাবমান ট্রেনের কামরারভেতরের চলমান ছবিগুলো এবার স্থির হলো | পৃথার চোখ এক জায়গায় এসে আটকে গেল | তিন নম্বর লোয়ার বার্থে জানলার ধারে যে লোকটা বসে আছে , ওটা কি শুভময় ? সাত বছরের বিচ্ছেদ সত্ত্বেও শুভময়ের কথা একেবারে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় | ট্রেনের চাকায় নিস্পেষিত টুকরো পাথরের মতো ফেলে আসা জীবনের খন্ড গুলো পৃথার চোখে জমতে লাগলো | লোকটার সঙ্গে সত্যি থাকা গেল না | অতএব ........
ওই লোকটি কি সত্যি শুভময় ? এত মিল হয়ে ! অফিসের কাজে শিলিগুড়ি যাওয়ার সময় ট্রেনে এমন অযাচিতের উপস্থিতি , না কি শুভময়ের মতো আরেকজন ? লোকটা কি অসুস্থ , হাঁপাচ্ছে যেন _ কি হয়েছে ওর ? মাঝে মাঝে এমন হাঁপিয়ে আজকাল অরিত্রও | কতবার পৃথা বলেছে , বেশি ড্রিংক করো না, কোলেস্টোরল | কিন্তু কে শোনে কার কথা অরিত্র বলে ভাগ্যিস তুমি এসেছিলে , আমি মরলেও এখন নতুন জীবন পাবো |অরিত্রর সঙ্গে শুভময় মেলে না, শুভময়ের সঙ্গে অরিত্রর | মেলা সম্ভব নয় | অতীতের সঙ্গে বর্তমান কে মেলাতে যে কাঠখড় পোড়াতে হয় , পৃথা সেটা চায় না |
পৃথা নিজের বার্থ এ এসে বসলো | পরে আবার উঠেও পড়লো | কামরার নীল আলো জ্বলে গেছে | শুয়ে পড়েছে সবাই | পৃথা প্যাসেজ দিয়ে এগোলো | লোকটা শুয়ে পড়েছে | ঘুমোচ্ছে কি ? বুক টা হাপরের মতো ওঠানামা করছে | চাদর টা সরে গেছে | পৃথা এক মুহূর্ত ভাবলো | চারপাশে তাকিয়ে দেখলো | কেউ কি দেখছে ? পৃথা পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো | তারপর পরম মমতায় চাদর টা টেনে দিলো লোকটার গায়ে |

0 মন্তব্যসমূহ