স্রোত :সাহিত্যের স্রোত ও স্রোতস্বী২৯ বর্ষ:৭৬ তম সংখ্যা :অক্টোবর :২০২২

স্রোত 
সাহিত্যের স্রোত ও স্রোতস্বী
২৯ বর্ষ:৭৬ তম সংখ্যা :অক্টোবর :২০২২
কথাসাহিত্যিক জহর দেবনাথ সংখ্যা 


সূচীক্রম

★কথাপৃষ্টা 
★জহর দেবনাথকে যেমন দেখেছি যেমন জেনেছি :ড: ব্রজগোপাল মজুমদার
★একজন ব্যতিক্রমি মানুষ জহর দেবনাথ
:নিমাই বারুই
★আমার চােখ ঔপন্যাসিক জহর দেবনাথ:দীপ্তেন্দু নাগ
★আমার চােখ কথা সাহিত্যিক জহর দেবনাথ:মানসী মিশ্র হালদার
★আমার প্রিয় ছাত্র ঔপন্যাসিক জহর দেবনাথ :স্বপ্না চৌধুরী 
★প্রিয় কথা সাহিত্যিক জহর দেবনাথ এর সাহিত্য জীবেনর ষাট বছর পূর্তিতে:জয়ন্তী দেবনাথ
★সাম্যবাদী উপন্যাস:লেখকের শিল্পবোধের পরিচয়:বিজন বোস
★গল্পকার এবং সাহিত্য সংগঠক  জহর দেবনাথ :রীতা ঘোষ
★জহর দেবনাথ : কবিতার আকাশে উড়ন্ত সাদা পায়রা 
: সুনির্মল পাল
★আরাধনা:প্রানতোষ দত্ত
★মানুষের মনে মানুষের হৃদয়ে:শেখর ভট্টাচার্য 
★আমার চােখে জহর দেবনাথ:স্বাতী দত্ত
★বন্ধু জহর দেবনাথ:সুকোমল কান্তি দাস
বর্ণ জহুরী জহর দেবনাথ :শাশ্বতী দাস 

★সাক্ষাৎকার
★কথাসাহিত্যিক জহর দেবনাথ:গোবিন্দ ধর
★পৃথিবীর যে কোনো সৃষ্টির পেছনে একটা উদ্দেশ্য থাকে:সৌম্যদীপ দেব

★অপ্রকাশিত পাঁচটি গল্প
*হায় শ্রীকৃষ্ণ 
*অন্যন্যা
*অঙ্কুর
*অন্ত্যেষ্টির জন্য
*গাজনের বাজনা বাজে

★অপ্রকাশিত উপন্যাস 
★নদী থেকে হৃদয়ে


স্রোতকথা

জহর দেবনাথ, জন্ম ১৯৬২ সালের ১৯ শে সেপ্টেম্বর ত্রিপুরার ধলাই জেলার লালছড়ি গ্রামে ।মা সরোজিনী দেবী,বাবা যোগেন্দ্র দেবনাথ ।
পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট জহর দেবনাথ প্রথমে লালছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে কুলাই দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ।কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক হয়ে যাদবপুর বিশ্ব বিদ্যালয়ে বি. এড ।পরবর্তীতে চাকুরী রত অবস্থায় ত্রিপুরা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এম .এ।
ছাত্র জীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ।প্রথমে কবিতা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ছোট গল্প এবং উপন্যাস লেখাতেই বেশী সাবলীল ।ত্রিপুরার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা এবং লিটল ম্যাগাজিনের নিয়মিত লেখক ।এরই মধ্যে শিশু কিশোরদের জন্য দুইটি গল্প সংকলন এবং তিনটি উপন্যাস, সেই সঙ্গে বড়দের জন্য তিনটি গল্প সংকলন এবং পাঁচটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে ।
সফল ভাবে সম্পাদনা করেছেন দুটো কবিতা সংকলন এবং একটি গল্প সংকলন ।

ত্রিপুরার একটি সফল লিটল ম্যাগাজিন 'প্রবাহ' এর সম্পাদক ।ধলাই সাহিত্য পরিষদের এবং সাহিত্য মুখপত্র উপত্যকা'র সম্পাদক ।

জহর দেবনাথ প্রতিষ্ঠিত একজন সমাজ সেবি ও বটে ।
তাঁকে নিয়ে এই সম্মামনা স্মারক গ্রন্থ। আশা রাখি তাঁর মূল্যায়ণে যাঁদের কলম হাতে নিয়েছিলেন যথাযথ আলোচনায় জহর দেবনাথ উন্মোচিত হয়েছেন।
পাশাপাশি তাঁর পাঁচটি অপ্রকাশিত ছোটগল্প ও একটি অপ্রকাশিত উপন্যাস এখানে সংকলিত হয়েছে যা ত্রিপুরার কথাসাহিত্যে জহর দেবনাথকে চিহ্নিত করতে যথেষ্ট।



সাম্যবাদী উপন্যাস লেখকের শিল্পবোধের পরিচয় 
বিজন বোস 

জীবন অভিজ্ঞতার এক বিরাট পসরা নিয়ে লেখক 'সাম্যবাদী' উপন্যাসটি এঁকেছেন । রাজনীতির কথা থাকলেও উপন্যাসে
 সার্থকভাবে লেখকের পরিপূর্ণ শিল্পকলাবোধের পরিচয় মেলে ।যে কোনও সার্থক শিল্প সৃষ্টির মধ্যে যেমন স্রষ্টার অন্তরে কল্পনার একটা জায়গা থাকে  ঠিক তেমনি ' সাম্যবাদী ' -তে লেখকের বাস্তব জীবন ও অভিজ্ঞতা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ।ঔপন্যাসিক সমকালীন রাজনৈতিক আবহাওয়াকে বিশ্লেষণ  করেছেন অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাহায্যে। আছে পরিকাঠামোর অভিনবত্ব । অন্তর্জগতের অলিগলিকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য লেখক নানা পদ্ধতি ও রীতিনীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন ।

উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্র নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল । চার বন্ধুর ছাত্র জীবনের নানা উত্থান- পতন , ঘাত-প্রতিঘাত তথা চারটি প্রধান চরিত্রের ভিতর দিয়ে তাদের ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মিশেলে চরিত্রগুলিকে করে তুলেছেন জীবন্ত ও প্রাণবন্ত ।নারী ক্ষমতায়নের বড় দিশা অনু অর্থাৎ অনামিকা,  সে নিজে উপন্যাসের মূল নায়ক তথা  বিজিতকে ভালোবাসলেও নিজের শারিরীক চাহিদা পরিতৃপ্তির জন্য  বন্ধু অনুভবের সাথে মিলিত হয়েছে । নিজের স্বামীর সাথেই সব শেয়ার করতে হবে এমন নয় , এদিক থেকে অণু অনেকটা এগিয়ে ।অন্যদিকে সাহানা মুসলিম হয়েও প্রচলিত মৌলবাদী চিন্তাধারা থেকে দূরে সরে আসতে পেরেছে । সে অনুভবকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চেয়েছে। দুটো চরিত্রেই আধুনিক নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র প্রতিফলিত । আবার গণ্ডাছড়ার মতো অজ পাড়া গাঁ থেকে পড়তে এসে নিজের বুদ্ধি সাহস আর নেতৃত্বদানের দক্ষতায় একজন পাহাড়ী যুবক গল্পের মূল নায়ক,  চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন ঔপন্যাসিক । এককথায় ' সাম্যবাদী ' উপন্যাস  কেবল একটি রাজনৈতিক দলিলই নয় , সমসাময়িককালের  ত্রিপুরার সমগ্র সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনের একটি স্বচ্ছ দর্পণ হয়ে উঠেছে সার্থকভাবে । তাইতো উপন্যাসের অন্তিম লাইনে সাহানার সঙ্গে চার বন্ধু কণ্ঠ মিলিয়ে ভবিষ্যতের জয়গান গেয়েছেন " আমরা করবো জয় ...  নিশ্চয়....!'

পড়তে  পারেন আপনিও । সবার জন্য রইল শুভকামনা ।

বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন -- পুষ্পল দেব,মূল্য ---একশত পঁচাত্তর টাকা।


উপন্যাসের নাম: সাম্যবাদী 
লেখক:জহর দেবনাথ 
স্রোত প্রকাশনা 
প্রকাশক:সুমিতা পাল ধর
মুদ্রণ:গ্রাফিপ্রিণ্ট , হালাইমুড়া , কুমারঘাট , ত্রিপুরা ।

সাম্যবাদী আমার দৃষ্টিতে একটি অসাধারণ উপন্যাস।
কল্যাণী দেব চৌধুরী

একটি ঝকঝকে উপন্যাস। উপহার পেয়েছিলাম রচয়িতা ভারতের  ত্রিপুরার  জহর দেবনাথ এর কাছ থেকে করিমগঞ্জ আসাম ভারতের এক সাহিত্য সম্মেলনে। 
বলতে গেলে এটি তাঁর একটি অনবদ্য সৃষ্টি। সাবলীল। শান্তি মৈত্রী প্রগতি শিক্ষা শিল্প সমন্বয়ে পরিকল্পিত পরিমার্জিত একটি অসাধারণ উপন্যাস।

পৃথিবীর বিবর্তন আমার মনোজগতে এক বিস্ময়। সব কিছুতে- সকল ক্ষেত্রে।কাব্য সৃষ্টিতে ও বিবর্তন নতুন কিছু নয়।গতানুগতিক প্রেম বিরহে বিরহী হয়ে উপন্যাসের পথপরিক্রমা সাম্যবাদী বইটিতে মূখ্য দেখাননি লেখক। তা ছিলো গৌনতায়।মূখ্য হয়ে ধরা দিয়েছে মুক্তি। বইটির শেষ অংশ দিয়েই আমার বিশ্লেষণ শুরু করি।যা আমাকে খুব ভাবিয়েছে। 

আমাদের অনেকেরই জীবনের ব্যার্থতা বার বার চোখের সামনে হাজির করিয়েছেন।আবেগ আর অনুভব কে প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোর বাস্তবতায় জীবন পরিচালনায় সফলতার চাবি তা লেখকের সফল সমাপ্তি। বিজিত অনামিকা অনুভব শাহানা চার বন্ধু বিয়ে করবে, তবে দু'বছর পর।তারা প্রতিষ্ঠিত।তারপরও এমন সিদ্ধান্ত কেনো! ধাপে ধাপে জীবনের চড়াই উৎরাই পার হওয়ার শেষ প্রন্তে এসেও।যে সময় টাতে মানুষ তাদের এই চার বন্ধুর শৈশব, কৈশোর, ছাত্র জীবন সহ তাদের কর্ম জীবনে চরম আগ্রহ তার পরেও কেনো এই সিদ্ধান্ত! কারণ আমাদের তথাকথিত  সমাজের দৃষ্টিতে অসম বিয়ে।তাই তাদের কর্ম, ত্যাগ ব্যক্তিছাপ শিক্ষা সমাজের প্রতি দায় এর কাছে ঠিক তখনি সমাজ মাথা নত করবে। সামাজিক কুসংস্কার নিয়ে কথা বলার আগ্রহ যখন মানুষ হারাবে।
নায়ক রাইমা -সরমার মধুর মিলন স্থল  গন্ডাছড়ার বোলংবাসার বিজিত চাকমা পূর্ণ মোহন অধিকারীর ছেলে।মনটা আমার ঘুরে বেড়িয়েছে মধুর রাইমা -সরমার জলপুঞ্জে। সাহসী মেধাবী নেতৃত্বে অসীমতা জন্ম পাওয়া বিজিতের।পড়তে এসেছে মহারাজ বীর বিক্রম কলেজ ত্রিপুরায়।এসেই পড়েছে কন্ঠক পথে।
ছাত্র ফেডারেশন এর বিজিত প্রথম দিনই মার খেলো যেমন তেমন মেরেও দিলো ছাত্র পরিষদের কুখ্যাত ছাত্র নেতা শংকর কে।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান এই আন্দোলনে জর্জরিত।

শিক্ষা মুক্তি মৈত্রী প্রগতি বিপক্ষে আছে পেশী মাস্তানী বুর্জোয়া ভাবাদর্শ।জীবন পথে এসব মানুষের ভারে সমাজ জর্জরিত।এখানেই বিজিত অনামিকা অনুভব শাহানার লড়াই। আমার চোখে আমাদের সকলের ছাত্র জীবনের কথা মনে করিয়ে দিলো।

জহর দেবনাথের উপন্যাসের গতি এতো সাবলীল বৈচিত্র  ভরা! নায়ক কমরেড  বিজিত কৈশোরে হিংস্র বন্য নেকড়ে বাঘ কে মেরে হিরো। তীর ধনুক বানানো পাহাড়ি নায়কের জীবন ছবি, মেধাবী উপন্যাসিক জহর দেবনাথ সমাজতন্ত্রবাদের ভাবাদর্শে কমিউনিস্ট বিপ্লবী বিজিত কে একাধারে দুঃসাহসী পড়ুয়া অন্য দিকে ভালো বক্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।কলেজর নবীন বরনে স্বামী বিবেকানন্দ আর স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শের বক্তব্য তাকে হিরো বানিয়ে দেয়। মধ্যাহ্ন ভোজে মাননীয় মন্ত্রী  এই নতুন মুখ টি কে ডেকে অতি আদরে পাশের চেয়ারে বসান।যে দিকটা আমায় ভাবিয়েছে, লেজুড়বৃত্তি বা মই বেয়ে পথ চলা! বিজিত নতুন পরিবেশে আপন মহিমায় জায়গা করেছে। বিজিত তার এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্বের চিঠি নিয়ে আসে। সে তা দেবার আগেই তার অভিষেক হলো সমির দার অফিসে, দুটো করে রসগোল্লা ও একটা করে সিঙ্গারা সহযোগে আপ্যায়নে।চিঠি টা আগরতলা রাজ্য দপ্তরের নেতৃত্বের হাতে পৌছে দেবার আগেই।ছাত্র পরিষদের আগরতলা শহরের কুখ্যাত দাদা শংকর হালদার এন এস ইউ আই এর নেতা। অনামিকা ইংরেজি ২য় বর্ষে শংকরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছাত্রী। বিভিন্ন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে নজর কাড়ে বিজিতের। শংকর যে দিন কলেজ থেকে যাবার পথে বিজিতের উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানো র পরিকল্পনা করে, সে দিন অনামিকাই বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে দেয় বিজিত কে।ছদ্মবেশে একটা চিঠি ফেলে রাখার  রিস্ক নেয় দলীয় মতাদর্শের বাহিরে গিয়ে।তার মাশুল দিতে হয়েছে।সামনে নির্বাচন।এম বি বি কলেজর ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্র পরিষদের দখলে চাই ই চাই।সাম্যবাদী নিয়ে লিখতে গিয়ে আমাদের জীবনের ঘটে যাওয়া চিত্র গুলো মনটা কে আড়ষ্ট করে রাখে।নির্বাচন শেষ। বিজয় উৎসব। কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন ভারতের ছাত্র ফেডারেশন এর দখলে। অনু আর বিজিত দু মেরুর দুজনের বোঝাপড়া ভালোই চলছে।

কুখ্যাত ছাত্র নেতা শংকর ছাত্র পরিষদের এই পরাজয় মেনে নিতে পারছে না।সে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে।সে মিটিং ও সংগঠন কে নতুন করে গোছানোর নাম করে কলেজের পেছনে ক্লাস রুমে যা অঘোষিত পার্টি অফিস, ডেকে নেয় অনামিকা কে।আন্ডারগ্রাউন্ড রুমে গিয়ে অনামিকা শংকর ও নারায়ণের পাশবিকতার বলি হয়।অনু গিয়ে দেখে মিটিং এ দু'জন ছাড়া আর কেউ নেই। এদিকে বিজিত এর সাথে জমিয়ে আড্ডা দেবে বলে তাকে ক্লাস করতে দেয়নি।

ক্যাফেটোরিয়ায়  অর্ডার দেওয়া খাবার ঠান্ডা হচ্ছে। বিজিত অনু কে না পেয়ে সেই পেছনের ক্লাসরুমের দিকে এগিয়ে বন্ধ দরজার ভেতর ফিসফিস শুনে।ততক্ষণে খুর নিয়ে সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল নিয়ে শংকর নারায়ণ অনু কে বলছে, "তুই নিজে  ন্যাংটো হয়ে আমাদের ভোগে নিজকে উৎসর্গ কর"।শংকর আনামিকার জামা ছিড়ে আর নারু ভিডিও ক্যামেরা তাক করে।নারু আনামিকার ঠোঁট কামড়ে ধরতেই, অনুর দৃষ্টিতে প্রথম দিন থেকে জঙ্গলি বিজিত সেগুন কাঠের দরজা ভেঙে খালি হাতে উদয় হয়।নারায়ণ দত্ত পেশাদার খুনি, ওর সামনে খালি হাতে বিজিত অনু কে আগলিয়ে দাঁড়ায়। 
তারপ র কি হতে পারে! সেই পাহাড়ি জঙ্গলি ছেলে টি অসম্ভব ক্ষিপ্রতার সঙ্গে, দুজনের আক্রমণ প্রতিহত করে অনুকে নিজের শার্ট খুলে পরিয়ে দিয়ে বলে, তাড়াতাড়ি পরো, না হলে আমিও কিন্তু---

এতো কষ্টের সিচুয়েশনে ও উপহাসে আনন্দে লেখকের অনবদ্যতার প্রকাশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিতামাতা জায়গা জমি, সকল সঞ্চয় শেষ করে ছেলে মেয়েকে মানুষ করতে পাঠান।এই নিস্পাপ কঁচি মন কিছু বুঝে উঠার আগে ই তাদেরকে দলে ভেড়ানোর ফাঁদ পাতে মাস্তান চক্র।রাজনৈতিক অশুভ শক্তি ।ইচ্ছে অনিচ্ছায় অপরাধ জগত জড়িয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফেরা হয় মা বাবার আদরের সন্তানকে।অনামিকার ও সেই পরিনতি ই  হতো।ধর্ষনের পর মৃত্যু!  জহর দেবনাথ স্পষ্টত তার পাঠক দেরে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন, রাজনৈতিক মদৎপুষ্ট লুটেরা, খুনি সমাজের একটা অংশের সৃষ্টি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে।এই ভোগবাদী লুটেরা রা সমাজকে পরবর্তী তে  নেতৃত্ব দিলে করুণ পরিণত বরণ করতে হয় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বদের। তার মাসুল দিতে হয় জনগন কে।বিজিত অনুভব অনামিকা শাহানা ওদের লড়াই এর ই বিরুদ্ধে। 
শিক্ষা, শিল্প কলা মেধা আর প্রগতিশীল চিন্তার, ছাত্রসমাজের  সূতিকাগার ও শিক্ষাঙ্গন। সাবলীল দক্ষ সফল নেতৃত্ব সমাজ ও দেশ গঠনের উঠোন এই বিদ্যাপীঠ।প্রগতিশীল ছাত্র নেতৃত্বই বিশেষ করে মার্কস ঘরনার নেতৃত্ব বিশ্ব স্বীকৃত সফল পূজীবাদ সাম্রাজ্য বাদের বিরুদ্ধে বিজিত সহ তার তিন বন্ধুর জীবন দিয়ে ও সঠিক সিদ্ধান্তের বার্তা বহন করে।

অনুর বাবা মা উদার। মেয়ে কে শৈশব থেকে স্বাধীনতা দেবার পাশাপাশি বিপদেও মেয়ের পাশে থেকে উদার আহবানে চার বন্ধুর নির্ভর জায়গা হয়ে উঠে অনুদের বাড়ি।শাহানার বড় বোন রেহানা ও তার বর রফিকুল ইসলাম ও  মননে মেনে নিয়েছিলেন অনুভব ও শাহানার সম্পর্ক। তাছাড়া চারদিন গগুছড়া বেড়ানো পাহাড়ি জনপদের সংস্কার হার মানে বিজিত এর বাবা মায়ের মহানুভবতার কাছে।শাহানার মা সায়রা খাতুন মেয়ের ছেলে বন্ধুদেরে বাড়ি দেখে গম্ভীর হয়ে তার স্বামী সাবির সাহেব কে বলেন কি দরকার মেয়েদের এতো লেখাপড়ার! কিন্তু তার কঠোর বিরোধিতা স্বামীর উদারতার কাছে হার মানে।এক পিতার স্নেহের কাছে হার মানে জাত পাত।চার বন্ধু সকলের বাড়িতে গিয়েছে।অনুভব এর বাড়িতে সকলে যাবে।মা মানদা দেবী চমকে উঠেন।দু বান্ধবীর মাঝে একজন মুসলিম! কি অনাসৃষ্টি! কি ভাবে শাহানা কে ঘরে ঢুকাবেন! ঘরে লক্ষী নারায়ণ আছেন তে !
লেখক জাতপাতের লড়াই কঠোর ভাবে তুলে না ধরলে ও যেটুকু দেখিয়েছেন,বলতে ইচ্ছে করে কোন কালে কি কৃষ্ণ বিষ্ণু বা লক্ষী নারায়ণ এমন বলে গিয়েছিলেন! নাকি এসব সমাজপতি দের বলি, আর কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদ বা পুরোহিত দের প্রহসন বলি।জহর দেবনাথ এর সাম্যবাদী উপন্যাসের সূত্র ধরে বলি ধর্মের বিভাজন তো হয়েছিলো এই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়।
তার কারণ ছিল  গরিব এর উপর সবলের অত্যাচার। ঘৃণ্য বর্জুয়া সমাজ পতিরা আজো বহাল তবিয়তে বিভিন্ন ধর্মে সংক্রামিত।তবে অনুভব এর মা মহৎ।তাকে বুঝিয়ে মানবতার জয়গানে তিনি মেনে নেন শাহানা তার ভাবি পুত্রবধুর আগমন।

অনার্সের পর বিজিত ফেরে যায় তার পাহাড়ি জনপদের জন্ম ঋণ শোধ করতে।বিদায় দিতে অনামিকা কে এই পাহাড়ি জংলী ছেলেটির চোখ মুখ অসহায় হয়।অনামিকা ও জড়িয়ে ধরে। অনামিকা ইংরেজীতে, অনুভব জার্নালিজম আর শাহানা দর্শনে এম এ পি এইচ ডি করতে ভর্তি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনুভব সেখানে গিয়েই আনন্দবাজার পত্রিকার তমাল  শেখর জানা ও স্বাতী আগরওয়ালের সাথে সফর সঙ্গী হয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধানী বিচারে দুজনের মন জয় করে রীতিমতো হইচই ফেলে দেয়। স্বাতীর সাথে দুষ্ট মিষ্টি মধুর সম্পর্ক হয়।তবে শাহানা বরাবরই তার কাছে স্পেশাল।শাহানা কে সে বেগম ডাকতো।তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তুলিকা ও অনুভব এর জীবনে নজর রেখে ও শাহানার উদার মনোভাবে সব ভেসে যায়। অনামিকা শাহানা দুজন অনামিকার দাদার বাসায় থাকতো।অনুভব সেখানে শাহানার সাথে দেখা করতো।একদিন অনুভব শাহানা তার বেগম কে একা পেয়ে জড়িয়ে কাছে পাওয়ার চুড়ান্ত আবেগে আকুল, ঝাপটে ধরে। শাহানা অনুভব এর বাহু থেকে ঝাঁকুনি তে ছুটে বাথরুমে পালায়।অনুভব লজ্জা সংকোচ আপমানে চলে যায়। এ অপমান তার নিজকে নিয়ে। শাহানা কে মহৎ করে দেখার গর্বে।সে ভাবে সে ভুল।শাহানা বিয়ের পূর্বে হয়তো শারিরীক মিলন চায়নি।

শাহানা খুব ভালো গান গায়।কবিগুরুর গান।উদার পিতার সান্নিধ্যে তার কলা ও শিল্প জগতে আসলে কি হবে।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছিলো সমাজ পরিবার সংস্কার এর সাথে লড়াই।যুদ্ধ করতে হয়েছে।এরই মাঝে স্বাতী আগরওয়াল ও অনুভব কে কাছে পাওয়ার পরীক্ষায় হেরে যায়।তবে সেটা ছিলো আনন্দের হারা।
পশ্চিম বঙ্গের কিছু সাঁওতাল বস্তি এলাকায় কিছু দূর্দান্ত ফিচার করে অনুভব। শেষে আনন্দ বাজার পত্রিকার শেখর ও স্বাতী রহস্যঘেরা ফিচার অনুভব এর নামেই ছাপাতেন।তাই তার নাম যশ শুধু ক্যাম্পাস নয়,শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। 

অনুভব আবার শাহানার সাথে সল্টলেক বাড়িতে দেখা করতে এলে পায়নি। শাহানা তখন উল্টোডাংগা টিচারের বাসায়।আনামিকা কে বাসায় একা পায়।সে বসে তারই করা পাথরের সাম্রাজ্যের জনজাতির ফিচার পড়ছে। 
অনুদি ফ্রেশ হয়ে ধূমায়িত কফি নিয়ে অনুভব এর সামনে।চাঁপা রং গাউন পরিহিত আনামিকা অনুভব এর আরো কাছে। 
কি চমৎকার ভাবে লেখক জানিয়ে দিয়েছেন,
সমর্পন প্রাকৃতিক।এতে সবসময় মানুষের হাত থাকে না।অবারিত। কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কেউ পারে না।এটা ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে প্রাকৃতিক বাতাবরণ। 

" লেখক ১০৬ পৃষ্ঠায় শিল্পমাধুরী মিশিয়ে লিখেছেন,"অনুভব এর যথেষ্ট সংবেদনশীল নার্ভ আজ কিছুক্ষণের জন্য ওর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।নিজস্ব সত্তা সে হারিয়ে ফেলে। আনামিকার সম্মোহনী মায়াবী চোখে বিলীন হয়।ওরা দুটো নর নারী পৃথিবীর সমস্ত বাহ্যিকতা ভুলে গিয়ে দুয়ে দুয়ে এক হয়ে যায়।
পরম প্রাপ্তি, পরম তৃপ্তি আজানাকে জানা,অনাবিষ্কৃত রহস্যের উন্মোচন  এ এক অদ্ভুত অনুভূতি---"

লেখক এক দিকে সমর্পন নিয়ন্ত্রণহীন দেখান নি শুধু, মানব-মানবীর মিলনের আনন্দ অসীমতায় ভগবানে সমর্পন তার ও আভাস পাই।
সেখানেই বুঝি কবিগুরু লিখেছেন, "ন্যায় অন্যায় জানি নে জানি নে, শুধু তোমারে জানি.......।" 
অনুভব লজ্জিত। আনামিকা একেবারে স্বাভাবিক।

নিজের প্রয়তম বিজিত কে রেখে অনুভব এর সাথে মিলন এভাবেই সান্তনা দেয় অনুভব কে।
অনামিকা অনুভব কে উদার চিত্তে সান্তনা দেয় এভাবে। 
"আমার খুব ইচ্ছে  করছিলো এই অনাস্বাদিত আনন্দের স্বাদ পেতে, তাই তো আমি সক্রিয় হয়ে ঘটনাটা ঘটালাম।"পৃ ১০৭

অনুভব আনন্দ বাজার পত্রিকায় নিয়োগ পায়।অনামিকার এম ফিল শেষ। শাহানা এম ফিলের আগেই আগরতলা মহিলা কলেজ পোস্টিং পায়।তার প্রিয়তম অনুভব কে বলে, আমি জয়েন করবো যদি তুমি এক বছরের মাঝে আনন্দ বাজার পত্রিকার যোগসূত্রে আগরতলা ফিরে আসো।আবার আগরতলা অনামিকা দের বাড়িতে জমিয়ে আসর।বিজিত তার দীর্ঘ দিন পাহাড়ি জনপদের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে।সাম্যবাদের অন্তরালে বর্জুয়া পূঁজি বাদ ও স্বার্থবাদের আলোচনায় সমাজ পরিবর্তন এর বিপ্লব তাদের চোখে।
অনামিকা বারবার হতাশ হয় বিজিত এর নিরাপত্তার কথা ভেবে। অনুভব ফিরে যায় কলকাতা তার কাজের জায়গায়।বিজিত ফিরে গন্ডাছড়ায়।

এরই মাঝে এক বছর চলে যায়।অনুভব বিজত নিজেদের বাস্তব পরিপক্ব অভিজ্ঞতা সহ অনামিকা শাহানার কেতাবী জ্ঞান কে পূঁজি করে আগামী নামক সংবাদ পত্র অত্মপ্রকাশ করে।অনুভব তমাল শেখর জানা ও স্বাতী আগরওয়ালের কাছ থেকে বিদায় চায়।
এ বিদায় বেদনা ভরা।স্বাতী আগরওয়ালের কাছ থেকে বিদায় লেখক নাটকীয় হালকা উপস্থাপন পাঠকের চোখ ফাঁকি দিতে পারেন নি।
অনামিকা বিজিত কে বিদায় দিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

আমি এখন উপন্যাসের নাটকীয় ক্লাইমেক্সে। আগামী  শারদ সংখ্যায় আসছে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবন। তার আগে যে সব ফিচারে দক্ষ ও শিক্ষিত কর্মী বাহিনী উপহার দিয়ে চলছে তাতেই রক্তচোখা পূজীবাদী মহলের টনক নাড়িয়ে দিয়েছে।রাতে অনুভব তার টেবিলে, ফোন বাজে। রিসিভ করতেই অমরপুরের  শতদল চাকমা।স্যার আপনার বন্ধু আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা বিজিত চাকমা কে একদল সন্ত্রাসী অপহরণ করেছে।অনুভব থমকে যায় বিদ্যুৎ শকের মতো।কি ভাবে বিজিত কে জীবন্ত উদ্ধার করা যায়!এলাকার মানুষ ভগবানের মতো বিজিত কে ভালোবাসে,ওকে কি ভাবে জীবন্ত পাওয়া যায় তাতেই হন্য হয়ে খুঁজে দিশেহারা।শাহানাকে জানায় টেলিফোনে।শাহানা কে তার জামাই বাবুর কাছ থেকে গভীর রাতে চেয়ে নিয়ে অনামিকা র কাছে রেখে বেরিয়ে পড়ে।শাহানা কাঁদে।অনুভব বিজিত কে নিয়ে ফিরবে কথা দিয়ে বেরিয়ে পড়ে।আগামীর প্রথম পৃষ্ঠায় হেড লাইন।তবে আগরতলা থেকে প্রকাশিত কমিউনিস্ট পার্টির একমাত্র দৈনিকে যুবনেতা বিজিত অপহরণের খবর ছোট করে ছাপা হয়।আগামী শাসক দলের রোষানলে।আগামী র কন্ঠ রোধ করতে চাইলে হাই কমান্ড বুঝিয়ে দেয়, আগামী কেবল রাজ্য স্থরের পত্রিকা নয়।তার স্থান জাতীয় অঙ্গনে।অনুভব ভৌমিকের পেছনে রয়েছে প্রতিতযশা সাংবাদিক মহল।

অনুভব ভৌমিক শতদল চাকমাকে নিয়ে ভোর চারটায় ত্রিপুরা বিলোনিয়া সীমান্ত বাংলাদেশ বর্ডারে।শহর থেকে পয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে। সীমান্তে শান্তি বাহিনীর ছয়জন কর্মী অপেক্ষায় অনুভব এর। ক্যাপটেন বিজয় চাকমার আদেশ , দুজন কে সামনের ক্যাম্পে নিয়ে আসার।আসল আলোচনা সকালে। এ টি টি এফ ত্রিপুরার শাসক দলের নির্দেশে বিজিত কে অপহরণ করা হয়।আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তারা বিজিত কে গোপন ঘাটিতে রাখবে।এখানে সীমান্ত ব্যবহার সহ পাশাপাশি দেশ গুলোর দায়, লেখক কৌশলে তুলে ধরেছেন।
রাত দুটো গভীর আলোচনায় শান্তি বাহিনীর ক্যাপ্টেন বিজয় চাকমা এ টিটি এফ গোষ্ঠীর কমান্ডার রথীন আগামী পত্রিকার সম্পাদক অনুভব অপহৃত যুবনেতা উপন্যাসের নায়ক বিজিত। ভোর রাতে ঐক্যমতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।অলিখিত চুক্তি তে শাসক গোষ্ঠী জানবে যুবনেতা বিজিত সন্ত্রাসবাদীদের হাতে বন্দী। 
কিন্তু বাস্তবে সে ত্রিপুরা গ্রাম পাহাড়ের  পাড়ায় পাড়ায় কাজ করে যাবে।এখানে লেখক স্পষ্টত বুঝিয়ে দিয়েছেন সীমান্ত ও পাশের দেশগুলো যে এসব ক্ষেত্রে অনিরাপদ তার আভাস।কারণ বিজিত কে আনা হয়েছিলো বাংলাদেশ সীমান্তে।তাকে ত্রিপুরা বিধান সভা নির্বাচনের ছয় মাস সময় আটকে রাখার পরিকল্পনা হয় পার্বত্য হিলি নির্জন পাহাড়ি এলাকায়। 
এই পরিকল্পনায় লেখকর গঠন মূলক সৃষ্টি। 

সাহানা কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে অনামিকার বাড়িতে।মিনু যে বিজিত এর চিন্তায় অসুস্থ। টেলিফোনে রিং পড়ে।কাঁপা হাতে ধরে। 
ওপার থেকে অনুভব-
বেগম আমি বিজিত কে নিয়ে ফিরছি।
রাত একটা অনামিকা দের বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ সভা। 
অনামিকা বিজিত কে দেখে বোকার মতো দাঁড়িয়ে। বাক শক্তিহীন পাথর মূর্তি।
চার বন্ধুতে মাস্টার প্ল্যান। সামনেই রাজ্যের বিধান সভা নির্বাচন।আর বিজিতের নেতৃত্বে যে মঞ্চ হয়,তা ছিলো অবহেলিত পিছিয়ে পড়া সুবিধা বনচিত মানুষের জয়রথের মঞ্চ। বুদ্ধিমান সুবিধাবাদী পেটি বুর্জোয়া দেরে হটানো আর  উচ্ছেদের মঞ্চ।সম্মেলন শেষে দলের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয় দক্ষিণ ত্রিপুরার যুবনেতা সাব্যসাচী ত্রিপুরার হাতে।মাষ্টার প্লান এর নীল নকশায় রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক অন্তরালে বিজিত চাকমা।

কাল নির্বাচন। ধলেশ্বরে অনামিকা দের বাড়িতে বিশেষ সভা। আগে বিশেষ সভা হয়েছে আগামী র সদর দপ্তরে। অনামিকার মা অনেক খাবার তৈরি করেছেন। এর মাঝে বার দুয়েক তমাল শেখর জানা ও স্বাতী আগরওয়াল ও এসেছিলেন।চার বন্ধু র রাজনৈতিক কৌশল তৈরি হয়েছে। আজ তারা বাঁধন হারা।অনুভব তার বেগম শাহানা কে বলছে, আজ কয়েক পেগ ব্রানডি খাবো।বাঁধা দিও না বেগম।এতো দখল ক মাস গেলো।
দোতালায় খোলা ছাদে আড্ডায় শাহানার মধুর কন্ঠে নজরুল গীতি। আর চোখে মুখে জিতে যাবার স্বপ্ন। 
না হউক এই নির্বাচন জয়।জনগনের কাছে জয় তো হয়েছে। হাজার বছরের বঞ্চনা থেকে বের করে আনার জয়। জাগরণের জয়।নিজের অধিকার আর শিক্ষা ছাড়া মুক্তি নেই তা বুঝাতে পারার জয়।সামাজিক বৈষম্য বুঝিয়ে দিতে পারার জয়।বিজিত উঠে অনুভব কে দুহাতে জড়িয়ে ধরে। এমন তো আগে কেউ ভাবেনি। আবেগে আপ্লুত চার বন্ধু জড়িয়ে। সময় জ্ঞান আর থাকে না তাদের মাথায়। 
লেখকের লেখায় শেষ দু'টো লাইন 
"" রাত দুটো তেই যেনো মাঝ আকাশে রক্তিম  সূর্য স্বমহিমায় জ্বলে উঠে । সাহানার কন্ঠে সকলে কোরাস মেলায়—'' আমরা করবো জয়............... নিশ্চয়"।

 মার্কস বাদী দর্শনের এই উপন্যাসের পরতে পরতে শান্তি মুক্তি মৈত্রী শিক্ষা উন্নয়ন  স্লোগান। আমি অবাক বিস্ময়ে লেখকের সৃষ্টি নিয়ে পনের দিনের বেশি সময় কাটিয়ে দিলাম। প্যারিস থেকে একটা সময়ে প্রকাশিত মুক্তির জার্মান পত্রিকা Vorwart  এর সাথে "আগামী" মিল আমি অবাক। অনামিকা মা বাবার ভূমিকা মনে করিয়ে দেয় সেই চির পরম বন্ধু এংগেলস্ এর কথা। 
আমৃত্যু যিনি মর্কসবাদী দর্শনের পৃষ্টপোষকতায় জীবন দান করেন।অনামিকা বিজিত, শাহানা অনুভব এর প্রেম বার বার আমার মনে এসেছিলো ট্রিয়ারের এক সম্রান্ত ব্যরেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা র মেয়ে জোহান্না বার্থাজুলি জেনি ওসটেফালেন এর প্রেম আর আমৃত্যু  জীবন সঙ্গী বা বন্ধুর প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। আর উপন্যাসের ব্যবহৃত ধর্মে আমায় মনে করিয়ে দিলো '
" ধর্ম পৃথিবীর ই মানুষের দুঃখ ভোলার জন্য স্বর্গের সুখের প্রতিশ্রুতি দেয়। এ আর কিছুই নয়।আফিমের মতো মানুষ কে ভুলিয়ে রাখার একটা কৌশল।"
তা ছিলো মার্কসের জ্বালাময়ী প্রবন্ধের কটা লাইন। 
চার বন্ধু র সহ জনগনের মুখপাত্র আগামী প্রধান মেনিফেস্টো’।জয় হউক জীবনের। জয় হউক মানবতার।জয়তু সমৃদ্ধ লেখক জহর দেবনাথ।

প্রকাশনা: স্রোত প্রকাশনা, ত্রিপুরা

 কল্যাণী দেব চৌধুরী 
[শিলালিপি। ]
[আইনজীবী কলামিস্ট  মানবাধিকার কর্মী লেখক। ]



বর্ণ জহুরী জহর দেবনাথ 
শাশ্বতী দাস 

 "ঠোঁটের কোণে অম্লান হাসির ঝিলিক, 
জহর দেবনাথ ,কবি সাহিত্যিক ও উপন্যাসিক।"

বর্তমান সময় মানুষ নিজেদের নিয়ে এত ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে যে,নিজেকে ছাড়া সমাজ বা সাহিত্য নিয়ে ভাববার সংখ্যা ক্রমেই হাতে গোনা কয়েকজন হয়ে গেছে।এই সময়ে দাঁড়িয়েও বহুমুখী কর্মকান্ডের নিরলস সৃজনশীল  ভাবনায় উদ্দীপ্ত ও দায়বদ্ধ স্রষ্টা কলমশিল্পী জহর দেবনাথ। অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে একের পর এক সৃষ্টি তার হাত ধরে।
জহরদার সাথে আমার পরিচয়,ত্রিপুরার সাহিত্যজগতের একনিষ্ঠ সৃজনকর্মী ও পথপ্রদর্শক গোবিন্দদার মাধ্যমে।পরিচয়ের মুহূর্তেই  অনুভব করেছিলাম তাঁর চোখে মুখে প্রতিফলিত অম্লান হাসির ফাঁকে স্থির ধীর  বাচনভঙ্গী।তিনি অত্যন্ত মার্জিত ভাবে ও গুছিয়ে কথা বলতে পারেন ।
গত এপ্রিলমাসের ২৪তারিখ
(২৮,৮,২০২২ইং)উনার আমন্ত্রণে চতুর্থ ধলাই সাহিত্য উৎসবে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে  আরও কাছ থেকে উনার সম্পর্কে জানার, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল।  তাঁর আহ্বানে ত্রিপুরা ও রাজ্যের বাইরের কবি,সাহিত্যিকরা ও এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সবার সাথে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করা,কথা বলার কৌশলগুলো আমাকে আকৃষ্ট করে,ফলে তাঁর সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।তাঁর আহ্বানে সেই অনুষ্ঠানে ৮০জন কবি সাহিত্যিক উপস্থিত থেকে সাক্ষর করেছেন। এটা কম বড় কথা নয়,সম্ভব হয়েছে তাঁর উদ্যমতার জন্য ।
সৃজনশীল দৃষ্টিতে তিনি আমার চোখে--জীবনের সফলতার চরম চড়াই উৎরাই পার হয়ে কঠোর বাস্তবতাকে মুষ্টিবদ্ধ করে চলার সফল চাবিকাঠি তিনি নিজেই। শুধু লেখনি শক্তিই নয় সমাজের দায়বদ্ধতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।এরই প্রতিফলন হয়ত  সাম্যবাদী  উপন্যাস।যার প্রতিটি চরিত্র  নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল এক অনবদ্য  সৃষ্টি।তাঁর লেখনিতে যেমন ফুটে উঠেছে রাজনৈতিক মদত পুষ্ট ,লুটেরাদের নোংরামো,তেমনি প্রেম বিরহ, ভালবাসা,মিত্রতার মধ্যেও  কোন খান্তি ছিল না।তাঁর সৃজনশীল প্রতিভা উন্মুক্ত। আন্তরিকতা,সাহসিকতা এবং অবশ্যই সদাহাস্য মুখ -সাহিত্যের মতো মননশীল কাজে সুপ্ত স্রষ্টাকে ,কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত  করবে এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ