ত্রিপুরার কবিতায় লোকজ ও স্থানিক শব্দ প্রয়োগ

কথাপৃষ্ঠা:গেরাইম্মা ফৈর ও তার আপ্তবাক্য 

প্রতিনিয়ত পাঠের মধ্য দিয়েই আমি বুঝতে পেরেছি ত্রিপুরার কবিতাভুবন কতোটা বর্ণময়, কতোটা শক্তিশালী কবিদের মেধা ও কাব্যকুশলতা । যতো পড়ি ততো আবিষ্কৃত হয় আমার কাছে । ত্রিপুরা প্রকাশন মঞ্চের একটা অনুষ্ঠানে আলোচনার  জন্য অনুরুদ্ধ হয়ে গত দুমাস আমি নিয়ম করে গড়ে আট-দশঘন্টা পড়াশুনা করেছি ত্রিপুরার কবিতা নিয়ে । বার বার ভয় হচ্ছিল শরীর এ ধকল নেবে তো ! শরীরের কারণে এখন আর কোনো অনুষ্ঠানে তেমন যাই না । কথা দিয়েও কথার খেলাপ করে ফেলি অনেকসময় । কেউ না ডাকলে বরং বেঁচে যাই । ঔষধপত্র, খাওয়া দাওয়া, শরীরচর্চা আর বেডসাইড মেডিসিনের মতো শেষবয়সে আমার বিছানার চারপাশে বইয়ের টাল দেখে আমার ছোটো শ্রীমান বাড়তি গুরুত্ব দিতে লাগল । মা-ছেলের যত্ন আত্তিতে গোটাসাত-আটেক প্রবন্ধ, গবেষণামূলক কাজ করতে পেরেছি এই দুমাসে । এই পাঠ থেকে আরও কটা কাজের খসড়াভাবনা তৈরি হয়ে গেছে ।

ত্রিপুরার কবিতাপাঠের ফলশ্রুতিতেই গত ২৭শে মে স্টুডেন্ট হেলথ হোমের অনুষ্ঠানে 'ত্রিপুরার কবিতায় লোকজ উপাদান ও স্থানিক শব্দ' নিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম । ভুলভাল কি বলেছিলাম জানিনা । আলোচনায় আমি ত্রিপুরার কবিতাকে একটা বৃহত্তর পরিমন্ডলের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়েছে । আত্মশ্লাঘ্যবাক্য হলেও বলছি, পিনপতন নীরবতায় আমি আমার কথাগুলো বলতে পেরেছি । কথা শেষ হওয়ার পর আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন 'লাল পাহাড়ের দেশে যা'  খ্যাত কবি অরুণ চক্রবর্তী মহোদয় । প্রশংসা করেছেন উপমহাদেশের অসামান্য কবি, বন্দিত কবি আসাদ মান্নান, আমার প্রিয় কথাসাহিত্যিক দেবব্রত দেব ও বিকাশরায় দেববর্মা প্রমুখগণ। অডিটোরিয়ামে উপস্থিত কবি-সাহিত্যিক-প্রকাশকগণ ডেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । আমি বিনয়ে বলেছি, আমি কিছু না । যা কৃতিত্ব ত্রিপুরার কবিদের । আমি শুধু তুলে ধরেছি আপনাদের সামনে । গতকালও ধানবাদ থেকে আগত কাশীনাথ ঝা ও পূর্ণিয়া বিহার থেকে আগত সতীনাথ ভাদুড়ীর দৌহিত্র অজয় সান্যাল ও তাঁর সহধর্মিনী চৈতালী সান্যাল ত্রিপুরার কবিদের দক্ষতার প্রশংসা করছিলেন ।দেশের ও দেশের বাইরের সকল প্রতিনিধিদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি আমাকে সময় দেওয়ার জন্যে । রাজ্যের প্রায় ষাটজন বিভিন্নসময়ের প্রতিনিধিস্থানীয় কবির কবিতা ছেঁকে ছেনে সংগ্রহ করে তৈরি করা আমার এই অভিসন্দর্ভ সবার মন জয় করলেও যার লাইগ্গা সিন্নি খাইলাম সেই মোল্লাই নাই অর্থাৎ ত্রিপুরার কবিদের একটা বিশাল অংশের কাছেই পৌঁছাতে পারিনি ।  তেমন কেউ শোনেননি আমার শ্রমকথা । এ দুর্ভাগ্য আমার সঙ্গে যায় । আমার কবিতার ক্ষেত্রেও, আমার লেখালেখালেখির ক্ষেত্রেও । গেরাইম্মা ফৈর তো আমি । তাই ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ