ধানের পাঁচালী
গোবিন্দ ধর
স্রোত প্রকাশনা
প্রচ্ছদ :
ক.বি.তা.ক্র.ম
বীজধান
ধানের পাঁচালী
ধানদানা
হৃদয়হাওর জুড়ে গভীর অসুখ
মাটির কবিতা:১
মাটির কবিতা :২
ডাস্টার
একটি জেদি পথ
অবশেষে
বত্রিশ নম্বর বাড়ি
চলো,হাত ধরো
মূর্তি
দেওনদীসমগ্র:২০
মৌলভীবাজার
সন্ধ্যাতারা
লক ডাউন vs হোমোস্যাপিয়েন্স
মা সমগ্রের কবিতা:১০
স্ক্যাণ্ডেল
দেশের বাড়ি
ত্রিপুরেশ্বরী এক্সপ্রেস
ভাষা আমার মাটি হয়ে গেলো
অক্ষরাস্ত্র
গোবিন্দ ধর একা অথবা শূন্য
চাষা
ধানের পাঁচালি
গোবিন্দ ধর
এক.
মা ধান সেদ্ধ করেন উঠোনের কোণে
খড়ের আগুন নিভে ধোঁয়া বেরুচ্ছে
বাঁশের চোঙে ফু দিতে দিতে
মায়ের চোখ রক্তবর্ণ জবা।
দুই.
মায়ের স্বপ্ন সেদ্ধ হয়।
কলার মোচাও।
সকালের পাত পাড়তে পোকমরিচ
জুম থেকে লাফিয়ে চলে আসে
বাবার বাজারের থলে ভরে।
তিন.
আমাদের পূর্ব প্রজন্ম ধান ভানতে
কখনোই শিবের গীত গাইতেন না।
সকলেই ধান চাষা চাষাবাদ পেশা।
চার.
ধানের আগাচার মতো বাবার কয়েকজন
আগাছা বন্ধু ছিলেন।
বন্ধুদের অধিকাংশই ধানের আগাছা।
বিকল্প এখন অব্দি তুমিই মেধা।
পাঁচ.
উঠোনে শুকাতে দেওয়া ধান
গোরুমোষ খেত
আমাদের অতিবৃদ্ধ পিতা উদাসীন।
তিনি দেখেও না দেখার ভাণ করতেন।
বলতেন কত খাবে।
ছয়.
হালচাষে আমিও বাবার মতোই অপটু।
বাবা ও আমি তবুও চাষার পুত।
ধানগাছ পরিচর্যায় কেটে গেলো
গোটা এক ফতুর জীবন।
সাত.
ধানছড়া জমাতে জমাতে আমাদের
এক সের ধান হলে
বিনিময়ে ঠাকুরদাস মুড়ি দিত।
মা মোয়া গড়তেন।
মুখে পুরে সোনালী মায়ায় ধানছড়া খুঁজতাম।
আট.
ধানে দুধ এলে ঘরে ঘরে লক্ষ্মী আসতেন।
চালতাপাতায় সাধ বেঁধে ধান গাছে রাখা হতো।
তারপর অগ্রাণে ঘরে উঠতো গোলাভরা লক্ষ্মীধান।
নয়.
মাড়াই ঝাড়াই সেদ্ধকালে
তুমি নেই।
চাল হয়ে ধান গেলোহাঁড়িতে।
ভাত হয়ে নেমে গেলো অম্ল ভরা উদরে।
দশ.
সারা জীবন চাষার পুতের গালগল্প
বাবার মৌনতায় প্রশ্রয় সূচক সম্মতি
আজও ধানের মায়াবি দোলন
আমাদের একমাত্র ধান যাপন।
০৪:১২:২০২১
রাত:১১টা৫৮মি
লিচুবাগান, আগরতলা।
বীজধান
চৈতন্য ফকির
বীজধান রাখা খুব সহজ নয় আগাছা বাদ দিয়ে।
একই রকম ধানে অন্যধান মিশলে তাও আগাছা।
বীজধানে আগাছা থাকলে ফসল ভালো হয় না।
গোলা থেকে বীজধানের দূরত্ব রাখতে হয়।
অবাঞ্চিত আগাছা বীজধানে মিশে গেলে
পরের বার ধানের ফলন কমতে কমতে
গোলাশূণ্য আমরাও এক একজন ধানচাষী।
০৯:০২:২০১৮
সময়:২:৪৫মি
কুমারঘাট।
ধানদানা
গোবিন্দ ধর
এক এক করে একলা হয়ে আমি একাকিত্বেই
শেষ অব্দি। শেষ অব্দি আমি একা।
আমার বেদনার চারা বৃক্ষ হয়।
আমার ভালোবাসার ধানগাছ ভাতের আদল না পেয়েই ওরা মৃতধানদানা।
আমি পুনরায় লাগাই চাষ করি ভালোবাসাধান।
ধানদানা রূপপায়।একসময় ভাতের আদল না হয়ে আবার মরাধান।
এরকম চাষবাস করতে করতে আমি কৃষকই রইলাম।
ভালেবাসা কেবল দূরে দূরে সরে চায়।
আবার আবার ভালোবাসি। ভালেবাসী শাশ্বতধান।
২৯:১০:২০২১
রাত:১০টা ৩৫মি
কুমারঘাট।
হৃদয়হাওর জুড়ে গভীর অসুখ
গোবিন্দ ধর
হৃদয়হাওর জুড়ে গভীর অসুখকৃষি লাফিয়ে
ধানচারার মতো আকাশ ছুঁতে চায়।
অসুখের গাছ অনেক বড় হয়ে গেলো অজান্তে।
ডালমূল শাখা তার ছড়িয়েছে মাটি ও আকাশতারায়।
কতটুকু গভীরে গেলে অসুখ ডানা মেলে
পাঠ নেই ডানায় লেগে থাকা মারণঅসুখ রেখেছি যত্নে।
ডানায় ঝাপটে অসুখহরিয়াল উড়ছে আকাশে
তার কামগন্ধ ঘ্রান এসে লাগেনি,সময় ক্রান্তিলগ্নে।
প্রতিদিন শরীরের আড়মোড়া ভেঙে গেলে
তোমাকেই কাছেপিঠে রেখেছি,মুখে চুপ।
হৃদয়হাওর থেকে কিচিরমিচির শব্দ করে
একটি বিকেল গড়িয়ে পড়ে মরুমায়া রূপ।
চোখের গভীর থেকে ভালোবাসা গলে পড়ে
অসুখ হেসে বলে এসব মিছে অভিনয়।
শরীরে লেগেছে গ্রহণ ভুলের দাপট
আমিই ভূমিষ্ট নতজানু সবিনয়।
২২:০৬:২০২১
সকাল:০৬:৪৭মি
কুমারঘাট।
মাটির কবিতা
গোবিন্দ ধর
মাটির গন্ধ মেখে কতদিন কেটেছে
সে সব মনু জানে
আর রাতাছড়ার ধানিজমি।
#
এখন শহুরে আমি।
ধানগাছ দেখতে যাই অবসর সময়।
#
আর মনুর জল ছোঁয়ে গতদিন দেখিনি।
তবু ছোটবেলা সারাক্ষন ঘুরেফিরে আসে।
আর মাটির গন্ধ বহুদূর থেকে আসে।
#
মাটিশূণ্য আমাদের পা পড়ে লাল গালিচায়।
ডাস্টার
গোবিন্দ ধর
আগাছাগুলো পরিস্কার করে দিতে হয়
যেমনটি ব্ল্যাকবোর্ড থেকে আঁকিবুঁকি
রেখা মুছে দিতে হয় চকচকে রাখতে।
এরকমই কিছু ভুল কিছু স্বপ্ন মুছে দিতে
একটি ডাস্টার জরুরি।
পেছন পেছন আসা বিষপিঁপড়ে
মাঝে মাঝে কামড়ে দিলে পিষে ফেলা জরুরি।
জরুরি ধান খেত থেকে আগাছা উপড়ে ফেলা।
কাটাকাটি করে অঙ্ক করতে নেই
মুছে নিলে ঝাঁ চকচকে একটি ব্ল্যাকবোর্ড
পুনরায় শুরু করতে যথেষ্ট।
দিন শুরুর আগে হোমওয়ার্ক সেরে নিলে
নির্ভুল গন্তব্যে পৌঁছা যায়।এক্ষেত্রে ভুলগুলো
মুছে দিতে একটি ডাস্টার জরুরি।
২৮:০৬:২০২১
রাত:১০:২৪মি
কুমারঘাট।
একটি জেদি পথ
চৈতন্য ফকির
হঠাৎ উত্তম পূর্বে হেলে গেলো
একটি একরোখা জেদি পথ।
বিশল্যকরণী ধানদুব্বা দিয়েও পথ
সরলরেখায় আনতে পারেনি
রাস্তা মেরামতের হেডশ্রমিকও।
তারপর শ্রমিক আর পথ দু'দিকে ছুটতে ছুটতে
বিষন্নতার গল্প ভুলে মজলিশপুর
খাচ্ছেদাচ্ছে আর সামনে আরো
অনেক অনেক আঁকাবাঁকা পথেই পা ছুটছে
অসতর্ক জেদি খাড়াই পথ।
২৫:১২:২০২১
ভোর:০৭টা৫৫মি
কুমারঘাট।
অবশেষে
চৈতন্য ফকির
অবশেষে লাল জাঙ্গিওয়ালা গেরিলা কবি
আত্মসমর্পণ করেন পুরস্কার মঞ্চের নিকট।
সকল সাম্রাজ্যই মুগল সাম্রাজ্যের মতো পতন অনিবার্য।
অবশেষে একে একে লাল জাঙ্গিয়াওয়ালা কবি
বিপ্লবের কত হম্বিতম্বি দেওয়া রেগামাস্টার
হাফনেতা নেতা শির অবনত করে
লাল থেকে নীল
নীল থেকে খয়েরী মাক্স পরে নেন অবলীলায়।
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কতবার বিপ্লব আনতে
লাল নিশান উড়াতেন ওরা
সব কেমন ফিকে হয়ে যায় বজ্রকন্ঠের নিকট।
সকল পতাকাই একদিন মানুষ নামিয়ে দেবে
মানুষের গান লিখে মানুষই গাইবে গান
মানুষের জন্যে-সেদিন খুব দূরে নয়।
লাল জাঙ্গিয়াওয়ালারা সেদিন থাকবে না আর।
আমাদের ঘরে ঘরে উড়বে জরুরী পতাকা
তার রঙ বুকের রক্তেরঙা চানমনি ধান।
১০:০৬:২০১৯
সকালঃ১০:৩০মি
নতুননগর,আগরতলা।
বত্রিশ নম্বর বাড়ি
গোবিন্দ ধর
বাড়িটিকে প্রণাম জানাই
ধানমন্ডির এই বত্রিশ নম্বর বাড়ি থেকে আওয়াজ উঠেছিলো
স্বাধীনতা আমাদের মুক্তি।
লাখো লাখো মানুষের কন্ঠে সেদিন একই আওয়াজ।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।
তুমি সে আওয়াজ মানুষের মনের ভেতর মন্ত্রের
0 মন্তব্যসমূহ